📘 প্রিয় রাসূলের (সাঃ) কন্যাগণ 📄 বিবাহ

📄 বিবাহ


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদীনায় হিজরত করেন, তখন ফাতিমার বিয়ের বয়স হয়ে গিয়েছিল। ফলে তাঁর নানান দিক থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। অনেকেই ফাতিমা (রাঃ)-কে বিয়ে করার জন্য আলী (রাঃ)-কে উদ্বুদ্ধ করেন। কিন্তু নিজের অভাব-অনটনের কথা চিন্তা করে তিনি ইতঃস্তত করেন যে, আবুবকর (রাঃ) এবং উমর (রাঃ)-এর পর আমার আর স্থান কোথায়। (ইসাবাহ)

এর পরও লোকেরা পীড়াপীড়ি করলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ফাতিমা (রাঃ)-এর সাথে তাঁর বিয়ের প্রস্তাব দেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এ প্রস্তাব কবুল করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমা (রাঃ)-কে বলেন : আলী তোমার প্রতি আগ্রহী। তিনি চুপ থাকেন। এ চুপ থাকাও ছিল এক ধরনের সম্মতি। অবশেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়িশা (রাঃ)-এর বিয়ের চার মাস পর দ্বিতীয় হিজরীর মুহাররাম মাসের প্রথম দিকে ফাতিমা (রাঃ)-কে আলী (রাঃ)-এর সাথে বিয়ে দেন। (উসুদুল গাবাহ)

অন্যান্য জীবনী লেখকদের বর্ণনা অনুযায়ী এ বিয়ে হয় উহুদ যুদ্ধের পর। কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে আয়িশাকে (রাঃ) ঘরে তুলে আনার সাড়ে চার মাস পর এ বিয়ে হয় এবং সাড়ে সাত মাস পর আলী (রাঃ) ফাতিমাকে ঘরে তুলে নেন। (উসুদুল গাবাহ)

তখন ফাতিমা (রাঃ)-এর বয়স হয়েছিল ১৫ বছর সাড়ে চার মাস। আর আলী (রাঃ)-এর বয়স ছিল ২১ বছর সাড়ে পাঁচ মাস। (ইস্তিআব)

আলী (রাঃ) বয়সে ফাতিমা (রাঃ)-এর চেয়ে প্রায় ৬ বছরের বড় ছিলেন। বিয়ের জন্য আলী (রাঃ) তাঁর উট এবং অন্যান্য আসবাবপত্র বিক্রয় করেন। এসব বিক্রি করে চার শত ৮০ দিরহাম সংগৃহীত হয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: দুই তৃতীয়াংশ সুগন্ধি ইত্যাদির জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ অন্যান্য কাজে ব্যয় কর। (তাবাক্বাত)

আলী (রাঃ) স্বয়ং নিজে বর্ণনা করেন: আমার এক দাসী ছিল, যাকে আমি আযাদ করে দেই। সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ফাতিমা (রাঃ)-এর জন্য কেউ কি বিয়ের প্রস্তাব করেছে? আমি বললাম: জানি না। এরপর সে বললো, আপনি পয়গাম দিন, এতে বাধা কিসের? আমি বললাম, কিসের ভিত্তিতে? আমার তো কিছুই নেই। সে আবার বলে: না, আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে হাযির হন। বারবার দাসী বলায় আমি দরবারে হাযির হই। কিন্তু তাঁর প্রভাব ও ভীতি আমার উপর এমন ক্রিয়া করে যে, কিছুই বলার সাহস হয়নি। আমি চুপচাপ বসে ছিলাম। কিছু বলার ক্ষমতাই ছিল না আমার। কিন্তু তিনিই বুঝতে পেরে জিজ্ঞেস করলেন: ফাতিমার (রাঃ) জন্য পয়গাম নিয়ে এসেছ? আমি বললাম, জি জনাব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: মাহরানা আদায় করার মতো তোমার কাছে কিছু আছে? আমি বললাম, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আমি তোমাকে যে লৌহ বর্ম দিয়েছিলাম, তা কোথায়? তাই মাহরানা হিসেবে দাও। তার মূল্য চারশ দিরহামের বেশী ছিল না। বিয়ে হয়ে যায় এবং সেটাই মাহরানা হিসেবে দেওয়া হয়। (উসুদুল গাবাহ)

অপর এক বর্ণনা মতে একদল আনসার আলী (রাঃ)-কে উৎসাহিত করলে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গেলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন: কি ব্যাপার? তিনি আরয করলেন: আমি ফাতিমা (রাঃ)-কে বিয়ে করতে আগ্রহী। তিনি বললেন: আহলান মারহাবা। আলী (রাঃ) বাইরে এলে অপেক্ষমান আনসার দল জানতে চাইলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জবাব দিয়েছেন? তিনি বললেন: আহলান মারহাবা ছাড়া কিছু বলেননি। তারা বললেন: রাসূলুল্লাহ -এর এতটুকুই বলা যথেষ্ট।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ বললেনঃ বিয়ের জন্য ওয়ালীমাও জরুরী। সা'আদ (রাযিঃ) বললেন, আমার কাছে একটা ভেড়া আছে, তা দিয়ে ওয়ালীমা করা যায়। আনসারদের একটা কাবীলাও সাধ্য অনুযায়ী ওয়ালীমার ব্যবস্থা করে। তদানুযায়ী খাদ্য পরিবেশন করা হয়। (তাবাক্বাত)

'আলী (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ -এর ঘর থেকে কিছুটা দূরে একটা ছোট ঘর ভাড়া নেন। রাসূল তাঁর দাসী উম্মু আইমানসহ ফাতিমা (রাযিঃ)-কে 'আলী (রাযিঃ)-এর ঘরে বিদায় দেন। বিদায়ের সময় তিনি বলেন: তুমি আমার সাথে দেখা করবে। এরপর তিনি 'আলী (রাযিঃ)-এর ঘরে যান। পানি চেয়ে নিয়ে ওযু করেন এবং তাঁর গায়ে ওযূর পানি ছিটিয়ে এ দু'আ করেন:
"اللهم بارك فيهما وبارك عليهما وبارك لهমা في نسلهমা"
“হে আল্লাহ! তাদেরকে বরকত দাও, তাদের ওপর বরকত নাযিল কর এবং তাদের বংশে বরকত দাও।” (তাবাক্বাত)

📘 প্রিয় রাসূলের (সাঃ) কন্যাগণ 📄 মহরানা ও যৌতুক

📄 মহরানা ও যৌতুক


'আলী (রাযিঃ) বলেন: আমি যখন বিয়ের পয়গাম নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা করি, তখন মাহরানা আদায় করার মতো কিছুই ছিলো না আমার কাছে। আমি যখন এ নিয়ে চিন্তিত, তখন রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন: তুমি মাহরানা কি দেবে? আমি বললাম: আমার কাছে তো কিছুই নেই। তিনি বললেন: আমি তোমাকে যে লৌহ বর্মটি দিয়েছিলাম, তা কোথায়? আমি বললাম, তা আমার কাছে আছে। রাসূলুল্লাহ বললেন: তবে তাই মাহরানা হিসাবে দাও। মাহরানা হিসাবে আমি তাই ফাতিমা (রাযিঃ)-কে দেই। ইকরামা বলেন: লৌহ বর্মটির মূল্য ছিল মাত্র চার দিরহাম। (তাবাক্বাত)

বস্তুত এ বর্ণনায় লৌহ বর্মের মূল্য চার দিরহাম বলে উল্লেখ করা বর্ণনাকারীর ভুল। আসলে তা হবে চার'শত দিরহাম। অন্যান্য বর্ণনায় চারশত আশি দিরহাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সকলের একমত যে, ফাতিমা (রাযিঃ)-এর মাহরানা চার'শত আশি দিরহামের কম ছিল না।

ইকরামা (রাযিঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাযিঃ)-কে নিম্নোক্ত হাদিয়া দেন: নকশা করা খাট ১ (এক) টি, বালিশ ১(এক) টি- যার ভেতরে ছিল খেজুরের ছাল, পেয়ালা ১ (এক) টি, মশক ১(এক)টি।

অন্যান্য জীবন চরিতকারের বর্ণনা মতে- কাপড়ের বালিশ ১ (এক) টি- যাতে ভরা ছিল খেজুরের ছাল, চাক্কী ২(দু')টি, মশক ২(দু')টি এবং কলসী ২(দু') টি। (তাবাক্বাত)

📘 প্রিয় রাসূলের (সাঃ) কন্যাগণ 📄 সন্তান

📄 সন্তান


ফাতিমা (রাঃ)-এর গর্ভে ২টি পুত্র সন্তান ইমাম হাসান ও ইমাম হুসাইন এবং ২টি কন্যা সন্তান- উম্মু কুলসূম ও যায়নাব (রাঃ) জন্ম গ্রহণ করেন। (আল-ইস্তিআব)

গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বিচারে এরা সকলেই ইসলামের ইতিহাসে মাশহুর হয়ে আছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এদের সকলকেই অত্যন্ত ভালবাসতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কন্যাদের মধ্যে কেবল ফাতিমা (রাঃ) এ গৌরব লাভ করেন যে, তাঁর মাধ্যমেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশ টিকে আছে। (উসুদুল গাবাহ)

অন্য বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, মুহসিন এবং রুকাইয়া নামেও তাঁর দু'সন্তান ছিলেন-(যারকানী)। যারা শৈশবেই মারা যান।

📘 প্রিয় রাসূলের (সাঃ) কন্যাগণ 📄 মর্যাদা

📄 মর্যাদা


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার মাটির উপর চারটি রেখা টেনে সাহাবা (রাঃ)-দের উদ্দেশ্য করে বলেন: তোমরা জান এটা কি? সকলেই বললেন: আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: ফাতিমা (রাঃ) বিনতু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, খাদীজা (রাঃ) বিনতু খুওয়াইলিদ, মারইয়াম বিনতু ইমরান এবং আসিয়া (আঃ) বিনতু মুযাহিম, জান্নাতবাসী নারীদের মধ্যে এদের ফযীলত সবচেয়ে বেশী। (ইস্তীআব)

ফাতিমা (রাঃ)-এর ফযীলত সম্পর্কে সহীহ্ হাদীস থেকে প্রমাণিত হয়: “তোমাদের অনুসরণের জন্য দুনিয়ার স্ত্রীদের মধ্যে মারইয়াম ('আঃ) বিনতু ইমরান, খাদীজা (রাযিঃ) বিনতু খুওয়াইলিদ, ফাতিমা (রাযিঃ) বিনতু মুহাম্মাদ এবং ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া ('আঃ) যথেষ্ট।”

ফাতিমা (রাযিঃ) জীবনের সকল কাজে রাসূলুল্লাহ-কে অনুসরণ করতেন। আয়িশাহ্ সিদ্দীকা (রাযিঃ) বলেন: আমি উঠা-বসা, চাল-চলন এবং কথা বলার ভাব-ভঙ্গীতে রাসূলুল্লাহ-এর সাথে ফাতিমা (রাযিঃ)-এর চেয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ কাউকে দেখিনি। ফাতিমা (রাযিঃ) রাসূল-এর কাছে আসলে তিনি উঠে দাঁড়াতেন, কপালে চুমু খেতেন এবং নিজের স্থানে বসাতেন। (আবু দাউদ)

উম্মু সালামাহ্ (রাযিঃ) বলেন: চাল-চলন এবং কথা বলার ভাব-ভঙ্গীতে রাসূলুল্লাহ-এর উৎকৃষ্ট নমুনা ছিলেন ফাতিমা (রাযিঃ) এবং রাসূলের চেহারার সাথে ফাতিমা (রাযিঃ)-এর চেহারার অনেকটা মিল ছিল। আয়িশাহ্ সিদ্দীকা (রাযিঃ) বলেন: আমার চক্ষু ফাতিমা (রাযিঃ)-এর পর রাসূলুল্লাহ-এর চেয়ে উত্তম কাউকে দেখেনি। (ইসাবা)

রাসূলুল্লাহ বলেন: فَاطِمَةُ بِضْعَةٌ مِنِّي فَمَنْ أَغْضَبَهَا فَقَدْ أَغْضَبَنِي "ফাতিমা আমার দেহের একাংশ। যে তাকে নারায করবে, সে আমাকে নারায করবে।” (বুখারী [তাওহীদ পাবলিকেশন্স, হাঃ ৩৭৬৭])

উম্মু সালমাহ্ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমার ঘরে রাসূলুল্লাহ অবস্থান করছিলেন। এমন সময় ফাতিমা (রাযিঃ) রেশমী কাপড়ের একটি পুঁটলিতে করে কিছু নিয়ে আসলেন। রাসূল বললেন: “তোমার স্বামীকে ও দুই শিশুকে নিয়ে এসো।” সুতরাং তারাও এসে গেলেন ও খেতে শুরু করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বিছানায় ছিলেন। বিছানায় খাবারের একটি উত্তম চাদর বিছানো ছিল। আমি কামরায় নামায পড়ছিলাম। এমন সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হলো- ينساة النبي لستن كاحد من النساء ان اتقيتن فلا تخضعن بالقول فيطمع الذي في قلبه مرض وقلن قولا معروفا ، وقرن في بيوتكن ولا تبرجن تبرج الجاهلية الاولى রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। তিনি চাদরের ভিতর থেকে হাত দু'টি বের করলেন এবং আকাশের দিকে উঠিয়ে দু'আ করলেন: "হে আল্লাহ! এরা আমার আহলি বাইত ও আমার সাহায্যকারী। আপনি এদের অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং এদেরকে পবিত্র করুন!” আমি আমার মাথাটি ঘর থেকে বের করে বললাম : হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমিও তো আপনাদের সবারই সাথে রয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন: “হ্যাঁ অবশ্যই। তুমি তো সদা কল্যাণের উপর রয়েছে। (মুসনাদ আহমাদ)

অন্য একটি রিওয়ায়াতে আছে যে, উম্মু সালমা (রাঃ) বলেনঃ "একদা আমার সামনে আলী (রাঃ)-এর আলোচনা শুরু হলো। আমি বললাম : আয়াতে তাতহীর তো আমার ঘরে অবতীর্ণ হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এসে বললেন- “কাউকেও এখানে আসার অনুমতি দেবে না।” অল্পক্ষণ পরেই ফাতিমা (রাঃ) আসলেন। কি করে আমি মেয়েকে তাঁর পিতার নিকট যেতে বাধা দিতে পারি? অতঃপর হাসান (রাঃ) আসলেন। কি করে নাতিকে তাঁর নানার কাছে যেতে বাধা দিতে পারি? তারপর হুসাইন (রাঃ) আসলেন। তাঁকেও আমি বাধা দিলাম না। এরপর আলী (রাঃ) আগমন করলেন। তাঁকেও আমি বাধা দিতে পারলাম না। তাঁরা সবাই যখন একত্রিত হলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে চাদর দ্বারা আবৃত করলেন এবং বললেন: “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলি বাইত। সুতরাং আপনি এদের অপবিত্রতা দূর করে দিন এবং এদেরকে পবিত্র করুন।” ঐ সময় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। যখন এঁদেরকে চাদর দ্বারা আবৃত করা হলো তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমিও কি এদের অন্তর্ভুক্ত? কিন্তু আল্লাহ জানেন, তিনি আমার এ প্রশ্নে সন্তোষ প্রকাশ করলেন না। তবে শুধু বললেনঃ "তুমি কল্যাণের দিকেই রয়েছো।" (ইবনু কাসীর)

ইবনু হাওশিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি তাঁর চাচাতো ভাই হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: একদা আমি আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট গমন করে তাঁকে আলী (রাঃ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তখন তিনি বলেন: তুমি আমাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেছো যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি। তাঁর বাড়ীতেই তাঁর প্রিয়তমা কন্যা ছিলেন। যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট সবচেয়ে বেশী ভালবাসার পাত্রী। আমি অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি যে, তিনি আলী (রাঃ), ফাতিমা (রাঃ), হাসান (রাঃ) ও হুসাইন (রাঃ)-কে আহ্বান করেন। অতঃপর তিনি তাঁদের উপর কাপড় নিক্ষেপ করেন এবং বলেন- “হে আল্লাহ! এরা আমার আহলি বাইত। সুতরাং আপনি তাদের থেকে অপবিত্রতা দূরীভূত করুন এবং তাদেরকে পবিত্র করে দিন!” আমি তখন তাঁদের নিকটবর্তী হলাম। অতঃপর বললাম: হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমিও কি আপনার আহলি বাইতের অন্তর্ভুক্ত? তিনি জবাবে বললেন: "নিশ্চয়ই, জেনে রোখো যে, তুমি কল্যাণের উপর রয়েছো। (ইবনু আবী হাতিম)

ফন্ট সাইজ
15px
17px