📄 যায়নাব (রাঃ)-এর জন্ম পরিচয়
রাসূলুল্লাহর এবং তাঁর প্রথম সহধর্মিণী খাদীজাতুল কুবরার মিলন-জাত সন্তান-সন্তুতির মধ্যে সর্বপ্রথম কে জন্ম গ্রহণ করেন- পুত্র কাসেম, না কন্যা যায়নাব এ নিয়ে মতভেদের কিছুটা অবকাশ রয়েছে। কিন্তু কন্যাগণের মধ্যে বড় যে যায়নাব এ সম্পর্কে কোনই মতভেদ নেই।
রাসূলুল্লাহ-এর নবুওয়াত লাভের মোটামুটি দশ বৎসর পূর্বে যায়নাব জন্ম গ্রহণ করেন। তখন রাসূলুল্লাহ-এর বয়স ৩০ (ত্রিশ) এবং উম্মুল মু'মিনীন খাদীজা (রাযিঃ)-এর বয়স ৪৫ (পয়তাল্লিশ) বৎসর। যায়নাবের শৈশব সম্পর্কে বিশেষ কোন তথ্য জানা যায় না। মহৎ-চরিত্র পিতা এবং গুণবর্তী ও ধনবর্তী মাতার স্নেহচ্ছায়ায় ও উত্তম লালন-পালন গুণে যায়নাব যে এ সময় আদর্শ কন্যা রূপে গড়ে উঠছিলেন- একথা সহজেই অনুমান করা যেতে পারে।
📄 বিবাহ ও স্বামীর মার্জিত আচরণ
রাসূলুল্লাহ-এর নবুওয়াত লাভের পূর্বেই যায়নাব (রাযিঃ)-এর বিবাহ্ অল্প বয়সে তার আপন খালাত ভাই আবুল 'আস ইবনু রাবী' (ইবনু আবদিল উয্যা ইবনু আব্দি শামস ইবনু আব্দি মান্নাফ)-এর সঙ্গে সুসম্পন্ন হয়।
শুধু যায়নাব (রাযিঃ)-এরই নয়, রাসূলুল্লাহ তাঁর দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কন্যা রুকাইয়া (রাযিঃ) এবং উম্মু কুলসূম (রাযিঃ)-এর শুভ বিবাহ্ আবু লাহাবের দুই পুত যথাকমে উৎবা এবং উতাইবার সাথে আরও কম বয়সে সম্পন্ন করে ফেলেন। কিন্তু নবুওয়াত লাভের পর আবু লাহাব এবং তার স্ত্রী উম্মু জামীলা (হাম্মালাতাল হাতাব)-এর ইসলামের প্রতি তীব্র বিদ্বেষ ও রাসূল-এর সাথে দুশমনীর কারণে তাদের কড়া হুকুমে উক্ত বিবাহ্ বন্ধন তালাকের মাধ্যমে ছিন্ন করে ফেলা হয়। সে কথা যথাস্থানে বিবৃত হবে।
এখানে যায়নাব (রাযিঃ)-এর বিয়ের কথা এবং প্রতিকুল পরিবেশেও স্বামী-স্ত্রীর একে-অপরের ভালবাসার গভীরতা এবং অটলতার কথা বর্ণনা হচ্ছে।
খাদীজা (রাযিঃ)-এর এক সহোদরা ভগ্নি ছিলেন যার নাম ছিল হালাহ। 'রাবী' ইবনু আবদিল উয্যার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এদের মিলনজাত ছেলের নাম আবুল 'আস। হালাহ মাঝে মাঝে বোন খাদীজার বাড়ীতে আসতেন এবং যায়নাবকে দেখতেন। যায়নাবের দৈহিক সৌন্দর্য, মিষ্টি মধুর কথা, বুদ্ধিমত্তা এবং আকর্ষণীয় চাল-চলন দেখে তিনি অত্যন্ত খুশি হন এবং ভগ্নি-ন্যাকে পুত্রবধূ রূপে নিজ গৃহে নেয়ার আশা হৃদয়ে পোষণ করেন। অবশেষে তিনি তার বোনের নিকট একদিন বিয়ের প্রস্তাব পেশ করেন এবং বলেন: দু'জনে মানাবে ভাল।
হালাহ-এর প্রস্তাব শুনে খাদীজা (রাযিঃ) নিজে কোন মতামত ব্যক্ত না করে একদা সুযোগ বুঝে স্বামী রাসূলুল্লাহ-এর নিকট কথা তুলে ধরলেন। আবুল আস বুদ্ধি, সাহসিকতা, বীরত্ব, আচার-ব্যবহার সব দিক দিয়েই বর হিসেবে ছিল পছন্দনীয়। কাজেই রাসূলুল্লাহ এ প্রস্তাবে সম্মত হলেন এবং যথাসময় নিয়ম মাফিক বিবাহ্ সম্পন্ন হল। পূর্বেই বলা হয়েছে। এ বিবাহ্ কার্য সম্পন্ন হয় রাসূলুল্লাহ-এর নবুওয়াত লাভের পূর্বে এবং তখন যায়নাব (রাযিঃ)-এর বয়স দশ বৎসরের নিম্নে।
যায়নাব (রাযিঃ)-এর বিয়ের পর ৪০ (চল্লিশ) বৎসর বয়সে রাসূল নবুওয়াতের মহা অবদান এবং রিসালাতের মহান দায়িত্ব লাভ করেন। তাঁর প্রতি প্রভু পরোয়ারদিগারের নিকট হতে দ্বিতীয় প্রত্যাদেশ নাযিল হলঃ
“হে বস্ত্রাবৃত (কাপড়ে ঢাকা) রাসূল! উঠুন, সতর্ক করুন; আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন; ...." -(সূরা আল-মুদ্দাস্স্সির ১-১৩)।
তিন বৎসর পর্যন্ত অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ইসলামের প্রচার কার্য চালান হল। তারপর রাসূল -এর অভিজ্ঞতা ও ধৈর্যধারণ ক্ষমতা যখন বৃদ্ধি প্রাপ্ত হল এবং মুসলমানদের সংখ্যা ত্রিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে পৌঁছে গেল তখন নির্দেশ এলঃ "হে রাসূল! আপনি প্রচার করুন যা আপনার উপর আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে তা।" (সূরা আল-মায়িদাহ ৬৭)
আরও নির্দেশ এল "আপনি আপনার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দেরকে সাবধান করুন" -(সূরা আশ্-শু'আরা ২১৪০)।
যায়নাব (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ -এর কলিজার টুকরা আর জামাতা আবুল 'আস নিকটতম আপন জন। যথা সময়ে তাদের নিকটও ইসলামের বাণী প্রচারিত হল। যায়নাব (রাযিঃ) সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হলেন। কিন্তু আবুল 'আস উক্ত আহ্বানে সাড়া দিলেন না। তিনি মুশরিকদের দলেই থেকে গেলেন। স্ত্রী সত্য ধর্ম ইসলাম কবুল করলেন আর স্বামী পিতৃ পুরুষের মিথ্যা ধর্মেই অবিচল থাকলেন। তবু তাদের মধ্যে প্রাক ইসলামী বিবাহ বন্ধন অটুটই থেকে গেল। এর অনেকগুলো কারণ ছিল :
প্রথমত: স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মধ্যে ভালবাসা ছিল অত্যন্ত গভীর, দ্বিতীয়ত: ইসলামের সে প্রাথমিক অবস্থায় মুসলমানরা ছিল খুবই দুর্বল, তৃতীয়ত: মুসলমান ও মুশরিকের বিবারে নিষিদ্ধতা সম্পর্কীয় আয়াত তখন নাযিল হয়নি। চতুর্থত: রাসুলে কারীম মাসলাহাতের কারণে বিবাহ বিচ্ছেদের পরিবর্তে বন্ধন অটুট রাখাই শ্রেয় মনে করেছিলেন এবং পরিণামে তা যুক্তিসঙ্গত ও কল্যাণপ্রদ প্রতিপন্ন হয়েছিল।
ইসলামের সঙ্গে কুরাইশদের দুশমনী এবং বিরোধিতা যখন বেড়ে চললো, তখন কুরাইশদের কতক লোক আবুল 'আসের নিকট গিয়ে যায়নাব (রাযিঃ)-কে তালাক দেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি শুরু করল, এমন কি তার উপর চাপ সৃষ্টি করে তালাক্ব দিতে বাধ্য করার জোর চেষ্টা চালাল। অবশেষে তাকে এ বলে প্রলোভিত করারও চেষ্টা করল, "তুমি আমাদের দুশমন মুহাম্মাদ -এর মেয়েকে বিবাহ্ করেছ। তুমি তাকে তালাক্ব দাও। তার পরিবর্তে কুরাইশদের যে কোন সুন্দরী মেয়েকে তুমি পছন্দ কর, আমরা তাকেই তোমার সাথে বিবাহ্ দেবার ব্যবস্থা করব।”
আবুল 'আস তাদের সব যুক্তিতর্ক এবং প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করলেন। ফলে তাদের হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হল।
মুহাম্মাদ এ সংবাদ শুনে খুশী হলেন। আবুল 'আস-এর মার্জিত আচরণ এবং সুস্থ বিচার বুদ্ধির জন্য তিনি প্রশংসা করলেন যা পরবর্তীতে আরও অনেক সময়েই করেছেন।
📄 দাওআতের কাজে সহযোগিতা
রাসূলুল্লাহ -এর নিজ বংশ এবং নিজ গোত্রে সে কুরাইশদের- যারা আল্লাহর একত্ববাদের কথা ভুলে গিয়ে শির্ক তথা পুতুল পূজার গুমরাহীতে লিপ্ত ছিল তাদেরকে- সত্য পথের সন্ধান দিলেন। ভ্রান্ত পথে চলার পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ারি বাণী উচ্চারণ করলেন এবং এক আল্লাহর স্বরূপ তুলে ধরলেন। তিনি তাদের ডাক দিয়ে উদাত্ত কণ্ঠে ঘোষণা করলেন:
"হে লোক সকল! তোমরা শুনে রাখ, আল্লাহ এক, তাঁর কোনই শারীক নেই। তিনিই বিশ্ব জগতের খালিক ও মালিক- স্রষ্টা ও অধিশ্বর। তিনিই মানুষ এবং অন্য সব সৃষ্টবস্তুর অভাবমোচক- দুঃখ-কষ্টের অপসারক এবং বিপদউত্তারক। অতএব তোমরা একমাত্র তাঁরই 'ইবাদাত-বন্দেগী কর, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর। নিজ হস্তে তৈরী মূর্তিগুলোকে তোমাদের জন্য সুপারিশকারী এবং সাহায্যকারী ভেবো না। আল্লাহকে ভয় এবং সমীহ করে চল আর গুনাহ থেকে আত্মরক্ষা কর। অন্যথায় ক্বিয়ামাতের ভয়াবহ দিবসে তিনি তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন।"
এই ছিল সেই বাণী যা শুনে মক্কার অধিবাসীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। এ ধরনের বাণী যতই তারা শুনতে লাগল ততই তাদের উত্তেজনা ও ক্ষিপ্ততা বেড়ে চলল। যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন তাদের নিকট আদর্শ-চরিত্র ও বিশ্বস্ততম ব্যক্তি তিনি হয়ে উঠলেন তাদের সবচেয়ে অপ্রিয় ও অবাঞ্ছিত ব্যক্তি- ঘোরতর শত্রু। তারা তাঁর প্রতি ও তাঁর মুষ্টিমেয় অনুসারীদের প্রতি অকথ্য অত্যাচার উৎপীড়ন শুরু করে দিল। তিনি যে পথ দিয়ে চলাফেরা করতেন সে পথেই কাফিররা কাঁটা ছড়িয়ে রাখত। তাঁর গলায় মোটা চাদর জড়িয়ে পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি করত। কখনও বা আল্লাহর ঘর কাবা গৃহে নামাযে সিজদারত অবস্থায় রাসূলের উপর উটের নাড়িভুড়ি চাপিয়ে দিত।
যায়নাব (রাঃ) তখন কিশোরী এবং বিবাহিতা। তিনি মহান পিতার উপর কুরাইশদের এই অন্যায় বর্বর আচরণে মর্মাহত ও উদ্বেগাকুল হয়ে পড়তেন। তিনি অস্থির হয়ে ঘর থেকে বের হয়ে আসতেন।
একদিনের একটি ঘটনা নিম্নে বর্ণনা দেওয়া হল:
"মুদারিক ইবনু হারিস 'আমেদী (রাঃ)-এর বর্ণনা মতে তিনি বলেন, ইসলাম-পূর্ব জাহিলিয়াতের যুগে আমার পিতার সঙ্গে একবার হজ্ব করতে মক্কায় গিয়েছিলাম। মিনা প্রান্তরে আমি দেখতে পেলাম: একটি লোক দাঁড়িয়ে, তাকে পরিবেষ্টিত করে আছে অসংখ্য লোক! আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, কে ঐ লোকটি যাকে এত লোকে ঘিরে রেখেছে? তিনি বললেন: “এ হচ্ছে সেই পথভ্রষ্ট বেদুঈন! যার নাম মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), সে তার বাপ দাদার ধর্ম ত্যাগ করে নতুন ধর্ম প্রচার করছে।”
এই কথাগুলো বলে আমার পিতাও ঐ সমাবেশের দিকে এগিয়ে গেলেন, আমিও তাঁর অনুসরণ করলাম। গিয়ে দেখি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে উপদেশ দিয়ে চলেছেন আর লোকেরা তাঁর কথা না শুনে উল্টো তাঁর প্রতি পাথর ছুঁড়ে মারছে এবং ধূলোবালি নিক্ষেপ করে চলেছে! তারা এই অমানুষিক আচরণ চালাতে গিয়ে প্রখর রৌদ্রে ক্লান্ত ও শ্রান্ত হয়ে দূরে সরে যাচ্ছে। ঠিক এমনি সময় আমরা দেখতে পেলাম একটি সুন্দরী কিশোরী বালিকা ব্যথিত, বিচলিত এবং ক্রন্দনরত অবস্থায় দৌড়ে সেখানে এসে উপস্থিত হল। তার হাতে পানির একটি পাত্র আর জামার বোতামগুলো খোলা। এই নিষ্কলঙ্ক মাসূম বালিকাটির পরিচয় সমবেত লোকদের মুখেই জানা গেল। তারা বলাবলি করতে লাগল, ঐ দেখ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়েটি এসে গেছে। কিশোরী যায়নাবের তখনকার অবস্থা বর্ণনাতীত। বুযুর্গ পিতার ঐ অবস্থা দর্শনে কন্যা যায়নাব অত্যন্ত ব্যথিত। সহানুভূতি ও দরদভরা হৃদয় নিয়ে তিনি পিতার সাহায্যে সেখানে সমুপস্থিত। বুক ফেটে তার কান্না বেরিয়ে আসছে, চোখ দিয়ে অশ্রু-ধারা ঝরে পড়ছে। সেই অবস্থায় তিনি পানি ভর্তি পাত্রটি পিতার হাতে এগিয়ে দিলেন আর অঝোরে কেঁদে চললেন। তার মাথা এবং জামার বোতাম খোলা, সে দিকে তাঁর মোটেই খেয়াল নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কন্যাকে লক্ষ্য করে মায়াভরা কণ্ঠে ডেকে বললেন: প্রিয়তমা কন্যা! জামার বোতাম আগে লাগিয়ে নাও। তুমি এত বেশী বিচলিত এবং পেরেশান হচ্ছ কি জন্য? আল্লাহর রাস্তায় চলতে গিয়ে তোমার আব্বা পরাজিত ও পর্যুদস্ত হবেন- এ ভয় এ আশঙ্কা তুমি কস্মিনকালে তোমার হৃদয়ে স্থান দিও না।
যতই দিন যেতে লাগল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরামহীন প্রচারের ফলে মুসলমানের সংখ্যা ক্রমে ক্রমে ততই বেড়ে চলল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা মহাবীর হামযা (রাঃ) এবং সিংহ-হৃদয় ওমর ইবনু খাত্তাবের (রাঃ) ইসলাম গ্রহণের ফলে তাদের সাহসিকতা এবং উৎসাহদীপ্ত সহযোগিতার ফলে ইসলামের শক্তি বর্ধিত হয়ে চলল। ফলে 'আল্লাহু আকবার' তাকবীর ধ্বনিতে চারিদিক মুখরিত করে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নেতৃত্বে শোভাযাত্রা সহকারে মুসলমানগণ কাবা গৃহে গমন এবং তথায় প্রকাশ্যে জামা'আতের সঙ্গে শুকরিয়ার নামায আদায় করার তাওফীক লাভ করলেন। এ সব দেখে কাফিরদের মনে হিংসার আগুন দিগুণ জ্বলে উঠল। তারা মুসলমানদের উপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ১১৮ জন মুসলমান দু'বারে আবিসিনিয়ায় হিজরত করতে বাধ্য হন।
মুসলমানগণ ইসলামের বাণী সেখানে বহন করে নিয়ে যান এবং ইসলামের নাম, সুখ্যাতি ও শক্তি আরবের বাইরেও প্রসারিত হতে থাকে। ইসলামের এই দুর্বার অগ্রগতিতে মক্কার কাফিরগণ তাদের ভবিষ্যৎ ভেবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত হয়ে উঠে।
📄 যায়নাবের (রাঃ) মদীনায় হিজরত হলো না
নবুওয়াতের ত্রয়োদশ বর্ষে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন জন্মভূমি মক্কা মুয়ায্যমার মায়া পরিত্যাগ করে যখন মদীনা মুনাওয়ারায় হিজরত করতে বাধ্য হলেন, তখন পর পর তাঁর তিন কন্যাও মদীনায় গিয়ে তাঁর নৈকট্য ও সাহচর্যে অবস্থানের সৌভাগ্য লাভ করলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে মক্কায় মুশরিক স্বামী আবুল 'আসের গৃহে রয়ে যেতে বাধ্য হলেন বড় কন্যা যায়নাব (রাঃ)।
স্নেহময়ী মাতা চিরবিদায় গ্রহণ করেছেন, অত্যাচার ও যুলম-নির্যাতনের শিকার হয়ে মহান পিতা জন্মভূমি ছেড়ে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তিনশত মাইল দূরে- এক অজানা অচেনা পরিবেশে। স্বামী আবুল 'আস যদিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ব্যক্তিগতভাবে শ্রদ্ধাসম্পন্ন, তবু ইসলামের ক্রমবর্ধমান শক্তিতে আতঙ্কিত মক্কাবাসীদের সাথে ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রায় অংশ নিতে বাধ্য হন।
মহান পিতা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে কাফিরদের বিপুল সমর সম্ভার সহ যুদ্ধ যাত্রায় এবং তাতে স্বীয় স্বামীর অংশ গ্রহণের ফলে স্বামীর ভবিষ্যৎ চিন্তায় কাতর যায়নাব (রাঃ)-এর নারীসূলভ কোমল হৃদয় তখন মানসিক দ্বন্দ্বে ও অস্থিরতায় কিরূপ বিচলিত হয়ে উঠেছিল তা শুধু হৃদয় দিয়েই অনুভব করা যায়।