📄 আমি তো ছিলাম ভালো...
আল্লাহ বলেন,
وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِّنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِّنْ أَهْلِهَا إِن يُرِيدًا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَاء إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا ﴿٣٥﴾
"আর যদি তোমরা তাদের উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন বিচারক এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন বিচারক পাঠাও। যদি তারা মীমাংসা চায়, তাহলে আল্লাহ উভয়ের মধ্যে মিল করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সম্যক অবগত।” (সূরাহ আন-নিসা ৪:৩৫)
যারা সত্যিকার অর্থেই সম্প্রীতি চায়, আল্লাহ তাদের সাফল্য দানে ধন্য করার ওয়াদা করেছেন। এটা শুধু স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রেই না; পিতামাতা-সন্তান, ভাই-বোন, ব্যবসায়িক অংশীদার, সহকর্মী, প্রতিবেশী- সবার ক্ষেত্রেই সত্য।
এই সম্প্রীতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো নিজের মতকে সবসময় ঠিক এবং নিজেকে সবসময় নির্দোষ ভেবে গোঁ ধরে থাকা। উভয় পক্ষই নিজেকে অপরপক্ষের নির্যাতনের শিকার বলে মনে করে।
সম্প্রীতির পথে এই বাধাকে যদি এক শব্দে বলি তবে সেটা হলো 'অহমিকা'।
এমনকি নিজের আত্মীয়দের মাঝে দ্বন্দ্বেও আমি এই বিষয় একাধিকবার দেখেছি। একবার তো একপক্ষ পাঁচ বছর আগ থেকে নিয়ে এ পর্যন্ত কত খুঁটিনাটি বঞ্চনার শিকার হয়েছে, তার ফিরিস্তি দেওয়া শুরু করল। অপরপক্ষ বেশ কিছুক্ষণ ধৈর্যের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে চুপ করে শুনছিল। পরে একসময় তাও অসহ্য হয়ে ওঠে।
অপরপক্ষ যখন বলতে শুরু করল, আবার দেখি ঘুরেফিরে একই ব্যাপার। দীর্ঘ ফিরিস্তি, দীর্ঘ ধৈর্য। এই ধৈর্যটুকু কি এরা এতদিন একজন আরেকজনের সাথে দেখাতে পারল না?
দুঃখের বিষয় এই যে, উভয়পক্ষের কথা শুনলেই মনে হবে তার কথাই ঠিক। কথাগুলো এত আবেগ আর হৃদয় দিয়ে বলা হয় আর মুখের ভঙ্গিমাও এমন হয় যে, এভাবে মিথ্যে বলা সম্ভব না। উভয় পক্ষের কাছেই নাকি শক্ত স্বাক্ষী আছে।
স্বামী-স্ত্রী নিজেরা তাদের বিরোধের কথা বলার সময় মনে হয় যেন সত্যের পাল্লায় একটি আঙুল রেখে তা নিজের দিকে ঝুলিয়ে রাখে। মাঝেমাঝে একটু দোষ স্বীকার করার মতো দয়াও হয় কারো কারো, "হ্যাঁ, এটা সত্যি যে আমি এমন অমন করেছি...কিন্তু যত যা-ই হোক...।" দিনশেষে উভয়ের উপসংহার হবে, "আমি তো ভালোই ছিলাম, উনিই না যত ঝামেলাটা লাগালেন।” সবসময় অপরপক্ষটাই জানে না কীভাবে আচরণ করতে হয়, কীভাবে সঙ্গীর ভালো স্বভাবের মান রাখতে হয়।
এ থেকেই বোঝা যায় অহমিকার মূল কত গভীরে আর মানুষ তা স্বীকার করতে কতটা অনিচ্ছুক। ভাইরাসের মতো ছোট আর দ্রুত যে, ধরাও যায় না। কিন্তু ঠিকই সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। মানুষের সিদ্ধান্ত, কাজ, দৃষ্টিভঙ্গি সবকিছুতে সবার অলক্ষে প্রভাব ফেলে যায়।
আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সময় শয়তানও এই অহমিকাই দেখিয়েছে। আল্লাহ যখন আদমের সামনে সিজদাহ করতে বললেন, ইবলিস বলেছিল,
قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ ﴿٧٦﴾
"আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে।” (সূরাহ সাদ ৩৮:৭৬)
মূসা আলাইহিসসালামের দাওয়াত প্রত্যাখ্যানের জন্য ফিরআউনের অজুহাতও ছিল অহমিকা।
أَمْ أَنَا خَيْرٌ مِّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ مَهِينٌ وَلَا يَكَادُ يُبِينُ ﴿٥٢﴾
"হীন এবং স্পষ্ট কথা বলতে অক্ষম এই লোকের চেয়ে আমি কি শ্রেষ্ঠ নই?” (সুরাহ আয-যুখরুফ ৪৩:৫২)
কারুনের অবাধ্যতার অজুহাতও একই অহমিকা। আল্লাহ বলেন,
قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِندِي ، أَوَلَمْ يَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَهْلَكَ مِن قَبْلِهِ مِنَ الْقُرُونِ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُ قُوَّةً وَأَكْثَرُ جَمْعًا ، وَلَا يُسْأَلُ عَن ذُنُوبِهِمُ الْمُجْرِمُونَ ﴿۷۸﴾
“সে বলল, 'আমি তো আমার নিজের জ্ঞানবলে এসব পেয়েছি।' সে কি জানে না যে, আল্লাহ তার পূর্বে তার চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান ও সম্পদশালী অনেক প্রজন্মকে ধ্বংস করেছেন? কিন্তু অপরাধীদের তাদের অপরাধের জন্য তৎক্ষণাৎ প্রশ্ন করা হয় না।” (সূরাহ আল-কাসাস ২৮:৭৮)
অহমিকা কারো অজান্তেই তার মাঝে চলে আসতে পারে। এর বিপদ থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকতে হয়। এজন্যই কোনো বক্তব্য দেওয়ার আগে নবিজি (ﷺ) এই দু'আ পড়তেন,
وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا
“আর আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই নিজেদের ক্ষতি ও আমাদের কাজকর্মের ক্ষতি থেকে।” [৪৬]
প্রতিপালককে তিনি এই দু'আ করেও ডাকতেন,
اللَّهُمَّ أَلْهِمْنِي رُشْدِي وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي .
“হে আল্লাহ! আমাকে সঠিক পথ দেখান এবং আমাকে নিজের ক্ষতি থেকে রক্ষা করুন।” [৪৭]
আল্লাহ বলেন,
وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ﴿٩﴾
“যাদেরকে আত্মার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।” (সূরাহ আল-হাশর ৫৯:৯)
আশপাশের মানুষগুলোর আচরণ ও মতামত নিরীক্ষা করলে দেখবেন যে, অনেকের আচরণই তাদের অহমিকা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। যারা নিজেদের নিরপেক্ষ ও বুঝদার দাবি করে, তারাও আলাদা কিছু নয়। দ্বীনদারদের ক্ষেত্রেও এটা সত্য। কেউই এ থেকে মুক্ত না। নফসের ধোঁকা বড় সূক্ষ্ম, বৈচিত্র্যময় ও অধরা। আমরা কখনওই এই অহংবোধ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারব না। কিন্তু এর দ্বারা যেসব ক্ষতি হয়, সেগুলোর ব্যাপারে আগে থেকে সতর্ক তো থাকতে পারব। সত্যি বলতে অহংকার থেকে পুরোপুরি মুক্ত হওয়াটাই অস্বাভাবিক। আর এই অহংকারের কিছু ইতিবাচক প্রভাবও আছে। ইবরাহিম আলাইহিসসালাম দু'আ করেছিলেন,
وَاجْعَل لِّي لِسَانَ صِدْقٍ فِي الْآخِرِينَ ﴿٨٤﴾
“এবং আমাকে পরবর্তী প্রজন্মগুলোর মাঝে সুখ্যাতি দান করুন।” (সূরাহ আশ-শু'আরা ২৬:৮৪)
এক ব্যক্তি ভালো কাজ করার পর লোকে তার প্রশংসা করে। এমন ব্যক্তি সম্পর্কে নবিজি (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাব দেন,
تِلْكَ عَاجِلُ بُشْرَى الْمُؤْمِنِ
“এটা তো দুনিয়াতে মুমিনের জন্য সুসংবাদ।”[৪৮]
তিনি আরো বলেন,
إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُو لَهُ
“মানুষ মারা গেলে তিনটি ছাড়া তার বাকি সব আমলের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং তার জন্য দু'আ করা নেক সন্তান।”[৪৯]
আমাদের অহংবোধ আমাদের অন্যসব স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যের মতোই। মানবস্বত্ত্বার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু একে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। কেউ পারে, কেউ একটু কম পারে। এটা যৌনক্ষুধার মতোই। বংশবিস্তারের জন্য এটি জরুরি, কিন্তু একে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে তুলকালাম অবিচার ছড়িয়ে পড়ে। আমরা নিজেদের ব্যাপারে ভালো করে জানলে টের পাব কখন আমরা অহংয়ের দাস হয়ে যাই। এই জায়গাগুলো সনাক্ত করতে পারলে নিজেরাও যেমন সুখী থাকতে পারব, অন্যদের সাথেও সঠিক আচরণ করতে পারব। নিজের অহংকার মাপার একটি পদ্ধতি হলো নিজের কথার দিকে খেয়াল করা। এক দিনে আপনি কয়বার 'আমি' শব্দটি ব্যবহার করেন? মানুষের মুখে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দগুলোর মাঝে এটি একটি। আপনার ক্ষেত্রেও এমনটি হয়ে থাকলে, এখনই সময় পরিবর্তনের।
টিকাঃ
[৪৬] সুনান তিরমিযি: ১১০৫
[৪৭] সুনান তিরমিযি: ৩৪৮৩
[৪৮] সহিহ মুসলিম: ২৬৪২
[৪৯] সহিহ মুসলিম: ১৬৩১
📄 চলুন, সম্প্রীতি গড়ি
'সমঝোতা'র চেয়ে 'সম্প্রীতি'র আলোচনা করাই আমার পছন্দের। আমি মতভেদ দূর করতে বা প্রশমিত করতে চাই না। দ্বীনি ও দুনিয়াবি উভয় ক্ষেত্রেই এমন কিছু বিষয় আছে, যাতে মতভেদ কখনওই এড়ানো যাবে না। এসব মতভেদ বরং দরকারি ও উপকারী।
কিছু ব্যাপারে পার্থক্য না থাকলে তো মানুষ অনেক উপকারী বিকল্প থেকেই বঞ্চিত হয়ে যেত। এটা আল্লাহ তাআলার হিকমাহ যে তিনি আমাদেরকে নানা ভাষা, নানা রঙ সহ অনেক রকম বৈচিত্র দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এই বৈচিত্র আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করে।
সম্প্রীতি মানে আমাদের মতভেদকে দ্বন্দ্ব-সংঘাতে পরিণত হতে না দিয়ে ইতিবাচক উপায়ে ব্যবহার করা। এর অর্থ মানুষের চিন্তাধারা এক করা নয়, বরং হৃদয়গুলোকে এক করা।
সম্প্রীতির একটি নৈতিক প্রেরণা আছে। এর দৃষ্টিভঙ্গি প্রশস্ত, শুধু জ্ঞান আর সচেতনতা বাড়ানোর মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। কিছু তথ্য জানলেই বা অপরপক্ষের মত শুনলেই মানুষের মতামত, আচরণ, আগ্রহ ও দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যায় না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের এই পার্থক্য যেন কিছুতেই একে অপরের প্রতি আমাদের অন্তরগুলো কঠিন করে না দেয়।
সম্প্রীতি মানে হলো যেসব বিষয়ে আমরা একমত, সেগুলোতে বেশি মনোযোগ দেওয়া। আর আমাদের সবার প্রয়োজনীয় মানবিক প্রচেষ্টায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো। এমন অনেক বিষয়ে অন্যদের সাথে ইতিবাচক লেনদেনের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। ধর্মীয় ব্যাপারেও এ কথা খাটে।
এই প্রচেষ্টাগুলো আমাদের সময় ও মনোযোগ পাওয়ার দাবিদার। কুরআন-সুন্নাহ আমাদের এভাবেই আচরণ করতে শেখায়। আমাদের ভালো-খারাপ মানবিয় অভিজ্ঞতার সমষ্টি থেকে বোঝা যায় যে, সদিচ্ছা ও সম্প্রীতির সাথে একে অপরের সাথে কাজ করাই সর্বোত্তম। সাধারণ নীতি, বিশ্বাস, ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে একসাথে কাজ করলে আমরা সবাইই উপকৃত হই।
আমাদের মধ্যকার ছোট বা বড় পার্থক্যগুলো ভুলে যাওয়া ঠিক নয়। তবে এগুলোর ব্যাপারে এত সংবেদনশীল হওয়া যাবে না, যার ফলে সেগুলোই আমাদের চিন্তা ও আবেগের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠে। আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এমন শক্তিশালী হতে হবে যেন মতপার্থক্যের ফলে তাতে ভাঙন সৃষ্টি না হয়।
জীবন কোনো যুদ্ধ নয়। সম্প্রীতি অর্থ ভদ্রভাবে দ্বিমত করা, প্রতিশ্রুতি সহকারে একমত হওয়া। এটি একটি জানাশোনা নৈতিক অবস্থান। বুদ্ধিবৃত্তির বৈধ অধিকার আর অহমিকার অবৈধ উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাঝে এটিই পার্থক্য গড়ে দেয়।
সম্প্রীতি মানে এক চিরন্তন দ্বন্দ্বে জয়লাভ করা। এই দ্বন্দ্ব আমাদের খেয়াল-খুশি ও লোভ-লালসার বিরুদ্ধে। ভুলে গেলে চলবে না যে, আমাদের স্বার্থান্বেষী চিন্তাগুলো অনেক সময়ই “দ্বীনের প্রতি নিষ্ঠা”র ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ায়। ফলে তাদের সহজে চেনা যায় না।
আল্লাহ বলেন, كَلَّا إِنَّ الْإِنسَانَ لَيَطْغَى ﴿٦﴾ أَن رَّاهُ اسْتَغْنَى ﴿٧﴾ “মানুষ অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করে। কারণ, সে নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে।” (সূরাহ আল-আলাক ৯৬:৬-৭)
সুমহান আল্লাহ, যিনি মানবমনের সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর জটিলতাগুলো সম্পর্কে জানেন। يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ ﴿١٩﴾ “আল্লাহ চক্ষুর অন্যায় কর্ম সম্পর্কেও অবগত; আর অন্তর যা গোপন করে, সে সম্পর্কেও।” (সূরাহ গাফির ৪০:১৯)
হৃদয়ের বিশুদ্ধতা শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। তা যদি আপনার থাকে, তাহলে অন্যের সাথে সম্প্রীতি গড়ার জন্য আপনার চাই প্রতিপালকের সামনে বিনয়ী হওয়া, অন্যের অধিকারের প্রতি সম্মান জানানো, এবং নিজের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায় ক্ষমা করা।
মনে রাখতে হবে যে, কাজের চেয়ে কথা সবসময়ই সহজ। ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সমাজ ও জাতি হিসেবে অগ্রসর হতে হলে তুচ্ছ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সকল কাজে সততার জন্য সংগ্রাম করতে হবে।
কুরআনের এই দু'আ ভালো করে খেয়াল করি সবাই: رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ ﴿١٠﴾
“হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের পূর্বে ঈমান আনা ভাইদের ক্ষমা করে দিন। আমাদের অন্তরের মাঝে ঈমানদারদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! নিশ্চয় আপনি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু।” (সূরাহ আল-হাশর ৫৯:১০)
📄 লেখক পরিচিতি
শাইখ সালমান বিন ফাহদ বিন আবদুল্লাহ আল আওদাহ ১৯৫৫ সালে সৌদি আরবের বুরাইদা শহরের নিকটবর্তী আল-বাসর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মাধ্যমিক শেষ করার পর তিনি রিয়াদের ইমাম মুহাম্মাদ বিন সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে এরাবিক ল্যাঙ্গুয়েজ ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি হন। সেখানে দুই বছর অধ্যয়নের পর তিনি ভর্তি হন শরিয়াহ ফ্যাকাল্টিতে। এখান থেকে ইসলামি শরিয়াহর উপর তিনি B.A, M.A এবং পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। এখান থেকে তিনি আবার বুরাইদা ফিরে যান এবং সেখানে একাডেমিক ইনস্টিটিউটে আরও ছয় বছর অধ্যয়ন করেন।
সালমান আল আওদাহ শাইখ আব্দুল আযীয ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু বায, শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু উসাইমিন, শাইখ আবদুল্লাহ আব্দুর রহমান জিবরিন সহ আরও অনেক আলিমের অধীনে পড়াশোনা করেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিক্ষকতা, লেখালেখি এবং দাওয়াতি কাজে নিয়োজিত। ২০১৭ সালে সৌদি আরবে চলমান আলিমদের গ্রেফতার প্রক্রিয়ায় শাইখ সালমান আল আওদাহও গ্রেফতার হন এবং কোনো বিচার ছাড়াই তিনি এখনও সেখানে বন্দী আছেন। আল্লাহ তাঁর কল্যাণকর মুক্তি ত্বরান্বিত করুন। আমীন।