📘 প্রিয় শত্রু! তোমাকে ধন্যবাদ > 📄 ব্যক্তিগত দায়িত্ব

📄 ব্যক্তিগত দায়িত্ব


ব্যক্তি-সমাজেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। একইসাথে ইসলামি জীবনধারার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আসলে পুনরুত্থান ও শেষবিচারের ভিত্তিই হলো ব্যক্তিগত দায়িত্বের বাস্তবতা। আমা দের সৃষ্টির ব্যাপারেও একই কথা বলা যায়। আমরা একেকজন অনন্য ব্যক্তি হিসেবে সৃষ্ট হয়েছি। আল্লাহ বলেন, ذَرْنِي وَمَنْ خَلَقْتُ وَحِيدًا ﴿۱۱﴾
"যাকে আমি অনন্য করে সৃষ্টি করেছি, তার ব্যাপারে আমিই ব্যবস্থা নেব।” (সূরাহ আল-মুদ্দাসসির ৭৪:১১)
পরকালে নিজ নিজ সম্পদ, পরিবার, দল বা স্বদেশীর সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে হাশরের মাঠে পুনরুত্থানের আশা করা যায় না। বাস্তবতা হলো, নিকটতম মানুষটিও সেদিন আপনাকে পরিত্যাগ করবে।
আল্লাহ বলেন, وْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ ﴿٣٤﴾ وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ ﴿٣٥﴾ وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ ﴿٣٦﴾ لِكُلِّ امْرِي مِنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ ﴿۳۷﴾
“সেদিন মানুষ পালিয়ে বেড়াবে তার ভাইয়ের কাছ থেকে, মা ও বাবার কাছ থেকে, সঙ্গী ও সন্তানের কাছ থেকে। সেদিন প্রত্যেকের নিজের গুরুতর অবস্থাই তাকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখবে।” (সূরাহ আল-আবাসা ৮০:৩৪-৩৭)
ইতিকাফের একটি হিকমাহ হলো ব্যক্তিগত দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ফিরিয়ে আনা। কারণ যেসব সামাজিক ও দলগত টান আমাদের চিন্তাচেতনাকে আচ্ছন্ন করে রাখে, ইতিকাফ আমাদের তা থেকে মুক্ত করে আনে। একাকী একজন ব্যক্তি হিসেবে মসজিদে আশ্রয় নিয়ে আমরা আমাদের স্বাভাবিক মানসিক স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করি।
মানুষ চেঁচামেচি করে, ধাক্কাধাক্কি করে, নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। এ কারণেই আল্লাহ আমাদের একা হতে নির্দেশনা দেন:
قُلْ إِنَّمَا أَعِظُكُم بِوَاحِدَةٍ أَن تَقُومُوا لِلَّهِ مَثْنَى وَفُرَادَى ثُمَّ تَتَفَكَّرُوا
"বলো, 'আমি তোমাদেরকে একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে দু'জন অথবা এক একজন করে দাঁড়িয়ে যাও। অতঃপর ভাবনাচিন্তা করো।” (সূরাহ সাবা ৩৪:৪৬)
অন্যের মতকে তার প্রাপ্য সম্মান অবশ্যই দিতে হবে। কেউ আমাদের সাথে একমত হবে, কেউ হবে না। তবে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কিন্তু ইসলাম আমাদের যে স্বচ্ছ চিন্তাভাবনার দিকে ডাকে তা হলো, মানুষের খেয়ালখুশির অনুসরণ ত্যাগ করা।
সাধারণভাবে মানবজাতি যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়, ব্যক্তিগতভাবেও প্রত্যেকে সেসব সমস্যা মোকাবেলা করে। মুসলিম উম্মাহর সামনে আজ যেসব সমস্যা বিদ্যমান, ব্যক্তি মুসলিমের সামনেও তার বেশিরভাগ সমস্যা বিদ্যমান। ইসলাম যে ধরণের আত্মসচেতনতা অর্জনের আদেশ দেয়, তা অর্জন না করেই সমস্যার মুখোমুখি হলে মানুষ সহজেই অন্য কিছুর উপর দোষ চাপিয়ে দিতে পারে। এই জায়গাতে এসেই মানুষ বিশ্বায়ন, জায়নবাদ, গোপন ষড়যন্ত্র ইত্যাদির ঘাড়ে দোষ চাপায়। সরকার, আলিমসমাজ, তাকদীর, ইতিহাস কোনোকিছুই দোষারোপের হাত থেকে মুক্তি পায় না।
নিজের দোষ কখনো এরা দেখবে না। নিজের আদালতে তারা স্বভাবতই বেকসুর খালাস। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, তাদের মত, সব সঠিক। তারাই সব জানে। সবাই যদি বুদ্ধি করে তাদের অনুসরণ করত, তাহলেই তো দুনিয়ার সব সমস্যা সমাধান হয়ে যায়!
এই মানুষগুলোই দেখবেন তাদের ঘরের ভেতরের সমস্যাগুলো সমাধানেও অপারগ। দুই আর দুই মিলিয়ে চারের সমাধান তারা বের করতে জানে না। এরা হতে পারে অনভিজ্ঞ, অপ্রশিক্ষিত, সিদ্ধান্তহীন। হতে পারে নিজের বদভ্যাস ও চরিত্রের ত্রুটি কাটিয়ে উঠতে অপারগ।
নতুন নতুন দ্বীন মানতে শুরু করা অল্পবয়সীদের মাঝে এই প্রবণতা খুব বেশি দেখা যায়। এদের মাঝে অনেকেরই ধারণা সব সমস্যা সমাধানের চাবি তাদেরই হাতে। ঈসা আলাইহিসসালামের মতোই যেন তারা আল্লাহর আদেশে শ্বেতরোগীকে সুস্থ করতে পারে, অন্ধকে চক্ষুষ্মান করতে পারে, মৃতকে জীবিত করতে পারে।
কুরআন-সুন্নাহ যেন তারা একাই বোঝে। অন্যের অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতাকে দায়ী করা এদের কাছে কত যে সহজ!
এই ব্যক্তিগত ব্যর্থতা মুসলিম উম্মাহর সার্বিক সমস্যা আরো গুরুতর করেছে। সমাধানে এর কোনো ভূমিকা নেই।
কোনো ব্যক্তির জ্ঞান, দক্ষতা ও সামাজিক অবস্থানের গুরুত্বের ভিত্তিতে তার ব্যক্তিগত দায়িত্ব বিভিন্নরকম হয়। এই দায়িত্ব রাতারাতি গজিয়ে ওঠে না। এটি একটি ঐতিহাসিক প্রসঙ্গের ভেতরে অবস্থান করে। দায়িত্ব মানে বোঝা বইতে জানা, কর্তব্য-অধিকার ঠিক রাখা, যা কিছু ঠিক তা তা করা।
সংজ্ঞা মতে যদিও ব্যক্তিগত দায়িত্বের মূল আলোচ্য ব্যক্তি নিজে, তারপরও এর কল্যাণ পুরো সমাজই লাভ করে। নবিজি (ﷺ) বলেন,
كُلُّ سُلامَى مِنَ النَّاسِ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ كُلَّ يَوْمٍ تَطْلُعُ فِيهِ الشَّمْسُ - قَالَ - تَعْدِلُ بَيْنَ الإِثْنَيْنِ صَدَقَةٌ وَتُعِينُ الرَّجُلَ فِي دَابَّتِهِ فَتَحْمِلُهُ عَلَيْهَا أَوْ تَرْفَعُ لَهُ عَلَيْهَا مَتَاعَهُ صَدَقَةٌ - قَالَ - وَالْكَلِمَةُ الطَّيِّبَةُ صَدَقَةٌ وَكُلُّ خَطْوَةٍ تَمْشِيهَا إِلَى الصَّلَاةِ صَدَقَةٌ وَتُمِيطُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ صَدَقَةٌ
"প্রতিদিন শরীরের প্রতিটি জোড়ার উপর সদকার দায়িত্ব আসে। বিবাদমান দুই ব্যক্তির মাঝে মীমাংসা করা সদকা। কাউকে তার বাহনে চড়তে সাহায্য করা সদকা। তার কাছে তার মালপত্র তুলে দেওয়া সদকা। ভালো কথা বলা সদকা। সালাতের দিকে যেতে প্রতিটি পদক্ষেপ সদকা। রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো সদকা।” [৪১]
কিছু না পারলেও রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করাও সদকা।
ব্যক্তিগত যেসব ফরজ ইবাদাতের কথা ফিকহের প্রামাণ্য গ্রন্থাদিতে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো ব্যক্তিগত দায়িত্বেরই অন্তর্ভুক্ত। এই সব দায়িত্বগুলো দেওয়া হয়েছে ব্যক্তির ইসলামি চরিত্র উন্নয়নের উদ্দেশ্যে। এর ফলে সে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।
তারপরও আমরা দেখি ব্যক্তিগত ত্রুটিবচ্যুতি কাটিয়ে না উঠেই অনেক মুসলিম বৈশ্বিক সমস্যা নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে। মুসলিম বিশ্বের দুর্দশা নিয়ে চিন্তিত থাকে অথচ নিজের দেশের সমস্যা চোখ এড়িয়ে যায়। মানবজাতির অবস্থা নিয়ে মাতম করে অথচ নিজেরাই অজ্ঞতা, অলসতা ও ঈমানি দুর্বলতার মাধ্যমে নিজেদের উপর জুলুম করে।
অন্যের সম্পদ দখল, অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়া, গীবত ও অপবাদ প্রদান, স্বার্থচিন্তা ইত্যাদি সমস্যায় যদি ব্যক্তি হিসেবেই আমরা ডুবে থাকি, তাহলে মুসলিম উম্মাহর সার্বিক সমস্যা নিয়ে আমরা কীভাবে কথা বলতে পারি? আমরা এমন হলে তো আমরা নিজেরাই সমস্যার অংশ।
তাই বিশ্বের সমস্যা সমাধান করার প্রথম ধাপ হলো নিজের ত্রুটিগুলো সংশোধন করা। সমাজসংস্কারের মহাসড়কে যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ হলো আত্মসংস্কার। পৃথিবীর সমস্যা নিয়ে আমরা এত ব্যস্ত যে, আত্মার সমস্যার দিকে আমরা তাকাই না। আত্মোন্নয়নের ও চিন্তাপদ্ধতি উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমরা ফেলে রাখি। অথচ সার্বজনীন সমস্যা সমাধানে এগুলোর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব আছে। ব্যক্তি নিয়েই তো সংগঠন, প্রতিষ্ঠান আর জাতি। ইতিহাসে নাম লেখা না থাকলেও সকল ব্যক্তিরই ক্ষমতা আছে পরিবর্তন আনার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার।
ইসলামের শুরুর যুগের ব্যাপক প্রসারের পেছনে শুধু ইতিহাসের পাতায় আসা নামগুলোর একার অবদান নেই। যারা যারা কষ্ট সহ্য করেছেন, সংগ্রাম করেছেন, এমনকি জীবন দিয়েছেন; যেসব নারী তাঁদের সহযোগিতা করে গেছেন, কষ্ট সয়েছেন; সকলকেই স্মরণ করতে হবে।
ইসলামি সভ্যতা বিনির্মাণের কৃতিত্ব শুধু খলিফা আর সুলতানদেরই নয়। শ্রমিক, মিস্ত্রি, চিন্তাবিদ, পরিকল্পনাবিদ, বিনিয়োগকারী সকলেরই অবদান আছে; ইতিহাস তাঁদের মনে রাখুক বা না রাখুক।
কুরআন ও ইসলামি চিন্তাধারার শিক্ষায় ব্যক্তিগত দায়িত্বের ধারণা ওতপ্রোতভাবে গেঁথে আছে। সমাজ বিনির্মাণে এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রতিটি দালান তৈরি হয়েছে অনেকগুলো ইট দিয়ে।
নবিজি (ﷺ) বলেন, “মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক একটি দালানের মতো। প্রত্যেকে পুরো কাঠামোকে অবলম্বন দান করছে।” (সহিহ আল-বুখারি এবং সহিহ মুসলিম)

টিকাঃ
[৪১] সহিহ আল-বুখারি: ২৯৮৯, সহিহ মুসলিম: ১০০৯

📘 প্রিয় শত্রু! তোমাকে ধন্যবাদ > 📄 মনে রবে কি না রবে আমারে?

📄 মনে রবে কি না রবে আমারে?


পরবর্তী প্রজন্ম তাকে কীভাবে মনে রাখবে, এ নিয়ে মানুষ বড় চিন্তিত থাকে। ধনকুবেররা এজন্যেই নিজের নামে বিরাট বিরাট মিনার আর সৌধ বানিয়ে যায়। ফিরআউনের বহুকাল আগ থেকেই ইতিহাসে এ ধারা চলে আসছে।
ইসলাম এসব কাজকর্ম ভালো চোখে দেখে না। ইসলাম শেখায় যে, সকলের কবর একইরকম হবে। কোনো কবর উঁচু করা যাবে না বা সাজানো যাবে না। কারো কবরের উপর সমাধিস্তম্ভ বা সৌধ হবে না।
তারপরও আমরা সবাইই তো চাই ভালো কিছুর জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকতে। এই ইচ্ছার তাড়নায় আমরা কিছু অর্জন করতে চাই। এই ইচ্ছা একেবারেই স্বাভাবিক। এতে কোনো দোষ নেই। খাদ্য, যৌনতা ও সম্পদের মতোই এটিও আমাদের স্বাভাবিক ক্ষুধা। বাকিগুলোর মতো এটিকেও সীমার মাঝে রাখতে হবে, যেন এগুলো কোনো অপকারের কারণ না হয়।
আমি চলে যাবার পর মানুষ আমার ব্যাপারে কী ভাববে, তা নিয়ে আমার মনেও ভাবনা আসে। স্বীকার করতে দোষ নেই। প্রতিটি মানুষই কখনো না কখনো নিজেকে এ প্রশ্ন করে। আমাদের পূর্বপুরুষগণও জীবিত থাকতে এসব ভেবেছেন, কোনো সন্দেহ নেই। পৃথিবীতে তারা নিজের চিহ্ন রেখে চলে গেছেন, বেশিরভাগের চিহ্নই টিকে থাকেনি। কীসে আমাদের মানুষে পরিণত করে, এ প্রশ্নেরই অংশ এটি। আমাদের স্বভাবের মধ্যেই এমন কিছু একটা আছে, যা আমাদের ভাবতে বাধ্য করে মানুষ আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের নিয়ে কী ভাববে।
আমাদের মাঝে বেশিরভাগ মানুষই খুব অল্পসংখ্যক মানুষের কাছে স্মরণীয় থেকে মারা যাবে। যেমন- পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী। তাদের মাঝে কেউ হয়তো আপনার নামে ছোট একটি প্রবন্ধ লিখে পত্রিকায় বা অনলাইনে প্রকাশ করবে। খুব অল্প মানুষের নামই বিভিন্ন কারণে ইতিহাস বইয়ে বা এনসাইক্লোপিডিয়ার গ্রন্থপঞ্জিতে ঠাঁই পাবে। এক্ষেত্রে আপনার নাম জড়িয়ে থাকবে আপনার অর্জনের সাথে।
লেখক যদি চান বা জীবিতরা উৎসাহ পাবে বলে মনে করেন, তাহলে হয়তো আপনার নামের সাথে কিছু প্রশংসাবাক্যও জুড়ে দেবেন।
প্রথমবার আপনার নাম জানতে পারা পাঠকরা চিন্তা করবে তথ্যগুলো কতটুক সঠিক। লেখক কি যথাযথভাবে আপনার ব্যাপারে লিখেছে, না রঙ চড়িয়েছে? লেখক আরেকটু আগ্রহী হলে আপনার জীবন ও অর্জনের আরো কিছু খুঁটিনাটি হয়তো থাকবে আপনার জীবনীগ্রন্থে। পাঠক ভাবতে বাধ্য হবে যে, আসলেই আপনি বলার মতো কিছু করে গেছেন। কিন্তু সত্য হলো, যাদের জীবনী এত ভালোভাবে সংরক্ষিত হয়নি বা একেবারেই বিস্মৃত হয়ে গেছে, তারাও একই পরিমাণ অনন্য ছিল।
জীবন চলবে জীবনের মতো। পৃথিবী ঘুরতে থাকবে। মানুষ তার কাজ করে যাবে। আপনার বা আমার অনুপস্থিতি একসময় কারো কোনো চিন্তারই কারণ হবে না। বরং কারো জন্য সুযোগ আসবে পৃথিবীতে আমাদের ফেলে যাওয়া খালি জায়গাটি দখল করার। তারপর নিজেদের সুযোগ-সুবিধামতো তারা নিজ নিজ মেধা ও সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করতে থাকবে।
মৃত্যুর অনিবার্যতা আমাদের আরো কঠোর পরিশ্রমী বানানোর কথা। গঠনমূলক কিছু করতে, দক্ষতা বাড়াতে, বিশ্বে আমাদের অবদান বাড়াতে প্রচণ্ড চেষ্টা করে যেতে হবে। সুনিশ্চিত প্রস্থান যেন আমাদের হতাশ বা অবসন্ন না করে দেয়। মৃত্যুর জন্য তাড়াহুড়াও করা যাবে না।
আমাদের দ্বীন আমাদের জীবনভর পরিশ্রম করতে শেখায়। আল্লাহ বলেন,
وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ ﴿٩٩﴾
“তোমার প্রতিপালকের ইবাদাত করতে থাকো, যতক্ষণ না সুনিশ্চিত বিষয়টি চলে আসে।” (সূরাহ আল-হিজর ১৫:৯৯)
বিখ্যাত তাবিয়ি আমর বিন মায়মুন নবিজি (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন, “পাঁচটি জিনিসের আগেই পাঁচটি জিনিসের সদ্ব্যবহার করো। বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্থতা, দারিদ্র্যের আগে সচ্ছলতা, ব্যস্ততার আগে অবসর, এবং মৃত্যুর আগে জীবন।”[৪২]
নবি (ﷺ) বলেন, “এই পৃথিবীতে মুসাফিরের মতো থাকো।”
নবিজির কাছে এই উপদেশ শোনা ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এ ব্যাপারে নিজের উপলব্ধি বলেন, “এর অর্থ সকাল দেখার আশা না করে রাতে ঘুমোতে যাওয়া, রাত দেখার আশা না করে সকালে ঘুম থেকে ওঠা। কিন্তু সেইসাথে স্বাস্থ্য ও জীবন থাকতে থাকতেই এগুলোর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা।”
আমাদের চিরবিদায় আমাদের পরবর্তী প্রজন্মগুলোর জন্য সুযোগ। তারা নিজেদের মতো করে পৃথিবীতে অবদান রাখার সুযোগ পায়। সুমহান আল্লাহ, যিনি আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবন দান করেছেন, তিনি নিজে চিরস্থায়ী। যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম আর যুগের পর যুগ নিয়ে আসেন।

টিকাঃ
[৪২] মুস্তাদরাক আল-হাকিম: ৩/৩০৬

📘 প্রিয় শত্রু! তোমাকে ধন্যবাদ > 📄 শান্তসৌম্য

📄 শান্তসৌম্য


একটি পুরনো প্রবাদ আছে, “মহাসাগর যত শান্ত, তত গভীর।” আরেকটি এরকম, “খালি কলসি বাজে বেশি।” দুটির সারকথা একই। শান্ত থাকা একটি গুণ। এর সত্যতা নিয়ে কোনো মতভেদ নেই।
চারপাশ শান্ত ও নীরব থাকলে মানবমন সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। তেমনি চিন্তাবিদের মেজাজ ঠাণ্ডা থাকলে চিন্তা ভালোমতো করা যায়। বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ তোলপাড়ে টালমাটাল থাকলেই এটি হঠকারী ও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তাই প্রতিপক্ষকে রাগিয়ে দেওয়া সবসময় একটি বিখ্যাত কৌশল। প্রতিপক্ষ যদি মেজাজ গরম করে ফেলে, তাহলে তার পরাজয় অত্যাসন্ন। বিশেষ করে আপনি যদি শান্তভাবে মুখে হাসি ধরে রাখতে পারেন।
যারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রাখে, তাদের বর্ণনায় আল্লাহ বলেন,
وَالَّذِينَ يَجْتَنِبُونَ كَبَائِرَ الْإِثْمِ وَالْفَوَاحِشَ وَإِذَا مَا غَضِبُوا هُمْ يَغْفِرُونَ ﴿٣٧﴾
"...তারা গুরুতর পাপ ও অশ্লীল কার্যকলাপ থেকে বেঁচে থাকে এবং যখন রাগান্বিত হয়, তখন তারা ক্ষমা করে দেয়।” (সূরাহ আশ-শুরা ৪২:৩৭)
নবিজি (ﷺ) আমাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ক্রোধ হলো মানবহৃদয়ে প্রজ্বলিত অঙ্গারের মতো।” [৪৩]
নবিজি (ﷺ) এর চাচা আবু তালিবের মৃত্যুশয্যার ঘটনায় শেখার আছে অনেককিছু। নবিজি (ﷺ) সে ঘরে প্রবেশ করে আবু জাহেল ও আব্দুল্লাহ বিন আবি উমাইয়‍্যাহকে দেখতে পান। এরা ছিল কুরাইশ কাফিরদের নেতা। নবিজি (ﷺ) আবু তালিবকে বললেন, “চাচা, 'লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্য দিন, যাতে আল্লাহর কাছে আমি আপনার জন্য সুপারিশ করতে পারি।”
তা শুনে আবু জাহেল আর আব্দুল্লাহ বিন আবি উমাইয়্যাহ তেড়েফুঁড়ে উঠল, “আবু তালিব! তুমি বুঝি আব্দুল মুত্তালিবের ধর্ম ছেড়ে দেবে?” আবু তালিব মারা গেলেন। ইসলামকে সত্য জেনেও লোকলজ্জার ভয়ে তা গ্রহণ না করে চলে গেলেন। তবু নবিজি (ﷺ) বললেন, “আল্লাহ যতক্ষণ নিষেধ না করেন, ততক্ষণ আমি আপনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে যাব।”
مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ وَالَّذِينَ آمَنُوا أَن يَسْتَغْفِرُوا لِلْمُشْرِكِينَ وَلَوْ كَانُوا أُولِي قُرْبَى مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمْ أَنَّهُمْ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ ﴿۱۱۳﴾
“নবি ও অন্যান্য মুমিনদের জন্য জায়েয নয় যে, তারা মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, যদিও তারা আত্মীয়ই হোক না কেন, এ কথা প্রকাশ হবার পর যে, তারা জাহান্নামের অধিবাসী।” (সূরাহ আত-তাওবাহ ৯:১১৩)
নবিজি (ﷺ)-এর জন্য এ এক কলিজা-ছেঁড়া মুহূর্ত। তিনি তাঁর চাচাকে ভালোবাসতেন, যিনি নিজেও নবিজিকে ভালোবেসে তাঁর জন্য অনেক কিছু করেছেন। কিন্তু সবচেয়ে গুরুতর বিষয়ে ভুল হয়েছে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান না আনা এবং এক আল্লাহর ইবাদাত না করা। নবিজি তাঁর চাচার কাছে ঈমানের সাক্ষ্যটি ছাড়া আর কিছুই চাননি।
নবিজি ভালো করেই জানতেন যে, মৃত্যুর সময় মানুষ সবচেয়ে স্পর্শকাতর অবস্থায় থাকে। এ সময় চিন্তাশক্তি পরিষ্কার থাকে না। তাই তিনি শান্ত ও স্পষ্ট ভাষায় বললেন, “চাচা, ‘লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্য দিন, যাতে আল্লাহর কাছে আমি আপনার জন্য সুপারিশ করতে পারি।”
নবিজি (ﷺ) এর প্রতিপক্ষরা যখন কুরাইশদের ধর্মের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আবু তালিবকে ফুসলাতে শুরু করল, তখনও তিনি তাদের সাথে তর্ক জুড়ে দেননি। তিনি কেবল নিজের শান্ত অনুরোধটির পুনরাবৃত্তি করলেন। নবিজির এ আচরণ থেকে আমরা শিখলাম যে, সঠিক হলেই মাথা গরম করার কোনো অধিকার আমরা পেয়ে যাই না। আমরা সত্যের উপর থাকলে বরং আরো শান্ত থাকব। রেগে গেলে চিন্তা ঘোলাটে হয়ে যায় ও কথা আটকে যায়।
বলা হয়ে থাকে, শান্ত স্বভাব হলো উত্তম গুণ। ভেবে দেখুন, শান্ত লোক সব জায়গায় সুবিধা পায়। মতৈক্য হোক বা মতপার্থক্য, গ্রহণ হোক বা প্রত্যাখ্যান। শান্ত স্বভাবের কারণে কারো ভালো গুণ বড় করে চোখে পড়ে আর দোষগুলো ঢাকা পড়ে যায়। এমনকি পাপাচারীও তার ভাবগাম্ভীর্যের কারণে پاپاچارের জন্য দোষারোপ থেকে মুক্ত হয়ে যেতে পারে। নবিজি (ﷺ)-এর কথা আমাদের মনে রাখতে হবে, “কুস্তিতে যে অপরকে ধরাশায়ী করে, সে শক্তিশালী নয়। রাগের মাথায় নিজেকে যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে-ই আসল শক্তিশালী।” (সহিহ আল-বুখারি এবং সহিহ মুসলিম)

টিকাঃ
[৪৩] মুসনাদ আহমাদ: ১১১৫৮

📘 প্রিয় শত্রু! তোমাকে ধন্যবাদ > 📄 নৈতিক চরিত্রের পরীক্ষা

📄 নৈতিক চরিত্রের পরীক্ষা


সকল জনপদ ও ধর্মেই নৈতিক সততা ও ন্যায়পরায়ণ আচরণকে অত্যন্ত সম্মান করা হয়। এটি নবিগণের আনীত বার্তার একটি মৌলিক অংশ। শেষ নবি মুহাম্মাদ (ﷺ) তো বলেই দিয়েছেন, “আমাকে সৎ চরিত্রের পূর্ণতা প্রদানের জন্যই প্রেরণ করা হয়েছে।”
এ ব্যাপারে যেহেতু সবাই একমত, সেহেতু বিস্তারিত বলার কিছু নেই। নৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে যারা প্রচার-প্রচারণা চালায় ও অশ্লীল আচরণ করে, তারাও নৈতিক চরিত্রের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে।
প্রথা বা অভ্যাসগত কারণেই কিছু পরিস্থিতিতে একজন মানুষ সুন্দর আচরণ করতে পারে। এটাও ভালো জিনিস। প্রখ্যাত সাহাবি আবুদ্দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সহ আরো কয়েকজনের বর্ণনাসূত্র থেকে জানা যায় নবিজি (ﷺ) বলেছেন,
“জ্ঞান লাভ হয় শেখার মাধ্যমে আর নম্রতা লাভ হয় নম্র হওয়ার মাধ্যমে। যে কেউ কল্যাণ লাভ করতে চায়, তাকেই তা দেওয়া হবে। আর যে-ই মন্দ থেকে বাঁচতে চায়, তাকে তা থেকে বাঁচানো হবে।” (তারিখ বাগদাদ এবং তারিখ দিমাশক)
তবে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির আশায় সুন্দর আচরণ দেখানো মোটেই প্রশংসনীয় নয়। সত্যিকারের নৈতিকতা বিশেষ বিশেষ উপলক্ষে আসে না, ধ্রুব থাকে। এজন্যই পুরনো এক আরবি প্রবাদে আছে, “কারো আসল চরিত্র জানতে চাইলে তার সাথে সফরে বের হও।”
স্বামীর আসল চরিত্র বুঝতে হলে দেখতে হবে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে সুখ ও দুঃখ উভয় সময়ে ঘরের ভেতর স্ত্রীর সাথে তাঁর আচরণ কেমন। এখানেই তাঁর নিজেকে সংবরণ করতে হয় এবং ধৈর্যের আসল পরীক্ষা হয়। অহংকার থেকে বেঁচে থাকা, ক্ষমাশীল ও সহনশীল হওয়া, সুন্দর আচরণ দেখানো ইত্যাদি সবই বিবাহিতজীবন ও সংসারজীবনে পরীক্ষিত হয়।
বন্ধুত্বের ব্যাপারেও একই কথা। পরিস্থিতি নির্বিশেষে ব্যক্তির আচরণ ধ্রুব ও নিষ্ঠাপূর্ণ হতে হয়। কত বন্ধুকে যে দুধের মাছি হিসেবে পাওয়া যায়, কিন্তু আসল দরকারের সময় থাকে অদৃশ্য!
বিশ্বস্ত ও নিষ্ঠাবানদের জীবন সুন্দর ও বরকতময় হোক। এরা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেরা বদলে যায় না এবং বিপদের সময় মুখ ঘুরিয়ে নেয় না। কতই না দুর্লভ এমন মানুষগুলো!
দীর্ঘ পরিচয় ও মেলামেশা থেকে কারো চরিত্রের দৃঢ়তা বা ঠুনকোভাব বোঝা যায়। এটাই নৈতিক চরিত্রের প্রথম পরীক্ষা।
আরেকটি পরীক্ষা আছে। ক্ষমতার পরীক্ষা। দুর্বল অবস্থায় অনেকে ভালো আচরণ দেখাতে পারে। কিন্তু এটা স্বভাবজাত নয়। অন্যরকম আচরণ করে দেখিয়ে দেবার ক্ষমতা নেই বলেই তারা অমন। এ ব্যাপারে প্রাচীন আরব কবি আল-মুতানাব্বি বলেন,
জুলুম করা তো মানবের স্বভাব না করলে বুঝবে সুযোগের অভাব।
আল-মুতানাব্বি হয়তো কথাটি অ্যারিস্টটলের থেকে ধার করে থাকবেন। অ্যারিস্টটল বলেছেন, "অত্যাচার মানবস্বভাবের অংশ। কেবল দুটি কারণেই মানুষ এ থেকে বিরত থাকে। হয় ন্যায়পরায়ণতা, নয়তো প্রতিশোধের ভয়।”
ক্ষমতা হাতে আসলেই ব্যক্তির আসল চরিত্র বেরিয়ে আসে। ক্ষমতা, সম্পদ, প্রতিপত্তি পেয়েও যদি কেউ নৈতিক মূল্যবোধ, অন্যের প্রতি মমতা, নম্রতা ও গালমন্দের জবাবে ক্ষমাশীলতা ধরে রাখতে পারে, তাহলেই সে সত্যিকারের মহান ও ভালো মানুষ।
কিন্তু হায়! আকস্মিক ক্ষমতা, খ্যাতি আর সম্পদ পেয়ে মাথা ঠিক রাখা মানুষের সংখ্যা বড়ই নগণ্য।
তৃতীয় পরীক্ষা হলো মতপার্থক্য। সমমনা মানুষদের সাথে প্রায় সবাইই ভালো আচরণ করে। কিন্তু আদর্শিক বা জাগতিক মতভেদ তৈরি হলে মানুষের আসল চেহারা বের হয়।
সম্মানার্হ ও সচ্চরিত্রবান একজন মানুষ সুবিবেচকের মতো ও স্পষ্ট ভাষায় নিজের মত তুলে ধরবে। আর ভিন্নমতের প্রতি অপমান ও অপবাদসূচক ভাষা ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবে। নৈতিক চরিত্র যেকোনো ধরনের নীচ আচরণকে প্রতিরোধ করবে। যুক্তির বিচারে না পেরে আবেগে বিস্ফারিত হয়ে যাওয়া থেকে বিরত রাখবে।
এর বিপরীত স্বভাবের মানুষ একই পরিস্থিতিতে অন্য সবার প্রতি গালমন্দ ও নালিশ শুরু করে দেবে। এই অযাচিত আচরণ মুহূর্তেই তার নৈতিকতার প্রাসাদ ধসিয়ে দেবে। কেউ কেউ মিথ্যা ও অস্পষ্ট ভাষার আশ্রয় নিয়ে প্রতিপক্ষকে প্রসঙ্গের বাইরে এনে ধরাশায়ী করতে চাইবে।
মতানৈক্যও সম্পর্কে ফাটল ধরাবে না, এ দাবি করা তো ভালো। কিন্ত আসল পরিস্থিতিতে মানুষ কী করে, সেটাই দেখার বিষয়। কিছু ধার্মিক তরুণকে দেখেছি নিজেদের মাঝে মতপার্থক্য হলে তারা এমনসব ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করে, যা শুনে হৃদয়টা ফেটে যায় আর চোখে পানি চলে আসে। পরস্পরকে নির্বোধ বলে ডাকে, অপমান করে, ধোঁকা, বিদ'আত, অনৈতিকতা ও কুফরের অভিযোগ করে। আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করি: এইসব নোংরা ঝগড়ার শেষ কোথায়? আল্লাহর মনোনীত ও অনুগ্রহপ্রাপ্ত একটি উম্মাহর বৈশিষ্ট্য কবে এদের মাঝে আসবে? নিজেদের মাঝে ও শত্রুদের সাথে আচরণের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষা কবে তাদের মাঝে আসবে?
وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى
"এবং কোনো সম্প্রদায়ের শত্রুতার কারণে কখনও ন্যায়বিচার পরিত্যাগ কোরো না। ন্যায়বিচার করো। এটি তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।” (সূরাহ আল-মায়িদাহ ৫:৮)
কখন আমরা বুঝব যে, ব্যক্তিগত আবেগ ও ক্রোধের বশে করা অনেক আচরণকে আমরা ধার্মিকতা ভেবে ভুল করি?
শিক্ষিত ও বুদ্ধিমান বলে পরিচিত কিছু লেখককে দেখি। অথচ দ্বিচারিতা ও নির্লজ্জতায় তাঁরা এদের চেয়ে খারাপ না হলেও একইরকম।
মানুষের মনে আক্রমণাত্মক মনোভাব সুপ্ত থাকে। বের হয়ে আসার অপেক্ষা করে। আদর্শ বা রাজনীতিতে সামান্য মতভেদ আসামাত্রই সভ্যতার বাহ্যিক আবরণ ছুঁড়ে ফেলে হিংস্রভাবে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
মতভেদের সময়েও সহমর্মী আচরণ ধরে রাখতে শিখব কবে? কবে কাঙ্ক্ষিত শালীনতা বজায় রাখতে শিখব? কখন আমাদের মূল্যবোধ আর নৈতিকতাগুলো তত্ত্ব থেকে জীবনে অনূদিত হবে? টিকে থাকবে আমাদের জীবন ও সম্পর্কের পুরোটা সময় ধরে? ক্ষমতাধর প্রশাসক, মিডিয়ার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু, সামাজিক প্রভাবশালী বা সফল ব্যবসায়ী হওয়ার পরও এই আচরণগুলো টিকিয়ে রাখতে হবে। মতভেদের সময়েও এই আচরণগুলো বজায় রাখতে হবে। নাহলে তো কাউকে ভুল করতে দেখলে বা কারো সাথে মতভেদ হলে আমাদের সামনে কেবল দুটিই বিকল্প থাকবে। সম্পর্ক শেষ করে ফেলা অথবা চুপ করে সহ্য করা।
যদিও আমি লিখছি, কিন্তু আমার কলম ধীর দ্বিধান্বিত। কলম যেন আমারই দিকে ফিরে বলছে, “তুমি নিজে কি এসব মানো?” জবাব দিতে হয়, “না, কিন্তু আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব বলে কথা দিচ্ছি, যতবারই হোঁচট খাই না কেন…”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00