📄 সুখের কিছু সূত্র
উচ্চাশা ও লোভ দুটি মারাত্মক ব্যধি, এগুলোর চিকিৎসা নিম্নরূপ-
০১. জীবনযাপনে মধ্যপন্থা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্য। কেননা, যার খরচ সীমা ছাড়িয়ে যায়, সে অল্পে সন্তুষ্ট হতে পারে না। সে বাধ্যতামূলকভাবে লোভ-লালসায় লিপ্ত হয়ে যায়। জীবনযাপনে মধ্যপন্থাই হচ্ছে অল্পেতুষ্টির মূল চাবি। বলা হয়ে থাকে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হচ্ছে জীবিকার অর্ধেক।
০২. ভবিষ্যৎচিন্তায় অধিক পেরেশান হওয়া নিষ্প্রয়োজন। আশা-আকাঙ্ক্ষার মহলের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখো। বিশ্বাস করো যে, যতটুকু রিযিক তোমার ভাগ্যে আছে, সেটুকু তোমার কাছে অবশ্যই পৌঁছবে।
০৩. আল্লাহকে ভয় করো। কেননা, আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করবে, তিনি তার জন্য সমস্যা থেকে বের হওয়ার রাস্তা করে দিবেন এবং তিনি এমনভাবে রিযিক দিবেন, যা সে কল্পনাও করেনি। [৬৫:২-৩]
০৪. একথা চিন্তা করো যে, অল্পেতুষ্টির মধ্যে অমুখাপেক্ষিতার সম্মান রয়েছে; আর উচ্চাশা ও লোভের মধ্যে রয়েছে অপমান ও লাঞ্ছনা। এগুলো থেকে সবক হাসিল করো।
০৫. বেশি বেশি নবী-রসুল ও বুযুর্গদের জীবনের প্রতি লক্ষ করো। তাঁদের মত অল্পেতুষ্টি, বিনয় ও সহজ জীবন অবলম্বনের চেষ্টা করো। দেখো, তাঁরা কীভাবে নেক কাজের আগ্রহ লালন করতেন। তাঁদের আদর্শের প্রতি নজর দাও এবং তাদের জীবনকে আলোকবর্তিকা বানাও।
০৬. দুনিয়ার বিচারে যারা তোমার চেয়ে নিম্নস্তরের, তাদের দিকে লক্ষ করো।
বিবেকবান মানুষ হেকমতের কথাবার্তা থেকে ফায়দা নিতে চেষ্টা করে, কখনও নিরাশ হয় না এবং কখনও ভাবনা ও চেষ্টা বাদ দেয় না।
📄 আল্লাহর রশি ধরো, চাই অন্য রশি ছিঁড়ে যাক
ঈমানের সাথে আমলে সালেহ'র প্রতিদান হচ্ছে দুনিয়াতে পরিচ্ছন্ন জীবন। এখানে এই আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক যে, এই জীবনে আসবাবপত্র, অঢেল সম্পদ, আরাম-আয়েশ পরিপূর্ণ থাকবে কি না। কেননা, এগুলো ছাড়াও একটি জীবন সুন্দর হতে পারে।
তবে জীবনে মালদৌলতের প্রাচুর্য ছাড়া আরও অনেক জিনিসের প্রয়োজন হয়। সেগুলো যদি না পাওয়া যায়, তা হলে একটি সুন্দর জীবন কল্পনা করা যায় না। সেগুলোর মধ্য থেকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি হচ্ছে এই-
আল্লাহ ﷻ-র সাথে সম্পর্ক, তাঁর উপর নির্ভরশীলতা এবং তাঁর প্রতিপালন ও সন্তুষ্টির উপর স্বস্তি।
সুস্থতা, স্থিরতা, সন্তুষ্টি, বরকত, নিরাপদ ঘর ও আত্মিক স্বস্তি।
নেক আমলের কারণে আনন্দ এবং অন্তর ও জীবনের উপর এর যথার্থ আধিপত্য।
সম্পদ শুধু একটি উপকরণ। এ যদি কমও হয়, তা হলেও যথেষ্ট হতে পারে। কেননা, তা হলে দিল এমনসব বিষয়ের মধ্যে নিবদ্ধ থাকবে, যেগুলো মালের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং আল্লাহ্ -র দৃষ্টিতে খালেস ও চিরস্থায়ী।
একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, মহান ব্যক্তিবর্গ যার যার মায়ের কাছ থেকে মহত্ত্বের নকশা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেন।
📄 ঈমানদারের চেয়ে ভাগ্যবান আর কেউ নেই
আমি অনেক ধনী এবং পদ-পদবীর বিচারে বড় মানুষের জীবনী অধ্যয়ন করেছি, যারা আল্লাহ-র উপর ঈমান রাখত না। আমি দেখেছি, তাদের জীবনের সমাপ্তি ঘটেছে দুর্ভাগ্যের সাথে। তাদের ভবিষ্যৎ অভিশপ্ত এবং দুনিয়াতে তাদের জন্য অপমান ও লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছু ছিল না। এখন তারা কোথায়? এখন তাদের ভাণ্ডার আর সম্পদের স্তূপ কোথায়, যেগুলো তারা সঞ্চয় করত? তাদের প্রাসাদ আর গগণচুম্বি ভবন কোথায়, যেগুলো তারা নির্মাণ করেছিল? সবকিছু খতম হয়ে গেছে। তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ আত্মহত্যা করেছে। কেউ কেউ বন্দী হয়েছিল এবং অনেককে গ্রেফতার করে আদালতে হাযির করা হয়েছিল, যেখানে তাদের অন্যায়ের বিপরীতে শাস্তির আদেশ শোনানো হয়েছে। তারা সমকালীন যামানায় একেবারে হতভাগা সাব্যস্ত হয়েছে। অথচ তারা ভেবেছিল, সম্পদ দিয়েই তারা প্রকৃত মহব্বত, সুস্থতা ও যৌবনসহ সবকিছু হাসিল করে ফেলবে। কিন্তু শেষে তারা এই পরিণতিতে পৌঁছে যে, দৌলতের সাহায্যে প্রকৃত মহব্বত হাসিল করা যায় না; প্রকৃত সুখও হাসিল করা যায় না; প্রকৃত সুস্থতাও হাসিল করা যায় না এবং যৌবনও ফিরিয়ে আনা যায় না। দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ দিয়েও একটি হৃদয় খরিদ করা যায় না; অন্তরে মহব্বতও জাগানো যায় না এবং সুখও পয়দা করা যায় না।
আল্লাহ -এর উপর ঈমান আনায়নকারীদের চেয়ে অধিক খোশনসিব আর কেউ নেই। কেননা, ঈমানদারগণ রবের পক্ষ থেকে হেদায়েতের নুর লাভ করে এবং তারা নিজের সঙ্গে হিসাবনিকাশ করে। তারা সেইসব কাজই করে, যেগুলো আল্লাহ করতে হুকুম করেছেন এবং সেইসব কাজ থেকে বিরত থাকে, যেগুলো আল্লাহ হারাম করেছেন। শোনো, কুরআন মাজীদ তাদের ব্যাপারে কী বয়ান করেছে-
যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, চাই সে পুরুষ হোক অথবা নারী, শর্ত হচ্ছে সে মুমিন, আমি তাদেরকে পরিচ্ছন্ন জীবনযাপন করাব, এবং (আখেরাতে) তাদেরকে তাদের উত্তম আমল মোতাবেক বিনিময় দান করব। [১৬:৯৭]
সে খোশনসিব নয়, যে খোশনসিব হতে চায় না।
📄 আয়েশ ও অপচয়মুক্ত জীবন
নেকার ও ঈমানদার নারী প্রয়োজন মাফিকই খানা তৈয়ার করে। এতটুকু খাবার বেঁচে থাকে না যে, অপচয় বলা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর আদর্শ খুব অনুসরণ করার মত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর দস্তরখানে জবের রুটিও সামান্য বা বেশি বেঁচে থাকত না।
অন্য বর্ণনায় আছে, রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সামনে থেকে যখন দস্তরখান ওঠানো হত, তখন সেখানে সামান্য জবও অতিরিক্ত থাকত না।
ইসলাম যেসব অপচয় ও আরাম-আয়েশ নিষেধ করেছে, সেগুলোর মধ্যে সোনা ও রূপার বাসনের ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উম্মে সালামা বলেন যে, রসুলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি রূপার বাসনে খানা খায় অথবা পানি পান করে, সে নিজের দেহের জন্য জাহান্নামের আগুন সেবন করে।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি রূপা বা সোনার পাত্রে খাবার খায় অথবা পানি পান করে, সে তার পেটের জন্য জাহান্নামের অঙ্গার গিলতে থাকে।
বাস্তব সত্য হচ্ছে এই যে, ইসলাম যে এসব বস্তু হারাম করেছে, এর মধ্যে বড় হেকমত রয়েছে। কেননা, এগুলো অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং আমীরদের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত, যারা নিজেদের আমীরী প্রকাশ করে।
করে থাকে। ইসলাম চায় যে, তার অনুসারীরা যেন সবসময় বিনয় অবলম্বন করে এবং ধনদৌলত প্রকাশ না করে। এজন্যই রসুলুল্লাহ ﷺ যখন মুআয ইবনে জাবালকে ইয়ামান প্রেরণ করছিলেন, তখন তাঁকে বলে ছিলেন, খবরদার! আরাম-আয়েশের জীবন থেকে বিরত থাকো। আল্লাহ মানুষের আরাম-আয়েশের জীবন পছন্দ করেন না।
যদি তুমি নিজের বদনসিব হওয়ার কথা চিন্তা করতে থাক, তা হলে খোশনসিব হতে পারবে না।
নেকার ও ঈমানদার নারী প্রয়োজন মাফিকই খানা তৈয়ার করে। এতটুকু খাবার বেঁচে থাকে না যে, অপচয় বলা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর আদর্শ খুব অনুসরণ করার মত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর দস্তরখানে জবের রুটিও সামান্য বা বেশি বেঁচে থাকত না।
অন্য বর্ণনায় আছে, রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সামনে থেকে যখন দস্তরখান ওঠানো হত, তখন সেখানে সামান্য জবও অতিরিক্ত থাকত না।
ইসলাম যেসব অপচয় ও আরাম-আয়েশ নিষেধ করেছে, সেগুলোর মধ্যে সোনা ও রূপার বাসনের ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উম্মে সালামা বলেন যে, রসুলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি রূপার বাসনে খানা খায় অথবা পানি পান করে, সে নিজের দেহের জন্য জাহান্নামের আগুন সেবন করে।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি রূপা বা সোনার পাত্রে খাবার খায় অথবা পানি পান করে, সে তার পেটের জন্য জাহান্নামের অঙ্গার গিলতে থাকে।
বাস্তব সত্য হচ্ছে এই যে, ইসলাম যে এসব বস্তু হারাম করেছে, এর মধ্যে বড় হেকমত রয়েছে। কেননা, এগুলো অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং আমীরদের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত, যারা নিজেদের আমীরী প্রকাশ করে।
করে থাকে। ইসলাম চায় যে, তার অনুসারীরা যেন সবসময় বিনয় অবলম্বন করে এবং ধনদৌলত প্রকাশ না করে। এজন্যই রসুলুল্লাহ ﷺ যখন মুআয ইবনে জাবালকে ইয়ামান প্রেরণ করছিলেন, তখন তাঁকে বলে ছিলেন, খবরদার! আরাম-আয়েশের জীবন থেকে বিরত থাকো। আল্লাহ মানুষের আরাম-আয়েশের জীবন পছন্দ করেন না।
যদি তুমি নিজের বদনসিব হওয়ার কথা চিন্তা করতে থাক, তা হলে খোশনসিব হতে পারবে না।
নেকার ও ঈমানদার নারী প্রয়োজন মাফিকই খানা তৈয়ার করে। এতটুকু খাবার বেঁচে থাকে না যে, অপচয় বলা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাঃ)-এর আদর্শ খুব অনুসরণ করার মত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর দস্তরখানে জবের রুটিও সামান্য বা বেশি বেঁচে থাকত না।
অন্য বর্ণনায় আছে, রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সামনে থেকে যখন দস্তরখান ওঠানো হত, তখন সেখানে সামান্য জবও অতিরিক্ত থাকত না।
ইসলাম যেসব অপচয় ও আরাম-আয়েশ নিষেধ করেছে, সেগুলোর মধ্যে সোনা ও রূপার বাসনের ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উম্মে সালামা বলেন যে, রসুলুল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি রূপার বাসনে খানা খায় অথবা পানি পান করে, সে নিজের দেহের জন্য জাহান্নামের আগুন সেবন করে।
সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি রূপা বা সোনার পাত্রে খাবার খায় অথবা পানি পান করে, সে তার পেটের জন্য জাহান্নামের অঙ্গার গিলতে থাকে।
বাস্তব সত্য হচ্ছে এই যে, ইসলাম যে এসব বস্তু হারাম করেছে, এর মধ্যে বড় হেকমত রয়েছে। কেননা, এগুলো অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং আমীরদের কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত, যারা নিজেদের আমীরী প্রকাশ করে।
করে থাকে। ইসলাম চায় যে, তার অনুসারীরা যেন সবসময় বিনয় অবলম্বন করে এবং ধনদৌলত প্রকাশ না করে। এজন্যই রসুলুল্লাহ ﷺ যখন মুআয ইবনে জাবালকে ইয়ামান প্রেরণ করছিলেন, তখন তাঁকে বলে ছিলেন, খবরদার! আরাম-আয়েশের জীবন থেকে বিরত থাকো। আল্লাহ মানুষের আরাম-আয়েশের জীবন পছন্দ করেন না।
যদি তুমি নিজের বদনসিব হওয়ার কথা চিন্তা করতে থাক, তা হলে খোশনসিব হতে পারবে না।