📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 যিনি বিপদগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন

📄 যিনি বিপদগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন


আল্লাহ -র অনুগ্রহ, যে ব্যক্তি তাঁর উপর প্রত্যাশা বাঁধে, তিনি তাকে হতাশ করেন না; তার দোআ বেকার হতে দেন না।
হাজত অনুসারে, অথবা আনুগত্য অনুসারে কিংবা আগ্রহ অনুসারে তিনি মানুষের দোআ শোনেন এবং বিপদাপদ থেকে বের হওয়ার রাস্তা সমতল করে দেন। তিনি তো অমুসলিমদের দোআও শোনেন; তাদের জরুরতও পূরণ করেন, যখন তারা অস্থির হয়ে পড়ে এবং অপারগ হয়ে তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করে; তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর অনুগ্রহের অপেক্ষায় থাকে। তখন তিনি তাদের দোআ শোনেন এবং অনুগ্রহ করে তাদের পেরেশানী দূর করেন। হয়তো তারা ঈমান আনায়ন করবে। তবে বেশিরভাগ লোক তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কথা ভুলে যায়; তাঁর রহমতের কথা বিস্মৃত হয়ে যায় এবং তাঁর এহসানের নাশোকরী করতে থাকে।
আল্লাহ বলেন-
যখন এরা জাহাজে আরোহন করে, তখন দীনকে আল্লাহর জন্য খালাস করে তাঁর কাছে দোআ করতে থাকে, কিন্তু যখন আল্লাহ তাদেরকে মুক্তি দিয়ে স্থলে নামিয়ে দেন, (তখন) সাথে সাথে তারা আল্লাহর সাথে শরীক করতে থাকে। [২৯:৬৫]
আল্লাহ নিজ বান্দাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, একমাত্র তিনিই পেরেশান লোকজনের দোআ শোনেন এবং তাঁর পেরেশানী দূর করেন। এই বিষয়টিই তাঁর প্রকৃত মা'বুদ হওয়ার প্রমাণ; তাঁর অদ্বিতীয়তার স্পষ্ট দলিল। তবে এ থেকে খুব কম মানুষই উপদেশ গ্রহণ করে।
তিনি কে, যিনি বিপদগ্রস্তের দোআ শোনেন, যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কে তার কষ্ট দূর করেন? আর (কে তিনি) যিনি তোমাদেরকে জমীনের প্রতিনিধি বানান? আল্লাহর সাথে কি আরও কোন মা’বুদ আছে? তোমরা (আসলে) কমই চিন্তা কর। [২৭:৬২]
নারী খুব সৌখিন পাত্রের মত, যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে। কাজেই তার জন্য স্থিরভাবে ঘরে থাকাই ভালো।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 বখীল নিজের বেলায়ও বখীল

📄 বখীল নিজের বেলায়ও বখীল


উমর ইবনে আবদুল আযীযের বোন উম্মে বানীনের ঘটনা খুব প্রসিদ্ধ। তিনি দানশীলতা ও উদারতায় এতটা ঊর্ধ্বে উঠেছিলেন যে, মহিলাদেরকে দাওয়াত করতেন; তাদেরকে খুব মূল্যবান পোশাক হাদিয়া দিতেন এবং সাথে সাথে কিছু দিনারও দিতেন। তাদেরকে বলে দিতেন, পোশাকগুলো আপনাদের জন্য। আর দিনারগুলো আপনারা গরীবদের মধ্যে বণ্টন করে দিবেন।
এভাবেই তিনি মহিলাদেরকে শিক্ষা দিতেন এবং তাদেরকে দানশীলতায় অভ্যস্ত করে তুলতেন। তাঁর ব্যাপারে এই তথ্যও পাওয়া যায় যে, তিনি বলতেন, বখীলদের জন্য আফসোস, আল্লাহর কসম! তাদের কাছে এক জোড়া কাপড় থাকলে সেটাও তারা পরিধান করে না এবং একটি রাস্তা থাকলে সেই রাস্তায়ও তারা চলে না।
দানশীলতা ও উদারতার ব্যাপারে তাঁর এই ভাষ্য পাওয়া যায় যে, তিনি বলতেন, প্রত্যেক কওমের কাছে কোন না কোন প্রিয় বস্তু থাকে, আমার প্রিয় বস্তু হচ্ছে বখশিশ ও দান। আল্লাহর কসম! কুটুম্বিতার হক আদায় এবং লোকজনের সাথে সদ্ব্যবহার আমার কাছে ক্ষুধার্ত অবস্থায় সুস্বাদু খাবার এবং তীব্র পিপাসার সময় ঠান্ডা পানির চেয়েও অধিক প্রিয়।
আল্লাহ -এর রাস্তায় সম্পদ ব্যয়, সঠিক জায়গায় মাল খরচ এবং নেক কাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর জযবা এমন সীমায় পৌঁছেছিল যে, তিনি বলতেন, আমি কখনও কারও কোন বিষয়ে হিংসা ও ঈর্ষা করিনি; তবে ওই ব্যক্তির উপর ঈর্ষা করেছি, যে নেক কাজ করার ক্ষেত্রে আগে আগে থাকে। এক্ষেত্রে আমার খাহেশ থাকে যে, আমিও এই কাজে তার সাথে শরীক হয়ে যাই।
ইনি উম্মুল বানীন এবং এগুলো তাঁর কাজ ও বাণী। এখন মুসলিম সমাজে উম্মুল বানীনের মত মহিয়সী নারী কোথায়?
প্রকৃত সুখ রয়েছে আমিত্ব নিঃশেষ করার মধ্যে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00