📄 মহিয়ষী বিপদের নরককে স্বর্গে পরিণত করেন
আবু তালহা’র স্ত্রী উম্মে সুলাইম কী চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিশুর মৃত্যুর উপর সবরের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। ফলে আল্লাহ তাঁকে কল্যাণ দান করেন।
আনাস বর্ণনা করেন যে, আবু তালহা’র ছেলে খুব অসুস্থ ছিল। এর মধ্যেই আবু তালহা বাইরে চলে যান। এরপর ছেলেটির মৃত্যু হয়ে যায়। আবু তালহা ফিরে এসে জিজ্ঞাস করেন, আমার ছেলের কী অবস্থা? ছেলের মা উম্মে সুলাইম বলেন, আগের চেয়ে এখন শান্ত আছে। এরপর তিনি স্বামীর সম্মুখে রাতের খাবার পেশ করেন। আবু তালহা খাবার খান এবং স্ত্রীর সাথে রাতযাপন করেন। আবু তালহা অবসর হলে উম্মে সুলাইম বললেন, এবার ছেলেকে দাফন করে দাও।
সকালে আবু তালহা রসুলুল্লাহ -এর খেদমতে হাযির হন এবং পুরো ঘটনা বর্ণনা করেন। নবীজী জিজ্ঞাস করলেন, তুমি কি স্ত্রীর সাথে রাতযাপন করেছ? আবু তালহা বললেন, হ্যাঁ। নবীজী দোয়া করলেন, হে আল্লাহ! তুমি এই দু’ জনকে বরকত দান করো।
আল্লাহ -র হুকুমে উম্মে সুলাইম একটি পুত্রসন্তান জন্ম দিলেন। আনাস বলেন, আবু তালহা আমাকে বললেন, তুমি শিশুটিকে রসুলুল্লাহর কাছে নিয়ে যাও।
আবু তালহা আনাসের সঙ্গে কিছু খেজুর দিয়ে দিলেন। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এর সঙ্গে কিছু এনেছ? আনাস বললেন, হাঁ; খেজুর এনেছি।
নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর মুখে দিয়ে চিবালেন। এরপর নিজের মুখ থেকে চিবানো খেজুর বের করে (একটু) শিশুর মুখে দিয়ে তার তালুতে লাগিয়ে দিলেন। এরপর শিশুটির নাম রাখলেন আবদুল্লাহ।
নারীর সতীত্বের চেয়ে অধিক মূল্যবান আর কিছু নেই।
📄 সবর করো, কামিয়াবী তোমার পা চুম্বন করবে
এক মহিলা সাহাবীর ডাকনাম ছিল উম্মে রুবাইয়ি'। তাঁর এক ছেলের নাম ছিল হারেসা। হারেসা বদরের যুদ্ধে শহীদ হয়ে যান। তখন উম্মে রুবাইয়ি' নবীজী -এর খেদমতে এসে হাযির হন। ছেলের ব্যাপারে নবীজী -এর মুখ থেকে কিছু শোনার জন্য, যাতে তাঁর অন্তর ঠান্ডা হয়। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসুল! আপনি কি আমাকে হারেসার ব্যাপারে কিছু বলবেন না? সে যদি জান্নাতে গিয়ে থাকে, তা হলে সবর ও স্বস্তির সাথে এই ঘটনা আমি বরদাশত করে নিব। আর যদি ঘটনা উল্টো ঘটে থাকে, তা হলে তার জন্য অনেক কাঁদব।
একথা শুনে নবী বললেন, হারেসা'র মা! বেহেশতে অনেক জান্নাত আছে। তোমার ছেলে পেয়েছে শ্রেষ্ঠ জান্নাত ফেরদাউসের উন্নত মর্যাদা।
ছেলের মৃত্যু একটি অসহনীয় সদমা, যা মানুষের অন্তরকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়। কিন্তু এই মহিয়সী নারী রসুলুল্লাহ -এর কাছে জিজ্ঞাস করছেন যে, যদি তাঁর ছেলে জান্নাতে গিয়ে থাকে, তা হলে ইনশা আল্লাহ তিনি অতিসত্বর তাঁর সাথে গিয়ে মিলিত হবেন। ছেলের বিচ্ছেদের উপর তিনি সবর করবেন এবং জান্নাতে নিজের মর্তবা বুলন্দ করবেন। যদি এমনটা না হয়, তা হলে মনের স্বাদ মিটিয়ে অশ্রুপাত করবেন তিনি। যেমন, অনেকে প্রিয়জনের মৃত্যুতে ক্রন্দন করে থাকে, যারা তাদেরকে চিরদিনের জন্য ছেড়ে যায়। এটা এমন কথা, যা বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা ও সামর্থ্য এই মহিয়সী নারীর ছিল। কিন্তু তিনি একজন মায়াবতী ও মেহেরবান মা, যিনি তার সন্তান হারিয়েছেন। তিনি সবর করবেন এবং আল্লাহ্-র কাছে প্রতিদানের প্রত্যাশা করবেন।
একজন খুবসুরত নারী যদি হয় জহরত, তা হলে একজন নেককার নারী হচ্ছে রত্নভান্ডার।
📄 আল্লাহ ছাড়া বিপদ উদ্ধারকারী আর কেউ নেই
যখন দুঃখের পাহাড় ভেঙে পড়ে, পেরেশানীর বাদল চারদিক ছেয়ে যায়, বিপদাপদ সীমা অতিক্রম করে, রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় এবং কোথাও আশার আলো দেখা যায় না, তখন মানুষ শুধু আল্লাহ ﷻ-কে স্মরণ করে এবং নির্দ্বিধায় তার যবান থেকে ‘ইয়া আল্লাহ’ ‘ইয়া আল্লাহ’ জারি হয়ে যায়।
لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ العَظِيمُ الحَلِيمُ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ العَرْشِ العَظِيمِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْأَرْضِ رَبُّ العَرْشِ الكَرِيمُ
এগুলো সেই কথা, যেগুলোর মাধ্যমে আল্লাহ ﷻ বান্দাবান্দীর পেরেশানী দূর করেন; তাদের অস্থিরতা খতম করে দেন এবং তাদের সংকট ও দুর্দশা দূর করেন।
তখন আমি তার দোআ কবুল করলাম এবং তাকে পেরেশানী থেকে মুক্তি দিলাম। আর এভাবেই আমি মুমিনদেরকে বাঁচিয়ে থাকি। [২১:৮৮]
তোমাদের কাছে যেই নেয়ামতই আছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। এরপর যখন তোমাদেরকে সংকট পেয়ে বসে, তখন তোমরা তাঁর দিকেই দৌড়ে আস। [১৬:৫৩]
যখন রোগীর রোগ বেড়ে যায়, যখন তার দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে, যখন তার রং হলুদ হয়ে যায় এবং যখন কোন উপায় দেখা যায় না, সমস্ত উপকরণ বেকার সাব্যস্ত হয়, চিকিৎসকরা অসহায় ও মজবুর হয়ে পড়ে, ওষুধপত্র কাজ ছেড়ে দেয়, শ্বাস-প্রশ্বাস থেমে যেতে থাকে; হাতপা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং হৃদকম্প বন্ধ হতে থাকে, তখন রোগী আল্লাহ -এর দিকে ফেরে, রব্বল আলামীনের দিকে আকৃষ্ট হয়; তাঁকে ডাকে 'ইয়া আল্লাহ' 'ইয়া আল্লাহ'। এতে তার রোগ খতম হয়ে যায়; শেফা লাভ হয় এবং তার দোআ কবুল করা হয়।
(স্মরণ করো,) যখন আইয়ুব তার মালিককে ডেকে বলছিল, (হে আল্লাহ!) আমাকে একটি কঠিন অসুখ পেয়ে বসেছে, (আমাকে তুমি সুস্থ করো, কেননা,) তুমি দয়ালুদের শ্রেষ্ঠ দয়ালু। আমি তার ডাকে সাড়া দিলাম, তার যে কষ্ট ছিল, তা আমি দূর করে দিলাম। তাকে (যে শুধু) তার পরিবার-পরিজন ফিরিয়ে দিলাম (তা নয়); বরং তাদের (সবাইকে) আমার কাছ থেকে বিশেষ দয়া এবং বান্দাদের জন্যে উপদেশ হিসেবে আরও সমপরিমাণ (অনুগ্রহ) দান করলাম। [২১:৮৩-৮৪]
একজন পুরুষ সর্বশ্রেষ্ঠ বস্তু যেটা লাভ করে, তা হল বিশ্বস্ত স্ত্রী।
📄 যিনি বিপদগ্রস্তের ডাকে সাড়া দেন
আল্লাহ -র অনুগ্রহ, যে ব্যক্তি তাঁর উপর প্রত্যাশা বাঁধে, তিনি তাকে হতাশ করেন না; তার দোআ বেকার হতে দেন না।
হাজত অনুসারে, অথবা আনুগত্য অনুসারে কিংবা আগ্রহ অনুসারে তিনি মানুষের দোআ শোনেন এবং বিপদাপদ থেকে বের হওয়ার রাস্তা সমতল করে দেন। তিনি তো অমুসলিমদের দোআও শোনেন; তাদের জরুরতও পূরণ করেন, যখন তারা অস্থির হয়ে পড়ে এবং অপারগ হয়ে তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করে; তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর অনুগ্রহের অপেক্ষায় থাকে। তখন তিনি তাদের দোআ শোনেন এবং অনুগ্রহ করে তাদের পেরেশানী দূর করেন। হয়তো তারা ঈমান আনায়ন করবে। তবে বেশিরভাগ লোক তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কথা ভুলে যায়; তাঁর রহমতের কথা বিস্মৃত হয়ে যায় এবং তাঁর এহসানের নাশোকরী করতে থাকে।
আল্লাহ বলেন-
যখন এরা জাহাজে আরোহন করে, তখন দীনকে আল্লাহর জন্য খালাস করে তাঁর কাছে দোআ করতে থাকে, কিন্তু যখন আল্লাহ তাদেরকে মুক্তি দিয়ে স্থলে নামিয়ে দেন, (তখন) সাথে সাথে তারা আল্লাহর সাথে শরীক করতে থাকে। [২৯:৬৫]
আল্লাহ নিজ বান্দাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, একমাত্র তিনিই পেরেশান লোকজনের দোআ শোনেন এবং তাঁর পেরেশানী দূর করেন। এই বিষয়টিই তাঁর প্রকৃত মা'বুদ হওয়ার প্রমাণ; তাঁর অদ্বিতীয়তার স্পষ্ট দলিল। তবে এ থেকে খুব কম মানুষই উপদেশ গ্রহণ করে।
তিনি কে, যিনি বিপদগ্রস্তের দোআ শোনেন, যখন সে তাঁকে ডাকে এবং কে তার কষ্ট দূর করেন? আর (কে তিনি) যিনি তোমাদেরকে জমীনের প্রতিনিধি বানান? আল্লাহর সাথে কি আরও কোন মা’বুদ আছে? তোমরা (আসলে) কমই চিন্তা কর। [২৭:৬২]
নারী খুব সৌখিন পাত্রের মত, যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে। কাজেই তার জন্য স্থিরভাবে ঘরে থাকাই ভালো।