📄 কষ্টের পর সাফল্যের স্বাদ
এক নববধূ হানিমুন পালন করার পর ঘরে ফিরে মাকে পত্র লিখেছিল- মা! হানিমুন করে আজ আমি ঘরে ফিরে এসেছি। সেই ছোট বাসায়, যেটা আমার স্বামী আমার জন্য বানিয়েছেন। যদি আপনি আমার কাছে থাকতেন এবং আমি স্বামীর সাথে অতিবাহিত করা জীবন সম্পর্কে সব কথা বলতে পারতাম, তা হলে কতই না ভালো লাগত।
আমার স্বামী খুব ভালো মানুষ। তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসেন; আমিও তাঁকে খুব ভালোবাসি। তাঁকে খুশি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করি। আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি যে, আপনার সমস্ত উপদেশ আমার মনে আছে। আমি সেগুলোর উপর আমলও করছি। সেসব কথা আমার হরফে হরফে মনে আছে, যেগুলো দুধপানের সময় থেকে বিয়ের রাত পর্যন্ত আপনি আমার কানে গচ্ছিত রেখেছেন। আমি সেই অমূল্য উপদেশমালার আলোকে নিজের জীবন দেখছি, যেগুলো আপনার মুখে শুনেছি। আমার সামনে এখন লক্ষ একটাই, তা হল এই যে, আমি নিজের স্বামীর খেদমতে সেভাবেই লেগে থাকব, আপনি যেভাবে আবুব ও আমাদের খেদমতে লেগে থাকতেন। আপনি আমাদের প্রতি সমস্ত মহব্বত ও মনোযোগ উজাড় করে দিতেন। আপনি আমাদেরকে জীবনের অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং জীবনযাপনের পন্থা বাতলে দিয়েছেন। আপনি নিজ হাতে আমাদের হৃদয়ে মহব্বতের বীজ বোপন করেছেন।
আমি ঘরের দরজায় নক করার শব্দ পাচ্ছি। মনে হচ্ছে নিশ্চয় আমার মাথার মুকুট এসে পড়েছেন। দেখুন, এখন তিনি আমার কাছে। এসে বসেছেন এবং আমার পত্র পড়তে চাইছেন। তিনি জানতে চাইছেন, আমি প্রিয় মাকে কী লিখেছি। তিনি সেই আনন্দঘন মুহূর্তে শরীক হতে চান, যা আমি আপনার সাথে রূহ ও হৃদয়ের সঙ্গে অতিবাহিত করছি। তিনি চাইছেন যে, কলমটি তাঁর হাওলা করে দিই এবং পত্রে তাঁর জন্য একটু জায়গা ছেড়ে দিই, যাতে তিনি নিজেও কিছু লিখে দিতে পারেন। আমার ভালোবাসিক্ত সালাম থাকল আপনার প্রতি, আব্বর প্রতি এবং ভাইবোনের প্রতি।
মুচকি হাসির মধ্যে কিছু দিতে হয় না, তবে মুচকি হাসি আমাদেরকে অনেক কিছু দেয়।
📄 পেরেশানী দেহ-মনের আযাব
পেরেশানীর সবচেয়ে খারাপ সুরত হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক কোন কাজে নিবদ্ধ হতে না পারা। যখন আমরা পেরেশান হই, তখন আমাদের বিবেক বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। যখন আমরা নিজেকে এমন খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি করার জন্য প্রস্তুত করি; দেমাগের উপর জোর সৃষ্টি করি, তখন আমরা নিজেকে এমন অবস্থায় পাই না যে, বিশেষ ব্যাপারে মনোযোগ নিবদ্ধ করা যেতে পারে।
এমনটা সম্ভব নয় যে, আমরা কোন কাজও আঞ্জাম দিব, আবার পেরেশানও থাকব। একই সময়ে এ দুটি সম্ভব নয়। দুটির মধ্য থেকে যেকোন একটি জল্পনা-কল্পনার জগৎ থেকে বাইরে বের করে দেওয়া জরুরী।
যদি তুমি এই মুহূর্তে কোন পেরেশানীতে নিষ্পেষিত হতে থাক, তা হলে অতীতের খুব খারাপ কোন পরিস্থিতি ও মসিবতের কথা স্মরণ করো। এখন তুমি পেরেশানীকে একের বদলে দুই দিক থেকে নাগালের মধ্যে রাখতে পারবে। অতীতের মসিবত বড় ছিল; কিন্তু তুমি সেটা সামলে এসেছ। সুতরাং বর্তমান পেরেশানীও তুমি সামলে উঠবে, যেটা অতীতের তুলনায় হালকা ও মামুলী। কেউ বলতে পারে, অতীতের দুঃখ তুমি সাফল্যের সাথে জয় করেছিলে, যা ছিল অত্যন্ত ভয়ানক। তা হলে বর্তমান দুঃখ জয় করতে পারবে না কেন? অতীতের বড় এক পেরেশানীর তুমি বীরের মত মোকাবেলা করেছ, তা হলে এখনকার পেরেশানীর মোকাবেলা করতে পারবে না কেন? অথচ এটা আগের পেরেশানীর চেয়ে অনেক হালকা।
বিপদাপদের অনুভূতি তখন খুব বেশি ব্যাপক হয়, যখন তুমি কোন কাজে ব্যস্ত না থাক, অথবা কোন কাজ থেকে ফারেগ হয়ে এমনিতেই বসে থাকো। ফারেগ সময়ে জল্পনা-কল্পনার উপদ্রব একটি আবশ্যক ব্যাপার। এমন সময়ই দূর-দূরান্তের বিভিন্ন শঙ্কা মাথায় জমা হয় এবং পেরেশান করতে থাকে। এর প্রতিকার শুধু একটাই, কোন উপকারী কাজে মশগুল থাকো।
অতিরিক্ত বস্তু বিবেকবান মানুষকেও পাগল বানিয়ে দিতে পারে।
📄 পছন্দের ব্যস্ততা সাফল্যের রহস্য
পেশা যা-ই হোক না কেন, একজন সাহসী মানুষ ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সেই পেশার সাথে যুক্ত থাকে। সেই পেশার প্রতি মানুষ অনেক আকর্ষণও অনুভব করে, যার জন্য আল্লাহ্ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যেই পেশার ব্যাপারে তার মধ্যে আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের সীমাহীন সম্ভাবনা সঞ্চিত রাখা হয়েছে। সে যদি উক্ত পেশা নিয়ে আপত্তিও করে, তবুও সে উক্ত পেশার সাথে যুক্ত থাকে এবং মনের আনন্দে কাজ করতে থাকে। এই কাজ করতে গিয়ে কী কী সমস্যা হয়, কী কী অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়, এই কাজ করে তার প্রাপ্তি কতটুকু এবং এই কাজ ছেড়ে আরও সুবিধাজনক কাজে যাওয়ার ব্যাপারে তার খাহেশ কতখানি, এসব প্রশ্ন মৌলিক নয়। এও দেখার বিষয় নয় যে, অভাব ও দারিদ্র্যের ব্যাপারে কেমন অভিযোগ রয়েছে তার, এই পেশায় নিয়োজিত থাকাই যার অভিযোগের কারণ। এসব কিছু সত্ত্বেও সে এই পেশায় খুশি ও সুস্থির। কেননা, এই কাজের কারণে তার মধ্য থেকে এমন বস্তু বের হয়ে আসছে, যা পুরোটাই কল্যাণ।
পুরুষের সৌভাগ্য রয়েছে নারীর সেই কথায়, যেটা তার দুই ঠোঁট ভেদ করে বের হয়ে আসে।
📄 প্রকৃত শান্তি হৃদয়ে, দেহে নয়
এক খ্রিস্টান নারীর গল্প। তার জীবনে দারিদ্র্য, অভাব আর অসুখ ছাড়া আর কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। বিয়ের কয়েক দিন পরই তার স্বামী মারা যায়। তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন; কিন্তু দ্বিতীয় স্বামীও আরেক যুবতীকে নিয়ে পালায়ন করে। অবশ্য তার পরিণত খুব করুণ হয়েছিল। একটি পতিতালয়ে তাকে মৃত পাওয়া গিয়েছিল।
মহিলার একটি ছেলে ছিল। তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। অভাব আর অসুখের কারণে এই কলজেছেঁড়া ধনও তিনি সাথে রাখতে পারেননি। অন্যত্র দত্তক দিতে বাধ্য হন। এরপর আরও করুণ ঘটনা ঘটে। একদিন তিনি বরফ পড়া রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। হঠাৎ তার পা ফসকে যায় এবং দীর্ঘ সময় তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকেন। এভাবে পড়ে যাওয়ার কারণে তার মেরুদণ্ডের হাড্ডিতে মারাত্মক চোট পড়ে। ডাক্তাররা মনে করছিলেন, মহিলা তাড়াতাড়ি মারা যাবে, অথবা তিনি আজীবনের জন্য বিকলাঙ্গ হয়ে পড়বেন। হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে মহিলা বাইবেলের পাতা ওল্টাতে থাকেন। একটি শ্লোক পড়ে তিনি মানসিকভাবে খুব বলিয়ান হয়ে ওঠেন। তিনি নিজেই বয়ান করেছেন যে, মথি বর্ণিত বাইবেলে তিনি এই শ্লোকটি পড়েন, 'যখন বিছানায় পড়ে থাকা কোন পক্ষাঘাতগ্রস্ত ব্যক্তিকে তাঁর (যিশুর) সামনে আনা হত, তখন তিনি সেই রুগ্ন ব্যক্তিকে বলতেন, ওঠো, বিছানা গুছিয়ে নাও এবং বাড়ির পথ ধরো।' এতে সেই রোগী (ঈশ্বরের হুকুমে) উঠে দাঁড়াত এবং ঘরে চলে যেত।
এই শ্লোক মহিলার অন্তরে আধ্যাত্মিক ও রূহানী শক্তি বাড়িয়ে দেয়। তিনি বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ান এবং কামরার মধ্যে পায়চারি শুরু করেন। এই অভিজ্ঞতা পক্ষাঘাতগ্রস্ত এই মহিলাকে এতটুকু উপযুক্ত করে দেয় যে, তিনি নিজের চিকিৎসা নিজেই করতে থাকেন এবং অন্যদেরও সেবা আরম্ভ করেন।
এই মহিলার নাম ছিল মিসেস মেরি বেকার এডি। প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ডেলকার্নেগী এই ঘটনা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, এই ঘটনা মিসেস এডি'র জীবনের মোড় পরিবর্তন করে দেয়। তিনি নিজ ধর্মের প্রচারক হয়ে যান। যেই ধর্ম তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে বাইবেল পড়তে পড়তে আবিষ্কার করেছিলেন।
হে মুসলিম নারী! তুমি নিজ ধর্মের জন্য কী করেছ?
একজন নেককার নারী হচ্ছে সবচেয়ে মজবুত দূর্গ।