📄 সাফল্যের কিছু ছবি
ইজ্জতের চাবি : আল্লাহ ﷻ ও রসুল ﷺ-এর আনুগত্য
রিযিকের চাবি : অধিকহারে তওবা, এস্তেগফার ও তাকওয়া
জান্নাতের চাবি : তাওহীদ
ঈমানের চাবি : আল্লাহর নিদর্শন ও সৃষ্টির উপর চিন্তাফিকির
নেককাজের চাবি : সততা
হৃদয়ের সজীবতার চাবি : কুরআন গবেষণা, শেষরাতের ক্রন্দন ও গুনাহ থেকে বিরতি
ইলমের চাবি : সুন্দর তলব ও মনোযোগ
কামিয়াবীর চাবি : সবর
উভয় জাহানের সাফল্যের চাবি : তাকওয়া
নেয়ামত বৃদ্ধির চাবি : শোকর
আখেরাতের আকর্ষণের চাবি : দুনিয়ার প্রতি অনীহা
কবুল হওয়ার চাবি : দোআ।
একজন মানুষের মুচকি হাসি সূর্যের কিরণের মত।
📄 কষ্টের পর সাফল্যের স্বাদ
এক নববধূ হানিমুন পালন করার পর ঘরে ফিরে মাকে পত্র লিখেছিল- মা! হানিমুন করে আজ আমি ঘরে ফিরে এসেছি। সেই ছোট বাসায়, যেটা আমার স্বামী আমার জন্য বানিয়েছেন। যদি আপনি আমার কাছে থাকতেন এবং আমি স্বামীর সাথে অতিবাহিত করা জীবন সম্পর্কে সব কথা বলতে পারতাম, তা হলে কতই না ভালো লাগত।
আমার স্বামী খুব ভালো মানুষ। তিনি আমাকে অনেক ভালোবাসেন; আমিও তাঁকে খুব ভালোবাসি। তাঁকে খুশি করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করি। আমি আপনাকে আশ্বস্ত করছি যে, আপনার সমস্ত উপদেশ আমার মনে আছে। আমি সেগুলোর উপর আমলও করছি। সেসব কথা আমার হরফে হরফে মনে আছে, যেগুলো দুধপানের সময় থেকে বিয়ের রাত পর্যন্ত আপনি আমার কানে গচ্ছিত রেখেছেন। আমি সেই অমূল্য উপদেশমালার আলোকে নিজের জীবন দেখছি, যেগুলো আপনার মুখে শুনেছি। আমার সামনে এখন লক্ষ একটাই, তা হল এই যে, আমি নিজের স্বামীর খেদমতে সেভাবেই লেগে থাকব, আপনি যেভাবে আবুব ও আমাদের খেদমতে লেগে থাকতেন। আপনি আমাদের প্রতি সমস্ত মহব্বত ও মনোযোগ উজাড় করে দিতেন। আপনি আমাদেরকে জীবনের অর্থ বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং জীবনযাপনের পন্থা বাতলে দিয়েছেন। আপনি নিজ হাতে আমাদের হৃদয়ে মহব্বতের বীজ বোপন করেছেন।
আমি ঘরের দরজায় নক করার শব্দ পাচ্ছি। মনে হচ্ছে নিশ্চয় আমার মাথার মুকুট এসে পড়েছেন। দেখুন, এখন তিনি আমার কাছে। এসে বসেছেন এবং আমার পত্র পড়তে চাইছেন। তিনি জানতে চাইছেন, আমি প্রিয় মাকে কী লিখেছি। তিনি সেই আনন্দঘন মুহূর্তে শরীক হতে চান, যা আমি আপনার সাথে রূহ ও হৃদয়ের সঙ্গে অতিবাহিত করছি। তিনি চাইছেন যে, কলমটি তাঁর হাওলা করে দিই এবং পত্রে তাঁর জন্য একটু জায়গা ছেড়ে দিই, যাতে তিনি নিজেও কিছু লিখে দিতে পারেন। আমার ভালোবাসিক্ত সালাম থাকল আপনার প্রতি, আব্বর প্রতি এবং ভাইবোনের প্রতি।
মুচকি হাসির মধ্যে কিছু দিতে হয় না, তবে মুচকি হাসি আমাদেরকে অনেক কিছু দেয়।
📄 পেরেশানী দেহ-মনের আযাব
পেরেশানীর সবচেয়ে খারাপ সুরত হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্ক কোন কাজে নিবদ্ধ হতে না পারা। যখন আমরা পেরেশান হই, তখন আমাদের বিবেক বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। যখন আমরা নিজেকে এমন খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি করার জন্য প্রস্তুত করি; দেমাগের উপর জোর সৃষ্টি করি, তখন আমরা নিজেকে এমন অবস্থায় পাই না যে, বিশেষ ব্যাপারে মনোযোগ নিবদ্ধ করা যেতে পারে।
এমনটা সম্ভব নয় যে, আমরা কোন কাজও আঞ্জাম দিব, আবার পেরেশানও থাকব। একই সময়ে এ দুটি সম্ভব নয়। দুটির মধ্য থেকে যেকোন একটি জল্পনা-কল্পনার জগৎ থেকে বাইরে বের করে দেওয়া জরুরী।
যদি তুমি এই মুহূর্তে কোন পেরেশানীতে নিষ্পেষিত হতে থাক, তা হলে অতীতের খুব খারাপ কোন পরিস্থিতি ও মসিবতের কথা স্মরণ করো। এখন তুমি পেরেশানীকে একের বদলে দুই দিক থেকে নাগালের মধ্যে রাখতে পারবে। অতীতের মসিবত বড় ছিল; কিন্তু তুমি সেটা সামলে এসেছ। সুতরাং বর্তমান পেরেশানীও তুমি সামলে উঠবে, যেটা অতীতের তুলনায় হালকা ও মামুলী। কেউ বলতে পারে, অতীতের দুঃখ তুমি সাফল্যের সাথে জয় করেছিলে, যা ছিল অত্যন্ত ভয়ানক। তা হলে বর্তমান দুঃখ জয় করতে পারবে না কেন? অতীতের বড় এক পেরেশানীর তুমি বীরের মত মোকাবেলা করেছ, তা হলে এখনকার পেরেশানীর মোকাবেলা করতে পারবে না কেন? অথচ এটা আগের পেরেশানীর চেয়ে অনেক হালকা।
বিপদাপদের অনুভূতি তখন খুব বেশি ব্যাপক হয়, যখন তুমি কোন কাজে ব্যস্ত না থাক, অথবা কোন কাজ থেকে ফারেগ হয়ে এমনিতেই বসে থাকো। ফারেগ সময়ে জল্পনা-কল্পনার উপদ্রব একটি আবশ্যক ব্যাপার। এমন সময়ই দূর-দূরান্তের বিভিন্ন শঙ্কা মাথায় জমা হয় এবং পেরেশান করতে থাকে। এর প্রতিকার শুধু একটাই, কোন উপকারী কাজে মশগুল থাকো।
অতিরিক্ত বস্তু বিবেকবান মানুষকেও পাগল বানিয়ে দিতে পারে।
📄 পছন্দের ব্যস্ততা সাফল্যের রহস্য
পেশা যা-ই হোক না কেন, একজন সাহসী মানুষ ইচ্ছায় অনিচ্ছায় সেই পেশার সাথে যুক্ত থাকে। সেই পেশার প্রতি মানুষ অনেক আকর্ষণও অনুভব করে, যার জন্য আল্লাহ্ তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যেই পেশার ব্যাপারে তার মধ্যে আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের সীমাহীন সম্ভাবনা সঞ্চিত রাখা হয়েছে। সে যদি উক্ত পেশা নিয়ে আপত্তিও করে, তবুও সে উক্ত পেশার সাথে যুক্ত থাকে এবং মনের আনন্দে কাজ করতে থাকে। এই কাজ করতে গিয়ে কী কী সমস্যা হয়, কী কী অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়, এই কাজ করে তার প্রাপ্তি কতটুকু এবং এই কাজ ছেড়ে আরও সুবিধাজনক কাজে যাওয়ার ব্যাপারে তার খাহেশ কতখানি, এসব প্রশ্ন মৌলিক নয়। এও দেখার বিষয় নয় যে, অভাব ও দারিদ্র্যের ব্যাপারে কেমন অভিযোগ রয়েছে তার, এই পেশায় নিয়োজিত থাকাই যার অভিযোগের কারণ। এসব কিছু সত্ত্বেও সে এই পেশায় খুশি ও সুস্থির। কেননা, এই কাজের কারণে তার মধ্য থেকে এমন বস্তু বের হয়ে আসছে, যা পুরোটাই কল্যাণ।
পুরুষের সৌভাগ্য রয়েছে নারীর সেই কথায়, যেটা তার দুই ঠোঁট ভেদ করে বের হয়ে আসে।