📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 দয়া করো, দয়া পাবে

📄 দয়া করো, দয়া পাবে


একটি হাদীসে সন্তানের প্রতি মায়ের কেমন মহব্বত থাকে, সেটার স্বচ্ছ ছবি আঁকা হয়েছে। একজন মায়ের অন্তরে আল্লাহ যে মহব্বত, ভালোবাসা, মমতা ও মেহেরবানী সৃষ্টি করেছেন এবং সন্তান প্রতিপালনের সময় যে মহব্বত, মমতা ও মেহেরবানী মায়েরা প্রকাশ করেন, এ হচ্ছে তার একটি উপমা।
বান্দার উপর আল্লাহ -এর যে রহমত ও মেহেরবানী হয়ে থাকে, রসুলুল্লাহ তার একটি তাসবীর পেশ করেছেন। আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনে খাত্তাব বর্ণনা করেন যে, কয়েদীহিসেবে গ্রেফতার করে কয়েক জন মহিলাকে নবী -এর সামনে উপস্থিত করা হয়। তাদের মধ্য থেকে এক মহিলা অস্থির হয়ে কী যেন খুঁজছিল। ইতোমধ্যে সে একটি শিশু পেয়ে গেল এবং সে তাকে বুকে চেপে ধরে বুকের দুধ পান করাতে লাগল। তখন রসুলুল্লাহ বললেন, তোমরা কী মনে কর, এই মহিলা তার শিশুকে আগুনে ফেলতে পারে?
আমরা বললাম, না; কক্ষণও নয়।
নবীজী বললেন, এই মহিলা নিজের সন্তানের উপর যে পরিমাণ মেহেরবান, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর তার চেয়েও বেশি মেহেরবান।
এ হল একজন কয়েদী নারীর কথা, যে বন্দী হয়ে এসেছিল। পূর্বে সে পারিবারিক বিষয়াদিতে ইচ্ছাধীন ছিল। খান্দানের পুরুষদের হেফাজতে আযাদ ছিল। স্বামীর ঘরে তার নেতৃত্ব চলত। কিন্তু গ্রেফতার হওয়ার কারণে এখন ছিল একজন বাঁদী ও পরাধীনা। সে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছিল, যখন মানুষ আশপাশে কী হয়, সবকিছু ভুলে যায়। মহিলা কঠিন মানসিক যাতনায় লিপ্ত ছিল; কিন্তু এমন অবস্থায়ও সে নিজের বাচ্চা, কলজের টুকরা ও নয়নমণির দেখাশোনার কথা ভুলতে পারেনি। সে তাকে সর্বত্র খুঁজতে থাকে। একসময় সে তাকে পেয়ে যায় এবং আবেগাচ্ছন্ন হয়ে জড়িয়ে ধরে দুধ পান করাতে শুরু করে। নিজের কলজের টুকরা কোন প্রকারে কষ্টে নিপতিত হোক, তা সে বরদাশত করতে পারেনি। হোক না সেই কষ্ট খুব সামান্য। কষ্ট ছোট বড় কি না, সেই প্রসঙ্গ তার কাছে নেই। জীবন বাজি রেখে সন্তানকে হেফাজত করবে, এটাই হচ্ছে তার মূল কথা।
ভদ্রতা বহির্ভূত ভাষা বক্তার জন্য অনেক সময় বিপদের কারণ হয়, ঠিক ও রকম, যে রকম যখমের কারণে হয়ে থাকে।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 দুনিয়া সুন্দর, তবে হতাশদের জন্য নয়

📄 দুনিয়া সুন্দর, তবে হতাশদের জন্য নয়


যদি শীতের মৌসুম তোমার ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে থাকে এবং বিস্তীর্ণ বরফের সারি সবদিক থেকে তোমার রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে থাকে, তা হলে অসুবিধা কী? আগামী বসন্তের দিকে লক্ষ করো এবং তাজা বাতাসে শ্বাস নেওয়ার জন্য জানালা খুলে দাও। দূর দিগন্তের দিকে দৃষ্টিপাত করো এবং উড়ন্ত পাখির ঝাঁকের দিকে নজর করো, যারা আবার তাদের গান জুড়ে দিয়েছে। তুমি দেখতে পাবে, গাছগাছালির ফাঁকফোকর দিয়ে সূর্য তার লাল কিরণ ছড়িয়ে দিয়েছে এবং তোমাকে নতুন জীবনের বার্তা শুনিয়ে যাচ্ছে। রূহ ও হৃদয়কে দিয়ে যাচ্ছে অনন্য সজীবতা। তাতে রয়েছে নতুন স্বপ্নের খুবসুরত তাবীর।
দৃষ্টিনন্দন গাছের সারি দেখার জন্য মরুভূমিতে ঘুরে বেড়িয়ো না। কেননা, সেখানে তুমি বিরানভূমি আর অসহায়ত্ব ছাড়া আর কিছুই পাবে না। চোখের সামনে বিদ্যমান অসংখ্য গাছগাছালির দিকে তাকাও, যেগুলো তোমাকে ছায়া এবং মিষ্টি ও মজাদার ফল দান করে। যেগুলোর ডালে ডালে রংবেরঙের পাখি অপূর্ব সুরে গান গেয়ে মন মাতিয়ে রাখে।
পেছনের দিনগুলোর হিসাব কোরো না যে, তখন কতটুকু লোকসান হয়েছে। কেননা, যখন জীবনের পাতা খসে পড়ে, তখন সেগুলো ফিরে আনা যায় না। তবে প্রত্যেক বসন্তে নতুন মুকুল ও নতুন পাতা বের হয়। দেখো, সেই পাতাগুলোর দিকে, যেগুলো তোমার ও আসমানের মধ্যে বিদ্যমান। সেই শুষ্ক পাতাগুলোর কথা ভুলে যাও, যেগুলো জমীনে পড়ে মাটির অংশ হয়ে গেছে।
যেহেতু গতকালটা হারিয়ে গেছে এবং তোমার সামনে রয়েছে আজকের দিনটা, সেহেতু এই দিনটি অতিবাহিত হওয়ার আগে এর পাতাগুলো সমবেত করো এবং আগামী কালের দিকে পেশ করো। যে গতকালটি অতিবাহিত হয়ে গেছে, তার জন্য মাতম কোরো না এবং আজকের দিনটি আফসোস করে নষ্ট কোরো না। সামনের আগামী কালটা অনেক সুন্দর। তাতে উদীয়মান আলোকময় সূর্যের সোনালী কিরণের অপেক্ষায় থাকো।
বিষাক্ত কথায় সৃষ্ট যখমের তীব্রতা অনুমান করা মুশকিল।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 সুদিনে শোকর, দুর্দিনে মদদ

📄 সুদিনে শোকর, দুর্দিনে মদদ


ইউনুস মাছের পেটে কঠিন পেরেশানীতে ছিলেন। চারদিকে ছিল শুধু অন্ধকার। ভাঁজে ভাঁজে অন্ধকার। গভীর সমুদ্রের তীব্র অন্ধকার। মাছের পেটের অন্ধকার। মনটা ছোট, পেরেশানী সীমাহীন। দুঃচিন্তার অন্ত নেই। এমন সময় কান্না বিজড়িত কণ্ঠে তিনি আল্লাহ -র দিকে মনোনিবেশ করলেন, যিনি পেরেশান লোককে সাহায্য করেন। বিপদগ্রস্তের বিপদ দূর করেন। যিনি প্রশস্ত রহমতওয়ালা এবং বান্দাবান্দীর তওবা কবুলকারী। সে সময় তাঁর পবিত্র যবান থেকে যে সোনালী শব্দমালা বের হয়, সেটা যেন ছিল হীরা ও মুক্তা। তিনি ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে প্রতিপালককে ডেকে বললেন-
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। নিশ্চয় আমি জালেমদের একজন।
সাথে সাথে দোআ কবুল হয়ে গেল। যেমন, আল্লাহ তাআলা বলেন, তখন আমি তার দোআ কবুল করে নিলাম এবং পেরেশানী থেকে মুক্তি দিলাম। আমি এভাবেই মুমিনদেরকে বাঁচিয়ে থাকি। [২১:৮৮]
ইউনুসকে কোন বিরান জায়গায় নিক্ষেপ করার জন্য আল্লাহ মাছকে হুকুম দিলেন। খুব কমজোর ও অসুস্থ অবস্থায় ইউনুস সমুদ্রের কূলে نিক্ষিপ্ত হলেন। কিন্তু আল্লাহ -র বিশেষ অনুগ্রহ ও রহমত সঙ্গে ছিল। আল্লাহ -র হুকুমে একটি উদ্ভিদ উৎপন্ন হল এবং সেটার পাতা তাঁকে ছায়া দিতে লাগল। তখন তাঁর দেহে প্রাণের লক্ষণ দেখা যেতে লাগল এবং তাঁর সুস্থতাও ফিরে এল। এভাবেই যে ব্যক্তি আল্লাহ -র রবুবিয়াত স্বীকার করে, আল্লাহ তাকে দুঃসময়ে সাহায্য করেন।
যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার জীবন নির্দেশনার উপযুক্ত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি নিজের নেতৃত্ব নিজে দিতে পারবে না।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 সবচেয়ে মূল্যবান মহরের নারী

📄 সবচেয়ে মূল্যবান মহরের নারী


আবু তালহা ️ইসলাম গ্রহণের আগে উম্মে সুলাইম বিনতে মিলহানের সামনে বিয়ের প্রস্তাব রাখেন এবং মোটা অংকের মহর দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু তাঁর প্রত্যাশার বিপরীতে উম্মে সুলাইম অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, আমি একজন মুশরিককে বিয়ে করতে পারি না। হে আবু তালহা! তোমরা যেসব দেবতার পূজা কর, সেগুলো অমুক খান্দানের গোলাম তৈরী করে এবং তোমরা যদি তাতে আগুন লাগাও, তা হলে সাথে সাথে ভস্ম হয়ে যাবে।
আবু তালহা খুব ব্যথিত হলেন। ঘরে ফিরে গেলেন তিনি। উম্মে সুলাইমের যে অবস্থা দেখলেন এবং তাঁর যেসব কথা শুনলেন, সেগুলো যেন তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। তবে তাঁর অন্তরে যে নিখাদ ভালোবাসা ছিল, তা তাঁকে পরের দিন আবার উম্মে সুলাইমের সামনে নিয়ে এল। এবার তিনি আরও ভারী মহর দেওয়ার প্রস্তাব পেশ করলেন, এই প্রত্যাশায় যে, হয়তো উম্মে সুলাইমের অন্তর নরম হবে এবং তিনি শাদীর জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবেন। কিন্তু খুব আদব-লেহাযের সাথে উম্মে সুলাইম বললেন, হে আবু তালহা! তোমার মত একজন পুরুষকে কোন নারী ফিরিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু তুমি কাফের; আমি মুসলমান। তোমার সাথে আমার বিয়ে বৈধ নয়।
আবু তালহা বললেন, আমি তোমাকে হলুদ ও সাদা (সোনারূপা) দিয়ে ভরে দিব। উম্মে সুলাইম বললেন, হলুদ ও সাদা (সোনারূপা) আমার প্রয়োজন নয়। আমি চাই তুমি ইসলাম গ্রহণ করো। আবু তালহা বললেন, এই প্রসঙ্গে আমি কার সাথে কথা বলব? উম্মে সুলাইম বললেন, এই প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ'র সাথে কথা বলো।
আবু তালহা রসুলুল্লাহ -র খেদমতে উপস্থিত হলেন। সাহাবীদের নিয়ে বসে ছিলেন নবীজী । তিনি আবু তালহাকে দেখে বললেন, আবু তালহা তোমাদের কাছে এসেছেন। তাঁর চোখেমুখে ইসলামের নুর খেলে যাচ্ছে।
আবু তালহা নবীজী -র সাথে সেইসব কথা বললেন, যেগুলো উম্মে সুলাইম বলেছিলেন। এরপর ইসলাম গ্রহণের শর্তে তাঁর সাথে উম্মে সুলাইমের বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেল। (উম্মে সুলাইম আবু তালহা'র ইসলাম গ্রহণকেই মহর হিসেবে মেনে নিলেন।)
এই মহিয়ষী নারী খুব শানদার উপমা তাদের জন্য, যারা সম্মান ও মর্যাদা কামনা করেন। একটু দেখো, তাঁর জীবন ঈমান, একীন, আযমত ও শরাফত দ্বারা কেমন সজ্জিত ছিল; আল্লাহ -র কাছে তিনি কেমন সওয়াব ও প্রতিদানের উপযুক্ত ছিলেন। জীবনের পিছনে তিনি কত খুবসুরত ও তারীফের যোগ্য স্মৃতি রেখে গেছেন এবং কত বড় আর মহান বদলা ও প্রতিদান তিনি হাসিল করেছেন। তিনি নিজ প্রতিপালক, নিজের সত্তা এবং অন্য সবার কাছে অন্তরঙ্গ ও একনিষ্ঠ ছিলেন। যেদিন সত্যবাদীদের সত্যবাদিতা তাদের উপকারে আসবে, সেদিন তাঁর জন্য থাকবে জান্নাতের সুসংবাদ। সেখানে তিনি সবসময় থাকবেন এবং তাঁর কামিয়াবী তাঁর চোখ শীতল করে দিবে।
যদি তুমি চাও যে, সবাই তোমার সাথে হাসিমুখে মিলিত হোক, তা হলে তুমি আগে তাদের সাথে হাসিমুখে মিলিত হও।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00