📄 শোকর আদায় করা ফরজ
আল খিয়রান ছিলেন একজন দাসী। খলীফা মাহদী তাঁকে খরিদ করে আযাদ করে দিয়েছিলেন। পরে তিনি তাকে বিয়ে করেছিলেন। খলীফা এই স্ত্রীর খায়েশ অনুযায়ী তাঁর দুই ছেলেকে অলীআহ্দ (প্রিন্স) ঘোষণা করেন। কিন্তু এসব কিছুর পরও এই মহিলার অবস্থা ছিল এই যে, যখনই তিনি স্বামীর উপর অসন্তুষ্ট হতেন, তখনই মুখের উপর বলে দিতেন, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন ভালো আচরণ পেলাম না।
আলবার্মাকিয়াও ছিলেন অনুরূপ একজন দাসী। বাজারে তাঁর ক্রয়বিক্রয় হয়েছিল। মরক্কোর বাদশাহ মু'তামিদ ইবনে আব্বাদ তাঁকে খরিদ করে আযাদ করে দেন এবং পরে রানি বানিয়ে নেন। একদিন এই রানি দেখতে পান যে, দাসীরা মাটি দিয়ে খেলছে। তখন তিনি নিজ দেশের কথা স্মরণ করে মাটি দিয়ে খেলতে শুরু করেন। বাদশাহ হুকুম দিলেন, মাটির মত দেখতে, বিরাট আকারের সুগন্ধিময় কোন বস্তু তৈরী করা হোক, যাতে কমবয়সী রানি সেটা দিয়ে খেলতে পারেন। এরপরও রানির অবস্থা ছিল এই যে, যখন তিনি স্বামীর উপর নারাজ হয়ে যেতেন, তখনই বলতেন, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন ভালো আচরণ পেলাম না।
মু'তামিদ মুচকি মুচকি হেসে বলতেন, এমন কি মাটির দিনগুলোতেও না।
একথা শুনে রানি লজ্জায় পানি পানি হয়ে যেতেন।
দু-চার জন বাদে নারী জাতির স্বভাব এটাই। তাদের উপর কী কী অনুগ্রহ করা হয়েছে, সে কথা তারা ভুলে যায়। বিশেষত যখন স্বামীর পক্ষ থেকে কোন ভুলচুক হয়ে যায়। নবী বলেছেন, হে নারীসমাজ! তোমরা সদকা করো। কেননা, আমি তোমাদের বেশিরভাগকে জাহান্নামে দেখেছি। মহিলারা বলল, ইয়া রসুলাল্লাহ! এর কারণ কী? নবীজী বললেন, তোমরা দ্রুত অভিশাপ করে থাক; বেশি বেশি তিরস্কার কর এবং জীবনসঙ্গীর নাশোকরী কর।
তিনি আরও বলেছেন, আমি জাহান্নাম দেখেছি। সেখানে নারীদের আধিক্য ছিল। কেননা, তারা স্বামীর নাশোকরী করে থাকে এবং অনুগ্রহের কথা ভুলে যায়। তাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, যদি সারা জীবন তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করা হয় এবং আচানক কোন ভুল হয়ে যায়, তা হলে সাথে সাথে বলে ফেলে, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন ভালো আচরণ পেলাম না।
স্বামী স্ত্রীর স্বভাব সম্পর্কে অবগত থাকেন, এজন্য তিনি রাগান্বিত হন না, কষ্টও নেন না এবং তার চেহারায় কষ্টের কোন ছাপও ফুটে ওঠে না, যখন স্ত্রী নাশোকরী করেন অথবা দাবি করে বলেন, আমি তোমার কাছ থেকে কখনও কোন ভালো আচরণ পেলাম না। অথচ বেশিরভাগ স্বামীই স্ত্রীর জন্য অনেক কিছু করে থাকেন।
যদি কোন নারীর জন্য লোকজন দোআ করে, তার স্বামী তার প্রশংসা করে, পড়সীরা তাকে ভালোবাসে এবং তার সখীরা তাকে সম্মান করে, তা হলে সে কামিয়াব।
📄 দেহের চেয়ে রূহের গুরুত্ব বেশি
উমর ইবনে আবদুল আযীয নিজের খেলাফতকালে এক ব্যক্তিকে আট দিরহাম দিয়ে পোশাক খরিদ করে আনার হুকুম দেন। যখন সেই ব্যক্তি পোশাক খরিদ করে নিয়ে আসে, তখন উমর ইবনে আবদুল আযীয সেই পোশাকে হাত ফেরান, তারপর বলেন, কতই না নরম ও মোলায়েম কাপড়।
একথা শুনে ওই ব্যক্তির মুখে হাসির রেখা খেলে গেল। উমর ইবনে আবদুল আযীয তার হাসির কারণ জিজ্ঞেস করলেন। লোকটি বলল, আমীরুল মুমিনীন! আপনার খলীফা হওয়ার আগের কথা। আপনি আমাকে এক হাজার দিরহাম দিয়ে একটি পোশাক কিনে আনার হুকুম দিয়েছিলেন। পরে আপনি যখন সে কাপড়ে হাত ফিরিয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন, কত খসখসে কাপড়! আর আজ আট দিরহামের লেবাসকে নরম ও মোলায়েম বলছেন।
উমর ইবনে আবদুল আযীয বললেন, আমি বুঝি না যে, যে ব্যক্তি এক হাজার দিরহামের লেবাস খরিদ করে, সে আল্লাহকে ভয় করে।
এরপর তিনি বললেন, আরে শোনো! আমার নফস উঁচু পদের আগ্রহী ছিল। যখন সে কোন পদ পেয়ে গেল, তখন সে আরও উঁচু পদ পাওয়ার খাহেশ শুরু করল। যখন সে আমিরী পেয়ে গেল, তখন সে খেলাফত পাওয়ার তামান্না করতে লাগল। একসময় সে খেলাফতও পেয়ে গেল। এখন আমার রূহ এর চেয়েও বড় কোন বস্তু হাসিল করার তামান্নায় লিপ্ত আছে, আর সেটা কেবল জান্নাতই হতে পারে।
লোকজন সম্পর্কে ফায়সালা শুনিয়ে দেওয়া আমাদের কাজ নয়। তাদেরকে শাস্তি দেওয়ার মোহে নিমজ্জিত থাকাও আমাদের যিম্মাদারীর শামিল নয়।
📄 সময় নষ্ট কোরো না, দৃষ্টি রাখো বর্তমানের প্রতি
নিজের গালে থাপ্পড় মেরে, নিজের জামা ছিঁড়ে কী লাভ, যদি অতীতে কিছু খোয়া গিয়ে থাকে, অথবা কোনদিন মসিবতের পাহাড় নেমে থাকে? সেই ত্রুটিটা কী, যা তোমার অনুভূতি ও ধারণাকে খুব খারাপভাবে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, যেই ঘটনা অতীতে ঘটে গেছে, যেটা তোমার দুঃখবেদনা বাড়িয়েছে এবং তোমার অন্তরে দুঃখের আগুন ভরকে যাচ্ছে?
যদি অতীতে ফিরে যাওয়া, যেসব ঘটনা আমরা পছন্দ করি না, সেগুলো বদল করা এবং যেই পন্থায় আমরা জীবনযাপন করতে পছন্দ করি, সেটা অবলম্বন করা সম্ভব হত, তা হলে আমাদের জন্য অতীতে ফিরে যাওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ত। আমরা খুব ক্ষিপ্রভাবে অতীতে ফিরে যেতাম এবং যেসব ঘটনায় আমাদের অনুতাপ রয়েছে, সেগুলো মুছে ফেলতাম। তারপর যেসব কাজ সৌভাগ্যের জন্য জরুরী, সেগুলো সংযোজন করে নিতাম। কিন্তু আমরা জানি, কাজটি অসম্ভব বিষয়াদির অন্তর্ভুক্ত। কাজেই আমাদের জন্য মোনাসিব ও উত্তম হচ্ছে এই যে, আমরা কীভাবে জীবনকে সুন্দর করতে পারি, সেদিকে সমস্ত মনোযোগ নিবদ্ধ করা। কেননা, হারানো বিষয়ের ক্ষতিপুরণের এই একটিই পন্থা।
এটাই সেই গুরুত্বপূর্ণ হেকমত, যার দিকে কুরআন মাজীদে উহুদ যুদ্ধের পর আকৃষ্ট করা হয়েছে, যখন লোকজন নিহতদের জন্য অশ্রুপাত করছিল এবং উহুদের ময়দানে পিছপা হওয়ার কারণে অনুতপ্ত ছিল।
তাদেরকে বলে দাও, যদি তোমরা যার যার ঘরেও অবস্থান করতে, তবুও যাদের মৃত্যু লেখা ছিল, তারা নিজেরাই নিহত হওয়ার স্থানে চলে যেত। [০৩:১৫৪]
বিশ্বাস করো, সৌভাগ্য একটি গোলাপের কলির মত, যা এখনও ফোটেনি; তবে তা অবশ্যই ফুটবে।
📄 বিপদাপদ আসলে নেয়ামতের ভান্ডার
উম্মুল আলা থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, আমি একবার অসুস্থ ছিলাম, তখন রসুলুল্লাহ আমার অবস্থা জানতে এসেছিলেন। তিনি বললেন, হে উম্মুল আলা! তোমার জন্য সুসংবাদ রয়েছে। কেননা, যখন মুসলমান অসুস্থ হয়, তখন আল্লাহ সেই অসুস্থতার মাধ্যমে গুনাহখাতা এমনভাবে দূর করেন, যেমন আগুন চাঁদির খাদ দূর করে দেয়।
এর উদ্দেশ্য এই নয় যে, অসুখ গুনাহখাতা দূর দেয় বলে আমরা রোগব্যধির জীবানু দেহে পালতে থাকব এবং ওষুধ ও চিকিৎসা ছেড়ে দিব। বরং বান্দার জন্য ওয়াজিব হচ্ছে ওষুধ খাওয়া এবং সুস্থতার জন্য দোআ করা। রোগব্যধির কারণে সবর করা এবং এর দুঃখকষ্টের উপর আল্লাহ তাআলার কাছে প্রতিদানের আশা করা স্বতন্ত্র কথা। এটাই সেই শিক্ষা, যা এই মুমিন ও নেককার নারী আমাদেরকে দিয়েছেন।
এমনইভাবে যেকোন প্রিয়জন, স্বামী বা সন্তান কারও মৃত্যুর ঘটনায়ও সবর করে বরদাশত করা একজন মুমিন নারীর জন্য বাঞ্ছনীয়। হাদীসে যেমন বলা হয়েছে, আল্লাহ সেই মুমিন বান্দার জন্য জান্নাতের চেয়ে কম প্রতিদানে সন্তুষ্ট হন না, যে জমীনের উপর নিজের কোন প্রিয়জনের বিচ্ছেদের কারণে সবর করে এবং আল্লাহর কাছে বদলা পাওয়ার আশা করে।
যদি কোন স্ত্রীলোক তাঁর স্বামীকে হারিয়ে ফেলে, তা হলে এর মতলব হচ্ছে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নিয়েছেন। আর তিনি কাওকে ফিরিয়ে নেওয়ার সবচেয়ে বড় হকদার। যদি নারী বলতে থাকে, 'হায় আমার স্বামী!' অথবা 'হায় আমার ছেলে!' তা হলে খালেক ও মালেক আল্লাহ বলেন, 'এ তো আমার বান্দা, এবং আমি অন্যদের চেয়ে তার উপর বেশি হক রাখি।'
স্বামী ধারহিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে; ছেলেও ধারহিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে। একইভাবে ভাই আর বাপও ধারহিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে এবং স্ত্রীও ধারহিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে।
কারও উপর অপবাদ আরোপ থেকে সেভাবেই আত্মরক্ষা করো, যেভাবে মহামারী থেকে আত্মরক্ষা করা হয়।