📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 বিশ্বস্ততা অত্যন্ত মূল্যবান কোথায় বিশ্বস্ত লোক?

📄 বিশ্বস্ততা অত্যন্ত মূল্যবান কোথায় বিশ্বস্ত লোক?


আরেফ বিল্লাহ, আল্লাহ ﷻ-এর ফায়সালার সামনে মাথানতকারী এবং তাঁর সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্টদের অগ্রগণ্য হলেন আল্লাহ ﷻ-এর নবী আইয়ুব আলাইহিস সালাম। তাঁকে পরীক্ষা ও সংকটে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। জান, মাল ও সন্তান- সবকিছুতেই তাঁকে কষ্টে লিপ্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এমন কি তাঁর শরীরের সুই বরাবর স্থানও সুস্থ ছিল না। সুস্থ ছিল শুধু হৃদয়টা। দুনিয়ার কোন বস্তু এমন ছিল না, যা তার এই করুণ অবস্থায়, রোগ ও পরীক্ষায় সাহায্যকারী সাব্যস্ত হতে পারে। একমাত্র স্ত্রী ছাড়া। আল্লাহ ﷻ ও তাঁর রসূল ﷺ-এর উপর পরিপূর্ণ ঈমান থাকার কারণে তিনি আনুগত্যের উপর অটল ছিলেন। তিনি একজন চাকরাণীর ভূমিকায় জীবিকা উপার্জন করতেন এবং প্রায় আঠারো বছর তাঁর দেখাশোনা ও খেদমত করতে থাকেন। সকাল-সন্ধ্যায় তিনি কখনও স্বামীকে একা রেখে কোথাও যেতেন না। যখন জীবিকার সন্ধানে বাইরে যেতেন, তখন খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসতেন। এই পরীক্ষা দীর্ঘকাল ব্যাপৃত থাকে। একসময় খুব বিনয়ের সাথে আইয়ুব আলাইহিস সালাম আল্লাহ ﷻ-এর কাছে দোআ করেন-
أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
আমাকে অসুস্থতা পেয়ে বসেছে, তুমি দয়ালুদেরও দয়ালু। [২১:৮৩]
আল্লাহ ﷻ তাঁর দোআ কবুল করে নেন। তাঁকে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে জমীনে পদাঘাত করতে হুকুম করা হয়। তিনি হুকুম তামীল করেন।
করেন। এতে আল্লাহ ﷺ একটি ঝর্না চালু করে দেন এবং তাঁকে সেই ঝর্নার পানিতে গোসল করার নির্দেশ দেন। এতে তাঁর দেহের উপর যে ব্যথাবেদনা ও রোগ ছিল, সব খতম হয়ে যায়। এরপর অপর জায়গায় পদাঘাত করতে হুকুম করা হয়। সেখানে আরেকটি ঝর্না সৃষ্টি হয়। তাঁকে সেই ঝর্নার পানি পান করতে আদেশ করা হয়। এতে তাঁর দেহের অভ্যন্তরে যেসব অসুবিধা ছিল, সব দূর হয়ে যায় এবং যাহেরী ও বাতেনীভাবে পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যান তিনি। এসব ছিল, সেই কাজের ফল, যাকে সবর বলা হয়। ছিল কাজের পরিণাম, যাকে প্রতিদানের প্রত্যাশা বলা হয়। ছিল সেই আমলের নতীজা, যাকে রেযা বিলকাযা বলা হয়।
মানুষকে নিজের বেফাঁস কথার জন্য লজ্জিত হতে হয়, নীরবতার কারণে নয়।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 sahanashilata অবলম্বন করো

📄 sahanashilata অবলম্বন করো


নিজের সমস্ত কাজের ব্যাপারে তোমাকে গম্ভীর ও প্রজ্ঞাবতী হতে হবে- সন্তানাদির প্রতিপালন, গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিক নেক আমল, ভালো বই-পুস্তকের অধ্যয়ন, ভীতির সাথে কুরআন মাজীদের তেলাওয়াত; খুশু-খুযুর সাথে সালাত আদায়, পুরো মনোযোগের সাথে আল্লাহ ﷻ-এর যিকির, সদকা-খয়রাত, ঘর গোছানো, বা গ্রন্থাগার সাজানো- যা-ই হোক না কেন? তা হলে এসব কাজ আঞ্জাম দেওয়ার সময় নিজেকে দুঃখবেদনা ও পেরেশানী থেকে মুক্ত পাবে।
মুমিন নারীসমাজ থেকে নজর সরিয়ে কিছু কিছু কাফের নারীর দিকেই একটু লক্ষ করে দেখো, কুফর ও পথভ্রষ্টতা সত্ত্বেও তারা নিজের জীবনে কতটা গম্ভীর ও প্রজ্ঞাবতী ছিল? তাদের একজন হচ্ছে ইজরাইলের সাবেক প্রধান মন্ত্রী গোল্ডা মেইর। তিনি নিজের লেখা আত্মজীবনীতে ফৌজ বিন্যাস ও আরবদের সাথে যুদ্ধের বেলায় আপন তৎপরতার বিবরণ উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে হয়তো কোন পুরুষকেও তার সমকক্ষ পাওয়া যাবে না। যদিও তিনি কাফের ও খোদাদ্রোহী ছিলেন।
সৌভাগ্য কোন জাদুর কাঠি নয়। যদি তা-ই হত, তা হলে এর কদর ও দাম থাকত না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00