📄 অন্যের প্রতি এহসান হতাশা ও বঞ্চনা দূর করে
নারীসমাজের দানশীলতা ও তাদের উদারতার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ -এর অসংখ্য হাদীস রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে তাদেরকে আল্লাহ -র রাস্তায় খরচ ও সদকা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। অথবা সেগুলোর মধ্যে নবীজী নারীসমাজের উদারতা ও দানশীলতার তারীফ করেছেন; কিংবা সেগুলোর মধ্যে তাদের পবিত্রতা এবং সখী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আতিথেয়তা ও মেহমানদারীর পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বলেন, লোকজন একটি ছাগল জবাই করল। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, এর কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে। আয়েশা বললেন, ঘাড় বাদে কিছুই অবশিষ্ট নেই। নবীজী বললেন, ঘাড় বাদে সবই সংরক্ষিত হয়েছে।
রসূলুল্লাহ পরিবার-পরিজনের সামনে একটি হাকীকত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যাকিছু সদকা করে দেওয়া হয়, সেটা আল্লাহ -র কাছে সংরক্ষিত থাকে এবং কিয়ামতের দিন সেটার বদলা পাওয়া যাবে। আর যাকিছু দুনিয়াতে অবশিষ্ট থাকবে এবং যা খেয়ে খতম করে দেওয়া হবে, সেটার কোন প্রতিদান আখেরাতে পাওয়া যাবে না। এটাই সেই হেকমত, যার কারণে সদকার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ এর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
ধরুন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা'র বোন আসমা বিনতে আবু বকর'র কথা, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁকে সদকা করার জন্য উপদেশ করেছিলেন, যাতে তিনি আল্লাহর অনুগ্রহ পেয়ে ধন্য হন। আসমা বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন-
আটকে রেখো না, তা হলে তোমা হতেও আটকে রাখা হতে পারে। অন্য বর্ণনায় আছে, খরচ করো; আপত্তি কোরো না। দিল উজাড় করে খরচ করো; গুনে গুনে দিয়ো না, তা হলে আল্লাহও তোমাকে গুনে গুনে দিতে পারেন। আটকে রেখো না, তা হলে তোমা হতেও আটকে রাখা হতে পারে।
যতক্ষণ রাত আছে, ততক্ষণই আঁধার আছে। ব্যথা ও বেদনার ধারা শেষ হবে; সংকট থাকবে না। হালত বদলে যাবে।
📄 লোকসানকে লাভে পরিণত করো
এক উপদেশকারীর উত্তি-
যখন তুমি কোন গর্তে পড়ে যাও, তখন নিরাশ হয়ে সাহস হারিও না। অতিসত্বর তা থেকে বাইরে এসে পড়বে এবং মনের ভিতরে শক্তি অনুভব করবে। কেননা, আল্লাহ সবরকারীদের সঙ্গে রয়েছেন।
নিজের উপর হতাশা ও বিরক্তি আচ্ছন্ন হতে দিয়ো না। যদি তীর মেরে তোমার বুক এমন কোন ব্যক্তি ঝাঁঝড়া করে দেয়, যাকে তুমি সীমাহীন ভালোবাস, তা হলে সম্ভাবনা আছে যে, আরেক ব্যক্তি সেই তীর বের দিবে; যখমে মলম লাগাবে এবং তোমার সুখময় জীবন ফিরিয়ে এনে দিবে।
ব্যর্থ জীবনের গর্তের কাছে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকো না, যেখানে চামচিকে বাসা বেঁধেছে এবং প্রেতাত্মারা আখড়া জমিয়েছে। দোয়েলের শীষ অনুসন্ধান করো, যা দিগন্তের উপর ভোরের উন্মেষ ও নতুন দিনের আগমনবার্তা নিয়ে গান শুনিয়ে যায়।
পুরনো পৃষ্ঠাগুলোর দিকে দেখো না, যেগুলোর রং বদলে গেছে; যেগুলোর লেখা মন্দা হয়ে পড়েছে এবং যার সতরগুলো দুঃখবেদনা আর নির্জনতার মাঝে ঝুলে আছে। অতিসত্বর প্রকাশ পাবে যে, এগুলোই তোমার সবচেয়ে সুন্দর লেখা নয় এবং এই পৃষ্ঠাগুলোই তোমার সর্বশেষ রচনা নয়। কে তোমার লেখা কপালে তুলে রাখে, আর কে তোমার লেখা বাতাসে নিক্ষেপ করে, এতদুভয়ের মাঝে অবশ্যই তোমাকে পার্থক্য করতে হবে।
এই উপদেশগুলো শুধু সুন্দর ও ক্ষয়িষ্ণু কিছু শব্দের সমাহার নয়; বরং তা হচ্ছে সেই হৃদয়ের স্পন্দন, যে একেকটি হরফ বুকে লালন করেছে এবং সেই ব্যক্তির শিরার কম্পন, যে একে ধৈর্যের সাথে ধারণ করেছে এবং এর তপ্ত জযবায় দগ্ধ হয়েছে। আবার তুমি বকের মত বোকা হয়ো না, যে আক্রান্ত হলে তার কণ্ঠের গান আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
যে ব্যক্তি ঝড়ো বাতাস ডেকে আনবে, সে ঝড়ের মুখে পড়বেই।
📄 বিশ্বস্ততা অত্যন্ত মূল্যবান কোথায় বিশ্বস্ত লোক?
আরেফ বিল্লাহ, আল্লাহ ﷻ-এর ফায়সালার সামনে মাথানতকারী এবং তাঁর সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্টদের অগ্রগণ্য হলেন আল্লাহ ﷻ-এর নবী আইয়ুব আলাইহিস সালাম। তাঁকে পরীক্ষা ও সংকটে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। জান, মাল ও সন্তান- সবকিছুতেই তাঁকে কষ্টে লিপ্ত করে দেওয়া হয়েছিল। এমন কি তাঁর শরীরের সুই বরাবর স্থানও সুস্থ ছিল না। সুস্থ ছিল শুধু হৃদয়টা। দুনিয়ার কোন বস্তু এমন ছিল না, যা তার এই করুণ অবস্থায়, রোগ ও পরীক্ষায় সাহায্যকারী সাব্যস্ত হতে পারে। একমাত্র স্ত্রী ছাড়া। আল্লাহ ﷻ ও তাঁর রসূল ﷺ-এর উপর পরিপূর্ণ ঈমান থাকার কারণে তিনি আনুগত্যের উপর অটল ছিলেন। তিনি একজন চাকরাণীর ভূমিকায় জীবিকা উপার্জন করতেন এবং প্রায় আঠারো বছর তাঁর দেখাশোনা ও খেদমত করতে থাকেন। সকাল-সন্ধ্যায় তিনি কখনও স্বামীকে একা রেখে কোথাও যেতেন না। যখন জীবিকার সন্ধানে বাইরে যেতেন, তখন খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসতেন। এই পরীক্ষা দীর্ঘকাল ব্যাপৃত থাকে। একসময় খুব বিনয়ের সাথে আইয়ুব আলাইহিস সালাম আল্লাহ ﷻ-এর কাছে দোআ করেন-
أَنِّي مَسَّنِيَ الضُّرُّ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
আমাকে অসুস্থতা পেয়ে বসেছে, তুমি দয়ালুদেরও দয়ালু। [২১:৮৩]
আল্লাহ ﷻ তাঁর দোআ কবুল করে নেন। তাঁকে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে জমীনে পদাঘাত করতে হুকুম করা হয়। তিনি হুকুম তামীল করেন।
করেন। এতে আল্লাহ ﷺ একটি ঝর্না চালু করে দেন এবং তাঁকে সেই ঝর্নার পানিতে গোসল করার নির্দেশ দেন। এতে তাঁর দেহের উপর যে ব্যথাবেদনা ও রোগ ছিল, সব খতম হয়ে যায়। এরপর অপর জায়গায় পদাঘাত করতে হুকুম করা হয়। সেখানে আরেকটি ঝর্না সৃষ্টি হয়। তাঁকে সেই ঝর্নার পানি পান করতে আদেশ করা হয়। এতে তাঁর দেহের অভ্যন্তরে যেসব অসুবিধা ছিল, সব দূর হয়ে যায় এবং যাহেরী ও বাতেনীভাবে পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে যান তিনি। এসব ছিল, সেই কাজের ফল, যাকে সবর বলা হয়। ছিল কাজের পরিণাম, যাকে প্রতিদানের প্রত্যাশা বলা হয়। ছিল সেই আমলের নতীজা, যাকে রেযা বিলকাযা বলা হয়।
মানুষকে নিজের বেফাঁস কথার জন্য লজ্জিত হতে হয়, নীরবতার কারণে নয়।
📄 sahanashilata অবলম্বন করো
নিজের সমস্ত কাজের ব্যাপারে তোমাকে গম্ভীর ও প্রজ্ঞাবতী হতে হবে- সন্তানাদির প্রতিপালন, গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিক নেক আমল, ভালো বই-পুস্তকের অধ্যয়ন, ভীতির সাথে কুরআন মাজীদের তেলাওয়াত; খুশু-খুযুর সাথে সালাত আদায়, পুরো মনোযোগের সাথে আল্লাহ ﷻ-এর যিকির, সদকা-খয়রাত, ঘর গোছানো, বা গ্রন্থাগার সাজানো- যা-ই হোক না কেন? তা হলে এসব কাজ আঞ্জাম দেওয়ার সময় নিজেকে দুঃখবেদনা ও পেরেশানী থেকে মুক্ত পাবে।
মুমিন নারীসমাজ থেকে নজর সরিয়ে কিছু কিছু কাফের নারীর দিকেই একটু লক্ষ করে দেখো, কুফর ও পথভ্রষ্টতা সত্ত্বেও তারা নিজের জীবনে কতটা গম্ভীর ও প্রজ্ঞাবতী ছিল? তাদের একজন হচ্ছে ইজরাইলের সাবেক প্রধান মন্ত্রী গোল্ডা মেইর। তিনি নিজের লেখা আত্মজীবনীতে ফৌজ বিন্যাস ও আরবদের সাথে যুদ্ধের বেলায় আপন তৎপরতার বিবরণ উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে তার সম্প্রদায়ের মধ্যে হয়তো কোন পুরুষকেও তার সমকক্ষ পাওয়া যাবে না। যদিও তিনি কাফের ও খোদাদ্রোহী ছিলেন।
সৌভাগ্য কোন জাদুর কাঠি নয়। যদি তা-ই হত, তা হলে এর কদর ও দাম থাকত না।