📄 চিন্তা কীসের, সব হয় আল্লাহর ফায়সালায়
জ্ঞামূলক কথাবার্তার মধ্যে ডেলকার্নেগী এমন কথাও লিখেছেন, যেটাকে আমরা ঈমান বিল ক্বাযা ওয়াল ক্বদরের কাছাকাছি বলতে পারি। কোন ব্যক্তি বিপদাপদের মুখোমুখি হয়; কিন্তু সেটা মোকাবেলা করার কোন সামর্থ্য তার থাকে না এবং তখন তাকে এমনই নীরব থাকতে হয়, যেমন চতুষ্পদ জন্তু ও গাছাগালির কাতার নীরব থাকে। তার ওজর গ্রহণযোগ্য, কেননা, তার কাছে কোন সমাধান নেই। এর বিপরীতে আমরা মুসলমানদের কাছে এর সমাধান আছে। একটু মনোযোগ দিয়ে শোনো, ডেলকার্নেগী বলছেন-
একবার আমি এমন প্রতিকূল পরিস্থিতি কবুল করতে অস্বীকার করলাম, আমি যেটার মুখোমুখি হচ্ছিলাম। তখন আমি বড় নির্বোধ ছিলাম। আমি মানতে পারলাম না। রাগান্বিত হয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেললাম এবং দুশ্চিন্তায় পড়ে স্বস্তির রাতগুলো নরক বানিয়ে ফেললাম। এক বছর মানসিক যাতনার শিকার থেকে কষ্ট ভোগ করার পর আমি সেই প্রতিকূল পরিবেশ স্বীকার করে নিলাম। অথচ প্রথম দিকেই আমার কাছে খুব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এখন এই পরিস্থিতির মধ্যে পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই। আমার জন্য সেই কথাই মোনাসিব ছিল, যেটা প্রসিদ্ধ কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান বয়ান করেছেন-
ক্ষুধা, তৃষ্ণা, তুফান, তিমির রাত
বিপদ-আপদ অস্বস্তি ও বালা-মসিবত
যদি হও কখনও এগুলোর মুখোমুখি
মনে করো নিজেকে গরু, ছাগল, মহিষ
দেখবে, সমাধা হয়ে গেছে সবকিছু।
আমি বারো বছর পর্যন্ত জীবজন্তুর সাথে সময় অতিবাহিত করেছি। কিন্তু সূর্যের প্রখর তাপের কারণে কখনও কোন গাভীকে পেরেশান হতে দেখিনি। বৃষ্টির অভাবের কারণেও খড়ার আশঙ্কায় ভীতু হতে দেখেনি। তার ষাঁড় ফ্রেন্ড অন্যের দিকে আকৃষ্ট হল কি না, সে কথা ভেবে কখনও পেরেশান হতে দেখেনি। জীবজন্তুও অন্ধকার, তুফান, ক্ষুধা, পিপাসা ও বিপদাপদের মুখোমুখি হয়; কিন্তু তাদের হৃদরোগ, পক্ষাঘাত ও আলসার খুব কম হয়ে থাকে।
নিজের কামিয়াবী ও আনন্দের কথা স্মরণ করো এবং মসিবত ও ব্যর্থতার কথা ভুলে যাও।
📄 উম্মে ‘উমারা'-র কুরবানী
নাসীবা বিনতে কা'ব (উম্মে উমারা) রাযিয়াল্লাহু আনহা বয়ান করেন, উহুদের যুদ্ধের দিন আমি খুব সকালে বের হয়েছিলাম, লোকজন কী করে, সেটা দেখার জন্য। আমার সঙ্গে পানিভরা মশক ছিল। আমি রসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে পৌঁছে গেলাম। তাঁর সঙ্গে অনেক সাহাবী ছিলেন এবং মুসলমানরা বিজয় অর্জন করছিলেন; কিন্তু যখন তাদের পরাজয় শুরু হল, তখন আমি রসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে পৌঁছে গেলাম এবং যুদ্ধ করতে লাগলাম। আমি তলোয়ার চালাচ্ছিলাম এবং কামানের সাহায্যে তীরও বর্ষণ করছিলাম। এক পর্যায়ে আমি যখম হয়ে গেলাম। যখন লোকজন রসুলুল্লাহ ﷺ-এর আশপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে লাগল, তখন ইবনে কুমাইয়া আমার সামনে পড়ে গেল। সে বলছিল, আমাকে বলো, মুহাম্মাদ কোথায়? আজ যদি আমি তাকে জীবিত পাই, তা হলে কিছুতেই তাকে জীবিত ছেড়ে দিব না।
আমি আর মুসআব ইবনে উমাইর হামলা করে তার মোকাবেলা করলাম। সে আমার কাঁধের উপর আক্রমণ করল। আমিও প্রচ-তার সাথে তার উপর আক্রমণ করলাম; কিন্তু খোদার দুশমন সেদিন ডাবল বর্ম পরিধান করেছিল।
এই উম্মে উমারা ؓ, যাঁর ব্যাপারে রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি উহুদের দিন যখনই ডানে বামে দেখছিলাম, তখনই উম্মে উমারাকে আমার কাছে থেকে লড়াই করতে দেখছিলাম।
শোরগোল ও হাঙ্গামা এড়িয়ে চলো। কেননা, এতে ক্লান্তি ও বিরক্তি সৃষ্টি হয়। গালাগালি থেকে দূরে থাকো। কেননা, এটা আযাবের কারণ।
📄 অন্যের প্রতি এহসান হতাশা ও বঞ্চনা দূর করে
নারীসমাজের দানশীলতা ও তাদের উদারতার ব্যাপারে রসূলুল্লাহ -এর অসংখ্য হাদীস রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে তাদেরকে আল্লাহ -র রাস্তায় খরচ ও সদকা করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। অথবা সেগুলোর মধ্যে নবীজী নারীসমাজের উদারতা ও দানশীলতার তারীফ করেছেন; কিংবা সেগুলোর মধ্যে তাদের পবিত্রতা এবং সখী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আতিথেয়তা ও মেহমানদারীর পদ্ধতি উল্লেখ করেছেন।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা বলেন, লোকজন একটি ছাগল জবাই করল। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, এর কতটুকু অবশিষ্ট রয়েছে। আয়েশা বললেন, ঘাড় বাদে কিছুই অবশিষ্ট নেই। নবীজী বললেন, ঘাড় বাদে সবই সংরক্ষিত হয়েছে।
রসূলুল্লাহ পরিবার-পরিজনের সামনে একটি হাকীকত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যাকিছু সদকা করে দেওয়া হয়, সেটা আল্লাহ -র কাছে সংরক্ষিত থাকে এবং কিয়ামতের দিন সেটার বদলা পাওয়া যাবে। আর যাকিছু দুনিয়াতে অবশিষ্ট থাকবে এবং যা খেয়ে খতম করে দেওয়া হবে, সেটার কোন প্রতিদান আখেরাতে পাওয়া যাবে না। এটাই সেই হেকমত, যার কারণে সদকার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং আল্লাহ এর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
ধরুন, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা'র বোন আসমা বিনতে আবু বকর'র কথা, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁকে সদকা করার জন্য উপদেশ করেছিলেন, যাতে তিনি আল্লাহর অনুগ্রহ পেয়ে ধন্য হন। আসমা বলেন, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন-
আটকে রেখো না, তা হলে তোমা হতেও আটকে রাখা হতে পারে। অন্য বর্ণনায় আছে, খরচ করো; আপত্তি কোরো না। দিল উজাড় করে খরচ করো; গুনে গুনে দিয়ো না, তা হলে আল্লাহও তোমাকে গুনে গুনে দিতে পারেন। আটকে রেখো না, তা হলে তোমা হতেও আটকে রাখা হতে পারে।
যতক্ষণ রাত আছে, ততক্ষণই আঁধার আছে। ব্যথা ও বেদনার ধারা শেষ হবে; সংকট থাকবে না। হালত বদলে যাবে।
📄 লোকসানকে লাভে পরিণত করো
এক উপদেশকারীর উত্তি-
যখন তুমি কোন গর্তে পড়ে যাও, তখন নিরাশ হয়ে সাহস হারিও না। অতিসত্বর তা থেকে বাইরে এসে পড়বে এবং মনের ভিতরে শক্তি অনুভব করবে। কেননা, আল্লাহ সবরকারীদের সঙ্গে রয়েছেন।
নিজের উপর হতাশা ও বিরক্তি আচ্ছন্ন হতে দিয়ো না। যদি তীর মেরে তোমার বুক এমন কোন ব্যক্তি ঝাঁঝড়া করে দেয়, যাকে তুমি সীমাহীন ভালোবাস, তা হলে সম্ভাবনা আছে যে, আরেক ব্যক্তি সেই তীর বের দিবে; যখমে মলম লাগাবে এবং তোমার সুখময় জীবন ফিরিয়ে এনে দিবে।
ব্যর্থ জীবনের গর্তের কাছে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকো না, যেখানে চামচিকে বাসা বেঁধেছে এবং প্রেতাত্মারা আখড়া জমিয়েছে। দোয়েলের শীষ অনুসন্ধান করো, যা দিগন্তের উপর ভোরের উন্মেষ ও নতুন দিনের আগমনবার্তা নিয়ে গান শুনিয়ে যায়।
পুরনো পৃষ্ঠাগুলোর দিকে দেখো না, যেগুলোর রং বদলে গেছে; যেগুলোর লেখা মন্দা হয়ে পড়েছে এবং যার সতরগুলো দুঃখবেদনা আর নির্জনতার মাঝে ঝুলে আছে। অতিসত্বর প্রকাশ পাবে যে, এগুলোই তোমার সবচেয়ে সুন্দর লেখা নয় এবং এই পৃষ্ঠাগুলোই তোমার সর্বশেষ রচনা নয়। কে তোমার লেখা কপালে তুলে রাখে, আর কে তোমার লেখা বাতাসে নিক্ষেপ করে, এতদুভয়ের মাঝে অবশ্যই তোমাকে পার্থক্য করতে হবে।
এই উপদেশগুলো শুধু সুন্দর ও ক্ষয়িষ্ণু কিছু শব্দের সমাহার নয়; বরং তা হচ্ছে সেই হৃদয়ের স্পন্দন, যে একেকটি হরফ বুকে লালন করেছে এবং সেই ব্যক্তির শিরার কম্পন, যে একে ধৈর্যের সাথে ধারণ করেছে এবং এর তপ্ত জযবায় দগ্ধ হয়েছে। আবার তুমি বকের মত বোকা হয়ো না, যে আক্রান্ত হলে তার কণ্ঠের গান আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
যে ব্যক্তি ঝড়ো বাতাস ডেকে আনবে, সে ঝড়ের মুখে পড়বেই।