📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 আল্লাহ কি শোকরের সবচেয়ে বড় হকদার নন?

📄 আল্লাহ কি শোকরের সবচেয়ে বড় হকদার নন?


আল্লাহ-র শোকর আদায় করা সবচেয়ে সহজ ও উত্তম কাজ। এতে প্রকৃত সুখ অনুভূত হয় এবং অঙ্গপ্রত্যাঙ্গ স্বস্তি লাভ করে। কেননা, যখন তুমি আল্লাহ-র শোকর আদায় কর, তখন তুমি সেইসব নেয়ামত স্মরণ করে থাক, যেগুলো আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন এবং সেই বেহিসাব নেয়ামত স্বীকার কর, যেগুলো তিনি তোমাকে দান করেছেন। বুযুর্গদের একটি বাণী বর্ণিত আছে-
যখন তুমি আল্লাহ-র নেয়ামতের শোকর আদায় করতে চাও, তখন নিজের চোখ বন্ধ করো, তা হলে তুমি আল্লাহ-র বিভিন্ন নেয়ামত দেখতে পাবে, যিনি তোমাকে কান, চোখ, বিবেক, দীন, সন্তান, জীবিকা, সৌন্দর্য ও সম্পদ দান করেছেন। অনেক নারী ওইসব নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে করে, যেগুলো আল্লাহ তাদেরকে দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তারা যদি অন্যসব অসহায়, মিসকীন, ক্ষুধার্ত, অসুস্থ, উদ্বাস্তু নারীদের দিকে লক্ষ করে, তা হলে অনিচ্ছায়ই আল্লাহ-র বিভিন্ন নেয়ামতের শোকর আদায় করতে থাকবে- চাই সে মরুভূমির কোন মামুলী তাঁবৃতে অবস্থান করুক, অথবা মাটির ঘর, ঝুঁপড়ি কিংবা খোলা ময়দানে গাছতলায় অবস্থান করুক। সুতরাং তুমি আল্লাহ-র শোকর আদায় করো এবং তাদের সাথে নিজের তুলনা করো, যারা দৈহিক বা মানসিকভাবে কোন সমস্যায় জর্জরিত, অথবা যারা শুনতে পায় না, কিংবা যারা সন্তানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত। এমন নারী দুনিয়াতে একদুই জন নয়; বরং অসংখ্য।
মুখের ভাষায় তাদেরকে সান্ত্বনা দাও, যারা সন্তানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত। আর অসহায়দের চোখের পানি সদকার মাধ্যমে মুছে দাও।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 ভাগ্যবতী অন্যদেরকে ভাগ্যবান করে তোলে

📄 ভাগ্যবতী অন্যদেরকে ভাগ্যবান করে তোলে


ওরিয়ন সুইট বলেন, নেপোলিয়ন বড় ভাগ্যবান ছিলেন। কেননা, তিনি সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ ও ধারাবাহিক বিজয়াভিযানের আগে রানি জোসেফিনকে বিয়ে করেছিলেন, যার কথাবার্তার ঢং ছিল খুব চমৎকার এবং যার ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাঁর ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ ছিল দশ জন অন্তরঙ্গ বন্ধুর বিশ্বস্ততারও অধিক। তিনি চারদিকে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিতেন। চাকর-বাকরের সাথে কখনও শাসকের ভঙ্গিতে কথা বলতেন না। তিনি নিজেই এক বান্ধবীর কাছে বিষয়টি খোলাসা করেছেন-
এমন কোন মওকা আসেনি যে, আমি কারও সামনাসামনি বলেছি, আমি চাই এমন হোক। আমি বরং বলতাম, আমি চাই, আমার চারদিকে যারাই আছে, তারা সবাই যেন আনন্দে থাকে।
এক ইংরেজ কবি এদিকেই ইশারা করেছেন-
রানি গেলেন যে পথে একদিন ভোরে
স্নিগ্ধ হল সারাটি দিন তাঁরই সৌরভে।
হে বন্ধু! একটি সত্য কথা হচ্ছে এই যে, আমাদের মায়ামমতা আমাদের মধ্যে সুখ ও আনন্দ সৃষ্টি করে এবং আমাদের চারপাশেও আনন্দ ছড়িয়ে দেয়, এমন কি নিষ্প্রাণ বস্তুরাজির মধ্যেও। মায়ামমতার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যের সীমা নেই। পুরুষের মধ্যে এই সৌন্দর্য থাকলে নারীর সৌন্দর্যে তা কয়েক গুণ বৃদ্ধির কারণ হয়।
তারা কি সুখী, যারা নিজেদের সৌন্দর্যের প্রদর্শনী করে মানবরূপী কুকুরদের সামনে এবং নিজেদের আকর্ষণ মানুষরূপী নেকড়েগুলোকে দেখিয়ে বেড়ায়?

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 চিন্তা কীসের, সব হয় আল্লাহর ফায়সালায়

📄 চিন্তা কীসের, সব হয় আল্লাহর ফায়সালায়


জ্ঞামূলক কথাবার্তার মধ্যে ডেলকার্নেগী এমন কথাও লিখেছেন, যেটাকে আমরা ঈমান বিল ক্বাযা ওয়াল ক্বদরের কাছাকাছি বলতে পারি। কোন ব্যক্তি বিপদাপদের মুখোমুখি হয়; কিন্তু সেটা মোকাবেলা করার কোন সামর্থ্য তার থাকে না এবং তখন তাকে এমনই নীরব থাকতে হয়, যেমন চতুষ্পদ জন্তু ও গাছাগালির কাতার নীরব থাকে। তার ওজর গ্রহণযোগ্য, কেননা, তার কাছে কোন সমাধান নেই। এর বিপরীতে আমরা মুসলমানদের কাছে এর সমাধান আছে। একটু মনোযোগ দিয়ে শোনো, ডেলকার্নেগী বলছেন-
একবার আমি এমন প্রতিকূল পরিস্থিতি কবুল করতে অস্বীকার করলাম, আমি যেটার মুখোমুখি হচ্ছিলাম। তখন আমি বড় নির্বোধ ছিলাম। আমি মানতে পারলাম না। রাগান্বিত হয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেললাম এবং দুশ্চিন্তায় পড়ে স্বস্তির রাতগুলো নরক বানিয়ে ফেললাম। এক বছর মানসিক যাতনার শিকার থেকে কষ্ট ভোগ করার পর আমি সেই প্রতিকূল পরিবেশ স্বীকার করে নিলাম। অথচ প্রথম দিকেই আমার কাছে খুব স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, এখন এই পরিস্থিতির মধ্যে পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা নেই। আমার জন্য সেই কথাই মোনাসিব ছিল, যেটা প্রসিদ্ধ কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান বয়ান করেছেন-
ক্ষুধা, তৃষ্ণা, তুফান, তিমির রাত
বিপদ-আপদ অস্বস্তি ও বালা-মসিবত
যদি হও কখনও এগুলোর মুখোমুখি
মনে করো নিজেকে গরু, ছাগল, মহিষ
দেখবে, সমাধা হয়ে গেছে সবকিছু।
আমি বারো বছর পর্যন্ত জীবজন্তুর সাথে সময় অতিবাহিত করেছি। কিন্তু সূর্যের প্রখর তাপের কারণে কখনও কোন গাভীকে পেরেশান হতে দেখিনি। বৃষ্টির অভাবের কারণেও খড়ার আশঙ্কায় ভীতু হতে দেখেনি। তার ষাঁড় ফ্রেন্ড অন্যের দিকে আকৃষ্ট হল কি না, সে কথা ভেবে কখনও পেরেশান হতে দেখেনি। জীবজন্তুও অন্ধকার, তুফান, ক্ষুধা, পিপাসা ও বিপদাপদের মুখোমুখি হয়; কিন্তু তাদের হৃদরোগ, পক্ষাঘাত ও আলসার খুব কম হয়ে থাকে।
নিজের কামিয়াবী ও আনন্দের কথা স্মরণ করো এবং মসিবত ও ব্যর্থতার কথা ভুলে যাও।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 উম্মে ‘উমারা'-র কুরবানী

📄 উম্মে ‘উমারা'-র কুরবানী


নাসীবা বিনতে কা'ব (উম্মে উমারা) রাযিয়াল্লাহু আনহা বয়ান করেন, উহুদের যুদ্ধের দিন আমি খুব সকালে বের হয়েছিলাম, লোকজন কী করে, সেটা দেখার জন্য। আমার সঙ্গে পানিভরা মশক ছিল। আমি রসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে পৌঁছে গেলাম। তাঁর সঙ্গে অনেক সাহাবী ছিলেন এবং মুসলমানরা বিজয় অর্জন করছিলেন; কিন্তু যখন তাদের পরাজয় শুরু হল, তখন আমি রসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে পৌঁছে গেলাম এবং যুদ্ধ করতে লাগলাম। আমি তলোয়ার চালাচ্ছিলাম এবং কামানের সাহায্যে তীরও বর্ষণ করছিলাম। এক পর্যায়ে আমি যখম হয়ে গেলাম। যখন লোকজন রসুলুল্লাহ ﷺ-এর আশপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে লাগল, তখন ইবনে কুমাইয়া আমার সামনে পড়ে গেল। সে বলছিল, আমাকে বলো, মুহাম্মাদ কোথায়? আজ যদি আমি তাকে জীবিত পাই, তা হলে কিছুতেই তাকে জীবিত ছেড়ে দিব না।
আমি আর মুসআব ইবনে উমাইর হামলা করে তার মোকাবেলা করলাম। সে আমার কাঁধের উপর আক্রমণ করল। আমিও প্রচ-তার সাথে তার উপর আক্রমণ করলাম; কিন্তু খোদার দুশমন সেদিন ডাবল বর্ম পরিধান করেছিল।
এই উম্মে উমারা ؓ, যাঁর ব্যাপারে রসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমি উহুদের দিন যখনই ডানে বামে দেখছিলাম, তখনই উম্মে উমারাকে আমার কাছে থেকে লড়াই করতে দেখছিলাম।
শোরগোল ও হাঙ্গামা এড়িয়ে চলো। কেননা, এতে ক্লান্তি ও বিরক্তি সৃষ্টি হয়। গালাগালি থেকে দূরে থাকো। কেননা, এটা আযাবের কারণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00