📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 প্রিয়দের মধ্যে অধিক প্রিয়

📄 প্রিয়দের মধ্যে অধিক প্রিয়


তুমি কি তাকে সমস্ত মানুষের চেয়ে বেশি কামনা কর? তুমি কি নিজেকে এই প্রশ্ন করেছ যে, তুমি রসুলুল্লাহ -কে কতটুকু কামনা কর? তুমি কি জান মহব্বতের আলামত কী? ওই সমস্ত কাজ আঞ্জাম দেওয়া, যেগুলো নবীজী হুকুম দিয়েছেন এবং সেইসব কাজ থেকে বিরত থাকা, যেগুলো থেকে তিনি বারণ করেছেন।
নিজের অন্তরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করো। দিলকে সবার আগে আল্লাহ -র দিকে ফিরিয়ে দাও। এরপর সেই মহান ব্যক্তিত্বের দিকে মনোযোগ দাও, যাঁকে আল্লাহ আমাদেরকে গুমরাহী থেকে বাঁচানোর জন্য প্রেরণ করেছেন। সেই হাদীসটি স্মরণ করো, যদি তোমরা জান্নাতে নিজের ঠিকানা মাহফুজ রাখতে চাও-
মানুষ তারই সঙ্গে থাকবে, যাকে সে মহব্বত করে।
কিন্তু মহব্বতের প্রথম শর্ত এটাই যে, সেই কাজ আঞ্জাম দিতে হবে, নবীজী যেটার হুকুম করেছেন। তা হলে সেই ব্যক্তির ব্যাপারে কী বলা যেতে পারে, যে মহব্বতের দাবী করে; কিন্তু করে সেই কাজ, নবীজী যেটার হুকুম দেননি এবং যে সুন্নতের পায়রবীও করে না; তাঁর অনুসরণও করে না।
নবীচরিত অধ্যয়ন করো। খুব ফিকিরের সাথে সীরাত পাঠ করো। দেখো, নবী -র আখলাক কত উন্নত ছিল; তাঁর কথাবার্তা কত পবিত্র ছিল; তাঁর সম্বোধন কত মধুর ছিল। দেখো, তিনি আল্লাহ কে কেমন ভয় করতেন এবং দুনিয়ার ব্যাপারে কত নির্ভীক ছিলেন। নিজের আখলাক বদল করো, যাতে তোমার আখলাক রসুলুল্লাহ -র আখলাকের অনুরূপ হয়ে যায়।
নূহ ও লূত -এর স্ত্রী খিয়ানত করেছিল, এজন্য তারা লাঞ্ছিত হয়েছে; কিন্তু আসিয়া ও মারইয়াম ঈমান ও আমানতের হক আদায় করেছিলেন, এজন্য তাঁরা সম্মানিত হয়েছেন।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 অর্থবিত্ত ও দারিদ্র্যের সাথে সুখের সম্পর্ক নেই

📄 অর্থবিত্ত ও দারিদ্র্যের সাথে সুখের সম্পর্ক নেই


জর্জ বার্নার্ড শ বলেন, আমি বলতে পারি না যে, আমি প্রকৃতপক্ষে কখনও দারিদ্র্যের স্বাদ আস্বাদন করেছি। কলমের মাধ্যমে উপার্জনের আগে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে আমি একটি বড় গ্রন্থাগার এবং ট্রাফেল জার স্কয়ারের কাছে এক বড় শিল্প প্রদর্শনীর মালিক ছিলাম। আমি তখন মাল দিয়ে কী করতে পারতাম? সিগারেট পান করব? আমি তো তামাক সেবন করি না। শরাব পান করব? শরাবও পান করি না। অত্যাধুনিক ত্রিশ জোড়া কাপড় কিনব? আমার তো নতুন নতুন কাপড় পরে মহল্লায় মহল্লায় ডিনার গ্রহণের প্রতি আকর্ষণ নেই। ঘোড়া কিনব? এত পয়সা দিয়ে বিপদ কেনার নামান্তর। গাড়ি কিনব, সেও অনেক ঝামেলার বস্তু। এখনও এত সম্পদের মালিক আছি যে, ওইসব বস্তুর মধ্য থেকে যা ইচ্ছা কিনতে পারি। কিন্তু আমি দরিদ্র অবস্থায় যা কিনতে পারতাম, এখনও তাই কিনি। আমার সুখ সেইসব বস্তুর মধ্যেই সুপ্ত রয়েছে, যেগুলো আমি দরিদ্র অবস্থায় ব্যবহার করতাম। পড়ার জন্য কোন গ্রন্থ; অঙ্কনের জন্য কোন বোর্ড অথবা চিন্তাফিকিরের কোন বিষয়, যা আমি লিখতে পারি। অপর দিকে আমার কাছে একটি পরিকল্পনা আছে, আমার মনে পড়ে না যে, তার অধিক কোন বস্তুর প্রয়োজন আমার হয়েছে। তা হল আমি চিৎ হয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করি, ইচ্ছামত ভাবনার জগতে হারিয়ে যাওয়ার জন্য এবং কল্পনায় যা ইচ্ছা তা করার জন্য। সুতরাং আমি আরাম-আয়েশের সেই আসবাব দিয়ে কী করব, যেগুলো বোল্ড স্ট্রিটে পাওয়া যায়।
নিজের ঘরকে স্বস্তির স্বর্গে পরিণত করো; শোরগোলের বাজার বানিয়ো না। কেননা, শান্ত পরিবেশ অনেক বড় এক নেয়ামত।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 আল্লাহ কি শোকরের সবচেয়ে বড় হকদার নন?

📄 আল্লাহ কি শোকরের সবচেয়ে বড় হকদার নন?


আল্লাহ-র শোকর আদায় করা সবচেয়ে সহজ ও উত্তম কাজ। এতে প্রকৃত সুখ অনুভূত হয় এবং অঙ্গপ্রত্যাঙ্গ স্বস্তি লাভ করে। কেননা, যখন তুমি আল্লাহ-র শোকর আদায় কর, তখন তুমি সেইসব নেয়ামত স্মরণ করে থাক, যেগুলো আল্লাহ তোমাকে দিয়েছেন এবং সেই বেহিসাব নেয়ামত স্বীকার কর, যেগুলো তিনি তোমাকে দান করেছেন। বুযুর্গদের একটি বাণী বর্ণিত আছে-
যখন তুমি আল্লাহ-র নেয়ামতের শোকর আদায় করতে চাও, তখন নিজের চোখ বন্ধ করো, তা হলে তুমি আল্লাহ-র বিভিন্ন নেয়ামত দেখতে পাবে, যিনি তোমাকে কান, চোখ, বিবেক, দীন, সন্তান, জীবিকা, সৌন্দর্য ও সম্পদ দান করেছেন। অনেক নারী ওইসব নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে করে, যেগুলো আল্লাহ তাদেরকে দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তারা যদি অন্যসব অসহায়, মিসকীন, ক্ষুধার্ত, অসুস্থ, উদ্বাস্তু নারীদের দিকে লক্ষ করে, তা হলে অনিচ্ছায়ই আল্লাহ-র বিভিন্ন নেয়ামতের শোকর আদায় করতে থাকবে- চাই সে মরুভূমির কোন মামুলী তাঁবৃতে অবস্থান করুক, অথবা মাটির ঘর, ঝুঁপড়ি কিংবা খোলা ময়দানে গাছতলায় অবস্থান করুক। সুতরাং তুমি আল্লাহ-র শোকর আদায় করো এবং তাদের সাথে নিজের তুলনা করো, যারা দৈহিক বা মানসিকভাবে কোন সমস্যায় জর্জরিত, অথবা যারা শুনতে পায় না, কিংবা যারা সন্তানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত। এমন নারী দুনিয়াতে একদুই জন নয়; বরং অসংখ্য।
মুখের ভাষায় তাদেরকে সান্ত্বনা দাও, যারা সন্তানের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত। আর অসহায়দের চোখের পানি সদকার মাধ্যমে মুছে দাও।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 ভাগ্যবতী অন্যদেরকে ভাগ্যবান করে তোলে

📄 ভাগ্যবতী অন্যদেরকে ভাগ্যবান করে তোলে


ওরিয়ন সুইট বলেন, নেপোলিয়ন বড় ভাগ্যবান ছিলেন। কেননা, তিনি সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ ও ধারাবাহিক বিজয়াভিযানের আগে রানি জোসেফিনকে বিয়ে করেছিলেন, যার কথাবার্তার ঢং ছিল খুব চমৎকার এবং যার ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাঁর ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ ছিল দশ জন অন্তরঙ্গ বন্ধুর বিশ্বস্ততারও অধিক। তিনি চারদিকে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিতেন। চাকর-বাকরের সাথে কখনও শাসকের ভঙ্গিতে কথা বলতেন না। তিনি নিজেই এক বান্ধবীর কাছে বিষয়টি খোলাসা করেছেন-
এমন কোন মওকা আসেনি যে, আমি কারও সামনাসামনি বলেছি, আমি চাই এমন হোক। আমি বরং বলতাম, আমি চাই, আমার চারদিকে যারাই আছে, তারা সবাই যেন আনন্দে থাকে।
এক ইংরেজ কবি এদিকেই ইশারা করেছেন-
রানি গেলেন যে পথে একদিন ভোরে
স্নিগ্ধ হল সারাটি দিন তাঁরই সৌরভে।
হে বন্ধু! একটি সত্য কথা হচ্ছে এই যে, আমাদের মায়ামমতা আমাদের মধ্যে সুখ ও আনন্দ সৃষ্টি করে এবং আমাদের চারপাশেও আনন্দ ছড়িয়ে দেয়, এমন কি নিষ্প্রাণ বস্তুরাজির মধ্যেও। মায়ামমতার অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যের সীমা নেই। পুরুষের মধ্যে এই সৌন্দর্য থাকলে নারীর সৌন্দর্যে তা কয়েক গুণ বৃদ্ধির কারণ হয়।
তারা কি সুখী, যারা নিজেদের সৌন্দর্যের প্রদর্শনী করে মানবরূপী কুকুরদের সামনে এবং নিজেদের আকর্ষণ মানুষরূপী নেকড়েগুলোকে দেখিয়ে বেড়ায়?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00