📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 আসমা বিনতে আবু বকরের দুই জীবন

📄 আসমা বিনতে আবু বকরের দুই জীবন


আসমা বিনতে আবু বকর —-র উপাধী ছিল যাতুননেতাকাইন। তিনি সবরের এক উপমা কায়েম করেছিলেন। সীমাহীন পেরেশানী ও বঞ্চনার সময় তিনি স্বামীর আনুগত্য ও তার সন্তুষ্টির জন্য নজিরবিহীন কুরবানী দিয়েছিলেন। হাদীস শরীফে তাঁর নিজের ভাষ্য বর্ণিত আছে-
যোবায়ের যখন আমাকে বিয়ে করেন, তখন তাঁর কাছে তাঁর ঘোড়া ছাড়া আর কিছুই ছিল না। সেই ঘোড়াকে আমি খাওয়াতাম এবং তার দেখাশোনা করতাম। খেজুরের আঁটি ভাঙতাম, পানি পান করাতাম এবং আটা গুলতাম। একদিন আমি যোবায়েরের খেত থেকে খেজুরের আঁটি কুড়িয়ে আনছিলাম। আচানক রসুলুল্লাহ ﷺ ও তাঁর কয়েক জন সাথী আমাকে দেখে ফেললেন। রসুলুল্লাহ ﷺ আমাকে ডাক দিলেন এবং আখআখ বলে নিজের উট থামালেন, যাতে আমাকে পিছনে চড়াতে পারেন। আমার খুব শরম লাগল। আমি বললাম, যোবায়ের খুব মর্যাদাবোধসম্পন্ন ব্যক্তি। নবীজী চলে গেলেন। যখন আমি ঘরে পৌঁছলাম, তখন যোবায়েরকে ঘটনা বয়ান করলাম। যোবায়ের বললেন, আল্লাহর কসম! রসুলুল্লাহ ﷺ-র পিছনে চড়ার চেয়ে তোমার মাথায় খেজুরের বীচি কুড়িয়ে আনা আমার কাছে বেশি কষ্টকর।
আসমা বলেন, এরপর [আমার পিতা] আবু বকর একজন খাদেম পাঠালেন। সে ঘোড়া দেখাশোনার কাজ করত। এর ফলে আমি যেন গোলামী থেকে মুক্তি পেলাম।
এমন পরীক্ষার যামানা পার করার পর আল্লাহ আসমা ও তাঁর স্বামীর প্রতি নেয়ামতের বৃষ্টি বর্ষণ করেন। কিন্তু আর্থিক সচ্ছলতা আসার পরও তিনি ভারসাম্য রক্ষা করে চলতেন। তিনি অত্যন্ত দানশীল ছিলেন; পরের দিনের জন্য সঞ্চয় করতেন না। জীবনের শেষে যখন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ে ছিলেন, তখন অপেক্ষা করতে লাগলেন। অবস্থার উন্নতি হলে তিনি সমস্ত গোলাম আযাদ করে দেন। তারপর মেয়েদেরকে এবং খান্দানের লোকজনকে ডেকে বললেন, আল্লাহর রাস্তায় খরচ করো এবং সদকা করো। প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাল আসার অপেক্ষা কোরো না।
মুমিনদের জন্য জীবন খুব সুন্দর। জীবনের পর মৃত্যুও মুত্তাকীদের কাছে প্রিয়। এরাই ভাগ্যবান ও খোশনসীব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00