📄 তাকদীরের ভালোমন্দের প্রতি বিশ্বাস
আল্লাহ বলেন-
দুনিয়ার উপর অথবা তোমাদের উপর যখনই কোন বিপর্যয় নেমে আসে, আমি তাকে অস্তিত্ব দান করার আগেই তার (বিবরণ) একটি কিতাবে লেখা থাকে। আর আল্লাহর জন্য এই কাজ অত্যন্ত সহজ।
যাতে তোমাদের যে ক্ষতি হয়েছে সে জন্য আফসোস না কর এবং আল্লাহ যাকিছু দিয়েছেন, তার উপর উৎফুল্ল না হও। নিশ্চয় আল্লাহ দাম্ভিক ও অহঙ্কার প্রদর্শনকারীকে পছন্দ করেন না। [৫৭:২২-২৩]
হতে পারে তোমরা একটি জিনিস পছন্দ কর না, কিন্তু সেটাই তোমাদের জন্য ভালো; আবার হতে পারে একটি জিনিস তোমাদের পছন্দ, কিন্তু সেটাই তোমাদের অকল্যাণকর। আল্লাহ জানেন; তোমরা জান না। [২:২১৬]
বিপদের সময় কাযা-কদরের উপর ঈমান হৃদয়ের প্রশান্তি অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত বান্দা যখন উপলব্ধি করে যে, আল্লাহ বান্দা-বান্দীর অবস্থা খুব জানেন এবং তিনি অত্যন্ত মেহেরবান। তিনি নিজের বান্দাদের জন্য সহজতা সৃষ্টি করে থাকেন। তিনি প্রজ্ঞাময় ও সচেতন। আখেরাতের জন্য তিনি মজুদ সৃষ্টি করে থাকেন এবং সেদিন তিনি ধৈর্যশীলদেরকে বেহিসাব ও অশেষ পুরস্কার ও প্রতিদান দিবেন। যদি আমরা এভাবে চিন্তা করি এবং আমল করি, তা হলে আমাদের সমস্ত দুশ্চিন্তা ও দুঃখবেদনা আনন্দ ও প্রফুল্লতায় বদলে যাবে। তবে সবার ঈমান এতটা মজবুত নয় যে, এর উপর আমল করতে পারে।
সেই পন্থা-পদ্ধতি কী কী, যেগুলো অবলম্বন করলে মানুষ নিজের দুঃখবেদনার অনুভূতি হ্রাস করতে এবং পেরেশানী কমাতে সক্ষম হয়?
০১. চিন্তা করো, যেই বিপদ তোমার উপর পতিত হয়েছে, এর চেয়ে বড় বিপদাপদও তো আসতে পারত।
০২. ওইসব লোকের কথা চিন্তা করো, যাদের সমস্যা তোমার চেয়ে বেশি কঠিন।
০৩. এটাও চিন্তা করো যে, যেসব নেয়ামতে তুমি ডুবে আছ, দুনিয়ার বহু লোক কি এগুলো থেকে বঞ্চিত নয়?
০৪. নৈরাশ্য ও হীনমন্যতা কাছে ভিড়তে দিয়ো না। কেননা, নৈরাশ্য ও হীনমন্যতা বিপদ সঙ্গে নিয়ে আসে।
বাস্তব সত্য হচ্ছে সংকটের সাথে প্রশস্ততা আছে। নিশ্চয় সংকটের সাথে প্রশস্ততা আছে। [৯৪:৫-৬]
যে ব্যক্তি অন্যদেরকে দ্রুত খুশি করতে চায়, চিত্তাকর্ষক একটু মুচকি হাসি তার উদ্দেশ্য পূরণের জন্য অনেক সহায়ক হতে পারে।
📄 ভারসাম্য ও মধ্যপন্থা সর্বোত্তম
মুস্তফা মাহমুদ বলেন, আমি সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যে আছি। কেননা, আমি একজন মধ্যম স্তরের মানুষ। আমার আয় মধ্যম পর্যায়ের; আমার স্বাস্থ্য মধ্যম পর্যায়ের; আমার জীবন পরিচালনা মধ্যম পর্যায়ের। আমার প্রায় সবকিছুই অল্প অল্প করে আছে; তবে আমার চলৎশক্তি অনেক। আর চলৎশক্তিই হচ্ছে জীবন। অন্তরের চালিকাশক্তিই প্রকৃত জীবনের উত্তাপ। এর উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকে সৌভাগ্যের বুনিয়াদ।
আমি এই কয়েক স্তরের পাঠকের জন্য আল্লাহ্-র কাছে দোআ করি যে, তিনি যেন তাকে মধ্যম পর্যায়ের জীবন দান করেন। প্রত্যেক নেয়ামতের কিছু কিছু করে তাকেও দেন। আল্লাহ্-র কসম! এটা অতিউত্তম দোআ।
আমার মা দর্শন বোঝেন না; কিন্তু তাঁর রুচি আয়নার মত ঝকঝকে। তিনি এসব কথা কোন প্রকার পড়াশোনা ছাড়াই বোঝেন। তিনি এসব ব্যাপারে সবর ও শোকরের সবক দিয়ে থাকেন। সবর ও শোকরের মতলব হচ্ছে জিনিসপত্র কম; তবে মানসিক আনন্দ আর অন্তরের স্বস্তি প্রচুর।
মিথ্যা হাসি মুনাফিকীর সবচেয়ে বদসুরত চেহারা।
📄 হীনম্মন্যতা দুঃশ্চিন্তার উৎস
এ ক বন্ধু অন্য বন্ধুদের মেজাজ ও স্বভাবের উপর প্রভাব বিস্তার করে থাকে। শুধু বন্ধু নয়, সহকর্মী, সহপাঠী বা জীবনসঙ্গী- সবার ক্ষেত্রে একই কথা। একজন খোশমেজাজ, হাস্যোজ্জ্বল ও আশাবাদী ব্যক্তি তার এ জাতীয় গুণসমূহ অন্য সাথীসঙ্গীর দিকে ছড়িয়ে দেয়।
আবার কোঁচকানো চেহারা, জীবন সম্পর্কে নিরাশ, অস্থির, আশাহত, চিন্তাক্লিষ্ট এবং হীনমন্যতার শিকার ব্যক্তিও সংক্রামক ব্যধির মত এসব ধ্বংসাত্মক রোগ সাথীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।
শুধু কিছু কিছু ব্যক্তি থেকেই এসব প্রতিক্রিয়া বিস্তার লাভ করে, এমন নয়; বরং টেলিভিশনের কিছু কিছু প্রোগ্রাম, রেডিও কিছু কিছু অনুষ্ঠানও এমন হয়ে থাকে। কিছু কিছু প্রোগ্রাম ও অনুষ্ঠান আশাবাদীও করে তোলে। রেডিও টেলিভিশনের কোন প্রোগ্রাম আশাহতকারী, কোনটা দিলের ব্যথা বৃদ্ধিকারী, আবার কোনটা স্বস্তিদায়ক। কোন কোন বইপুস্তকও প্রভাব বিস্তারের বিশেষ ক্ষমতা রাখে। তুলনায় এগুলো বছরের বিভিন্ন ঋতুর মত। কতগুলো হেমন্তকালের মত; কতগুলো বসন্তকালের মত। যদি কোন ব্যক্তি আশাবাদী করার মত বইপুস্তক নির্বাচন করে, যা তাকে জীবনের হিম্মত দান করে; সাফল্য, কল্যাণ ও স্বনির্ভরতা দান করে, তা হলে সে কেমন যেন নিজের সাথে কল্যাণের আচরণ করে। এতে তার জীবনে আলোর বাতায়ন খোলে এবং সেখান দিয়ে তাজা, স্বাস্থ্যকর, শীতল বাতাস প্রবেশ করে হৃদয়ের বাগানকে ফলে-ফুলে ভরিয়ে তোলে। তবে কেউ যদি এমন বইপুস্তক নির্বাচন করে, যেগুলো মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধির কারণ হয়, এবং যেগুলো মানবপ্রকৃতি ও মানবীয় মূল্যবোধের ব্যাপারে শকসন্দেহ সৃষ্টি করে। ফলে ইনসানী জিন্দেগী ও মানবতা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারা সৃষ্টি হয়। সুতরাং এসব তাকে এভাবে প্রভাবিত করবে, যেভাবে একজন কুষ্ঠরোগী একজন সুস্থ ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে। এতে তার জীবনপ্রক্রিয়া সংকীর্ণ হয়ে উঠবে।
সৌভাগ্যের রাস্তা তোমার সামনেই। সেটাকে ইলম, নেক আমল ও আখলাকে হাসানার মধ্যে অনুসন্ধান করো। প্রত্যেক ব্যাপারে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো এবং প্রফুল্ল থাকো।
📄 সাবধান! অভিযোগ ও কৃতঘ্নতা নয়
ক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তির কথা-
যখন আমার বয়স ছিল বিশ থেকে ত্রিশের মাঝে, তখন বেশিরভাগ সময় অস্থিরতা প্রকাশ করতাম এবং অভিযোগ করতাম; অথচ তখন জীবনের স্বাদ অনুভব করছিলাম। এমন হওয়ার কারণ হচ্ছে আমি সুখের হাকীকত সম্পর্কে অজ্ঞ ছিলাম। এখন আমার বয়স যখন ষাট বছর হয়ে গেছে, তখন অনুভব করছি যে, আমি সেসময় কত সুখী ছিলাম, যখন আমার বয়স ছিল বিশ ত্রিশের মাঝে। কিন্তু সেই অনুভূতি অনেক পরে জাগ্রত হয়েছে। এখন সেই মজার দিনগুলো স্মরণ করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সেই সময় যদি আমার এই ধারণা থাকত, তা হলে তখনকার দিনগুলো আরও আনন্দঘন অতিবাহিত হত। আমার অভিযোগের কারণ জানা ছিল না, যখন আমি যৌবনের বসন্তে তরতাজা গোলাপের মত ছিলাম এবং আমার সুখ ছিল সীমাহীন। সেকথা আমি এখন অনুভব করছি, যখন আমি একটি শুষ্ক ডালের মত বাঁকা হয়ে গেছি এবং আমার সুখের কলি ঝরে গেছে।
প্রিয় বোন! তোমার কাছে অনুরোধ, যদি তুমি নিজের সৌভাগ্য ও সুখের হাকীকত সম্পর্কে ওয়াকিফ থাক, তা হলে তা পুরোপুরিভাবে উপভোগ করতে থাকো। আর যদি তুমি সুখ ও সৌভাগ্যের হাকীকত সম্পর্কে অবগত না থাক, তা হলে সুখ ও আনন্দের তালাশে এদিক- ওদিক শুধু ঘুরতেই থাকবে এবং এর শূন্যতার অনুভূতি তোমাকে শুধু দংশন করতে থাকবে। তোমার উপর হতাশার ছায়া ছড়িয়ে পড়বে এবং তুমি অস্থির হয়ে অভিযোগ করতে থাকবে। এমতাবস্থায় তুমি অপেক্ষায় থাকো এবং বর্তমানকে অতীত হতে দাও, তখন তুমি অতিবাহিত দিনগুলো স্মরণ করে কাঁদতে থাকবে এবং স্বীকারও করবে যে, তখনই তুমি খুব সুখী ছিলে; তবে মেনে নাওনি। সময় ফুরিয়ে যাওয়ার পর তোমার কাছে কিছুই থাকবে না। থাকবে শুধু স্মৃতির শুষ্ক ডালে ফুলের অঝরা কিছু শুকনো পাঁপড়ি, যার প্রজাপতি উড়ে গেছে অনেক আগে।
নারী ঘরকে জান্নাতের নমুনা বানাতে পারে; পারে দোযখ বানাতেও।