📄 হৃদয় আলোকিত করো চিরন্তন জীবন পারে
জীবনের উপর মমতাভরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করো। কেননা, জীবন মানুষের জন্য আল্লাহ -র উপহার। এই অনন্য ও বেনজির উপহার গ্রহণ করো এবং অত্যন্ত প্রফুল্লচিত্তে, খুশি ও আনন্দের সাথে গ্রহণ করো। ভোরকে তার মিষ্টি আলোর সাথে, রাতকে তার গাম্ভীর্য ও নীরবতার সাথে এবং দিনকে তার উজ্জ্বলতা ও বড়ত্বের সাথে গ্রহণ করো। স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন পানি আল্লাহ -র প্রশংসা ও তাঁর শোকরগুযারীর সাথে পান করো। পরিচ্ছন্ন ও নির্মল বাতাসে শ্বাস ফেলতে গিয়ে খুশি ও আনন্দ অনুভব করো। ফুল আর কলির খোশবু গ্রহণ করে নিজের অভ্যন্তরকে খোশবুদার করো। এরপর এগুলোর স্রষ্টার পবিত্রতা বর্ণনা করো। সৃষ্টিরাজির উপর শিক্ষাগ্রহণের দৃষ্টি নিক্ষেপ করো এবং সৃষ্টিকৌশল নিয়ে ভাবো। জমীন আল্লাহ -র একটি বরকতময় উপহার। এ থেকে খুব উপকৃত হও। বসন্তকালের বাগানে প্রস্ফুটিত মোহনীয় কমনীয় ফুল, মনোহর কলি ও নির্মল বায়ুর মধ্যে সূর্যের আলো ও চাঁদের কিরণে রয়েছে আল্লাহ -র অজস্র দান। ওগুলো পুরোপুরি উপভোগ করো। এভাবে এসব নেয়ামত ও উপহার তোমার মধ্যে শোকরের জযবা জাগ্রত করবে এবং এবাদত-বন্দেগীর প্রতি উৎসাহ দিবে। এসব দান ও এনআম আল্লাহ -র এবাদত ও আনুগত্যের বেলায় সুদৃঢ় হওয়ার ক্ষেত্রে তোমার সহায়ক ও মদদগার।
হোক। সমস্ত প্রশংসা ও শোকর সেই আল্লাহ-র জন্য, যিনি আমাদের উপর এসব নেয়ামতের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন এবং ফযল ও অনুগ্রহ দ্বারা ধন্য করেছেন।
খবরদার! তোমার দুঃখবেদনা, তোমার হীনমন্যতা ও নৈরাশ্য যেন তোমাকে অকৃতজ্ঞ হতে উৎসাহিত না করে। হে আল্লাহ-র প্রশংসাকারিণী এবং তাঁর শোকর আদায়কারিণী! একটি সত্য খুব ভালো করে বুঝে নাও, আল্লাহ যিনি স্রষ্টা, তিনিই রিযিকের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে রেখেছেন। এসব নেয়ামত, যা তিনি দিয়ে রেখেছেন, সবকিছুই আমাদেরকে তাঁর এবাদত-বন্দেগী করার ক্ষেত্রে সাহায্য করে থাকে। যেমন, তিনি বলেছেন-
হে রসুলগণ! তোমরা পবিত্র বস্তু খাও এবং নেক আমল করো। [২৩:৫১]
স্বচ্ছলতার সম্পর্ক অন্তরের সাথে; সম্পদের সাথে নয়। বড় অনুগ্রহ তাঁর, যার কাছে কিছুই নেই; কিন্তু সে মমতাভরা শব্দমালা আর আন্তরিক মুচকি হাসির মূল্য সম্পর্কে অবগত। অনেকে বখশিশ ও উপহার দেয়; কিন্তু এমন পদ্ধতিতে দেয় যে, মনে হয় সর্বশক্তি নিয়োগ করে থাপ্পড় মারছে।
📄 সৌভাগ্য ও কল্যাণ কারও পরিপূর্ণ হয় না
তুমি বড় ভুল বুঝাবুঝির মধ্যে লিপ্ত থাকবে, যদি তুমি ধারণা কর যে, অবস্থা শতভাগ তোমার অনুকূল হয়ে যাবে। এই বিষয়টি শুধু জান্নাতের মধ্যেই সম্ভব হবে। মানুষের ছোটবড় সমস্ত খায়েশ পূর্ণ হবে সেখানে। দুনিয়ার আবহাওয়ায় সমস্ত হাসিআনন্দ সাময়িক।
তুমি যা-কিছু কামনা কর, এখানে তুমি তার সবকিছু পাবে না। এখানে সব বিষয় ঝামেলাপূর্ণ। অসুখ-বিসুখ, বালামসিবত, পরীক্ষা-নিরীক্ষার এক বিশাল বৃত্ত, মানুষকে ঘিরে রেখেছে। অভাবের সময় সবর এবং স্বাচ্ছন্দ্য ও আনন্দের সময় শোকর আদায় করো। খাব ও খেয়ালের দুনিয়ায় ডুবে থেকো না।
রোগমুক্ত স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য ও অভাবমুক্ত স্বাচ্ছন্দ্য, দুঃখ ও বেদনামুক্ত আনন্দ, দোষমুক্ত স্বামী, ত্রুটিমুক্ত বন্ধুবান্ধব- এমন চিন্তা থেকে নিজের দেমাগ পরিষ্কার করো এবং এসব জিনিসের তামান্না রেখো না। এগুলো পাওয়া সম্ভব নয়।
নেতিবাচক দিক কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় এবং কীভাবে ত্রুটি সংশোধন করতে হয়, সেই তালীম হাসিল করো। ত্রুটিবিচ্যুতি, তিরস্কার ও নেতিবাচক মন্তব্য এড়িয়ে চলো। সৌন্দর্য আর ইতিবাচক দিকের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখো। সুধারণা পোষণ করো। মানুষের ওজর শ্রবণ করো এবং আল্লাহ্-র সত্তার উপর ভরসা রাখো। কেননা, নির্ভরযোগ্য মানুষ পাওয়া যায় না। তা ছাড়া কেউ এমন উপযুক্তও নয় যে, নিজের বিষয়াদি তার উপর ন্যস্ত করা যেতে পারে।
আল্লাহর বিপক্ষে তারা তোমার কোন কাজে আসবে না। [৪৫:১৯]
নিজের জীবনের অন্ধকার অংশের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখো না। অন্যদিকে আলো রয়েছে। তোমাকে শুধু ওই দিকেই দৃষ্টিপাত করতে হবে এবং আলো হাসিল করতে হবে।
📄 মারেফতের বাগানে প্রবেশ করো
সৌভাগ্যের অনেক কারণ আছে। সেগুলোর মধ্যে দীনী অনুভূতি ‘তাফাক্কুহ ফিদ্দীন' অন্যতম। দীনী তালীম মানসিক বিকাশ ও আল্লাহ-র সন্তুষ্টির মাধ্যম হয়ে থাকে। নবী যেমন বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের উপলব্ধি দান করেন।
সুতরাং তুমি উপকারী সহজ দীনী কিতাবাদি পড়ো। এতে তোমার ইলম, বুঝ, আকল ও উপলব্ধি বৃদ্ধি পাবে। যেমন, রিয়াযুস সালেহীন, ফিকহুস সুন্নাহ ও ফিকহুদ্দলীল এবং সহজ ও প্রাঞ্জল তাফসীর ও অন্যান্য বিষয়ের গ্রন্থাবলি রয়েছে। তোমার কি জানা আছে যে, সর্বোত্তম আমল কোনটি? তা হল আল্লাহ-র কিতাবে আল্লাহ-র উদ্দেশ্য জেনে নেওয়া। হাদীস শরীফে নবী -এর সুন্নত ও তাঁর উদ্দেশ্য উপলব্ধি করা। কাজেই তোমার জন্য আল্লাহ-র কালাম কুরআন মাজীদ সম্পর্কে ফিকির করা জরুরী। বোন ও বান্ধবীদের সাথে সম্মিলিতভাবে এই কিতাব অধ্যয়ন করো। পড়া, পড়ানো, উপলব্ধি করা ও করানোর চেষ্টা করো। সহজভাবে সম্ভব হলে কুরআন মাজীদ মুখস্থ করো। কুরআনের তেলাওয়াত শোনা এবং কুরআন মোতাবেক আমল করার প্রতি যত্নবান হও। শরীয়তের বিধিবিধান সম্পর্কে অজ্ঞতা অন্তরের অন্ধকার ও সংকীর্ণতার কারণ। তোমার একটি পারিবারিক পাঠাগার অবশ্যই থাকা চাই। সেটা খুব ছোটই হোক না কেন? তাতে নির্ভরযোগ্য উপকারী গ্রন্থাবলি থাকতে হবে। উত্তম বয়ান ও ওয়াজসমৃদ্ধ ক্যাসেট থাকা চাই। অনর্থক গানবাজনা শুনে সময় অপচয়।
কোরো না। টিভি সিরিয়াল দেখা থেকে বিরত থাকা জরুরী। জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত মূল্যবান এবং আল্লাহ -র কাছে এর হিসাব দিতে হবে। আল্লাহ -র মর্জি অনুসারে সময় ব্যবহার করো। সময় অত্যন্ত দামী মূলধন। একে আল্লাহ -র সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম বানাও এবং এর কদর করতে শেখো।
একজন স্বনির্ভর ব্যক্তির মুচকি হাসি কঠিন থেকে কঠিন সমস্যা আসান করে দিতে পারে।