📄 দোআ বিপদাপদ দূর করে দেয়
মার একজন আবেদ যাহেদ ও নেককার বন্ধু আছেন। তার স্ত্রীর কেল্লার হয়েছিল। তাঁর ছেলে তিনজন। তারা নৈরাশ্যের শিকার হয়ে গিয়েছিল। পুরো দুনিয়া তাদের কাছে অন্ধকার হয়ে পড়েছিল। কোন আলেমে দীন তাকে পরামর্শ দেন যে, তিনি যেন স্ত্রীর জন্য রাতে তাহাজ্জুদের এহতেমাম করেন। শেষরাতের দোআ ও এস্তেগফারের সাহায্য নেন এবং কুরআন মাজীদ পড়ে যমযমের পানিতে দম করেন। তিনি বারবার এই আমল করতে থাকেন। আল্লাহ তাঁর দোআ কবুল করার জন্য দরজা খুলে দেন। যমযমের পানি দিয়ে তিনি স্ত্রীকে গোসল দিলেন এবং যমযমের পানিতে ফুঁক দিয়ে তাঁকে পান করাতে থাকলেন। ফজরের সালাতের পর স্ত্রীকে সাথে নিয়ে এশরাক পর্যন্ত যিকির করতে লাগলেন। মাগরিবের পরও এশা পর্যন্ত একসাথে যিকিরের পাবন্দী করতে থাকলেন। চলতে থাকল তাদের তওবা, এস্তেগফার ও দোআর এহতেমাম। আল্লাহ তাদের দোআ শুনলেন এবং যে অসুখ ছিল, তা দূর করে দিলেন।
আল্লাহ তাঁকে সুস্থ করে দিলেন। তার তক ও জুলফি আগের চেয়ে সুন্দর করে দিলেন। তওবা, এস্তেগফার ও তাহাজ্জুদ তাদের জীবনের একটা অনুষঙ্গ হয়ে গেল।
সুবহানাল্লাহ, সমস্ত তারীফ ও প্রশংসা তাঁর জন্য, যিনি রোগব্যাধি থেকে শেফা দান করেন। সুস্থতা ও সামর্থ্য দান করেন। তিনি ছাড়া আর কোন মা'বুদ নেই। তিনি ছাড়া আর কোন পালনকর্তা নেই।
হে আমার বোন! যখন তুমি অসুস্থ হবে, তখন তাঁর দিকেই রুজু করো এবং দোআ, তওবা ও বেশি বেশি এস্তেগফার করো। তোমার জন্য বড় সুসংবাদ রয়েছে যে, আল্লাহ্ তোমার দোআ শুনছেন এবং কবুল করছেন। বিপদাপদ দূর করছেন এবং অনিষ্ট প্রতিরোধ করে দিচ্ছেন।
একটু চিন্তা করো, তিনি কে, যিনি বিপদগ্রস্তের ডাক শোনেন, যখন সে তাঁকে ডাকে। [২৭:৬২]
অতীত ও বর্তমান জরিপ দাও। জীবন হচ্ছে অভিজ্ঞতার সমষ্টি। মানুষের উচিত অভিজ্ঞতার আলোকে জীবন কামিয়াব করা।
📄 নিরাশা এক, আশা হাজার
এক যুবককে লোহার শিকের আড়ালে জেলখানায় ভরে দেওয়া হয়। সে ছিল তার মায়ের একমাত্র সন্তান। মায়ের আশা-ভরসার একমাত্র কেন্দ্রবিন্দু। এই ঘটনায় মায়ের রাতের ঘুম এবং দিনের স্বস্তি উড়ে যায়। এই ঘটনায় তিনি ততটুকুই কান্নাকাটি করেন, যতটুকু তার সাধ্যে ছিল। এরপর আল্লাহ তাঁকে একটি কালিমার আশ্রয় নেওয়ার তৌফীক দেন। তা হল 'লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ'। আল্লাহ ছাড়া আর কোন শক্তি ও সামর্থ্য নেই। এটা হচ্ছে সেই বরকতময় কালিমা, যাকে জান্নাতের বৃক্ষ বলে অভিহিত করা হয়েছে।
যুবকের মা এই বরকতময় কালিমা বার বার জপতে থাকেন। কিছু দিন পরই, যখন তিনি নিজের সন্তানের মুক্তির ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গিয়েছিলেন, তখন তার ঘরের দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজ পাওয়া যায়। দরজা খুলে মা দেখেন, সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই যুবক ছেলে। মায়ের অন্তর খুশিতে ভরে ওঠে। এ ছিল আল্লাহ-র উপর ভরসা ও তাঁর কাছে সবকিছু সোপর্দ করার নতীজা। এটা ছিল তাঁর দোআসমূহের ফল, যেগুলো তিনি আল্লাহ-র কাছে করছিলেন।
তোমার জন্য আবশ্যক হচ্ছে যে, তুমি 'লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ' বেশি বেশি পড়তে থাকবে। এটি একটি মহান কালিমা। এর মধ্যে সুপ্ত রয়েছে সৌভাগ্য ও কামিয়াবীর রহস্য। বার বার এটা জপতে থাকো। এর মাধ্যমে দুঃখ ও পেরেশানী দূরে ঠেলে দাও। আল্লাহ-র পক্ষ থেকে খুশি ও আনন্দের তোহফা এবং দুঃখ পেরেশানী থেকে মুক্তির পরোয়ানা হাসিল করো।
প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না
খবরদার! কখনও নিরাশ হয়ো না এবং হতাশা কাছে আসতে দিয়ো না। কেননা, প্রত্যেক সংকটের পর প্রশস্ততা রয়েছে এবং প্রত্যেক দূরাবস্থার পর খোশহালী রয়েছে। সুতরাং আশার চাদর কখনও হাত থেকে ছুটতে দিয়ো না। এটা সবসময় হয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতে হতে থাকবে। এটা নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা অনর্থক। আল্লাহ -এর কসম! আল্লাহ বান্দার তাওয়াক্কুল ও সুধারণা মোতাবেক ফায়সালা করে থাকেন। তাঁর কাছেই চাও। কেননা, তাঁর কাছেই সবকিছু আছে। তাঁর রহমতের এন্তেযার করতে থাকো। কেননা, তিনিই সব জটিলতা দূর করে রাস্তা সমান করে থাকেন।
দুঃখকষ্টকে আলোচ্যবিষয় বানিয়ো না। কেননা, এতে তোমার ও সৌভাগ্যের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি হবে।
📄 তোমার ঘর মহব্বত ও ইজ্জতের প্রাসাদ
ম্মানিতা বোন! ঘরের আশ্রয়ে থাকো। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের চৌকাঠ অতিক্রম কোরো না। তোমার সৌভাগ্যের রহস্য ঘরের আঙিনার চার দেয়ালের সুপ্ত।
(তোমরা তোমাদের ঘরের মধ্যে দৃঢ়তার সাথে অবস্থান করো। [৩৩:৩৩])
তুমি এই সুদৃঢ় কেল্লার মধ্যে অবস্থান করেই নিজের পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, ইজ্জত, সম্মান, মর্যাদা ও প্রভাব হেফাযত করতে পার। সেইসব নারী মূল্যহীন, যারা বিনা প্রয়োজনে বাজারে বাজারে ঘুরে বেড়ায়। তাদের উদ্দেশ্য শুধু নতুন ফ্যাশন ও নতুন ডিজাইন পরিদর্শন। তারা বিভিন্ন শপিং মল ও সুপার মার্কেটে শুধু নতুন ও আধুনিক প্রসাধনী সামগ্রী অনুসন্ধান করার জন্য যায়। এই চরিত্রের নারীদের সামনে দীনের কোন গুরুত্ব নেই; দীনের দাওয়াতের গুরুত্বও নেই; হেদায়েতের পয়গাম অন্যদের কাছে পৌঁছানোর জযবা নেই; এমন কি তাদের মধ্যে ইলম ও মারেফত এবং ইসলামী তাহযীব হাসিলের সংকল্পও নেই। এরা বরং সময় অপচয় ও সম্পদ নষ্টকারী নারী। এদের তামান্না ও আরজু শুধু মজাদার খাবার, আর অত্যাধুনিক দামী কাপড়চোপড়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
খবরদার! নিজের ঘরের খেয়াল রাখবে। কেননা, এই ঘরই তোমার আরাম-আয়েশের উৎস এবং আশ্রয় কেন্দ্র। নিরাপত্তা ও স্বস্তির জায়গা। সুস্থতা ও নির্জনতার আশ্রম। এটাই শান্তির ঠিকানা, যা মানুষকে অন্যায় বিচরণ থেকে বিরত রাখে। নিজের ঘরকে মহব্বত, মমতা, আনন্দ, বরকত ও বখশিশের ভাণ্ডারে পরিণত করো।
নিজের পেরেশানী অন্যের কাছে প্রকাশ করবে না; তবে সেই চিন্তাবিদ ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করতে পার, যিনি ফিকির ও খেয়ালের মাধ্যমে, হিম্মত বৃদ্ধিকারী কথাবার্তার মাধ্যমে, উপদেশ ও পরামর্শের মাধ্যমে তোমার দুঃখ ও বেদনায় শরীক হবেন। যিনি তোমার দুঃখকে আনন্দে, পেরেশানীকে আয়েশে এবং নৈরাশ্যকে সৌভাগ্যে বদলে দিবেন।
📄 অনর্থক কথাবার্তা বলার সময় কোথায়?
অনর্থক কথাবার্তায় লিপ্ত হয়ো না। অসার আলোচনায় লিপ্ত হয়ে নিজের মূল্যবান সময় নষ্ট কোরো না। কেননা, এমন কথাবার্তা অন্তরের সংকীর্ণতা ও অপরিচ্ছন্নতার কারণ হয়। যেসব বিষয়ে মানবসমাজে মতবিরোধ পাওয়া যায়, কাউকে সেগুলোর পক্ষপাতী বানানোর জন্য চেষ্টা কোরো না। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি অল্প কথায় খুব সাদাসিধাভাবে ব্যক্ত করে দাও। গলা ফেঁড়ে, চেঁচামেচি করে নিজের কথা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা অনর্থক। অন্যদেরকে সমালোচনার লক্ষবস্তু বানিয়ো না এবং তাদের অন্তরে নিজের ব্যাপারে খারাপ ধারণা সৃষ্টি কোরো না। কেননা, এতে তুমি নিজের স্বস্তি হারিয়ে ফেলবে। এসব বিষয় থেকে পরহেয করো।
তোমার যা বলা দরকার, তা নরম ও মধুমাখা স্বরে ভদ্রতা রক্ষা করে বলে ফেলো। এভাবে তুমি অন্যদের অন্তরের উপর শাসন চালাতে এবং তাদের হৃদয় আচ্ছন্ন করতে পারবে। অন্যথায় গীবত, পেরেশানী, বিরক্তি ও দুঃখবেদনা সৃষ্টি হয়। অন্যদের দোষ অনুসন্ধান, তাদেরকে তুচ্ছ জ্ঞান করা এবং তাদেরকে তিরস্কার করা সওয়াব বরবাদ হওয়া এবং গুনাহের বোঝা ভারী হওয়ার কারণ। এতে অন্তরের স্বস্তিও দূর হয়ে যায়। নিজের দোষ সংশোধনের চেষ্টা করো। অন্যের দোষের উপর যদি দৃষ্টি পতিত হয়, তা হলে উপদেশ গ্রহণ করো। চেষ্টা করো, যাতে উক্ত দোষ তোমার মধ্যে না পাওয়া যায়। আল্লাহ আমাদেরকে পুরোপুরি নিষ্পাপ করে সৃষ্টি করেননি; বরং আমরা গুনাহগার এবং ভুলত্রুটির আকর। সুসংবাদ তাদের জন্য, যাদের দৃষ্টি পড়ে নিজের দোষত্রুটির প্রতি এবং অন্যদের ত্রুটিবিচ্যুতি যারা এড়িয়ে যায়।
যদি ছেলে উঁচু স্থান থেকে পড়ে আহত হয়, তা হলে বুদ্ধিমতী মায়ের কাজ কান্নাকাটি নয়; বরং যখমে মলম ও পট্টি লাগানোয় মনোযোগ দেওয়া।