📄 তোমার মর্যাদা সুউচ্চ ও সম্মানিত
হে মুসলিমা, সাদেকা, হে মুমিনা, আরেফা! হে আল্লাহর নৈকট্য অনুসন্ধানকারিণী! সবুজ শ্যামল খেজুর গাছের মত জীবন অতিবাহিত করো, যা অনিষ্ট থেকে ঊর্ধ্বে; যেকোন প্রকারের কষ্ট দেওয়া থেকে দূরে থাকে। তার উপর পাথরের বর্ষণ হয়, আর সে মিষ্টি খেজুর বর্ষণ করে। শীত কাল হোক, অথবা গ্রীষ্ম কাল, সবসময় সে সবুজ থাকে। তার সবকিছু কার্যকর ও উপকারী। হীনমন্যতা থেকে নিজের মর্যাদা বুলন্দ রাখো এবং ছোট বড় প্রত্যেক অপবিত্র বিষয় থেকে নিজেকে দূরে রাখো। সেইসব বিষয় থেকে নিজেকে সুরক্ষিত ও নিরাপদ রাখো, যেগুলো তোমার শরম ও লজ্জার অলঙ্কার ছিনিয়ে নেয়।
তোমার কথাবার্তা হওয়া চাই যিকির, নীরবতা হওয়া চাই ফিকির এবং দৃষ্টি হওয়া চাই উপদেশপূর্ণ বে-নজির। এতে তুমি প্রকৃত সুখ ও স্বস্তি পাবে এবং যেখানে যাবে, লোকজন তোমাকে স্বাগত জানাবে। তারা তোমার প্রশংসায় থাকবে পঞ্চমুখ এবং তারা তোমার জন্য দোআ করবে।
আল্লাহ -র দয়া ও অনুগ্রহে বালা-মসিবতের বাদল সরে যাবে; আতঙ্কের ভয়ানক দৈত্য গায়েব হয়ে যাবে এবং হীনমন্যতা সৃষ্টিকারী চেতনার বিক্ষিপ্ততা খতম হয়ে যাবে। সুখের নিদ্রায় হারিয়ে যাও, কেননা, মুমিনদের দোআ তোমার সঙ্গে আছে। আবার জাগ্রত হও, কেননা, তোমার প্রশংসায় সংগীত গাওয়া হচ্ছে।
তখন তুমি অনুভব করতে পারবে যে, প্রকৃত সুখ কোনোকিছু হাসিল করার মধ্যে নিহিত নয়; বরং প্রকৃত আনন্দ আল্লাহ্-র এবাদত-বন্দেগীর মধ্যে। অন্তরের আনন্দ নতুন পোশাকের মধ্যে নয়; মানুষের গোলামী করার মধ্যে নয়; এবং মানুষের সামনে উপস্থিত থাকার মধ্যেও নয়; বরং প্রকৃত সুখ রয়েছে রব্বে কারীমের এবাদত ও বন্দেগীর মধ্যে।
নিজের ব্যাপারে নিরাশ হয়ো না। অবস্থা বদলায়; তবে মন্থর গতিতে। পথিমধ্যে কঠিন প্রস্তর দেখা দিবে; কিন্তু সেটা গুরুত্ব দেওয়া যাবে না। খবরদার! রাস্তার অসুবিধা যেন তোমাকে পরাজিত না করে।
📄 নেয়ামত স্বীকার করো, হক আদায় করো
শোকর ও আনুগত্যের সাথে আল্লাহর নেয়ামতসমূহ থেকে উপকৃত হও। পানি দিয়ে পিপাসা নিবারণ করো। উযু ও গোসল করো। সূর্য থেকে আলো ও তাপ গ্রহণ করো। চাঁদের কিরণ ও তার সৌন্দর্য থেকে চোখ শীতল করো। গাছগাছালি থেকে ফল ও নদীনালা থেকে পরিতৃপ্তি হাসিল করো। সমুদ্র পরিদর্শন করো এবং সবুজ শ্যামল মাঠে পায়চারী করো। এরপর মহাপরাক্রমশালী রাজাধিরাজ আল্লাহ ﷻ-র শোকর আদায় করো; আল্লাহ ﷻ এই যে তোমার উপর বিশাল অনুগ্রহ করেছেন, তা থেকে পরিপূর্ণরূপে উপকৃত হও।
তবে সাবধান! আল্লাহ ﷻ-র কোন নেয়ামত অস্বীকার কোরো না। সে কেমন হতভাগা, যে
'আল্লাহর বিভিন্ন নেয়ামত অনুভব করে; কিন্তু তারপরও অস্বীকার করে।' [১৬:৮৩]
খবরদার! কৃতঘ্নতা থেকে বিরত থাকো। গোলাপের কাঁটার দিকে দেখার আগে গোলাপের সৌন্দর্য অবলোকন করো। সূর্যের তেজস্বিতার অভিযোগ করার আগে তার আলো থেকে উপকার নিয়ে নাও। রাতের কৃষ্ণতার বদনাম করার আগে তার স্থিরতা ও নীরবতা কল্পনা করো। তুমি এসব বস্তুর উপর নেতিবাচক ও হতাশাজনক দৃষ্টি কেন নিক্ষেপ কর? রহমতকে লা'নতে কেন পরিণত কর? যেমন, বলা হয়েছে-
তুমি কি ওইসব লোকের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করনি, যারা আল্লাহর নেয়ামতকে কৃতঘ্নতায় পরিণত করে থাকে। [১৪:২৮]
তুমি এসব নেয়ামত সৌন্দর্যের সাথে গ্রহণ করো এবং এগুলোর জন্য শোকর আদায় করো।
অন্যায় থেকে ন্যায়ের দিকে প্রত্যাবর্তন, দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সফর; তবে এর গন্তব্য অত্যন্ত সুন্দর।
📄 তওবা ও এস্তেগফার : রিযিকের চাবি
এ ক রমণী বয়ান করেছেন-
'আমার স্বামীর এন্তেকাল হয়ে গেল। তখন আমার বয়স ত্রিশ বছর। আমি তখন পাঁচটি সন্তানের মা। পুরো দুনিয়া আমার চোখের সামনে অন্ধকার হয়ে গেল। আমি রাতদিন কাঁদতে থাকলাম। এমন কি আমার চোখ ঝাপসা হয়ে এল এবং আমার দৃষ্টিশক্তি হারানোর আশঙ্কা দেখা দিল। আমি হতাশা, হীনমন্যতা ও নৈরাশ্যের শিকার হয়ে গেলাম। নিজেকে হতভাগাদের মধ্যে গণনা করতে থাকলাম। আমার সন্তানরা ছিল ছোট এবং আমদানী দিনযাপনের জন্য যথেষ্ট ছিল না। আমি সেই অর্থও কিছু কিছু খরচ করতে থাকলাম, যেগুলো আমার বাবা আমার জন্য রেখে গিয়েছিলেন। একদিন আমি কামরায় বসে রেডিও চালু করে দিই। তখন কুরআন মাজীদ প্রচারের প্রোগ্রাম চলছিল। তখন আমার কানে যে কথাগুলো প্রতিধ্বনিত হয়, সেগুলো হচ্ছে-
রসুলুল্লাহ ﷺ এরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি বেশি বেশি করে এস্তেগফার করে, আল্লাহ ﷻ তার জীবনের সমস্ত দুঃচিন্তা দূর করে দেন। তিনি তাকে সব ধরণের সংকট থেকে মুক্ত করে দেন।' একথা শোনার পর থেকে আমি খুব বেশি করে তওবা ও এস্তেগফার করতে লাগলাম এবং ছেলেমেয়েকেও তওবা-এস্তেগফার করার তাগিদ দিলাম। আল্লাহ ﷻ-র কসম! মাত্র ছয় মাস যেতে না যেতেই আমাদের পুরনো কিছু জায়গার ব্যাপারে সরকারী নির্দেশ এল এবং আমরা কয়েক লাখের বিরাট অংক পেয়ে গেলাম। আমার ছেলে প্রদেশের প্রথম ছেলে, যে পুরো কুরআন মাজীদ হিফজ করল এবং সে মানুষের দৃষ্টি ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হল। বরকত ও কল্যাণ দ্বারা আমার ঘর ভরে গেল। আমি আরাম-আয়েশ ও আনন্দে জীবনযাপন করতে লাগলাম। আমার সবকটি ছেলেমেয়ে ভাগ্যবান ও নেককার। দুঃখবেদনা, সংকট, অভাব ও হতাশা দূর হয়ে গেছে। এখন আমি নিজেকে খোশনসিব মনে করি।
যদি তুমি নিজেকে নৈরাশ্যের কাছে সোপর্দ কর, তা হলে তুমি কিছুই করতে পারবে না এবং কখনও সৌভাগ্য ও কামিয়াবী লাভ করতে পারবে না।
📄 দোআ বিপদাপদ দূর করে দেয়
মার একজন আবেদ যাহেদ ও নেককার বন্ধু আছেন। তার স্ত্রীর কেল্লার হয়েছিল। তাঁর ছেলে তিনজন। তারা নৈরাশ্যের শিকার হয়ে গিয়েছিল। পুরো দুনিয়া তাদের কাছে অন্ধকার হয়ে পড়েছিল। কোন আলেমে দীন তাকে পরামর্শ দেন যে, তিনি যেন স্ত্রীর জন্য রাতে তাহাজ্জুদের এহতেমাম করেন। শেষরাতের দোআ ও এস্তেগফারের সাহায্য নেন এবং কুরআন মাজীদ পড়ে যমযমের পানিতে দম করেন। তিনি বারবার এই আমল করতে থাকেন। আল্লাহ তাঁর দোআ কবুল করার জন্য দরজা খুলে দেন। যমযমের পানি দিয়ে তিনি স্ত্রীকে গোসল দিলেন এবং যমযমের পানিতে ফুঁক দিয়ে তাঁকে পান করাতে থাকলেন। ফজরের সালাতের পর স্ত্রীকে সাথে নিয়ে এশরাক পর্যন্ত যিকির করতে লাগলেন। মাগরিবের পরও এশা পর্যন্ত একসাথে যিকিরের পাবন্দী করতে থাকলেন। চলতে থাকল তাদের তওবা, এস্তেগফার ও দোআর এহতেমাম। আল্লাহ তাদের দোআ শুনলেন এবং যে অসুখ ছিল, তা দূর করে দিলেন।
আল্লাহ তাঁকে সুস্থ করে দিলেন। তার তক ও জুলফি আগের চেয়ে সুন্দর করে দিলেন। তওবা, এস্তেগফার ও তাহাজ্জুদ তাদের জীবনের একটা অনুষঙ্গ হয়ে গেল।
সুবহানাল্লাহ, সমস্ত তারীফ ও প্রশংসা তাঁর জন্য, যিনি রোগব্যাধি থেকে শেফা দান করেন। সুস্থতা ও সামর্থ্য দান করেন। তিনি ছাড়া আর কোন মা'বুদ নেই। তিনি ছাড়া আর কোন পালনকর্তা নেই।
হে আমার বোন! যখন তুমি অসুস্থ হবে, তখন তাঁর দিকেই রুজু করো এবং দোআ, তওবা ও বেশি বেশি এস্তেগফার করো। তোমার জন্য বড় সুসংবাদ রয়েছে যে, আল্লাহ্ তোমার দোআ শুনছেন এবং কবুল করছেন। বিপদাপদ দূর করছেন এবং অনিষ্ট প্রতিরোধ করে দিচ্ছেন।
একটু চিন্তা করো, তিনি কে, যিনি বিপদগ্রস্তের ডাক শোনেন, যখন সে তাঁকে ডাকে। [২৭:৬২]
অতীত ও বর্তমান জরিপ দাও। জীবন হচ্ছে অভিজ্ঞতার সমষ্টি। মানুষের উচিত অভিজ্ঞতার আলোকে জীবন কামিয়াব করা।