📄 জানবায বাহাদুর জন্ম দিয়েছেন যারা
হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের সামনে সাহস ও হিম্মত করে বিতর্ককারিণী এবং আল্লাহ-র উপর ভরসাকারিণী নারীর মত হও, যাঁর ছেলেকে হাজ্জাজ কয়েদ করেছিলেন এবং তিনি কসম করে বলেছিলেন, আমি তোমার ছেলেকে অবশ্যই হত্যা করে দিব। উত্তরে এই নারী বলেছিলেন, তুমি যদি তাঁকে হত্যা না-ও কর, তা হলেও সে কোন একদিন মারা যাবে।
এই নারীর মত হও, আল্লাহ-র উপর যার অটল বিশ্বাস ছিল। যখন তার মুরগী খোপের ভিতর গিয়ে দৃষ্টির বাইরে চলে যেত, তখন তিনি আসমানের দিকে তাকিয়ে দোআ করতেন, হে আল্লাহ! আমার মুরগীর খোপ হেফাযত করো। তুমি সর্বোত্তম হেফাযতকারী।
আসমা বিনতে আবু বকর-র মত ঈমানী শক্তির উৎসে পরিণত হও। যখন তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে যোবায়েরকে শহীদ করার পর তাঁর লাশ শূলিতে চড়ানো হয়েছিল, তখন তিনি এই ঐতিহাসিক বাক্য বলেছিলেন, অবশেষে এই শাহসোয়ার আর কতদিন উপরে চড়ে থাকবে?
না হয় খানসা-র মত হও, যাঁর চারটি ছেলে আল্লাহ-র রাস্তায় শহীদ হয়ে যায়। তাঁদের শাহাদতের উপর তিনি বলেছিলেন, সেই আল্লাহ-র শোকর, যিনি আমাকে তাঁর রাস্তায় শাহাদত লাভকারীদের মা হওয়ার মর্যাদা নসীব করেছেন।
এসব মহান নারীদের জীবনচরিত অধ্যয়ন করো এবং তাদের ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডের উপর দৃষ্টিপাত করো।
প্রভাত বায়ু থেকে নম্রতা, মেশক থেকে খোশবু এবং পাহাড় থেকে দৃঢ়তা ও অবিচলতার বৈশিষ্ট্য শিক্ষা করো।
📄 এই নীচু জমীনে আসমান হয়ে থাকো
সৌন্দর্যের বেলায় তুমি সূর্যের চেয়েও ঊর্ধ্বে; সুগন্ধির ক্ষেত্রে উদ, মেশক ও গোলাপের চেয়েও উত্তম; ইজ্জত ও আব্রুর ক্ষেত্রের চাঁদের চেয়েও উঁচু ও উন্নত এবং মায়া, মমতা ও ভালোবাসার ক্ষেত্রে মুষলধারার বৃষ্টির চেয়েও বেশি। ঈমানের সাথে নিজের সৌন্দর্য হেফাযত করো। অল্পেতুষ্টির মাধ্যমে হেফাযত করো আল্লাহ-র সন্তুষ্টি; হেজাবের মাধ্যমে পবিত্রতা ও সতীত্ব। তোমার অলঙ্কার সোনা, রূপা, হীরা ও জহরত থেকে বানানো নয়; বরং তোমার অলঙ্কার হচ্ছে শেষরাতের দুই রাকাত সালাত; আল্লাহ-র উদ্দেশ্যে পালনকৃত রোযা ও গোপন সদকা, যার খবর আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তোমার অলঙ্কার তপ্ত অশ্রু দিয়ে চেহারার উযু, যা গুনাহখাতা ধুয়ে ফেলে। বন্দেগীর বিছানায় দীর্ঘ সেজদা এবং আল্লাহ থেকে শরম ও লজ্জা, যখন শয়তান খারাপ কাজের উৎসাহ দেয় এবং পাপের দিকে আকর্ষণ করে।
মূল্যবান ও খুবসুরত লেবাস হচ্ছে তাকওয়ার লেবাস। এই লেবাস পরিধান করো, তা হলে নিঃসন্দেহে তুমি দুনিয়ার সবচেয়ে সুন্দরী হয়ে যাবে, চাই তোমার বাহ্যিক লেবাস মামুলী, ফাটা ও পুরোনোই হোক না কেন।
ইজ্জত-আব্রুর গাউন পরিধান করো। কেননা, তুমি দুনিয়ার সবচেয়ে সম্মানীতা নারী, যদিও বাহ্যত তোমার পায়ে জুতো নেই।
খবরদার! কাফেরা, ফাজেরা, সাহেরা ও আবু বিক্রেতা নারীদের বাহ্যিক জাঁকজমক দেখে তোমার চোখ যেন ধাঁধায় না পড়ে। কেননা, তারা জাহান্নামের ইন্ধন হতে চলেছে।
সেই আগুনে শুধু তাদেরকেই দগ্ধ করা হবে, যারা হতভাগা। [৯২:১৫]
তুমি জীবনের প্রতিটি মোড়ে আঁধারের মুখোমুখি হবে। নিজের মধ্যে হেদায়েতের মশাল জ্বেলে নেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই।