📄 আমাদের আনন্দ তাদের থেকে ভিন্ন
তোমাকে কে বলেছে যে, নষ্ট মিউজিক, আখলাক বিনাশী গান, কুরুচিপূর্ণ নাটক এবং অশ্লীল ফিল্ম সুখ ও আনন্দ সৃষ্টি করতে পারে? একথা তোমাকে যে বলেছে, সে সরাসরি মিথ্যা বলেছে।
এসব উপকরণ দুর্ভাগ্যের কারণ; অনিষ্টের মাধ্যম এবং দুঃখবেদনা, অস্থিরতা ও পেরেশানীর দরজা। যেমন, সেইসব ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, এই ঘন আঁধারের ভিতরে যাদের জীবন অতিবাহিত হয়েছে এবং তারা এগুলো থেকে তওবা করে সঠিক পথ অবলম্বন করেছেন। সুতরাং তুমি এই নৈরাশ্য ও ব্যর্থতার জীবন থেকে বাঁচো, যা অনর্থক, অহেতুক ও বেকার এবং যা আল্লাহ-র সীরাতে মুস্তাকীম থেকে সরিয়ে দেয়।
কুরআন কারীমের দিকে আগমন করো। এই গ্রন্থ তেলাওয়াত করে আল্লাহ-র ভয় হাসিল করো এবং এই কিতাব পাঠ করে উপকৃত হও। উন্নত উপদেশ, শিক্ষণীয় বক্তৃতা, উপকারী দানসদকা ও খাঁটি তওবার দ্বারা জীবন সাজাও। আসো, আধ্যাত্মিক মজলিস ও আল্লাহ-র যিকিরের মাধ্যমে ঈমান তাজা করো। আল্লাহ-র দিকে ফিরে আসো, যাতে তোমার দিল স্বস্তি, সাহস ও নিরাপত্তায় ভরে ওঠে।
সুস্থ হৃদয় শিরক, ধোঁকা, প্রতারণা, হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে পবিত্র থাকে।
📄 চড়ে বসো মুক্তির তরীতে
আমি চলচ্চিত্রের কয়েক ডজন নায়ক-নায়িকা, নর্তক-নর্তকী ও গায়ক-গায়িকার গল্প পড়েছি, যারা অনর্থক, বেহুদা ও বেকার কাজে জীবন বরবাদ করেছে। যাদের কিছু মারা গেছে; আর কিছু এখনও জীবিত আছে। আমি বলেছি, হায় আফসোস! কোথায় মুসলিম-মুসলিমা, মুমিন-মুমিনা, সাচ্চা নারী-পুরুষ; রোযাদার, এই মূল্যবান ও সংক্ষিপ্ত জীবন কি এমনই অনর্থক ও বেহুদা কাজের মধ্যে ব্যয় করার জন্য? আমাদের জীবন কি শুধু এজন্যই যে, তা পাপ ও অসার কাজে ক্ষয় করা হবে? তোমার কাছে কি এই জীবন বাদে আর কোন জীবন আছে? এই দিনগুলো ছাড়াও কি তোমার কাছে আরও দিন আছে? তুমি কি আল্লাহর কাছ থেকে ওয়াদা-অঙ্গীকার নিয়ে রেখেছ যে, তোমার মৃত্যু হবে না?
কক্ষণও নয়। আল্লাহ -র কসম! এগুলো সব মিথ্যা। জল্পনা-কল্পনা আর ব্যর্থ তামান্না ও আরজু। নিজের হিসাব-নিকাশ করো এবং নিজের জীবনের একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরী করো। কঠিন পরিশ্রম করো। ভুলত্রুটি থেকে বাঁচতে চেষ্টা করো এবং হকের কাফেলায় যোগ দিয়ে মুক্তির তরণীতে সওয়ার হয়ে যাও।
একজন বুদ্ধিমতী নারী ঊষর মরুভূমিকে দৃষ্টিনন্দন পুষ্পকাননে পরিণত করে।
📄 সৌভাগ্যের চাবি হচ্ছে সেজদা
ভাগ্য নামক গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠা, আর প্রতিদিনের আবশ্যিক কর্মসূচি প্রথম কাজ হচ্ছে ফজরের সালাত। তুমি দিনের শুভসূচনা ও কাজকর্মের যাত্রা ফজরের সালাতের মাধ্যমে করো। এতে তুমি আল্লাহ্ প্রদত্ত নিরাপত্তা, তাঁর হেফাযত, তাঁর অনুগ্রহ, তাঁর যিম্মাদারী ও তাঁর আশ্রয়ে এসে পড়বে এবং সব ধরণের অপ্রীতিকর অবস্থা থেকে সুরক্ষিত থাকবে। সর্বপ্রকার ফযীলত ও খায়েরের নির্দেশনা পাবে। তোমার থেকে সবধরণের মন্দ বিষয় ছিনিয়ে নেওয়া হবে। সেই দিনে কোন খায়র ও বরকত নেই, ফযরের সালাতের মাধ্যমে যার সূচনা হয় না। সেই দিনটিতে আল্লাহ্ সজীবতা দান করেন না, ফজরের সালাতের মাধ্যমে যার প্রভাত হয় না। এটা কবুল হওয়ার প্রথম আলামত এবং সাফল্য নামক গ্রন্থের নামও এ-ই। ইজ্জত, দৃঢ়তা, সাফল্য, সৌভাগ্য, বিজয় ও সহায়তার এটাই নিদর্শন। মুবারকবাদ তার জন্য, যে (জামাতের সাথে) ফজরের সালাত পড়ে এবং সুসংবাদ সেই নারীর জন্য, যে ফজরের সালাতের এহতেমাম করে। তার চোখ শীতল হোক, যে ফজরের সালাত আদায় করে এবং এই সালাত হেফাযত করে।
ব্যর্থতা, দুর্ভাগ্য ও হতাশা ওই ব্যক্তির জন্য, যে ফজরের সালাত বরবাদ করে দেয়।
অনর্থক বিতর্ক, অসার কথাবার্তা অন্তরের পরিচ্ছন্নতা ও স্বস্তি নষ্ট করে দেয়।
📄 জানবায বাহাদুর জন্ম দিয়েছেন যারা
হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের সামনে সাহস ও হিম্মত করে বিতর্ককারিণী এবং আল্লাহ-র উপর ভরসাকারিণী নারীর মত হও, যাঁর ছেলেকে হাজ্জাজ কয়েদ করেছিলেন এবং তিনি কসম করে বলেছিলেন, আমি তোমার ছেলেকে অবশ্যই হত্যা করে দিব। উত্তরে এই নারী বলেছিলেন, তুমি যদি তাঁকে হত্যা না-ও কর, তা হলেও সে কোন একদিন মারা যাবে।
এই নারীর মত হও, আল্লাহ-র উপর যার অটল বিশ্বাস ছিল। যখন তার মুরগী খোপের ভিতর গিয়ে দৃষ্টির বাইরে চলে যেত, তখন তিনি আসমানের দিকে তাকিয়ে দোআ করতেন, হে আল্লাহ! আমার মুরগীর খোপ হেফাযত করো। তুমি সর্বোত্তম হেফাযতকারী।
আসমা বিনতে আবু বকর-র মত ঈমানী শক্তির উৎসে পরিণত হও। যখন তাঁর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে যোবায়েরকে শহীদ করার পর তাঁর লাশ শূলিতে চড়ানো হয়েছিল, তখন তিনি এই ঐতিহাসিক বাক্য বলেছিলেন, অবশেষে এই শাহসোয়ার আর কতদিন উপরে চড়ে থাকবে?
না হয় খানসা-র মত হও, যাঁর চারটি ছেলে আল্লাহ-র রাস্তায় শহীদ হয়ে যায়। তাঁদের শাহাদতের উপর তিনি বলেছিলেন, সেই আল্লাহ-র শোকর, যিনি আমাকে তাঁর রাস্তায় শাহাদত লাভকারীদের মা হওয়ার মর্যাদা নসীব করেছেন।
এসব মহান নারীদের জীবনচরিত অধ্যয়ন করো এবং তাদের ঐতিহাসিক কর্মকাণ্ডের উপর দৃষ্টিপাত করো।
প্রভাত বায়ু থেকে নম্রতা, মেশক থেকে খোশবু এবং পাহাড় থেকে দৃঢ়তা ও অবিচলতার বৈশিষ্ট্য শিক্ষা করো।