📄 কামিয়াব জীবনের জন্য সময়সূচি বানিয়া নাও
কোন ভালো পুস্তক পড়ো, অথবা কোন ভালো অডিও লেকচার শোনো। আল্লাহ-র কিতাবের তেলাওয়াত শোনো। সম্ভাবনা আছে যে, কোন একটি আয়াত তোমার অন্তরের গভীরে প্রবেশ করবে; তোমার হৃদয়কে জাগ্রত করে দিবে; তোমাকে হেদায়েতের নূর দিয়ে আলোকিত করবে এবং তোমার অন্তরে যেসব শকসন্দেহ আছে, তা খতম হয়ে যাবে। এরপর রসুলুল্লাহ -এর সুন্নত জানার জন্য হাদীসের সংকলন, যেমন, রিয়াজুস সালেহীন পড়ো। এর মধ্যে রূহানী রোগব্যাধির প্রকৃত চিকিৎসা পাবে এবং অনেক মাসআলার সমাধান পেয়ে যাবে। এই কিতাব থেকে যে জ্ঞান তুমি লাভ করবে, তা তোমাকে ভুলত্রুটি থেকে হেফাযত করবে এবং তোমার অনেক সমস্যার সমাধান করে দিবে। কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফের অধ্যয়ন তোমার বিভিন্ন রোগব্যাধির চিকিৎসা। তোমার স্বস্তি হচ্ছে ঈমান, তোমার চোখের প্রশান্তি হচ্ছে সালাত আর তোমার হৃদয়ের নিরাপত্তা হচ্ছে কিসমতের উপর সন্তুষ্টি। তোমার হৃদয়ের স্বস্তি রয়েছে অল্পেতুষ্টির মধ্যে এবং তোমার চেহারার সৌন্দর্য রয়েছে হাস্যোজ্জ্বল চেহারার মধ্যে। তোমার আব্বুর হেফাযত পর্দার মধ্যে এবং হৃদয়ের প্রশান্তি আল্লাহ-র যিকিরের মধ্যে।
মযলুমের বদদোআ ও মাহরুমের অশ্রু থেকে বাঁচো।
📄 আমাদের আনন্দ তাদের থেকে ভিন্ন
তোমাকে কে বলেছে যে, নষ্ট মিউজিক, আখলাক বিনাশী গান, কুরুচিপূর্ণ নাটক এবং অশ্লীল ফিল্ম সুখ ও আনন্দ সৃষ্টি করতে পারে? একথা তোমাকে যে বলেছে, সে সরাসরি মিথ্যা বলেছে।
এসব উপকরণ দুর্ভাগ্যের কারণ; অনিষ্টের মাধ্যম এবং দুঃখবেদনা, অস্থিরতা ও পেরেশানীর দরজা। যেমন, সেইসব ব্যক্তি স্বীকার করেছেন, এই ঘন আঁধারের ভিতরে যাদের জীবন অতিবাহিত হয়েছে এবং তারা এগুলো থেকে তওবা করে সঠিক পথ অবলম্বন করেছেন। সুতরাং তুমি এই নৈরাশ্য ও ব্যর্থতার জীবন থেকে বাঁচো, যা অনর্থক, অহেতুক ও বেকার এবং যা আল্লাহ-র সীরাতে মুস্তাকীম থেকে সরিয়ে দেয়।
কুরআন কারীমের দিকে আগমন করো। এই গ্রন্থ তেলাওয়াত করে আল্লাহ-র ভয় হাসিল করো এবং এই কিতাব পাঠ করে উপকৃত হও। উন্নত উপদেশ, শিক্ষণীয় বক্তৃতা, উপকারী দানসদকা ও খাঁটি তওবার দ্বারা জীবন সাজাও। আসো, আধ্যাত্মিক মজলিস ও আল্লাহ-র যিকিরের মাধ্যমে ঈমান তাজা করো। আল্লাহ-র দিকে ফিরে আসো, যাতে তোমার দিল স্বস্তি, সাহস ও নিরাপত্তায় ভরে ওঠে।
সুস্থ হৃদয় শিরক, ধোঁকা, প্রতারণা, হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে পবিত্র থাকে।
📄 চড়ে বসো মুক্তির তরীতে
আমি চলচ্চিত্রের কয়েক ডজন নায়ক-নায়িকা, নর্তক-নর্তকী ও গায়ক-গায়িকার গল্প পড়েছি, যারা অনর্থক, বেহুদা ও বেকার কাজে জীবন বরবাদ করেছে। যাদের কিছু মারা গেছে; আর কিছু এখনও জীবিত আছে। আমি বলেছি, হায় আফসোস! কোথায় মুসলিম-মুসলিমা, মুমিন-মুমিনা, সাচ্চা নারী-পুরুষ; রোযাদার, এই মূল্যবান ও সংক্ষিপ্ত জীবন কি এমনই অনর্থক ও বেহুদা কাজের মধ্যে ব্যয় করার জন্য? আমাদের জীবন কি শুধু এজন্যই যে, তা পাপ ও অসার কাজে ক্ষয় করা হবে? তোমার কাছে কি এই জীবন বাদে আর কোন জীবন আছে? এই দিনগুলো ছাড়াও কি তোমার কাছে আরও দিন আছে? তুমি কি আল্লাহর কাছ থেকে ওয়াদা-অঙ্গীকার নিয়ে রেখেছ যে, তোমার মৃত্যু হবে না?
কক্ষণও নয়। আল্লাহ -র কসম! এগুলো সব মিথ্যা। জল্পনা-কল্পনা আর ব্যর্থ তামান্না ও আরজু। নিজের হিসাব-নিকাশ করো এবং নিজের জীবনের একটি নতুন পরিকল্পনা তৈরী করো। কঠিন পরিশ্রম করো। ভুলত্রুটি থেকে বাঁচতে চেষ্টা করো এবং হকের কাফেলায় যোগ দিয়ে মুক্তির তরণীতে সওয়ার হয়ে যাও।
একজন বুদ্ধিমতী নারী ঊষর মরুভূমিকে দৃষ্টিনন্দন পুষ্পকাননে পরিণত করে।
📄 সৌভাগ্যের চাবি হচ্ছে সেজদা
ভাগ্য নামক গ্রন্থের প্রথম পৃষ্ঠা, আর প্রতিদিনের আবশ্যিক কর্মসূচি প্রথম কাজ হচ্ছে ফজরের সালাত। তুমি দিনের শুভসূচনা ও কাজকর্মের যাত্রা ফজরের সালাতের মাধ্যমে করো। এতে তুমি আল্লাহ্ প্রদত্ত নিরাপত্তা, তাঁর হেফাযত, তাঁর অনুগ্রহ, তাঁর যিম্মাদারী ও তাঁর আশ্রয়ে এসে পড়বে এবং সব ধরণের অপ্রীতিকর অবস্থা থেকে সুরক্ষিত থাকবে। সর্বপ্রকার ফযীলত ও খায়েরের নির্দেশনা পাবে। তোমার থেকে সবধরণের মন্দ বিষয় ছিনিয়ে নেওয়া হবে। সেই দিনে কোন খায়র ও বরকত নেই, ফযরের সালাতের মাধ্যমে যার সূচনা হয় না। সেই দিনটিতে আল্লাহ্ সজীবতা দান করেন না, ফজরের সালাতের মাধ্যমে যার প্রভাত হয় না। এটা কবুল হওয়ার প্রথম আলামত এবং সাফল্য নামক গ্রন্থের নামও এ-ই। ইজ্জত, দৃঢ়তা, সাফল্য, সৌভাগ্য, বিজয় ও সহায়তার এটাই নিদর্শন। মুবারকবাদ তার জন্য, যে (জামাতের সাথে) ফজরের সালাত পড়ে এবং সুসংবাদ সেই নারীর জন্য, যে ফজরের সালাতের এহতেমাম করে। তার চোখ শীতল হোক, যে ফজরের সালাত আদায় করে এবং এই সালাত হেফাযত করে।
ব্যর্থতা, দুর্ভাগ্য ও হতাশা ওই ব্যক্তির জন্য, যে ফজরের সালাত বরবাদ করে দেয়।
অনর্থক বিতর্ক, অসার কথাবার্তা অন্তরের পরিচ্ছন্নতা ও স্বস্তি নষ্ট করে দেয়।