📄 পীড়াদায়ক প্রাচুর্যের চেয়ে সুখকর সামান্য ভালো
তোমার জীবনের সেই অংশ অত্যন্ত মূল্যবান, যার মধ্যে আনন্দ, খুশি ও অন্তরের স্বস্তি শামিল রয়েছে। সেই জীবন অত্যন্ত দামী, যা অল্পেতুষ্টির সাথে অতিবাহিত হয়। জীবনের যে অংশ লোভ- লালসা ও দুনিয়া অনুসন্ধানের ধান্ধায় অতিবাহিত হয়েছে, তা বেকার। সেটা তোমার সুস্থতা, স্বস্তি, সৌন্দর্য ও কমনীয়তার জন্য ক্ষতিকর। অল্পেতুষ্টির জীবন আল্লাহ পছন্দ করেন, সেটাই তুমি গ্রহণ করো। আল্লাহ-র তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকো এবং তার নির্ধারিত কিসমতের উপর রাজী থাকো। ভবিষ্যতের ব্যাপারে আশাবাদী হও।
প্রজাপতির মত হও, যা খুবই হাল্কা-পাতলা; কিন্তু দেখতে খুবই খোশনমা ও খুবসুরত। অন্যের বস্তু নিয়ে তার কোন মাথাব্যথা নেই। এক ফুল থেকে অন্য ফুলে উড়ে বেরায়; এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে গমন করে; এক বাগান থেকে অন্য বাগানে ঘুরে বেরায়। অন্যথায় মৌমাছির মত হও। সে শুধু ফুলের পরিচ্ছন্ন রসই চোষে। যে রস সুস্বাদু ও আরোগ্য দানকারী। মৌমাছি যখন গাছের ডালে বসে, তখন সেটাকে ভেঙে ফেলে না। সে সুস্বাদু শরবত পান করে; কিন্তু কোনপ্রকার কষ্ট দেয় না। মহব্বতের সাথে রস সংগ্রহ করে এবং সম্প্রীতির পরিচয় দেয়। আনন্দ ছড়ায় এবং খুশি বিলি করে। কেমন যেন মৌমাছি একটি জান্নাতী সৃষ্টি, যা আসমান থেকে জমীনে নেমেছে সম্প্রীতির মিঠাই বিতরণ করার জন্য।
আল্লাহ তওবাকারীদের পছন্দ করেন। কেননা, তারা আল্লাহ-র দিকে ফিরে আসে এবং সর্বাবস্থায় তাঁর শোকর আদায় করে।
📄 দেখো মেঘমালার দিকে জমীনের দিকে নয়
উন্নত সাহস অবলম্বন করো। উপরের দিকে উঠতে থাকো এবং সবসময় আশাবাদী থাকো; ব্যর্থতার চিন্তা কখনও মাথায় এনো না। নিরাশার কথা মস্তিষ্ক থেকে ঝেড়ে ফেলে দাও। তোমার জানা থাকা উচিত যে, জীবনের মুহূর্ত আর মিনিটগুলোর সম্মিলিত রূপই হচ্ছ তুমি। পিঁপড়ার মত পরিশ্রম করো এবং সবর, ধৈর্য ও অবিচলতা অবলম্বন করো। নিজের প্রচেষ্টায় সবসময় লেগে থাকো এবং তওবাও করতে থাকো। যদি একবার গুনাহ হয়ে যায়, তা হলে শতবার তওবা করতে থাকো। কুরআন মাজীদ মুখস্ত করো। যদি একবার ভুলে যাও, তা হলে বার বার ইয়াদ করো- দুইবার, চারবার, দশবার...। গুরুত্বপূর্ণ কথা হচ্ছে, তুমি কোন পর্যায়ে নিজেকে নিরাশ ও ব্যর্থ মনে কোরো না। কেননা, ইতিহাস শেষ হরফ জানে না এবং বিবেক কোন বস্তুর পরিসমাপ্তি অনুমোদন করে না; বরং এসলাহ ও সংশোধনের অবকাশ থাকে সবসময়। তাজরেবা করা, ঠোকর খাওয়া এবং নিজের ভুলত্রুটি থেকে সবক গ্রহণ করা- ইনসানের সাথে সংযুক্ত বিষয়। জীবন একটি দেহের মত। যদি তাতে কোন রোগ দেখা দেয়, তা হলে অপারেশনের মাধ্যমে ঠিক করা যেতে পারে। একইভাবে জীবন একটি এমারতের মত। যদি এমারত জীর্ণ হয়ে পড়ে, তা হলে সেটা মেরামত, সংস্কার ও পরিপাটি করা সম্ভব এবং তাতে রং-রওগন লাগিয়ে নতুন রূপ দেওয়া যেতে পারে।
ব্যর্থতার চিন্তা দিল থেকে বের করে দাও। অসুখের ভাবনা মস্তিষ্ক থেকে ঝেড়ে ফেলো। পেরেশানী ও মসিবতের ব্যাপার চিন্তা করা বাদ দাও। আল্লাহ বলেন-
আল্লাহর উপর ভরসা রাখো, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো। [৫:২৩]
গুনাহ বর্জন করা একটি জেহাদ; গুনাহের উপর অটল থাকা সত্যের সাথে বিদ্রোহের শামিল।
📄 ঈমানের সাথে কুঁড়ে ঘর কুফরের সাথে প্রাসাদ থেকে উত্তম
একজন মুমিনা ঝুঁপড়ির মধ্যে বাস করে এবং স্রষ্টার এবাদত করে। পাঞ্জেগানা সালাত আদায় করে। রযামান মাসের সিয়াম পালন করে। সে ওই অমুসলিম নারীর চেয়ে উত্তম, যে বিলাসবহুল অট্টালিকায় বাস করে এবং তার কাছে চাকর-বাকর আর সুখ-সাচ্ছন্দ্যের যাবতীয় ব্যবস্থা আছে। এক মুমিন নারী, যে তাঁবুতে বাস করে, জবের রুটি খায়, মাটির কলসি থেকে পানি পান করে; কিন্তু তার কাছে কুরআন কারীম, তাসবীহ আছে, সে ওই নারী থেকে হাজার মর্তবায় উত্তম, যে সুউচ্চ বালাখানায় মখমলের বিছানায় ঘুমায়। তবে হতভাগী নিজের স্রষ্টাকে চেনে না; নিজের মাওলাকে ইয়াদ করে না এবং প্রিয় নবীর এত্তেবা করে না। তোমার জানা থাকা উচিত যে, সৌভাগ্যের হাকীকত কী এবং প্রকৃত সুখ কোথায়? সুখের অর্থ সেটা নয়, যা বেশিরভাগ মানুষ বোঝে। বেশিরভাগ মানুষ একে সংক্ষিপ্ত ও সীমিত অর্থে ব্যবহার করে থাকে। তারা সুখের পরিমাপ করে ডলার, রিয়াল, রুপি ও টাকার মাধ্যমে। তারা দামী লেবাস, বিছানা, খাবার-দাবার, খুবসুরত বাড়ি, চকচকে গাড়ি এবং এ জাতীয় জিনিসপত্রের মধ্যে তালাশ করে। কক্ষণও নয়; কক্ষণও নয়, প্রকৃত সুখ হচ্ছে অন্তরের সুখ, হৃদয়ের স্বস্তি ও রূহানী সাচ্ছন্দ্য। প্রকৃত সুখ দিল ও দেমাগের স্বস্তি ও প্রশান্তি। এক মুমিনার জন্য নেক আমল, উত্তম চরিত্র, অল্পেতুষ্টি, অটুট দৃঢ়তা এবং পরিমাণমত জীবনোপকরণের উপর সন্তুষ্টি ও স্বস্তি যথেষ্ট।
সেই ব্যক্তি কীভাবে সুখী ও সুস্থ থাকতে পারে, যে আল্লাহ-র কোন বান্দা বা কোন মুসলমানকে কষ্ট দেয়?
📄 কামিয়াব জীবনের জন্য সময়সূচি বানিয়া নাও
কোন ভালো পুস্তক পড়ো, অথবা কোন ভালো অডিও লেকচার শোনো। আল্লাহ-র কিতাবের তেলাওয়াত শোনো। সম্ভাবনা আছে যে, কোন একটি আয়াত তোমার অন্তরের গভীরে প্রবেশ করবে; তোমার হৃদয়কে জাগ্রত করে দিবে; তোমাকে হেদায়েতের নূর দিয়ে আলোকিত করবে এবং তোমার অন্তরে যেসব শকসন্দেহ আছে, তা খতম হয়ে যাবে। এরপর রসুলুল্লাহ -এর সুন্নত জানার জন্য হাদীসের সংকলন, যেমন, রিয়াজুস সালেহীন পড়ো। এর মধ্যে রূহানী রোগব্যাধির প্রকৃত চিকিৎসা পাবে এবং অনেক মাসআলার সমাধান পেয়ে যাবে। এই কিতাব থেকে যে জ্ঞান তুমি লাভ করবে, তা তোমাকে ভুলত্রুটি থেকে হেফাযত করবে এবং তোমার অনেক সমস্যার সমাধান করে দিবে। কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফের অধ্যয়ন তোমার বিভিন্ন রোগব্যাধির চিকিৎসা। তোমার স্বস্তি হচ্ছে ঈমান, তোমার চোখের প্রশান্তি হচ্ছে সালাত আর তোমার হৃদয়ের নিরাপত্তা হচ্ছে কিসমতের উপর সন্তুষ্টি। তোমার হৃদয়ের স্বস্তি রয়েছে অল্পেতুষ্টির মধ্যে এবং তোমার চেহারার সৌন্দর্য রয়েছে হাস্যোজ্জ্বল চেহারার মধ্যে। তোমার আব্বুর হেফাযত পর্দার মধ্যে এবং হৃদয়ের প্রশান্তি আল্লাহ-র যিকিরের মধ্যে।
মযলুমের বদদোআ ও মাহরুমের অশ্রু থেকে বাঁচো।