📄 অনেকের চেয়ে তুমি উত্তম
দুনিয়ার উপর একটি ক্ষিপ্র দৃষ্টি নিক্ষেপ করো। দেখবে, হাসপাতালে অসংখ্য রোগী পড়ে আছে, যারা অনেক ব্যথাবেদনার শিকার এবং বছরের পর বছর থেকে এই মসিবতে লিপ্ত আছে। এদিকে জেলখানার দিকে তাকাও, সেখানে হাজার হাজার লোক শিকের আড়ালে জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো বন্দীহিসেবে অতিবাহিত করছে। তাদের জীবন বরবাদ হয়ে গেছে এবং তাদের সুখ হারিয়ে গেছে। মানসিক হাসপাতালে অসংখ্য রোগী আছে, যারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তাদের বিবেক কোন কাজ করে না, এজন্য তাদেরকে পাগল সাব্যস্ত করা হয়েছে। এখানে কি এমন অনেক গরীব-মিসকীন নেই, যারা তাঁবু ও ঝুঁপড়ির মধ্যে বসবাস করে এবং খাওয়ার জন্য রুটির একটি টুকরা সহজে পায় না? দুনিয়াতে কি এমন নারী নেই, যার ছেলেমেয়ে একসাথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মায়ের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করেছে? এমন নারী কি নেই, যার দৃষ্টিশক্তি চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে, অথবা যার শ্রবণশক্তি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, অথবা যার হাত-পা বিকল হয়ে গেছে, অথবা যার মস্তিষ্কের ভারসাম্য খতম হয়ে গেছে, কিংবা ক্যান্সারের মত যার দূরারোগ্য কোন অসুখ হয়েছে?
কিন্তু তোমার শরীর স্বাভাবিক আছে এবং তোমার স্বাস্থ্য ভালো আছে। তুমি সহীহ-সালামতে খুশি ও স্বস্তির সাথে জীবন যাপন করছ। তুমি এসব নেয়ামতের জন্য আল্লাহ -র সামনে সেজদায়ে শোকর আদায় করো এবং নিজের সময় এমন কোন কাজে নষ্ট কোরো না, যেগুলোতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। টেলিভিশনের ওইসব চ্যানেল খুলে বোসো না, যেগুলোতে বেহুদা, অশ্লীল ও আহম্মকী প্রোগ্রাম পরিবেশন করা হয়, যেগুলো রূহকে অসুস্থ করে তোলে; যেগুলোর কারণে দুঃখ ও পেরেশানী বৃদ্ধিই পায় এবং যেগুলোর কারণে মানুষ এমন অলস হয়ে পড়ে যে, সে নিজের কাজ আঞ্জাম দিতেও হিমশিম খায়। হাঁ, সেগুলোর পরিবর্তে দীনী বক্তৃতা, কনফারেন্স, চিকিৎসাবিষয়ক প্রোগ্রাম, মুসলিম উম্মাহর সংবাদ, অথবা এজাতীয় কোন পরিবেশনা দেখতে পার। বেকার, অনর্থক ও অশ্লীল প্রোগ্রাম দেখা থেকে বিরত থাকো, যেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়, যেগুলোর কারণে শরম, লজ্জা, পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও দীনদারী নষ্ট হতে থাকে।
জালেমদের আখেরাতের জন্য ছেড়ে দাও। যেখানে আল্লাহ ছাড়া আর কোন বিচারক থাকবে না।
📄 জান্নাতে নিজের বালাখানা নির্মাণ করো
দেখো, মানুষের কত প্রজন্ম অতিবাহিত হয়ে গেছে। তারা কি নিজের সঙ্গে ধনসম্পদ নিয়ে গেছে? খুবসুরত দালান নিয়ে গেছে? বিরাট পদমর্যাদা সঙ্গে নিয়ে গেছে? সোনারূপার ভাণ্ডার নিয়ে গেছে? নিয়ে গেছে কি তারা গাড়ির বহর আর উড়োজাহাজ? না; কিছুতেই নয়। পরিধানের কাপড় পর্যন্ত ছেড়ে গেছে তারা। শুধু কাফন জড়িয়ে তাদেরকে কবরে দাফন করা হয়েছে। সেখানে তাদেরকে জিজ্ঞাস করা হয়েছে নানান প্রশ্ন- তোমার রব কে? তোমার নবী কে? তোমার ধর্ম কী? সুতরাং সেই দিনের প্রস্তুতি গ্রহণ করো এবং দুনিয়ার ধনসম্পদের জন্য দুঃখ ও আফসোস কোরো না। কেননা, এগুলো তুচ্ছ এবং ধ্বংস হওয়ার মত বস্তু। বাকি থাকবে শুধু নেক আমল। আল্লাহ বলেন-
যে ব্যক্তি নেক আমল করবে, সে পুরুষ হোক অথবা নারী- শর্ত হচ্ছে সে মুমিন, আমি দুনিয়াতে তাকে পরিচ্ছন্ন জীবন যাপন করাব। এবং (আখেরাতে) এমন লোকদেরকে তাদের প্রতিদান তাদের উত্তম আমল মোতাবেক প্রদান করব। [১৬ : ৯৮]
অসুখ একটি আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। সুস্থতা একটি অলঙ্কার, যার মূল্য দিতে হয়।
📄 নিজ হাতে চুর্ণ কোরো না নিজের হৃদয়
মনসব জিনিস পরিত্যাগ করো, যেগুলো তোমার সময় নষ্ট করে দেয়। রুচিহীন বিষয়বস্তু সম্বলিত পত্রপত্রিকা, নগ্ন ছবি, বাজে চিন্তাচেতনা, অশ্লীল সাহিত্য, কুরুচিপূর্ণ গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি। তোমার জন্য আবশ্যক মুফীদ ও উপকারী জিনিসপত্র গ্রহণ করা। যেমন, ইসলামী পত্রপত্রিকা, উপকারী বইপুস্তক, দরকারী বিষয়বস্তু এবং এমনসব প্রবন্ধ-নিবন্ধ, যেগুলো মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহানে ফায়দা দেয়। একথা বলছি, তার কারণ, কিছু কিছু বইপুস্তক ও প্রবন্ধ-নিবন্ধ মানুষের মাথায় শকসন্দেহ সৃষ্টি করে এবং অন্তরে অস্বস্তি ও বক্রতা জন্ম দেয়। এগুলো ধর্মহীন তামাদ্দুন ও অপসংস্কৃতির বিষফল, যা অমুসলিম বিশ্ব থেকে আমাদের এখানে আমদানী করা হয়েছে এবং সেগুলো পুরো মুসলিম বিশ্ব গ্রাস করে ফেলেছে।
মনে রেখো, আল্লাহ ﷻ-র কাছে রয়েছে গায়েবের ধনভাণ্ডারের চাবি এবং তিনিই একমাত্র সত্তা, যিনি দুঃখ, বেদনা, অস্বস্তি ও পেরেশানী দূর করতে পারেন। তিনি চিরঞ্জীব এবং তিনি দোআ শ্রবণকারী। তাঁর সামনে দোআর হাত মেলে ধরো এবং বার বার ও সবসময় এই দোআ করতে থাকো-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الهَمِّ وَالْحَزْنِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالبَخْلِ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْ غَلَبَةِ الدَّيْنِ وَقَهْرِ الرِّجَالِ
হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই দুশ্চিন্তা ও পেরেশানী থেকে; অপারগতা ও অলসতা থেকে। তোমার কাছে পানাহ চাই কৃপণতা, ভীরুতা, ঋণের ভার ও মানুষের প্রভাব থেকে।
যখন তুমি এই শব্দগুলো আওড়াতে থাকবে এবং চিন্তা করতে থাকবে এগুলোর অর্থ নিয়ে, তখন দেখবে, দুঃখ ও পেরেশানী দূর হয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ্-র ইচ্ছায় তোমার অবস্থা উন্নত হতে থাকবে।
প্রতি মুহূর্তে আল্লাহ্-র যিকির, প্রতি মিনিটে উত্তম ফিকির এবং প্রতি ঘণ্টায় কোন উত্তম আমলের নিয়ম প্রতিষ্ঠা করো।
📄 তোমার সবকিছু রবের হাতে
সংবাদ গ্রহণ করো। কেননা, আল্লাহ তোমার জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন। তিনি নিজেই বলেছেন-
তাদের রব জওয়াবে বললেন, আমি তোমাদের মধ্য থেকে কোন আমলকারীর আমল বরবাদ করব না, চাই সে পুরুষ হোক অথবা নারী। [৩:১৯৫]
আল্লাহ যেমনইভাবে পুরুষদের কাছে ওয়াদা করেছেন; তেমনইভাবে নারীদের কাছেও ওয়াদা করেছেন। তিনি যেমনইভাবে পুরুষদেরকে প্রশংসা করেছেন; তেমনইভাবে নারীদেরও প্রশংসা করেছেন-
নিশ্চয়ই যেসব পুরুষ ও নারী মুসলিম, মুমিন, অনুগত, সত্যবাদী, ধৈর্যশীল, আল্লাহর সামনে মাথানতকারী, সদকা প্রদানকারী, সিয়াম পালনকারী, নিজের লজ্জাস্থান হেফাযতকারী এবং আল্লাহকে খুব বেশি স্মরণকারী, আল্লাহ তাদের জন্য মাগফেরাত ও মহাপ্রতিদান প্রস্তুত করে রেখেছেন। [৩৩:৩৫]
এই আয়াত একথার দিকে ইঙ্গিত করে যে, নারী পুরুষের সাথী, তার বন্ধু ও জীবনের অংশীদার এবং তার প্রতিদান আল্লাহ-র কাছে সুরক্ষিত। সুতরাং তোমার জন্য আবশ্যক পরিবার ও সমাজে এমন কর্মকাণ্ডের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া, যেগুলো আল্লাহ-র সন্তুষ্টির মাধ্যম।
তুমি সমাজে একটি সুন্দর আদর্শ কায়েম করো এবং উম্মতের নতুন প্রজন্মের জন্য আলোর মিনার ও উন্নত নমুনা হয়ে যাও।
নিজের জন্য মারইয়াম, আসিয়া, খাদীজা, আয়েশা ও ফাতেমার উত্তম আদর্শকে আনুগত্যের মডেল হিসেবে গ্রহণ করো। (আল্লাহ তাঁদের সবার উপর রাজী ও সন্তুষ্ট হোন।) এঁরা দুনিয়ার নির্বাচিত নারী, যাঁরা পবিত্র মুমিনা ছিলেন। দিনের বেলায় সিয়াম পালন করতেন এবং রাতের বেলায় সালাত পড়তেন। আল্লাহ তাঁদের প্রতি রাজী ও খুশি এবং তিনি তাদেরকে মহাপ্রতিদানে পুরস্কৃত করেছেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলো এবং তাদের জীবনচরিত অবলম্বন করো। আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ, সুস্থতা, স্বস্তি ও সুখ দান করুন।
এতীমের অশ্রু মুছে দাও। আল্লাহ তোমার জন্য সন্তুষ্টি ও জান্নাতের সুখের ব্যবস্থা করবেন।