📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 তুমি মুমিন, এই মর্যাদাই তো অনেক

📄 তুমি মুমিন, এই মর্যাদাই তো অনেক


ঈমান ও ইসলাম রক্ষা করতে গিয়ে তোমার উপর দিয়ে যেসব বিপদাপদ অতিবাহিত হয়, এক আল্লাহ -এর এজাযত অনুযায়ী সেগুলো তোমার গুনাহের কাফফারা। তোমার জন্য সুসংবাদ রয়েছে। হাদীসে যেমন বর্ণিত আছে-
যদি কোন নারী নিজ প্রতিপালকের আনুগত্য করে; পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে; নিজের ইজ্জত হেফাযত করে, তা হলে সে তাঁর রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে।
এগুলো তাদের জন্য সহজ, আল্লাহ যাদের জন্য সহজ করে দেন। এই নেক কাজগুলো বাস্তবায়ন করো, তা হলে তুমি তোমার রবকে রহীম ও করীম পাবে। তিনি তোমাকে দুনিয়া ও আখেরাতে খুশি ও সৌভাগ্য দিয়ে ধন্য করবেন। যেখানেই থাক, শরীয়তের সঙ্গে থাকো এবং আল্লাহ-র কিতাব আর রসুলুল্লাহ -এর সুন্নত মজবুত করে ধরে রাখো। তুমি একজন মুসলিম নারী। এটাই মর্যাদাহিসেবে অনেক বড় কিছু এবং ফখর করার মত। যেসব নারী কাফেরদের দেশে জন্মগ্রহণ করে, তাদের অবস্থা অন্য রকম। তারা হয়তো খ্রিস্টান, ইহুদী অথবা কমিউনিস্ট। তাদের ধর্ম ও জীবনপদ্ধতি ইসলাম থেকে ব্যতিক্রম। কিন্তু আল্লাহ তোমাকে মুসলিমহিসেবে কবুল করেছেন এবং তোমাকে আখেরী রসুল মুহাম্মাদ মুস্তাফা -এর উম্মতের মধ্যে পয়দা করেছেন, যাঁর অনুসারীদের মধ্যে রয়েছেন খাদীজা, আয়েশা ও ফাতেমা । তুমি মুবারকবাদ পাওয়ার যোগ্য, কেননা, তুমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় কর; রমযান মোবারকের সিয়াম পালন কর; বাইতুল্লাহর হজ কর এবং শরীয়তের নির্দেশ মোতাবেক নিজের চেহারা ঢেকে রাখ। মুবারকবাদ তোমাকে! কেননা, তুমি আল্লাহ -কে প্রতিপালক, ইসলামকে ধর্ম এবং মুহাম্মাদ -কে রসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
তোমার দীনদারীই সোনারূপা; তোমার আখালাকই হচ্ছে তোমার অলঙ্কার এবং তোমার আদব-কায়দাই হচ্ছে তোমার ধন-সম্পদ।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 মুমিন ও কাফের নারী সমান নয়

📄 মুমিন ও কাফের নারী সমান নয়


শ্চিতভাবে তুমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করবে, যখন তুমি এখানে যেকোন এক পক্ষের দিকে দৃষ্টিপাত করবে- এক হচ্ছে মুসলিম দুনিয়ায় মুমিন নারীর দিকে; আরেক হচ্ছে কাফেরদের দেশে কাফের নারীর দিকে।
একজন মুসলিম নারী ইসলামী দুনিয়ায় ঈমানদার, সিয়াম-সালাতের পাবন্দ, পর্দানশীন ও স্বামীর অনুগত। সে তার রবকে ভয় করে; পড়সীদের উপর দয়া-অনুগ্রহ করে এবং সন্তানাদির উপর মেহেরবানী করে। এরা আল্লাহ্-র কাছে মহাপ্রতিদান পাবে বলে মুবারকবাদ পাওয়ার যোগ্য। এরা নম্র ও শান্ত।
কোন কাফের দেশের একজন কাফের নারী এর উল্টো। প্রদর্শনীসর্বস্ব, জাহেলিয়াতের ধারক ও বেকুফ। সব জায়গায় সে নিজেকে মেলে ধরে। ফলে কোথাও তার মূল্য ও সম্মান নেই। মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, শরাফত ও কদর বলতেও কিছু নেই। এই উভয়ের তুলনা করো। এই দুইয়ের মধ্যে আসলে তুলনা ও পরিমাপ করার সুযোগই নেই। তারপরও শুধু বাহ্যিক অবস্থাও যদি তুলনা কর, তা হলে তুমি আল্লাহ্-র শোকর আদায় করবে। কেননা, দেখবে যে, তার চেয়ে তুমি অনেক ভাগ্যবতী, উত্তম ও উন্নত।
মনোবল হারিয়ো না; পেরেশান হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী থাকবে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। [৩ : ১৩৯]
সমস্ত মানুষ বসবাস করে- কেউ রাজপ্রাসাদে; কেউ ঝুঁপড়িতে। তোমার কী ধারণা, এদের মধ্যে সুখী কে?

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 অলসতা ও ব্যর্থতা- অন্তরঙ্গ বন্ধু

📄 অলসতা ও ব্যর্থতা- অন্তরঙ্গ বন্ধু


আমি তোমাকে উপদেশ করছি, তুমি নিজেকে সবসময় ব্যস্ত রাখো। অলসতা ও মন্থরতাকে কাছে ঘেঁষতে দিয়ো না। নিজের ঘর ও পারিবারিক পাঠাগার হেফাযত করো। নিজের ফরয কর্তব্য ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করো। সালাত আদায় করো; তেলাওয়াত করো অথবা উপকারী গ্রন্থ-পুস্তক অধ্যয়ন করো। উপকারী অডিও শোনো। পড়সীদের সাথে খোশগল্প করো; তবে তাদের সাথে এমনসব কথা বলো, যেগুলো তাদেরকে আল্লাহ ﷻ-এর সাথে পরিচিত করে। তা হলে দেখবে, আল্লাহ ﷻ-এর ইচ্ছায় সৌভাগ্য, আনন্দ, স্বস্তি ও হৃদয়ের প্রশস্ততা হাসিল হচ্ছে।
সাবধান! সাবধান!! অবসর ও বেকার বসে থাকবে না। কেননা, এতে তুমি দুঃখবেদনা, দুঃচিন্তা, পেরেশানী, শকসন্দেহ ও ওয়াসওয়াসায় পড়ে যাবে এবং সার্থক কাজে লিপ্ত হওয়া ছাড়া এ থেকে মুক্তির আর কোন পথ নেই।
বাহ্যিক চেহারা ও আকৃতি খুবসুরত করার দিকে তুমি বিশেষ মনোযোগ দাও। ঘর পরিপাটি করা, ড্রইং রুম সাজিয়ে রাখা এবং স্বামী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সাথে উত্তম ব্যবহারের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দাও। হাসির রেখা টেনে খোশ মেজাযের সাথে তাদেরকে অভিবাদন জ্ঞাপন করো এবং অন্তরের মধ্যে তাদের জন্য প্রশস্ততা সৃষ্টি করো।
গুনাহ থেকে বিরত থাকার জন্য আমি তোমাকে উপদেশ করছি। কেননা, গুনাহ দুঃখবেদনা ও পেরেশানীর কারণ হয়ে থাকে। বিশেষত ওইসব গুনাহ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করো, যেগুলোর মধ্যে সাধারণত নারীসমাজ লিপ্ত হয়ে থাকে। বেগানা পুরুষদেরকে দেখা, বেগানা পুরুষদের সঙ্গে নির্জনে বসা, অভিসম্পাত, গীবত, অশ্লীল কথাবার্তা, স্বামীর কৃতঘ্নতা, তাঁর হক আদায়ে অনীহা এবং তার সদ্ব্যবহার অস্বীকার- এগুলো এমন গুনাহ, নারীসমাজ যেগুলোর মধ্যে লিপ্ত হয়ে থাকে। তবে যাদের উপর আল্লাহ-র বিশেষ রহমত রয়েছে, তাদের কথা ভিন্ন। আল্লাহ-র গযব থেকে বাঁচো, যাঁর শান অত্যন্ত উঁচু। তাকওয়া অবলম্বন করো। কেননা, তাকওয়াই সৌভাগ্য ও হৃদয়ের আলো দান করে।
যখন পেরেশানীর মুখোমুখি হও এবং একের পর এক পেরেশানী চেপে বসতে থাকে, তখন কালিমায়ে তাইয়েবার যিকির করো- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ; আল্লাহ ছাড়া আর কোন মা'বুদ নেই।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 অনেকের চেয়ে তুমি উত্তম

📄 অনেকের চেয়ে তুমি উত্তম


দুনিয়ার উপর একটি ক্ষিপ্র দৃষ্টি নিক্ষেপ করো। দেখবে, হাসপাতালে অসংখ্য রোগী পড়ে আছে, যারা অনেক ব্যথাবেদনার শিকার এবং বছরের পর বছর থেকে এই মসিবতে লিপ্ত আছে। এদিকে জেলখানার দিকে তাকাও, সেখানে হাজার হাজার লোক শিকের আড়ালে জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো বন্দীহিসেবে অতিবাহিত করছে। তাদের জীবন বরবাদ হয়ে গেছে এবং তাদের সুখ হারিয়ে গেছে। মানসিক হাসপাতালে অসংখ্য রোগী আছে, যারা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। তাদের বিবেক কোন কাজ করে না, এজন্য তাদেরকে পাগল সাব্যস্ত করা হয়েছে। এখানে কি এমন অনেক গরীব-মিসকীন নেই, যারা তাঁবু ও ঝুঁপড়ির মধ্যে বসবাস করে এবং খাওয়ার জন্য রুটির একটি টুকরা সহজে পায় না? দুনিয়াতে কি এমন নারী নেই, যার ছেলেমেয়ে একসাথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মায়ের হৃদয় ক্ষতবিক্ষত করেছে? এমন নারী কি নেই, যার দৃষ্টিশক্তি চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে গেছে, অথবা যার শ্রবণশক্তি বিলুপ্ত হয়ে গেছে, অথবা যার হাত-পা বিকল হয়ে গেছে, অথবা যার মস্তিষ্কের ভারসাম্য খতম হয়ে গেছে, কিংবা ক্যান্সারের মত যার দূরারোগ্য কোন অসুখ হয়েছে?
কিন্তু তোমার শরীর স্বাভাবিক আছে এবং তোমার স্বাস্থ্য ভালো আছে। তুমি সহীহ-সালামতে খুশি ও স্বস্তির সাথে জীবন যাপন করছ। তুমি এসব নেয়ামতের জন্য আল্লাহ -র সামনে সেজদায়ে শোকর আদায় করো এবং নিজের সময় এমন কোন কাজে নষ্ট কোরো না, যেগুলোতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন। টেলিভিশনের ওইসব চ্যানেল খুলে বোসো না, যেগুলোতে বেহুদা, অশ্লীল ও আহম্মকী প্রোগ্রাম পরিবেশন করা হয়, যেগুলো রূহকে অসুস্থ করে তোলে; যেগুলোর কারণে দুঃখ ও পেরেশানী বৃদ্ধিই পায় এবং যেগুলোর কারণে মানুষ এমন অলস হয়ে পড়ে যে, সে নিজের কাজ আঞ্জাম দিতেও হিমশিম খায়। হাঁ, সেগুলোর পরিবর্তে দীনী বক্তৃতা, কনফারেন্স, চিকিৎসাবিষয়ক প্রোগ্রাম, মুসলিম উম্মাহর সংবাদ, অথবা এজাতীয় কোন পরিবেশনা দেখতে পার। বেকার, অনর্থক ও অশ্লীল প্রোগ্রাম দেখা থেকে বিরত থাকো, যেগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়, যেগুলোর কারণে শরম, লজ্জা, পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও দীনদারী নষ্ট হতে থাকে।
জালেমদের আখেরাতের জন্য ছেড়ে দাও। যেখানে আল্লাহ ছাড়া আর কোন বিচারক থাকবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00