📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 নাযুক শ্রেণি জুলুম-অত্যাচারের মুখোমুখি

📄 নাযুক শ্রেণি জুলুম-অত্যাচারের মুখোমুখি


যখন তুমি কুরআনের আয়াত ও নবীজী ﷺ-এর হাদীস অধ্যয়ন করবে, তুমি এমনসব আয়াত ও হাদীস পেয়ে যাবে, যেগুলোর মধ্যে নারীর ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। কুরআন মাজীদের মধ্যে আল্লাহ ﷻ একজন মুমিনার প্রশংসা করেছেন এভাবে-
আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর উপমা পেশ করেন। যখন সে দোআ করল, হে আমার রব! আমার জন্য তোমার জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও এবং ফেরাউন ও তার কর্মকাণ্ড থেকে মুক্তি দাও। আর আমাকে মুক্তি দাও জালেম সম্প্রদায় থেকে। [সুরা তাহরীম: ১১]
এই আয়াতের শব্দগুলো নিয়ে একটু ভাবো, কীভাবে আল্লাহ ﷻ এই মহান নারী আসিয়াকে মুমিন নর-নারীর জন্য একটি তরতাজা উপমা বানিয়ে পেশ করেছেন এবং কীভাবে আল্লাহ ﷻ তাঁর ব্যক্তিসত্তাকে যাহেরী ও বাতেনী উভয় বিচারে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। আসিয়া ওইসব নারীর জন্য আদর্শ, যারা জীবনে হেদায়েত অনুসন্ধান করেন এবং যারা আল্লাহ ﷻ-র অনুমোদিত পন্থায় জীবন সাজাতে চান। আসিয়া কী পরিমাণ সচেতন ও কী পরিমাণ হেদায়েতপ্রাপ্তা ছিলেন যে, তিনি প্রতিপালকের নৈকট্যের আবেদন করেছেন আগে; জান্নাতের মধ্যে ঘর বানানোর আবেদন করেছেন পরে। তিনি ফেরাউনের মত অপরাধী, দাম্ভিক ও নাফরমান কাফেরের আনুগত্য থেকে মুক্তির দোআ করেছেন এবং তিনি ফেরাউনের সেবকসেবিকা ও প্রাসাদের আরাম-আয়েশকে লাথি মেরেছেন। কামনা করেছেন নিজের প্রতিপালকের কাছে জান্নাতের মধ্যে সুন্দর ও মনোহর একটি বাড়ি। এমন বাড়ি, যেখানে ঘন বাগ-বাগিচা ও নদীনালা থাকবে। থাকবে ক্ষমতার উৎস রাজাধিরাজের ছত্রছায়ায় সততার সম্মান। নিঃসন্দেহে তিনি একজন মহান নারী ছিলেন, যার ঈমান ও এখলাস তাঁকে জালেম ও অত্যাচারী স্বামীর সামনে হক কথা বলার সাহস যুগিয়েছে।
আল্লাহ্‌-র রহমতের জন্য আশাবাদী হও এবং তখনও, যখন তুফান ও দুর্ঘটনায় আক্রান্ত থাকবে।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 নেয়ামতের বিশাল ভান্ডার তোমার কাছে

📄 নেয়ামতের বিশাল ভান্ডার তোমার কাছে


মার বোন! নিশ্চিতভাবে সমস্যার সাথে সমাধানও আছে। অশ্রুর পর মুচকি হাসিও আছে। চিন্তার মেঘ সরে যাবে। আল্লাহ -র নির্দেশে আলোকিত হবে অন্ধকার রাত এবং শেষ হবে মসিবতের সিলসিলা। বিশ্বাস করো, তোমাকে সম্মান ও পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। যদি তুমি মা হয়ে থাক, তা হলে তোমার সন্তানাদি দীনের ধারক-বাহক হবে; মিল্লাতে ইসলামিয়া'র সহায়ক ও মদদগার হবে। তবে হ্যাঁ, এসব হবে তখন, যখন তুমি তাদের প্রতিপালন করবে সঠিক বুনিয়াদের উপর। তারা তোমার জন্য রাতের শেষ প্রহরের সেজদায় দোআ করবে। যদি তুমি একজন দয়াবতী ও মায়াবতী মা হও, তা হলে তোমার জন্য সন্তানাদি বিরাট নেয়ামত সাব্যস্ত হবে। তোমাদের জন্য এই মর্যাদা আর গর্বই যথেষ্ট যে, মানবতার মহান শিক্ষক, রসুলে আকরাম মুহাম্মাদ মুস্তাফা -এর মা একজন নারীই ছিলেন।
আল্লাহ -র রাস্তার দাঈ হওয়ার মত পূর্ণ যোগ্যতা তোমার মধ্যে আছে। তুমি নিজ সমাজের বোনদেরকে উত্তম উপদেশ, হেকমত ও চিত্তাকর্ষক আলোচনার মাধ্যমে কালিমায়ে তাইয়েবার দিকে দাওয়াত দিতে পার। সুন্দর আলোচনা ও উত্তম আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে তুমি একটি আদর্শ কায়েম করতে পার। একজন নারী সুন্দর আখলাক ও সুন্দর আমলের মাধ্যমে এমন কিছু করতে পারে, যা বিভিন্ন রকম বক্তৃতা, লেকচার ও ক্লাসের মাধ্যমে সম্ভব নয়। অনেক সময় এমন হয়েছে যে, কোন মুমিন নারী কোন মহল্লায় অন্যদের পড়সী হয়ে বাস করেছে তো সমাজে তার সুন্দর আখলাক, দীনদারী, পর্দা, গাম্ভীর্য, পড়সীদের সাথে উত্তম আচরণ এবং স্বামীর খেদমত ও আনুগত্যের চর্চা ব্যাপক হয়েছে। এভাবেই সে অন্যদের জন্য আদর্শে পরিণত হয়েছে।
তখন তার ব্যাপারে সবাই ভালো মন্তব্য করত। এভাবেই তার চরিত্রের খোশবু ছড়িয়ে পড়ত এবং সমাজের লোক তাদের আলোচনায়, ওয়াজের অনুষ্ঠানে এবং বিদ্যালয়ের ক্লাসে তার উদ্ধৃতি দিত।
অচিরেই ফুল ফুটবে। দূর হয়ে যাবে দুঃখবেদনা এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে আনন্দের জোয়ার।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 তুমি মুমিন, এই মর্যাদাই তো অনেক

📄 তুমি মুমিন, এই মর্যাদাই তো অনেক


ঈমান ও ইসলাম রক্ষা করতে গিয়ে তোমার উপর দিয়ে যেসব বিপদাপদ অতিবাহিত হয়, এক আল্লাহ -এর এজাযত অনুযায়ী সেগুলো তোমার গুনাহের কাফফারা। তোমার জন্য সুসংবাদ রয়েছে। হাদীসে যেমন বর্ণিত আছে-
যদি কোন নারী নিজ প্রতিপালকের আনুগত্য করে; পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে; নিজের ইজ্জত হেফাযত করে, তা হলে সে তাঁর রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে।
এগুলো তাদের জন্য সহজ, আল্লাহ যাদের জন্য সহজ করে দেন। এই নেক কাজগুলো বাস্তবায়ন করো, তা হলে তুমি তোমার রবকে রহীম ও করীম পাবে। তিনি তোমাকে দুনিয়া ও আখেরাতে খুশি ও সৌভাগ্য দিয়ে ধন্য করবেন। যেখানেই থাক, শরীয়তের সঙ্গে থাকো এবং আল্লাহ-র কিতাব আর রসুলুল্লাহ -এর সুন্নত মজবুত করে ধরে রাখো। তুমি একজন মুসলিম নারী। এটাই মর্যাদাহিসেবে অনেক বড় কিছু এবং ফখর করার মত। যেসব নারী কাফেরদের দেশে জন্মগ্রহণ করে, তাদের অবস্থা অন্য রকম। তারা হয়তো খ্রিস্টান, ইহুদী অথবা কমিউনিস্ট। তাদের ধর্ম ও জীবনপদ্ধতি ইসলাম থেকে ব্যতিক্রম। কিন্তু আল্লাহ তোমাকে মুসলিমহিসেবে কবুল করেছেন এবং তোমাকে আখেরী রসুল মুহাম্মাদ মুস্তাফা -এর উম্মতের মধ্যে পয়দা করেছেন, যাঁর অনুসারীদের মধ্যে রয়েছেন খাদীজা, আয়েশা ও ফাতেমা । তুমি মুবারকবাদ পাওয়ার যোগ্য, কেননা, তুমি পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় কর; রমযান মোবারকের সিয়াম পালন কর; বাইতুল্লাহর হজ কর এবং শরীয়তের নির্দেশ মোতাবেক নিজের চেহারা ঢেকে রাখ। মুবারকবাদ তোমাকে! কেননা, তুমি আল্লাহ -কে প্রতিপালক, ইসলামকে ধর্ম এবং মুহাম্মাদ -কে রসুল হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।
তোমার দীনদারীই সোনারূপা; তোমার আখালাকই হচ্ছে তোমার অলঙ্কার এবং তোমার আদব-কায়দাই হচ্ছে তোমার ধন-সম্পদ।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 মুমিন ও কাফের নারী সমান নয়

📄 মুমিন ও কাফের নারী সমান নয়


শ্চিতভাবে তুমি নিজেকে ভাগ্যবতী মনে করবে, যখন তুমি এখানে যেকোন এক পক্ষের দিকে দৃষ্টিপাত করবে- এক হচ্ছে মুসলিম দুনিয়ায় মুমিন নারীর দিকে; আরেক হচ্ছে কাফেরদের দেশে কাফের নারীর দিকে।
একজন মুসলিম নারী ইসলামী দুনিয়ায় ঈমানদার, সিয়াম-সালাতের পাবন্দ, পর্দানশীন ও স্বামীর অনুগত। সে তার রবকে ভয় করে; পড়সীদের উপর দয়া-অনুগ্রহ করে এবং সন্তানাদির উপর মেহেরবানী করে। এরা আল্লাহ্-র কাছে মহাপ্রতিদান পাবে বলে মুবারকবাদ পাওয়ার যোগ্য। এরা নম্র ও শান্ত।
কোন কাফের দেশের একজন কাফের নারী এর উল্টো। প্রদর্শনীসর্বস্ব, জাহেলিয়াতের ধারক ও বেকুফ। সব জায়গায় সে নিজেকে মেলে ধরে। ফলে কোথাও তার মূল্য ও সম্মান নেই। মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, শরাফত ও কদর বলতেও কিছু নেই। এই উভয়ের তুলনা করো। এই দুইয়ের মধ্যে আসলে তুলনা ও পরিমাপ করার সুযোগই নেই। তারপরও শুধু বাহ্যিক অবস্থাও যদি তুলনা কর, তা হলে তুমি আল্লাহ্-র শোকর আদায় করবে। কেননা, দেখবে যে, তার চেয়ে তুমি অনেক ভাগ্যবতী, উত্তম ও উন্নত।
মনোবল হারিয়ো না; পেরেশান হয়ো না, তোমরাই বিজয়ী থাকবে, যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাক। [৩ : ১৩৯]
সমস্ত মানুষ বসবাস করে- কেউ রাজপ্রাসাদে; কেউ ঝুঁপড়িতে। তোমার কী ধারণা, এদের মধ্যে সুখী কে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00