📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 নয়

📄 নয়


নিজের জীবনকে অনর্থক কাজে বরবাদ করা, প্রতিশোধের আগুনে দগ্ধ হওয়া এবং বেকার বিষয়াদি নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হওয়া উচিত নয়।
সম্পদ সঞ্চয়ের পিছনে পড়ে নিজের সুস্থতা, স্বস্তি, দিনের আরাম ও রাতের শান্তি বরবাদ করা উচিত নয়।
অন্যদের ভুলত্রুটি, অন্যায়-অপরাধের প্রতি দৃষ্টিপাত এবং নিজের ত্রুটিবিচ্যুতি থেকে দৃষ্টি এড়ানো উচিত নয়।
মনের চাহিদার পিছনে পড়া, মনের প্রতিটি কামনা পুরা করা এবং তার পিছনে লেগে থাকা উচিত নয়।
বেপরোয়া ও বেকার লোকজনের সাথে যুক্ত হয়ে খেলতামাশায় সময় নষ্ট করা উচিত নয়।
শরীর ও ঘরদোরের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে উদাসীন হওয়া এবং ঘর নোংরা ও এলোমেলো করে রাখা উচিত নয়।
হুক্কা, সিগারেট, তামাক ও মদপানের মত খবীস অভ্যাস থাকা উচিত নয়।
বিগত বিপদাপদ, আকস্মিক ঘটনাবলি, অসহনীয় স্মৃতি ও ভুলত্রুটি স্মরণ করা এবং সেগুলোর মধ্যে মগ্ন থাকা উচিত নয়।
আখেরাতের জওয়াবদিহি ও তার প্রস্তুতি থেকে গাফলত এবং হিসাব-কিতাবের ব্যাপারে অমনোযোগী হওয়া উচিত নয়।
হারাম কাজে সম্পদ ব্যয়, অপচয় এবং এবাদত-বন্দেগীর ক্ষেত্রে অলসতা উচিত নয়।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 কয়েকটি ফুটন্ত গোলাপ

📄 কয়েকটি ফুটন্ত গোলাপ


প্রথম গোলাপ
মনে রাখবে, তোমাদের রব বড় মেহেরবান। যে তাঁর কাছে মাফ চায়, তিনি তাকে মাফ করে দেন। যে ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রত্যাবর্তন করে, তিনি তার তওবা কবুল করেন।

দ্বিতীয় গোলাপ
কমজোর ও দুর্বলদের সাথে দয়া ও অনুগ্রহের আচরণ করো, সুখী হতে পারবে। অভাবীদের অভাব পূরণ করো, সুস্থতা লাভ হবে। শত্রুতা ও বিদ্বেষ লালন কোরো না। ভালো থাকতে পারবে।

তৃতীয় গোলাপ
আশাবাদী থাকো। আল্লাহ তোমার সঙ্গে আছেন। ফেরেশতারা তোমার জন্য মাগফেরাতের দোআ করছেন। আর জান্নাত তোমার প্রতিক্ষায় রয়েছে।

চতুর্থ গোলাপ
নিজের অশ্রু মুছে ফেলো। প্রতিপালকের ব্যাপারে সুধারণা লালন করো। ভাবনা পিছনে রাখো। আল্লাহ-র নেয়ামতসমূহ স্মরণ রাখো।

পঞ্চম গোলাপ
মনে কোরো না যে, অন্যরা দুনিয়ার সমস্ত নেয়ামত পেয়ে গেছে। জমীনের উপরে এমন কোন মানুষ নেই, যার সমস্ত খায়েশ পুরো হয়ে থাকে এবং সে সব ধরণের পেরেশানী থেকে নিরাপদ।
ষষ্ঠ গোলাপ
উন্নত মনোবৃত্তি লালন করো। খেজুরের বরকতময় গাছের মত হও, যা কোন প্রকার অনিষ্ট করে না। তার দিকে পাথর ছুঁড়ে মারলে সে তরতাজা ফল নিক্ষেপ করে।

সপ্তম গোলাপ
তুমি কি কোথাও শুনেছ যে, দুঃখ ও বেদনা অতীতের ক্ষতি এবং চিন্তাচেতনার ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধন করতে পারে? তা হলে দুঃখবেদনা কেন?

অষ্টম গোলাপ
ফেতনা ও পেরেশানীর অপেক্ষায় থেকো না; বরং আল্লাহর কাছে কল্যাণের আশা রাখো এবং নিরাপত্তা, স্বস্তি ও সুস্থতার প্রত্যাশায় থাকো।

নবম গোলাপ
নিজের অন্তর থেকে ঘৃণার আগুন নিভিয়ে ফেলো এবং প্রত্যেক ওই ব্যক্তিকে মাফ করে দাও, যে তোমাকে কখনও কষ্ট দিয়েছে।

দশম গোলাপ
উযু, গোসল, মেসওয়াক, খোশবু ও শৃঙ্খলা সমস্ত রোগব্যধি ও পেরেশানীর পরীক্ষিত ওষুধ।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 একগুচ্ছ কলি

📄 একগুচ্ছ কলি


প্রথম কলি
মৌমাছির মত জীবন অতিবাহিত করো, যে শুধু খোশবুদার ফুল ও তাজা পাপড়ির উপর গিয়ে বসে।

দ্বিতীয় কলি
তোমার কাছে এমন সময় নেই যে, তুমি অন্যদের দোষ খুঁজে বেড়াবে এবং তাদের ভুল গণনা করবে।

তৃতীয় কলি
যখন আল্লাহ তোমার সঙ্গে আছেন, তখন কীসের ভয়? যখন আল্লাহ তোমার বিপক্ষে, তখন আর কীসের ভরসা?

চতুর্থ কলি
হিংসার আগুন মানুষের মাটির দেহ জ্বালিয়ে দেয়। আর অতিরিক্ত ঈর্ষা ও মর্যাদাবোধ হচ্ছে নৈরাশ্যের অঙ্গার।

পঞ্চম কলি
আজকের প্রচেষ্টার ফল কাল পাওয়া যাবে। যে ব্যক্তি আজকে খুইয়ে ফেলবে, সে কালকেও খুইয়ে ফেলবে।

ষষ্ঠ কলি
খেলাধুলা, অনর্থক আলোচনা ও বিতর্কের মজলিস নিরাপদে এড়িয়ে যাও।
সপ্তম কলি
তোমার আখলাক নিষ্কণ্টক ফুলবাগিচার চেয়ে উত্তম।

অষ্টম কলি
নেক কাজ করো এবং একে নিজের সৌভাগ্য মনে করো। নেক কাজ তোমাকে আনন্দে উদ্বেলিত করবে।

নবম কলি
মানুষের বিষয়াদি স্রষ্টার হাতে সোপর্দ করো। হিংসুকদের মৃত্যু হোক এবং দুশমনরা বিস্মৃত হওয়ার যোগ্য।

দশম কলি
এমন লজ্জত হারাম, যার পরিণাম লজ্জা, লাঞ্ছনা, দুঃখ ও শাস্তি।

📘 প্রিয় বোন! হতাশ হয়ো না > 📄 পরিশিষ্ট

📄 পরিশিষ্ট


আর এখন, যখন তুমি কিতাব পড়ে ফেলেছ, হতাশা, বিরক্তি ও পেরেশানীকে আলবেদা বলে দাও। দুঃখকষ্টের দুনিয়া থেকে হিজরত করো। কষ্ট ও মসিবতের স্থান থেকে পৃথক হয়ে যাও। হতাশা ও নিরাশা'র তাঁবু থেকে রওয়ানা দাও। ঈমান ও একীনের মেহরাবের নীচে এসে পড়ো এবং আল্লাহ-র ভালাবোসার কাবা প্রাঙ্গণ ও রেজা বিলকাযা'র দিকে ফিরে আসো এবং খুশিতে ভরপুর জীবনের সূচনা করো। একটি নতুন যুগ শুরু করো, যা অত্যন্ত সুন্দর। একটি নতুন জীবন, যা সন্দেহ, পেরেশানী, অস্থিরতা থেকে মুক্ত। যা দুঃখ, বেদনা, হতাশা, পেরেশানী, অস্থিরতা ও বাজে চিন্তা থেকে পবিত্র। আসো, এদিকে আসো। কেননা, ঈমানের আহ্বায়ক তোমাকে ডাকছেন আশা-প্রত্যাশার বুলন্দ চূড়া থেকে সন্তুষ্টির উপত্যকায়। তোমাকে বুলন্দ আওয়াজে সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে-
তুমি দুনিয়ার সবচেয়ে ভাগ্যবতী নারী।

আর এখন, যখন তুমি কিতাব পড়ে ফেলেছ, হতাশা, বিরক্তি ও পেরেশানীকে আলবেদা বলে দাও। দুঃখকষ্টের দুনিয়া থেকে হিজরত করো। কষ্ট ও মসিবতের স্থান থেকে পৃথক হয়ে যাও। হতাশা ও নিরাশা'র তাঁবু থেকে রওয়ানা দাও। ঈমান ও একীনের মেহরাবের নীচে এসে পড়ো এবং আল্লাহ-র ভালাবোসার কাবা প্রাঙ্গণ ও রেজা বিলকাযা'র দিকে ফিরে আসো এবং খুশিতে ভরপুর জীবনের সূচনা করো। একটি নতুন যুগ শুরু করো, যা অত্যন্ত সুন্দর। একটি নতুন জীবন, যা সন্দেহ, পেরেশানী, অস্থিরতা থেকে মুক্ত। যা দুঃখ, বেদনা, হতাশা, পেরেশানী, অস্থিরতা ও বাজে চিন্তা থেকে পবিত্র। আসো, এদিকে আসো। কেননা, ঈমানের আহ্বায়ক তোমাকে ডাকছেন আশা-প্রত্যাশার বুলন্দ চূড়া থেকে সন্তুষ্টির উপত্যকায়। তোমাকে বুলন্দ আওয়াজে সুসংবাদ দেওয়া হচ্ছে-
তুমি দুনিয়ার সবচেয়ে ভাগ্যবতী নারী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00