📘 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয় 📄 ভুল শিক্ষা

📄 ভুল শিক্ষা


প্রিয় ভাই ও বোন!
আমাদের পিতা-মাতা আজ আমাদের কি রূপ ভুল মানসিকতা শিক্ষা দিচ্ছে। যদি উপার্জন না করো, তাহলে না খেয়ে মরে যাবে। কেউ বলছে না, বেটা, তুমি আল্লাহকে রাজি করো, তাহলে তোমার দুনিয়া ও আখেরাতে উভয়টাই গড়বে। আজ পিতা-মাতা সন্তানকে এই শিক্ষা দিচ্ছে না, তুমি আল্লাহকে মান্য করে চলো, এটাই আমাদের মাকসাদ হওয়া উচিৎ। সন্তানদের মাঝে এই মানসিকতা তৈরি করা ছেড়ে দিয়েছে। যেদিকেই তাকাবেন, শুধু দেখবেন সম্মান আর সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতা। এ সবের পিছনে পৃথিবীর ঘূর্ণনের মতো আমরাও ছুটে বেড়াচ্ছি।

একদিন যাকে এ জগত ছেড়ে যেতে হবে, তার আবার এত সম্পদ, এত যশ খ্যাতির কি প্রয়োজন? এমন মানুষের গর্বই কি, অহংকারইবা কি? ক'দিন পরতো আমাদের অস্তিত্বই মুছে যাবে। কিছুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর কবরের নাম নিশানাও মুছে যাবে। এ চকচকে চেহারাটা যখন পোকা মাকড়ের খাদ্য হবে, তখন ভেতর থেকে ভয়ানক কংকাল ও খুলিটা বেরিয়ে আসবে। মন কাড়া চোখ দুটি গলে গিয়ে কদাকার দুটি ছিদ্র তৈরি হবে। আর কোকিল কণ্ঠে গান গাইতো যে মুখ, মিষ্টি ভাষায় কথা বলত যে মুখটি, তার জায়গায় দেখা দেবে ভয়ংকর এক চোয়াল। দাঁতগুলো আর সুদর্শন দেহের খোলসটি ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকবে না। তারপর মাটির উত্তাপ যখন বেড়ে যাবে, তখন হাড়গুলো চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে। তারপর চূর্ণ হয়ে যাওয়া হাড়গুলো মাটি হয়ে যাবে। এমন হয়ে যাবে যেমন এক সময় আমার কোন অস্তিত্বই ছিল না। যেন কখনও ছিলামই না।

এমন হয়ে যাবে যে, মা জন্ম দিয়েছিলেন, সেই মা আমাকে ভুলে যাবে। যে পিতা কোলে পিঠে করে আগলে রেখেছিলেন সারাদিন, সারা রাত, সেই পিতাও ভুলে যাবেন। সন্তান ভুলে যাবে, আমাদের কোন পিতা ছিলেন, যিনি দিনে রাতে সন্তানের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ঝরিয়েছেন।

তো আমার ভাই ও বোন! আল্লাহ পাক বিশাল শক্তির অধিকারী মহান সত্তা। এই বিশ্ব জগতের স্রষ্টা তিনি। আমরা তাঁর গোলাম। আমাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সন্তুষ্ট করা। আমরা যদি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারি, তাহলে আমাদের দুনিয়াও গড়বে, আখেরাতও গড়বে। এজন্য আমাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে মাকসাদ বানিয়ে চলতে হবে এবং আল্লাহর প্রিয় হাবীব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে হবে।

কিন্তু, আজ আমরা আমাদের মাকসাদ থেকে দূরে সরে গেছি। শুধু সরেই যাইনি—বহু দূরে চলে গেছি। আজ আমাদের পথ ও হারিয়ে গেছে, গন্তব্যও হারিয়ে গেছে। আমাদের সফরের সামানাও লুণ্ঠিত হয়ে গেছে। আমাদের কাফেলা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমাদের না সামনের খবর আছে না পিছনের। দীর্ঘ সফরে গন্তব্য কোথায় জানি না।

আমরা সেই আনন্দ উপভোগ করতে শিখিনি, যা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন। আমরা সেই দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে শিখিনি, আল্লাহ তায়ালা যাতে সন্তুষ্ট হন। আমরা আল্লাহর জন্য মরতে শিখিনি। আমরা আল্লাহর জন্য নিজেকে মিটিয়ে দিতে শিখিনি। আমরা আল্লাহর জন্য বাঁচতে শিখিনি।

মানুষ যদি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়, তাহলে আমাদের সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা যদি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারি, তাহলে আমাদের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মানুষের পছন্দ অপছন্দ আমাদের কোনই লাভ ক্ষতি নেই। আমার লাভ ক্ষতি, কল্যাণ-অকল্যাণ সবই আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টির, পছন্দ অপছন্দের মাঝে নিহিত। আল্লাহ তায়ালা যা পছন্দ করেন, তাই আমাদের পছন্দ।

এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তাকে বধূ সাজে সাজানো হয়েছে। বান্ধবীরা বলল, আজ তোমাকে খুবই সুন্দর লাগছে। একথা শুনে মেয়েটি কাঁদতে শুরু করল। বলল, তোমাদের ভাল লাগায় আমার কাজ হবে না। আমি যার জন্য সেজেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তার চোখে আমাকে ভাল না লাগবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার এ সাজসজ্জা কোন কাজেই আসবে না।

প্রিয় ভাই ও বোন আমার! এ হলো চোখওয়ালা অন্ধদের জগত। এ জগত হলো বোকাদের জগত। এ জগত হলো মূর্খদের জগত। এ জগত হলো ধোঁকাবাজদের জগত। এ জগত হলো মাতালদের জগত। এ অন্ধ, পাগল, বোকা ও মূর্খদের চোখে ভালো লাগায় না কোন পুরুষের জীবন গড়বে, না কোন নারীর জীবন গড়বে। আমাদেরকে আল্লাহ তায়ালার বিচারে উত্তীর্ণ হতে হবে। আমাদেরকে আল্লাহর ভালো লাগা অর্জন করতে হবে, তবেই আমাদের কাজ বনে যাবে।

এরপর কেউ আমাকে চিনুক, আর না চিনুক। কেউ আমাকে মানুক আর না মানুক। কেউ আমাকে মূল্যায়ন করুক আর না করুক। কেউ আমাকে ভালবাসুক আর না বাসুক। এরপর কেউ যদি আমাকে ঘৃণাও করে। এরপর কেউ আমাকে সালাম করুক বা না করুক, তাতে আমাদের কোন রকম পরওয়া নেই। আল্লাহ পাকের ফয়সালা যদি আমার পক্ষে এসে যায়, আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি যদি আমি অর্জন করতে পারি, তবে আমরা সফল। এ সফলতা আপনাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রিয়দের অন্তর্ভুক্ত করে দিবে। আপনাকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির পরোয়ানা ধরিয়ে দেবে। আজীবন আপনাকে দুনিয়া আখেরাতের সুখ দান করবে। এটা ছাড়া বাকি সব ধোঁকা, প্রতারণা। চোখ দুটি বন্ধ করে দেখুন, ভাবুন। দেখবেন, সব প্রতারণা। কিছুই স্থায়ী নয়। দুনিয়াটা প্রতারণার বাজার। আমরা এখানে ঘুরে ঘুরে দুনিয়ার ধোঁকাই অর্জন করছি। যা আমাদের সত্য বিমুখ করছে।

তো আমার ভাই ও বোন!
প্রত্যেক মুসলমান যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির উপর চলে, তাহলে দুনিয়া জান্নাত হয়ে যাবে। অর্থ দ্বারা জান্নাত গড়ে না। বিত্ত দ্বারা সুখের উপকরণ কেনা যায়, সুখ কেনা যায় না। টাকা দ্বারা ঘুমের আরামদায়ক জায়গা কেনা যায়, ঘুম কেনা যায় না। অর্থ দ্বারা মর্যাদার উপকরণ কেনা যায়, মর্যাদা কেনা যায় না। জান্নাত, সুখ, আনন্দ, মর্যাদা এসবের মালিক মহান আল্লাহ। যারা তাঁকে ও তাঁর প্রিয় হাবীবকে মান্য করে চলে, এসব আল্লাহ তায়ালা তাদের দান করেন। এ দুনিয়া থেকে আমাদের চলে যেতে হবে। তাই পরকালিন জীবনের জন্য কিছু করুন। আল্লাহর প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শে জীবন গঠন করুন। মুক্তি মিলে যাবে। আমরা সর্বশেষ নবীর উম্মত। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী। তাঁর পরে আর কোন নবী রাসূল আসবে না। তিনি মানুষেরও নবী—নবীগণেরও নবী। জ্বীনদেরও নবী।

তাই আমাদেরকে শেষ নবীর উম্মত হিসেবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য বরণ করে জীবন গড়তে হবে। কেয়ামত পর্যন্ত আরবী-অনারবী, ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়, আফ্রিকী যেই হোক, তাদের দুনিয়া ও আখেরাত তখন গড়বে, যখন মানুষ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনকে অবলম্বন করবে। অন্যথায় মানুষের দুনিয়া ও বরবাদ হবে, আখেরাতও বরবাদ হবে। কোরআনে পাকে বলা হচ্ছে, وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا যে সকল লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, তারা অবশ্যই মহা সাফল্যের অধিকারী হবে। (সূরা আহযাব, ৭১)

আল্লাহ তায়ালা আমাদের ঈমান ও আমলে দৃঢ়তা দান করুন। দুনিয়াও আখেরাতে আমাদের কবুল করুন। আমীন, সুম্মা আমীন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px