📄 আল্লাহকে আমাদের প্রয়োজন
প্রিয় ভাই ও বোন!
এ জগতে সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হলো মানুষ। মানুষের চেয়ে মুখাপেক্ষী আর কোন সৃষ্টি নেই। আর যে মানুষ যত বড় মালদার, সে তত বেশি মুহতাজ। জগতে মানুষ যত বেশি উন্নতি করে, তার মুখাপেক্ষীতা তত বেড়ে যায়। গরীব মানুষ ঝুপড়ি ঘরে ইটের বালিশে ঘুমাতে পারে। আর টাকা ওয়ালাদের পাকা বিল্ডিং, খাট পালংক, ও এয়ার কন্ডিশনার না হলে তাদের চোখে ঘুম আসে না। গরীব মানুষ এক টুকরো রুটি বা এক মুঠো পান্তা ভাতও তৃপ্তি সহকারে খেতে পারে। কিন্তু ধনীরা পোলাও গোশত খেয়েও তৃপ্তির স্বাদ অনুভব করে না।
জগতে এমন কোন মানুষ নেই যে, নিজের সব কাজ নিজে আঞ্জাম দিতে পারে। বিত্তবানরা দাবী করে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু যখন তারা রোগে আক্রান্ত হয়। তখন ডাক্তারের চেম্বারে ছুটে যায়। বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতে হলে মিস্ত্রির শরণাপন্ন হয়। স্বয়ংসম্পূর্ণ তো তাকে বলে, যার কোন প্রয়োজন পূরণে অন্যের দ্বারস্থ হতে হয় না। এ জগতে সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী আমি আর আপনি। স্বয়ংসম্পূর্ণ একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা। এমতাবস্থায় তো আমাদের উচিত ছিল, এই যে, আমরা আমাদের প্রভুর সাথে সম্পর্ক মজবুত করা। কিন্তু তা না করে উল্টো আমরা তাঁর সঙ্গে শত্রুতা করছি। আমরা আল্লাহকে চ্যালেঞ্জ করছি। তাঁর নাফরমানী করছি। বড় বড় গুনাহ করেও আমরা আল্লাহ তায়ালাকে রাগান্বিত করছি।
যখন মুয়াজ্জিন মসজিদের মিনার থেকে ডাকতে থাকে, হাইয় 'আলাছালাহ্, আসো নামায পড়ো। এখন তোমার নামায পড়ার সময়। কিন্তু আমরা ক'জনই বা সে ডাকে সাড়া দেই। অথচ এটা আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। প্রতিদিন পাঁচবার আমরা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করছি। অথচ আমরা ইহকাল পরকালে আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীর সবচেয়ে বেশি মোহতাজ। বলুনতো, আপনি আপনার চাকরকে, বা কর্মচারীকে কত বেতন দেন? তিন হাজার, চার হাজার, পাঁচ হাজার বা আরও বেশি? সেই চাকরটা আপনার সামনে বসে আছে, আপনি তাকে ডাকলেন, সে আসল না। সে আপনার ডাক শুনেও আপনার কথার গুরুত্ব দিল না। একবার, দুবার, তিনবার, ডাকলেন, সে সাড়া দিল না। আপনার চাকর আপনার ডাকে কোন সাড়া দিল না। আপনি তাকে দ্বিতীয় দিন ডাকলেন। সে সাড়া দিল না। তৃতীয় দিনও এমনই হলো। এমন হৃদয়বান কে আছেন, যে এমন চাকরের চাকুরী বহাল রাখবেন? বলবেন, যাও ভাই, নিজের পথ দেখো। তোমাকে আমার কোন প্রয়োজন নেই। তোমার মত অহংকারী। অবাধ্য চাকরের আমার প্রয়োজন নেই।
বলুন তো আপনার বয়সের কতটা সময় পার করে এসেছেন? ত্রিশ বছর। চল্লিশ, পঞ্চাশ, ষাট, সত্তর, বা আশি বছর? আল্লাহ পাকের নির্দেশ ছিল, দিনে পাঁচ বার নামায পড়ার। মুয়াজ্জিন দিনে পাঁচবার ডাকেন। হাইয়্যা 'আলাছছালাহ্। আসো বান্দা নামায পড়ো। ফজরে ডাকা হয়। যোহরে ডাকা হয়। আসরে ডাকা হয়। মাগরিবে ডাকা হয়। এশায় ডাকা হয়। আল্লাহ বলেন, বান্দা তুমি ত্রিশ বছরে, চল্লিশ বা আশি বছরে একটিবারের জন্যও আমার নির্দেশ মাননি। মুয়াজ্জিন ডেকেছে তোমাকে নামাযের জন্য। তুমি আসনি নামাযে। ফজর কাটিয়েছো আরামের ঘুমে। যোহর, আসর, মাগরিব, এশা পার করেছো তোমার কর্মব্যস্ততায়। নামাযের জন্য সময় হয়নি তোমার। বলুন তো, এ কথার কোন জবাব আছে আমাদের কাছে? যখন জিজ্ঞাসিত হবো এ ব্যাপারে, তখন কি জবাব দেব?
তারপরও মহান মালিক আমাদেরকেও তাঁর নেয়ামতের দ্বারা ভরিয়ে দিচ্ছেন। এরপরও মহান রাব্বুল আলামীন কোন বান্দাকে মাহরুম করছেন না। আমাদের এত অবাধ্যতায়ও তিনি রহমতের দুয়ার বন্ধ করছেন না। এটা যে আমাদের প্রতি আল্লাহ তায়ালার কত বড় মেহেরবানী। আমার অনবরত প্রত্যাখ্যানের পরও তিনি আমাকে রুটি খাওয়াচ্ছেন। আমাকে পানি পান করাচ্ছেন। সুখ নিদ্রা দিচ্ছেন। সুস্থতার নেয়ামত দান করছেন। ভালোবাসার মত মানুষ দিয়েছেন। ছায়া দিচ্ছেন। বিপদে উদ্ধার করছেন। আলো দিচ্ছেন। অসংখ্য নেয়ামত দ্বারা আমাদের ভরিয়ে দিচ্ছেন। কত বড় মেহেরবান আল্লাহ, যে, এত নাফরমানী দেখেও আমাদের সবই দান করছেন। কি হলো আমাদের! দুনিয়ার একটু সুখের জন্য সৃষ্টিকর্তাকেই ভুলে যাই। নাফরমানী করতে ভয় করি না! এত দুঃসাহস আমাদের? এত স্পর্ধা আমাদের? আমাদের এত অহংকার? অথচ যদি আল্লাহ পাক দুনিয়ার ব্যবস্থাপনাকে সামান্যতম হেরফের করে দেন, তাহলে আমাদের জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠে। আমরা পুরোপুরি আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুকম্পার উপর নির্ভরশীল।
সমস্ত বিশ্ব চরাচর আল্লাহ পাকের আয়ত্বের মধ্যে রয়েছে। আল্লাহ পাকের শক্তি ও কবজার মধ্যে রয়েছে। আমাদের মাথার উপর পাঁচশত মাইল দীর্ঘ বাতাসের আবরণ রয়েছে। মহান রাব্বুল আলামীন যদি এ বাতাসকে ফিরিয়ে নেন, তাহলে মানুষ সহ পৃথিবীর সব প্রাণী এক সেকেন্ডের মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে।
প্রিয় ভাই ও বোন! আমার জীবন যৌবন সবকিছু যদি বিসর্জন দিতে হয়, তবুও আমাদের মাকছাদ হওয়া উচিৎ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি। আমাদের পথ হওয়া উচিৎ সিরাতে মুস্তাকিমের পথ। যে পথটি চলে গেছে জান্নাতের দিকে। আর এ পথের সন্ধান দিতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানুষকে দ্বীনের পথে ডাকছেন। তারা হলো, দাওয়াত ও তাবলীগ ওয়ালারা। মাদারিসে কওমিয়া। আমরা চাই, দুনিয়ার নেশায় মত্ত পুরুষ ও নারীরা ভেতর থেকে গুনাহের নেশা দূর করে ফেলুক। তারা আল্লাহর সত্ত্বাকে মাকসাদ বানিয়ে জীবন অতিবাহিত করুক। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন, আমীন।
📄 ভুল শিক্ষা
প্রিয় ভাই ও বোন!
আমাদের পিতা-মাতা আজ আমাদের কি রূপ ভুল মানসিকতা শিক্ষা দিচ্ছে। যদি উপার্জন না করো, তাহলে না খেয়ে মরে যাবে। কেউ বলছে না, বেটা, তুমি আল্লাহকে রাজি করো, তাহলে তোমার দুনিয়া ও আখেরাতে উভয়টাই গড়বে। আজ পিতা-মাতা সন্তানকে এই শিক্ষা দিচ্ছে না, তুমি আল্লাহকে মান্য করে চলো, এটাই আমাদের মাকসাদ হওয়া উচিৎ। সন্তানদের মাঝে এই মানসিকতা তৈরি করা ছেড়ে দিয়েছে। যেদিকেই তাকাবেন, শুধু দেখবেন সম্মান আর সম্পদ অর্জনের প্রতিযোগিতা। এ সবের পিছনে পৃথিবীর ঘূর্ণনের মতো আমরাও ছুটে বেড়াচ্ছি।
একদিন যাকে এ জগত ছেড়ে যেতে হবে, তার আবার এত সম্পদ, এত যশ খ্যাতির কি প্রয়োজন? এমন মানুষের গর্বই কি, অহংকারইবা কি? ক'দিন পরতো আমাদের অস্তিত্বই মুছে যাবে। কিছুদিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর কবরের নাম নিশানাও মুছে যাবে। এ চকচকে চেহারাটা যখন পোকা মাকড়ের খাদ্য হবে, তখন ভেতর থেকে ভয়ানক কংকাল ও খুলিটা বেরিয়ে আসবে। মন কাড়া চোখ দুটি গলে গিয়ে কদাকার দুটি ছিদ্র তৈরি হবে। আর কোকিল কণ্ঠে গান গাইতো যে মুখ, মিষ্টি ভাষায় কথা বলত যে মুখটি, তার জায়গায় দেখা দেবে ভয়ংকর এক চোয়াল। দাঁতগুলো আর সুদর্শন দেহের খোলসটি ছাড়া আর কিছুই বাকি থাকবে না। তারপর মাটির উত্তাপ যখন বেড়ে যাবে, তখন হাড়গুলো চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে। তারপর চূর্ণ হয়ে যাওয়া হাড়গুলো মাটি হয়ে যাবে। এমন হয়ে যাবে যেমন এক সময় আমার কোন অস্তিত্বই ছিল না। যেন কখনও ছিলামই না।
এমন হয়ে যাবে যে, মা জন্ম দিয়েছিলেন, সেই মা আমাকে ভুলে যাবে। যে পিতা কোলে পিঠে করে আগলে রেখেছিলেন সারাদিন, সারা রাত, সেই পিতাও ভুলে যাবেন। সন্তান ভুলে যাবে, আমাদের কোন পিতা ছিলেন, যিনি দিনে রাতে সন্তানের জন্য মাথার ঘাম পায়ে ঝরিয়েছেন।
তো আমার ভাই ও বোন! আল্লাহ পাক বিশাল শক্তির অধিকারী মহান সত্তা। এই বিশ্ব জগতের স্রষ্টা তিনি। আমরা তাঁর গোলাম। আমাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে সন্তুষ্ট করা। আমরা যদি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারি, তাহলে আমাদের দুনিয়াও গড়বে, আখেরাতও গড়বে। এজন্য আমাদেরকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে মাকসাদ বানিয়ে চলতে হবে এবং আল্লাহর প্রিয় হাবীব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করতে হবে।
কিন্তু, আজ আমরা আমাদের মাকসাদ থেকে দূরে সরে গেছি। শুধু সরেই যাইনি—বহু দূরে চলে গেছি। আজ আমাদের পথ ও হারিয়ে গেছে, গন্তব্যও হারিয়ে গেছে। আমাদের সফরের সামানাও লুণ্ঠিত হয়ে গেছে। আমাদের কাফেলা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমাদের না সামনের খবর আছে না পিছনের। দীর্ঘ সফরে গন্তব্য কোথায় জানি না।
আমরা সেই আনন্দ উপভোগ করতে শিখিনি, যা আল্লাহ তায়ালা পছন্দ করেন। আমরা সেই দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে শিখিনি, আল্লাহ তায়ালা যাতে সন্তুষ্ট হন। আমরা আল্লাহর জন্য মরতে শিখিনি। আমরা আল্লাহর জন্য নিজেকে মিটিয়ে দিতে শিখিনি। আমরা আল্লাহর জন্য বাঁচতে শিখিনি।
মানুষ যদি আমাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়, তাহলে আমাদের সমস্যার সমাধান হবে না। আমরা যদি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারি, তাহলে আমাদের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। মানুষের পছন্দ অপছন্দ আমাদের কোনই লাভ ক্ষতি নেই। আমার লাভ ক্ষতি, কল্যাণ-অকল্যাণ সবই আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অসন্তুষ্টির, পছন্দ অপছন্দের মাঝে নিহিত। আল্লাহ তায়ালা যা পছন্দ করেন, তাই আমাদের পছন্দ।
এক মেয়ের বিয়ে হয়েছে, তাকে বধূ সাজে সাজানো হয়েছে। বান্ধবীরা বলল, আজ তোমাকে খুবই সুন্দর লাগছে। একথা শুনে মেয়েটি কাঁদতে শুরু করল। বলল, তোমাদের ভাল লাগায় আমার কাজ হবে না। আমি যার জন্য সেজেছি, যতক্ষণ পর্যন্ত তার চোখে আমাকে ভাল না লাগবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমার এ সাজসজ্জা কোন কাজেই আসবে না।
প্রিয় ভাই ও বোন আমার! এ হলো চোখওয়ালা অন্ধদের জগত। এ জগত হলো বোকাদের জগত। এ জগত হলো মূর্খদের জগত। এ জগত হলো ধোঁকাবাজদের জগত। এ জগত হলো মাতালদের জগত। এ অন্ধ, পাগল, বোকা ও মূর্খদের চোখে ভালো লাগায় না কোন পুরুষের জীবন গড়বে, না কোন নারীর জীবন গড়বে। আমাদেরকে আল্লাহ তায়ালার বিচারে উত্তীর্ণ হতে হবে। আমাদেরকে আল্লাহর ভালো লাগা অর্জন করতে হবে, তবেই আমাদের কাজ বনে যাবে।
এরপর কেউ আমাকে চিনুক, আর না চিনুক। কেউ আমাকে মানুক আর না মানুক। কেউ আমাকে মূল্যায়ন করুক আর না করুক। কেউ আমাকে ভালবাসুক আর না বাসুক। এরপর কেউ যদি আমাকে ঘৃণাও করে। এরপর কেউ আমাকে সালাম করুক বা না করুক, তাতে আমাদের কোন রকম পরওয়া নেই। আল্লাহ পাকের ফয়সালা যদি আমার পক্ষে এসে যায়, আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি যদি আমি অর্জন করতে পারি, তবে আমরা সফল। এ সফলতা আপনাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রিয়দের অন্তর্ভুক্ত করে দিবে। আপনাকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির পরোয়ানা ধরিয়ে দেবে। আজীবন আপনাকে দুনিয়া আখেরাতের সুখ দান করবে। এটা ছাড়া বাকি সব ধোঁকা, প্রতারণা। চোখ দুটি বন্ধ করে দেখুন, ভাবুন। দেখবেন, সব প্রতারণা। কিছুই স্থায়ী নয়। দুনিয়াটা প্রতারণার বাজার। আমরা এখানে ঘুরে ঘুরে দুনিয়ার ধোঁকাই অর্জন করছি। যা আমাদের সত্য বিমুখ করছে।
তো আমার ভাই ও বোন!
প্রত্যেক মুসলমান যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টির উপর চলে, তাহলে দুনিয়া জান্নাত হয়ে যাবে। অর্থ দ্বারা জান্নাত গড়ে না। বিত্ত দ্বারা সুখের উপকরণ কেনা যায়, সুখ কেনা যায় না। টাকা দ্বারা ঘুমের আরামদায়ক জায়গা কেনা যায়, ঘুম কেনা যায় না। অর্থ দ্বারা মর্যাদার উপকরণ কেনা যায়, মর্যাদা কেনা যায় না। জান্নাত, সুখ, আনন্দ, মর্যাদা এসবের মালিক মহান আল্লাহ। যারা তাঁকে ও তাঁর প্রিয় হাবীবকে মান্য করে চলে, এসব আল্লাহ তায়ালা তাদের দান করেন। এ দুনিয়া থেকে আমাদের চলে যেতে হবে। তাই পরকালিন জীবনের জন্য কিছু করুন। আল্লাহর প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শে জীবন গঠন করুন। মুক্তি মিলে যাবে। আমরা সর্বশেষ নবীর উম্মত। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী। তাঁর পরে আর কোন নবী রাসূল আসবে না। তিনি মানুষেরও নবী—নবীগণেরও নবী। জ্বীনদেরও নবী।
তাই আমাদেরকে শেষ নবীর উম্মত হিসেবে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্য বরণ করে জীবন গড়তে হবে। কেয়ামত পর্যন্ত আরবী-অনারবী, ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়, আফ্রিকী যেই হোক, তাদের দুনিয়া ও আখেরাত তখন গড়বে, যখন মানুষ হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনকে অবলম্বন করবে। অন্যথায় মানুষের দুনিয়া ও বরবাদ হবে, আখেরাতও বরবাদ হবে। কোরআনে পাকে বলা হচ্ছে, وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا যে সকল লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করবে, তারা অবশ্যই মহা সাফল্যের অধিকারী হবে। (সূরা আহযাব, ৭১)
আল্লাহ তায়ালা আমাদের ঈমান ও আমলে দৃঢ়তা দান করুন। দুনিয়াও আখেরাতে আমাদের কবুল করুন। আমীন, সুম্মা আমীন।