📄 দুনিয়া প্রতারণার বাজার
প্রিয় ভাই ও বোন! দুনিয়া হলো প্রতারণার বাজার। দুনিয়ার ধোঁকায় যে পড়েছে তার পরকাল বরবাদ হয়েছে। দুনিয়া তার সবকিছু কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে কবরে আছড়ে ফেলেছে। খালি হাতে কবরে গিয়ে বুঝেছে সে দুনিয়াতে কত বড় প্রতারণার স্বীকার হয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন—প্রকৃত বুদ্ধিমান তো সে যে নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুতি নেয়। আমল আখলাক ও এবাদত বন্দেগীতে নিমগ্ন থাকে। আর বোকা হচ্ছে সে যে নিজের কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করে অথচ আল্লাহর কাছে বহু কিছু পেতে আশাবাদী থাকে।
দুনিয়ার সামান্যতম আরাম আয়েশকে পেয়ে যে পরকাল ভুলে গেলো সে অচিরেই দুনিয়ার জীবনের ব্যাপারে আফসোস করবে। অথচ আমরা কত বোকা? দুনিয়া হাসিল না হলে আমরা কতই না আফসোস করি। বলুন তো এ দুনিয়া কোন দুনিয়াদারকে নিশ্চিন্ত জীবন-যাপনের সুযোগ দিয়েছে? তারপরও মানুষ দুনিয়ার জন্য ব্যাকুল। ইমাম গাজালী (রহ.) নিজ কিতাবে দুনিয়ার ব্যাপারে অনেক সুন্দর কথা লিখেছেন। আল্লাহর কসম দুনিয়ার সব সম্পদ ও যদি কারও জন্য চিরস্থায়ীভাবে অর্জন হয় এবং নিরঙ্কুশ সচ্ছল জীবন অতিবাহিত করে তবুও কোন বুদ্ধিমানের জন্য উচিত হবে না দুনিয়ার পিছে পড়ে পরকাল বরবাদ করা। অথচ দুনিয়া সম্পূর্ণ ক্ষণস্থায়ী। এর ধ্বংস অনিবার্য।
আমি বিস্মিত হই তাদের প্রতি যারা জানে দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী। জীবনও ক্ষণস্থায়ী। তারপরও তারা দুনিয়ার প্রেমিক। দুনিয়ার জন্য পাগল। কায়সার কিসরার কথাই বলি তাদের বিশাল বিশাল অট্টালিকা তাদের সাথে কি আচরণ করেছে? দুনিয়ার প্রতারণা কি তাদেরকে বুঝিয়ে দেয় নাই যে এ ইমারত এ বিলাস ভবন তুমি তৈরী করিয়েছো কিন্তু এ গুলো তোমার জন্য ক্ষণস্থায়ী? তাদের সেই অঢেল সম্পদের পাহাড় তাদের বহু সম্রাটকে জবাই করেছে। লাঞ্চিত করেছে। তাদের অর্জিত সম্পদই তাদের জন্য আযাব হয়ে দেখা দিয়েছিল।
হে দুনিয়ার পাগল! সতর্ক হয়ে যাও। দুনিয়া অতি অল্প সময়ের জায়গা যেখানে মুসাফির পথিক অল্প সময় অবস্থান করে তারপর তা ছেড়ে চলে যেতে হয়। এক মরুচারী বেদুইন লোক একটি গোত্রের নিকট যাত্রাবিরতি করে। গোত্রের লোকজন তাকে খাওয়া দাওয়া করায়। অতঃপর লোকটি একটি তাবুর ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ে। গোত্রের লোকেরা একসময় তাবু সরিয়ে নিলো। তখন রোদ্রের তাপে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়। সজাগ হয়ে সে বলতে থাকে—সন্দেহ নেই দুনিয়া একটি তাবুর ছায়ার মতো। একদিন এ ছায়া অবশ্যই খতম হয়ে যাবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালবাসে এবং দুনিয়ার দ্বারা আনন্দিত হয় তার অন্তর থেকে আখেরাতের ভয় দূর হয়ে যায়। এক আল্লাহওয়ালা নিজ সঙ্গীকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছেন—দুনিয়ার অপকারিতা সম্পর্কে তোমার কাছে ইলম আছে। তার পরও যদি তুমি দুনিয়ার মোহে পড়ে ঈমান একীন বরবাদ করে ফেলো এবং নেক আমল না করো বড়ই অপরাধী হবে তুমি। দুনিয়া থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে যে যতটুকু দুঃখ ও আক্ষেপ করবে আখেরাতে সে অনুপাতে তার হিসাব হবে। এমনিভাবে যে ব্যক্তি দুনিয়ার সম্পদের উপর আনন্দ উল্লাস করবে আখেরাতে সেই অনুপাতে তার হিসাব হবে। আজকাল তো দেখা যায় মানুষ স্পষ্ট হারাম বিষয় সম্পর্কেও বলে থাকে—এগুলো তো কোন দোষের নয়। অথচ আমাদের পূর্বসুরী মহান বুযুর্গগণ হালাল বিষয়ের ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতেন। আর হারাম বস্তুতো তাদের দৃষ্টিতে বিষতুল্য ছিল।
হযরত উমর বিন আব্দুল আজিজ (রহ.) এ কবিতাগুলো বলতেন:
নাহারাউকা ইয়া মাগরুরু নাউমুন ওয়া গাফলাতুন
ওয়া লাইলুকা নাউমুন ওয়ার রদ্দা লাকা লাযিমু
ওহে ধোঁকা ও প্রতারণার শিকার! তোমার জীবনের দিনগুলোও নিদ্রা ও অবহেলায় কাটিয়ে দিচ্ছো! আর রাতের নিদ্রা তো স্বভাবত রয়েছেই। এই যদি হয় অবস্থা তবে জেনে রাখ তোমার ধ্বংস অনিবার্য!
ইয়াগাররুকা মা ইউফনা ওয়া তাফরাহু বিল মুনা
কামা গুরসা বিল লাযযাতি ফিন নাউমি হালিমু
ক্ষণস্থায়ী ও ক্ষয়িষ্ণু এই দুনিয়া তোমাকে ধোঁকায় ফেলে রেখেছে, কামনা বাসনা ও কল্পনায় তুমি আনন্দে মেতে রয়েছো। তোমার এ আনন্দ উল্লাস ঘুমন্ত ব্যক্তির স্বপ্নের আনন্দের চেয়ে বেশি কিছু নয়।
শুগলুকা ফিহা সাউফা ইয়াকরাহু ঈবাহু
কাযযালিকা ফিদ দুনিয়া তায়ীশুল বাহাইমু
আল্লাহ বিমুখ উল্লাসময় এই মত্ততা অচিরেই তোমাকে ছাড়তে হবে। তখন তোমার জন্য তা খুবই অসহনীয় হবে। বস্তুত দুনিয়াতে চতুস্পদ জন্তুরাই এমন জীবন অতিবাহিত করে থাকে।
তো ভাই ও বোনেরা! দুনিয়ার চাকচিক্যের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে যাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখ। প্রাচুর্য ও লালসার ধোঁকায় পতিত হয়ো না। মহান রাব্বুল আলামীন তোমার জন্য যতটুকু নির্ধারিত করে দিয়েছেন তুমি সে টুকুর উপর রাজি থাক। মূলত অল্পে তুষ্টি এমন এক সম্পদ যা কোনদিন শেষ হয় না। দুনিয়ার আরাম আয়েশের চাকচিক্য যদিও অপরূপ মনে হয় কিন্তু স্থায়ীত্ব কতটুকু? দুনিয়ায় আমাদের স্থানও চিরস্থায়ী নয়। তাই আসুন পরকালীন জীবনের জন্য তৈরী হই যেখানে অনন্তকাল থাকতে হবে।
📄 দুনিয়ার জীবনে পরকালের প্রস্তুতি
প্রিয় ভাই ও বোন!
পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্যই দুনিয়াতে আমাদের আগমন। এখানে আমরা অল্প সময়ের মুসাফির মাত্র। এ জগত মূলত একটি মুসাফিরখানা, অস্থায়ী নিবাস। এ দুনিয়া আমাদেরকে ছাড়তেই হবে। দুনিয়াকে যারা ভালবেসেছে, তারা পেরেশানীকে গ্রহণ করেছে। দুনিয়া যাদের দংশন করেছে, তারা কখনও শান্তি পায়নি। তাই দুনিয়ার মহব্বত থেকে নিজেকে বাঁচান।
এ দুনিয়ার বুকে এমন একটা দিন আসবে যেদিনের ভয়াবহতা বাচ্চাদেরকেও বৃদ্ধ বানিয়ে দিবে। সে দিন আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আত্মপ্রকাশ করবেন। ফেরেশতাগণও দলে দলে এসে উপস্থিত হবে। তখন আল্লাহ তায়ালা ডেকে বলবেন, হে আমার বান্দারা! যেদিন আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি। সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি শুধু তোমাদেরকে দেখে এসেছি। বলিনি কিছুই। রাতে জায়নামাযে দাঁড়িয়ে কে কে আমায় স্মরণ করেছো, তাও দেখেছি। কে কে গান বাদ্যের মজমায় দিন রাত পার করেছো, তাও দেখেছি। তোমাদের চরিত্রের স্খলনও দেখেছি। তোমাদের জুলুম দেখেছি। তোমাদের বেহায়াপনা দেখেছি। হালাল-হারাম সত্য-মিথ্যা আর হক বাতিলকে কোন পথে চলেছো, আমি সবই দেখেছি। বলিনি কিছুই।
আজ বলার সময় এসেছে। প্রস্তুত হয়ে যাও। কি ভেবেছিলে? এ মহাবিশ্ব আপনা আপনি সৃষ্টি হয়েছে? তোমাদের দেহে যৌবনের উদ্যামতা আপনা আপনি এসেছে? অর্থ সম্পদ নিজেদের বুদ্ধি দিয়ে উপার্জন করেছিলে? দুনিয়াতে বড়ই লাগামহীন ছিলে তোমরা। আজ প্রস্তুত হও, তোমাদের সব অপকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খানু হিসেব গ্রহণ করা হবে। প্রস্তুত হয়ে যাও, সে কঠিন সময়ের জন্য।
আমার ভাই ও বন্ধুগণ! আল্লাহর ওয়াস্তে তওবার পথে আসুন। নিজেকে সেই কঠিন বিপদের সম্মুখীন করবেন না। আমরা জানিনা কোন সময় মৃত্যু আমার জীবন থামিয়ে দেয়। জীবন ফুরিয়ে যাবার আগে আমাদের এই অতি সংক্ষিপ্ত জীবনের দিনগুলি কাজে লাগাই। মনে রাখবেন, মহান রাব্বুল আলামীনের চেয়ে অধিক দয়ালু ও মেহেরবান আর কেউ নেই। মা তার সন্তানের প্রতি স্নেহের আচল যতই বিস্তৃত করুক, সন্তানের প্রতি পিতার স্নেহ যতই গভীর হোক, বান্দার প্রতি মাওলা পাকের স্নেহ ও দয়ার সঙ্গে তা মোটেই তুলনা হতে পারে না। অনুগত বান্দার প্রতি মহান রাব্বুল আলামীনের যে মেহেরবাণী বর্ষিত হয়, তার তুলনা সীমাহীন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নাফরমান বান্দার প্রতি যে দয়া, তার বিবরণ পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে। হে দাউদ! পাপিষ্ঠদেরকে সুসংবাদ দিন, যারা নিরাশ হয়ে পড়েছে। তারা ভগ্ন হৃদয়ে আশাহত হয়ে আছে। তারা নিজেদের পাহাড় পরিমাণ গুনাহের দিকে তাকিয়ে হতাশ হয়ে ভাবছে যে, তাদের আর তওবার সুযোগ নেই। তারা ভাবছে, তাদের তওবা আল্লাহর দরবারে আর কবুল হবে না। তাদেরকে সুসংবাদ দিন, তারা যদি তওবা করে, তাদের পাহাড় পরিমাণ গুনাহও আমার পক্ষে মাফ করে দেয়া মোটেও কঠিন নয়। তোমরা তওবা করো, নিজেদের গুনাহের জন্য, আল্লাহ তায়ালার দরবারে অনুতপ্ত হও, তারপর দেখ আল্লাহ তায়ালা তোমাদের কিভাবে গ্রহণ করে নেয়।
এটা কতই না অন্যায় যে, আমরা সীমাহীন অবাধ্যতায় ডুবে থাকবো। সুদ ঘুষ ও অন্যায়ের জোয়ারে মত্ত থাকবো। আর রাত হলে নর্তকীর অশ্লীল নাচ গানের আসরের মধ্যমণী হয়ে কাটাবো। আর বলবো, নিরাশ হয়ো না, আল্লাহ তায়ালা বড়ই ক্ষমাশীল। কাজেই যা ইচ্ছা তাই করতে থাকো। এ ধারণা ঠিক নয়। শয়তানের ধোঁকা ছাড়া আর কিছু নয়। এটা আল্লাহ পাকের সাথে উপহাস ছাড়া কিছু নয়।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে বলছেন, افَنَجْعَلُ الْمُسْلِمِينَ كَالْمُجْرِمِينَ আমি কি করে মুসলমান আর মুজরীমকে এক পাল্লায় পরিমাপ করতে পারি? এটা আমরা কিভাবে ভাবতে পারি? রাত ভর এবাদতকারী আর মদ পানকারীর মধ্যে কোন পার্থক্য থাকবে না? সুদখোর, ঘুষখোর, পরের ধন আত্মসাৎকারী আর হালাল কামাইকারীদেরকে একই পাল্লায় পরিমাপ করা হবে? পর্দা পালনকারী আর বেপর্দা উশৃংখল নারীর বেলায় আল্লাহর বিচার এক হবে? হবে না। মহান রাব্বুল আলামীন বান্দার আমল অনুযায়ী বিচার করবেন।
আল্লাহ তায়ালার দয়ার দিকে তাকান, কত মমতায় আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে আহ্বান করছেন। অবাধ্য অপরাধীকে আমরা সম্বোধন করার সময় আমাদের কণ্ঠস্বর কঠিন হয়ে উঠে। এটা মানুষের স্বভাব। উস্তাদ ছাত্রের উপর রুষ্ট হন। মা-বাবা সন্তানের প্রতি রাগান্বিত হন। আর মহান রাব্বুল আলামীন, অসীম অনন্ত জগত জুড়ে যার রাজত্ব। যাঁর ক্ষমতা সীমাহীন। যাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কোন শেষ নেই। যিনি মানুষের কল্পনারও অতীত এক সূক্ষ্ম ও সুতীব্র অস্তিত্বের অধিকারী। সেই মহান রাজাধিরাজ আল্লাহ তায়ালা তাঁর নাফরমান বান্দাকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়াই তো ছিল স্বাভাবিক। অবাধ্য বান্দার অবাধ্য দেহটিকে প্রচণ্ডভাবে পিষে দেয়াই তো ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু মহান রাব্বুল আলামীন তাঁর নাফরমান বান্দাকে সম্বোধন করার ক্ষেত্রেও, জালেম, অবাধ্য, ইত্যাদি শব্দ পর্যন্ত ব্যবহার করেন নি। গভীর মমতায় তাদেরকে আমার বান্দারা বলে সম্বোধন করেছেন। পবিত্র কোরআনে এভাবে বলেছেন, يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছো, তোমরা আমার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। (সূরা যুমার-৫৩) মায়ের স্নেহ মাখা কণ্ঠে যেমন সন্তানকে ডাকে, তার চেয়েও বহুগুণ অধিক স্নেহ ও মোহাব্বত আল্লাহ তায়ালার, আমার বান্দা সম্বোধনের মধ্যে সুপ্ত রয়েছে।
প্রিয় ভাই ও বোন! আল্লাহ তায়ালা কতই না মমতাপূর্ণভাবে আমাদের ডাকছেন, আমার বান্দাগণ! যেন আল্লাহ তায়ালা তাঁর কোনো প্রিয় বান্দাকে ডাকছেন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা গোটা জীবনে কখনও নেক কাজ করোনি, অবাধ্য ছিলে, তোমরাও আমারই বান্দা। ভয় কি? শুধু একবার তওবা করো, তারপর দেখ, আমি কিভাবে তোমাদেরকে মাফ করি।
📄 ঈমান সবচেয়ে বড় সম্পদ
প্রিয় ভাই ও বোন!
মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো ঈমান। অথচ আজ মানুষের কাছে সেই ঈমান সবচেয়ে বড় অবহেলার বস্তু। দু'চারশত টাকার জিনিস কিনে মানুষ তা হেফাযতের জন্য কত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কাচা মাছ, গোশত কিনে তা হেফাযতের জন্য ফ্রিজে সংরক্ষণ করে। সামান্য কয় টাকার কাপড় সংরক্ষণের জন্য হাজার হাজার টাকায় আলমারী তৈরী করে।
আমার ভাই আমার বন্ধুগণ! দুনিয়ার সামান্য এ বস্তুগুলোর হেফাযতের জন্য আমাদেরতো আয়োজনের শেষ নাই। ফিকিরেরও কমতি নাই। কিন্তু অমূল্য সম্পদ ঈমান হেফাযতের জন্য আমাদের কি কোন আয়োজন ও ফিকির রয়েছে? এর হেফাযতের জন্য আমরা কি কোন চেষ্টা ও মেহনত করছি?
আজ আমরা চোখ দিয়ে কত গুনাহ করছি, কান দিয়ে কত অশ্লীল কথা গান শুনছি। জবান দিয়ে অশ্লীল কথা, মিথ্যা, চোগলখুরী করছি। হারাম বস্তু গ্রহণ করছি। যিনা, উলঙ্গপনা করছি। এগুলো দ্বারা আমাদের মূল্যবান সম্পদ ঈমানের ক্ষতি হলো। নিজের ঈমান ধ্বংস করে দেয়ার পর আমরা যতই অর্থবিত্ত ও সহায় সম্পদ, প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জন করি না কেন? তাতে বিশেষ ফায়দা হবে না। দুনিয়ার এই তুচ্ছ বিষয়গুলো আপনার চূড়ান্ত মুক্তি ও কামিয়াবীর ব্যবস্থা করে দিতে পারবে না। তাই আমার অনুরোধ, নেক কাজ যতই ছোট হোক, তার প্রতি কখনও অবহেলা না করা, আমল করা। আর গুনাহ যতই ছোট হোক তা থেকে বেচে থাকা।
হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ওহে আমার বান্দাগণ! তোমরা যখন কোন নাফরমানী বা গুনাহ করো, সে গুনাহ ছোট হোক বা বড় হোক, তার প্রতি লক্ষ্য না করে দেখ, তাতে কার নাফরমানী করা হচ্ছে। সন্দেহ নেই এতে আল্লাহ তায়ালার নাফরমানী করা হচ্ছে; কাজেই সেই মহান জাতের প্রতি লক্ষ্য রেখে নাফরমানী বা গুনাহ থেকে আত্মরক্ষা করে চলতে চেষ্টা করো। এর নামই হলো ঈমান। ছোট বড় সব প্রকার গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাই হলো মজবুত ঈমান ওয়ালার পরিচয়।
প্রিয় ভাই ও বোন! মহান রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে ঈমান ও ইসলামের মত মূল্যবান সম্পদ দান করেছেন। এটি আমাদের উপর মহান রবের অনুগ্রহের এক অবিরাম রহমতের বর্ষণধারা। গোটা দুনিয়ার কাফির মুশরিকরা মুসলমানদের উছিলায় বেচে আছে। ইহুদী খৃষ্টান তথা দুনিয়ার সকল বিধর্মীরা এই মুসলমানদের উছিলাতেই দুনিয়াতে বিচরণ করছে। দুনিয়ার বুকে যদি মুসলমান না থাকতো, ঈমান ওয়ালা কোন মানুষ যদি দুনিয়াতে না থাকতো, তাহলে এই আসমান জমিন ভেঙ্গে পড়তো।
হাদীসে পাকে এরশাদ হচ্ছে, لَا تَقُوْمُ السَّاعَةَ حَتَّى لَا يُقَالُ فِي الْأَرْضِ اللهُ اللهُ পৃথিবীতে যতক্ষণ পর্যন্ত একজন মুসলমান জীবিত থাকবে, সে মুসলমান যে স্তরেরই হোক না কেন, শুধু কালেমা ছাড়া আর কোন বিষয়ের সঙ্গে যার কোন সম্পর্ক নেই। সে জানে এবং মানে যে আল্লাহ এক, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল। এমন একজন মুসলমান ও যতদিন দুনিয়াতে জীবিত থাকবে, ততদিন কেয়ামত কায়েম হবে না।
এখনো আমাদের অধঃপতন এতটা ঘটেনি। কমবেশ কিছু না কিছু আমল আমাদের দ্বারা হয়ে থাকে। এই মুসলমান যতদিন জীবিত থাকবে, ততদিন এই সূর্য আলো বিকিরণ করে জগতকে আলোকময় করে রাখবে। চন্দ্র আপন কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করবে। বাতাস বইবে। মেঘ আকাশে ভেসে বেড়াবে। পৃথিবী ফুলে ফলে, ফসলে, আপন প্রাচুর্যে প্রাণময় হয়ে থাকবে। শীত বর্ষার পালাবদল চলতে থাকবে যথা নিয়মে। কিন্তু যেদিন সেই ক্ষীণ ঈমানওয়ালা মুসলমানটিরও বিদায় ঘটবে, সেদিন আল্লাহ তায়ালার নিকট এ জগতের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। এ জগততো ঈমান ওয়ালা মুসলমানের জন্যই। আল্লাহ তায়ালার নিকট একজন মুসলমানের মর্যাদা এতটাই বেশি। কাজেই নিজেদের সেই মর্যাদা সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
মনে রাখতে হবে, বিশ্বের সবচাইতে ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রটি থেকে নিয়ে প্রবল পরাক্রমশালী আমেরিকা পর্যন্ত গোটা দুনিয়ার সমস্ত মানুষ মুসলমানদের উসিলায় বেচে আছে। দুনিয়ার প্রতিটা প্রাণীই মুসলমানদের উসিলায় রিযিক পাচ্ছে। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মতগণ এ দুনিয়া থেকে বিদায় নেবার পর আল্লাহ তায়ালার নিকট এ জগতের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে। দুনিয়ার কারও সাথেই মহান রাব্বুল আলামীনের আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। ঈমানের বিচারেই বান্দার সাথে আল্লাহ তায়ালার সম্পর্কের গভীরতা বিবেচিত হয়। ঈমানের সেই মহামূল্যবান সম্পদ আল্লাহ তায়ালা আমাদের দান করেছেন।
আমাদের একজন দরিদ্র মুসলমানও প্রকৃত বিচারে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের চেয়ে বহু গুনে ভাগ্যবান। কারণ সে আল্লাহ ও আল্লাহর প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিচয় লাভ করেছে। কালেমাওয়ালা একজন মূর্খ ও আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানীর চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। কারণ সে আল্লাহ তায়ালাকে চিনেছে। সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে চিনেছে। পশ্চিমা বিশ্বের সব বিজ্ঞানীর চেয়ে একজন অক্ষর জ্ঞানহীন মুসলমান অনেক বেশি বিচক্ষণ। কারণ আখেরাতকে সে জেনেছে এবং আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় হাবীবকে মেনেছে। যে ব্যক্তি মহান রাব্বুল আলামীনের পরিচয় লাভ করেছে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করেছে, তার চেয়ে বড় বুদ্ধিমান দুনিয়াতে আর কে হতে পারে?
প্রিয় ভাই ও বোন! আসুন আমরা আমাদের মর্যাদা বুঝতে চেষ্টা করি। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে ঈমানের মত মহামূল্যবান দৌলত দান করেছেন। আমাদেরকে এর মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। আল্লাহ তায়ালার প্রতি পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যই হলো বান্দার দায়িত্ব ও কর্তব্য। আমরা যদি আমাদের মর্যাদা ভুলে যাই, আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য ভুলে যাই, তাহলে আমাদের থেকে বড় অকৃতজ্ঞ আর কে হতে পারে? এই কাদা মাটির তৈরি আমার দেহ, আর ক্ষণস্থায়ী এ জগত মাত্র কয়েকদিনের এ দুনিয়া, যা কারও জন্য স্থায়ী হয়নি। এর জন্য জীবনের যাবতীয় শ্রম সাধনা ও সময় ব্যয় করে দেয়ার মধ্যে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় কতটা পাওয়া যায় তা আমার বুঝে আসে না। কিন্তু নির্বুদ্ধিতা যে ষোলআনাই আছে, তাতে সন্দেহ নেই। তাই আসুন, আমরা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিই। আমরা আল্লাহর হয়ে যাই, আল্লাহ ও আমাদের হয়ে যাবেন। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন, আমীন।
📄 মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য
প্রিয় ভাই ও বোন!
একটু চিন্তা করুন, আল্লাহ পাক আমাদেরকে একটি উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আমরা নিজ ইচ্ছায় সৃষ্টি হইনি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সৃষ্টি করেছেন। মানুষ তার এই সুন্দর আকৃতি নিজের ইচ্ছায় গ্রহণ করতে পারেনি। আল্লাহ পাকও আমাদেরকে কেমন অবয়বে সৃষ্টি করবেন সে বিষয়ে আমাদের পিতা-মাতা থেকে পরামর্শও গ্রহণ করেননি। তিনি আপন ইচ্ছায় আমাকে আপনাকে পৃথিবীর সকলকে সুন্দর আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন। তিনি স্রষ্টা, তিনি তাঁর সৃষ্টিকে কেমন করে সৃষ্টি করবেন, তা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছাধীন। তিনি আরবীদেরকে আরবী, অনারবদেরকে অনারবী, নারীকে নারীর রূপে পুরুষকে পুরুষরূপে, সৃষ্টি করেছেন। রং-বর্ণ আর চেহারা-অবয়বে এই বৈচিত্র্যের সমাবেশ। কারও নাক উঁচু, কারও নাক নিচু। কেউ সুন্দর, কেউ কালো। কেউ মোটা কেউ পাতলা। এই যে সৃষ্টির মাঝে বৈচিত্র্য, সবই আল্লাহ তায়ালার মহান কুদরতের বহিঃপ্রকাশ। এই জগত আল্লাহর, এই জগতের সব সৃষ্টি মহান আল্লাহর। আর এই সৃষ্টির মাঝে যত বৈচিত্রতা, সব মহান রাব্বুল আলামীনের একক কর্তৃত্বের মাঝেই ফুটে উঠে।
আজকের দুনিয়ায় মানুষের চোখে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হতে পারাই মনে করা হয় জীবনের চরম সফলতা। আর বিত্তহীন মানুষ তাদের চোখে একজন ব্যর্থ। কিন্তু জীবন সম্পর্কে আমাদের এই ব্যাখ্যা মোটেও আল্লাহ প্রদত্ত নয়। এটা মানুষের মনগড়া। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানুষের জীবনের সফলতার যে চিত্র একে দিয়েছেন, তা হলো পূর্ণাঙ্গ ইসলামী জীবন ধারা। আল্লাহ তায়ালার আদেশ নিষেধ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একনিষ্ঠ অনুসরণ ও অনুকরণীয় জীবনই হলো কামিয়াবীর পথ। এ জীবনের সাথে আল্লাহ ও আল্লাহর প্রিয় রাসূলের আদর্শের সাথে যত ব্যবধান থাকবে, সে ততই ব্যর্থ বলে বিবেচিত হবে। ব্যর্থ জীবনের পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেছেন, الَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ মَنْ يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ذَلِكَ الْخِزْى الْعَظِيمُ তারা কি একথা জেনে নেয়নি যে, আল্লাহর সাথে এবং আল্লাহর রাসূলের সাথে যে মোকাবেলা করে তার জন্য নির্ধারিত রয়েছে জাহান্নাম, তাতে সব সময় থাকবে। এটিই হলো ব্যর্থতা, মহা অপমান। (সূরা তওবা-৬৩)
অধিকাংশ মানুষ যদিও এই ধারণা পোষণ করে থাকে যে, ধন-সম্পদ ও দারিদ্রতাই মানুষের সম্মান ও লাঞ্চনার মাপকাঠি, কিন্তু, আল্লাহ পাক বলেছেন, আল্লাহ তাঁর রাসূলের অবাধ্য ব্যক্তির দুনিয়াবী সম্মান যতই থাকুক, পরিণামের বিচারে প্রকৃত লাঞ্চিত ব্যক্তি সেই।
একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে নববীতে নামায পড়ছিলেন। সেদিন তিনি বসে বসে নামায পড়ছিলেন। হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) এসে দেখলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে বসে নামায পড়ছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রাযি.) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মাতা-পিতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আপনি বসে বসে নামায পড়ছেন? জবাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেটের দিকে ইশারা করে বললেন, ক্ষুধা! ক্ষুধায় এতো কাতর হয়ে পড়েছি যে, এ পা দুটির উপর দাঁড়াতে ভরসা পাচ্ছি না। আমার আপনার দৃষ্টিভঙ্গী ও রুচি অনুযায়ী যে ব্যক্তির নিকট ক্ষুধা নিবারণের জন্য এক টুকরো রুটি নেই, তার চেয়ে গরীব ও দরিদ্র ব্যক্তি আর কেউ নেই। অথচ দেখুন, আল্লাহর নবীর ব্যক্তিত্ব এমন মহান ছিলো যে, তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় সুদূর আকাশের চাঁদ পর্যন্ত দ্বিখণ্ডিত হয়ে যেত। যিনি চাইলে উহুদ পাহাড় স্বর্ণে রূপান্তরিত হতো। তিনি ক্ষুধার যন্ত্রণায় কাতর। তিনি ক্ষুধা ও দারিদ্রতাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক খেজুর বাগানে গিয়ে উপস্থিত হলেন, সঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমরও ছিলেন। গাছের নিচে কিছু খেজুর পড়েছিল। সেগুলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুড়িয়ে ঝেড়ে মুছে খেতে লাগলেন। হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাযি.) কে বললেন, তুমি খাচ্ছো না যে? ইবনে ওমর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ক্ষুধা নেই। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কিন্তু যথেষ্ট ক্ষুধা রয়েছে, আজ চারদিন হতে চললো, এক লোকমা আহার ও আমার পেটে পড়েনি।
প্রিয় ভাই ও বোন! এই পৃথিবীতে মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট তাঁর প্রিয় হাবীবের চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই। বলুন তো, নিজের প্রিয়জনকে কষ্টে ফেলে কেউ কি আনন্দ অনুভব করতে পারে? না, তা কখনও সম্ভব নয়। সেই আল্লাহর প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছেন, আমি চারদিন যাবত কিছুই খাইনি। কিন্তু আমি যদি চাইতাম, তাহলে গোটা দুনিয়ার সমস্ত খাজানা আমার হাতের মুঠোয় এনে দিতেন। কিন্তু, হে ইবনে ওমর! আমি তা চাইনা। তবে একটা সময় এমন আসবে, যখন মানুষের অবস্থা এমন সচ্ছল হবে যে, কয়েক বছর পর্যন্ত জীবন নির্বাহের মত সম্পদ মানুষের হাতে থাকবে, কিন্তু তার পরেও আরও কিভাবে অর্জন করা যায় সে চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে। তাদের একীন ও এখলাস বরবাদ হয়ে যাবে।
হে ভাই, হে বোন! বুঝতে পারছেন তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলতে চেয়েছেন? এখন তো আমাদের অবস্থা এমন হয়েছে যে, একশত বছরের সম্পদ জমা করার চিন্তায় পেরেশান। আর এই পেরেশানী তাকে নিয়ে যাচ্ছে হারাম উপার্জনের দিকে। অথচ এর পরিণাম বড় ভয়াবহ। এ হারাম উপার্জন করতে গিয়ে সে কতজনের হক নষ্ট করছে। কতজনের পেটে লাথি মারছে। হালাল হারাম বাছ বিচার করছে না। এসব থেকে আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন।