📄 আমাদের উপায় কি?
প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আমাদের মানবীয় জ্ঞান যেখানে অনেক কিছু বুঝতে অপারগ। সেখানে মহান রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে বলে দিয়েছেন আমাদের কি করণীয়। কোনটা ছাড়তে হবে আর কোনটা ধরতে হবে। আল্লাহ তায়ালা ঠিক করে দিয়েছেন আমাদের চলার পথ। জান্নাতের পথ ধরতে বলেছেন, জাহান্নামের পথ থেকে ভাগতে বলেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন, আসল হলো মৃত্যুর পরের জীবন। সেই জীবনের জন্য তোমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করো—
লَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ - مَتَاعٌ قَلِيلٌ ثُمَّ مَأْواهُمْ جَهَنَّمُ وَبِئْسَ الْمِهَادُ
যারা কুফুরী করেছে, দেশে দেশে তাদের অবাধ বিচরণ যেন কিছুতেই তোমাকে বিভ্রান্ত না করে। এ স্বল্পকালীন ভোগমাত্র। তারপর জাহান্নাম তাদের আবাস। আর তা কত নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল। (সূরা আল ইমরান, ১৯৬, ১৯৭)
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, দুনিয়া খেল তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। হে আমার ভাই, হে আমার বোন! আমরা এখানে প্রবাসী। এ জগত আমাদের আসল বাসস্থান নয়। আসল বাসস্থান হলো জান্নাত। এটা আমাদের সাময়িক নিবাস। কয়েকদিনের জন্য আমরা এখানে এসেছি। দুনিয়া পরীক্ষার জায়গা। আমাদের পরীক্ষা সব সময় চলবে। আমরা জেগে থাকি বা ঘুমিয়ে থাকি। আমরা বুঝতে পারি বা না পারি। আমাদের শেষ পরিণতি হলো মৃত্যু। প্রতিদিন আমরা একটু একটু করে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সামনে আশে পাশে কতজন কবরের যাত্রী হচ্ছে প্রতিদিন। এই তো কিছু দিন পূর্বে একজনকে রেখে এলাম কবরে। দুইদিন পূর্বেও তার সাথে আমার কথা হয়েছে। সুস্থ মানুষ। দুইদিন পর শোনলাম সে জগতে নেই। মানুষটিকে কবরে রেখে আসার সময় কবরস্থানে কত পরিচিত মানুষের কবর দেখে এলাম। নেমপ্লেটে লেখা আছে—অমুকের ছেলে অমুক। মৃত্যু এত তারীখে। আহ! এই তো জীবন! কত ক্ষণস্থায়ী এ জীবন。
বাপ বেচে আছে ছেলে নেই কবরবাসী হয়ে গেছে। মা বেঁচে আছে সন্তান মরে গেছে। দাদা বেঁচে আছে নাতি নেই মরে গেছে। আফসোস! মানুষ দীর্ঘ আশা করছে অথচ মৃত্যু তার নিকটে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসছে। আমাদের অন্তরে এমন প্রলেপ পড়েছে যে মৃত্যুকে আমরা একেবারেই ভুলে গেছি। দুনিয়ার চাকচিক্যের প্রতি এতটাই ঝুকে পড়েছি যে আমার ঠিকানা ভুলে গেছি, আমার অবস্থান ভুলে গেছি, আমার গন্তব্য ভুলে গেছি。
একবার হযরত আলী (রাযি.) এক কবরস্থানে গিয়ে মৃত ব্যক্তিদের সম্বোধন করে বলেছিলেন:
يَا أَهْلَ الْقُبُورِا أَمْوَا لُكُمْ قُسِمَتْ وَدِيَارُكُمْ سُكِنَتْ وَنِسَأَلُكُمْ زُوِّجَتْ وَأَوْلَا দكُمْ حُرِّمَتْ.
হে কবরবাসীরা! তোমাদের ধন সম্পদ ভাগ হয়ে গেছে। তোমাদের ঘর বাড়ি আবাদ করা হয়েছে। তোমাদের স্ত্রীরা আবার বিয়ে করেছে। তোমাদের সন্তানরা দিন দিন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
একবার জীবিত লোকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছিলেন, দুনিয়া একটু একটু করে দূরে সরে যাচ্ছে আর আখেরাত একটু একটু করে এগিয়ে আসছে। তোমরা দুনিয়ার সন্তান না হয়ে আখেরাতের সন্তান হও। কেননা আজ আমলের সুযোগ আছে কিন্তু হিসেব নেই। কিন্তু পরকালে হিসাব দিতে হবে। তবে আমলের সুযোগ থাকবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে ক'জন যুবক সাহাবী এসে বললেন:
مَنْ أَكْيَسُ النَّاسُ وَاحْزَمُ النَّاسَ
সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও প্রত্যয়ী কে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
أَكْثَرُهُمْ ذِكْرَ الْمَوْتِ وَأَكْثَرُهُمْ اِسْتِعْدَادًا لِلمَوْتِ الْئِكَ الْأَلْيাসُ ذَهَبُوا بِشَرْفِ الدُّنْيَا وَكَرَامَةَ الْآخِرَةِ
তারাই বুদ্ধিমান যারা বেশি বেশি মৃত্যুর কথা মনে করে, মৃত্যুর প্রস্তুতি নেয়। এরা দুনিয়াতে শ্রেষ্ঠত্ব আর আখেরাতে সম্মান অর্জন করেছে。
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, স্বাদ বিনষ্টকারী জিনিসের কথা বেশি বেশি স্মরণ করো। সাহাবায়ে কেরামগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! স্বাদ বিনষ্টকারী জিনিসটা কি? উত্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মৃত্যু।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সাহাবায়ে কেরামদের জিজ্ঞেস করলেন, মৃত্যু সম্পর্কে তোমাদের ধারণা কি? একজন বললেন—সকালে যখন ঘুম থেকে জাগি নিশ্চিত বলতে পারিনা রাত পাব কিনা? আরেকজন বললেন—যখন চার রাকাত নামাযে দাঁড়াই নিশ্চিত বলতে পারিনা সবগুলো রাকাত শেষ করতে পারব কিনা? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—আমার অবস্থা হলো নামাযে আমি যখন একদিকে সালাম ফিরাই বলতে পারিনা অপর দিকে সালাম ফেরাতে পারব কিনা?
এক বুযুর্গ কবরস্থানে মোরাকাবা করতেন। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হযরত! আপনি কবরবাসীকে কি অবস্থায় দেখেছেন? তিনি বললেন, তারা তাদের দুনিয়ার জীবন নিয়ে এতটাই অনুতপ্ত যে তা যদি দুনিয়ার লোকদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয় তবে তারা পাগল হয়ে যাবে।
📄 মৃত্যু কেন আসে?
একবার হযরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ! আপনি মানুষকে সৃষ্টি করেন আবার মেরেও ফেলেন কেন? আল্লাহ তায়ালা বললেন, মূসা! তুমি জমিনে ফসল ফলাও। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম জমিনে গম চাষ করলেন। কিছুদিন পর ফসল পেকে গেলো। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম যখন দেখলেন ফসল পেকে গেছে তখন তিনি এগুলো কাটার চিন্তা করলেন। তিনি ফসল কেটে গম ও ভূষি আলাদা করলেন এবং যত্ন করে গমগুলো রেখে দিলেন। আর ভূষিগুলো আলাদা রেখে দিলেন। আল্লাহ তায়ালা জিজ্ঞেস করলেন, হে মুসা! তুমি গম এবং ভূষিগুলো আলাদা করলে কেন? মূসা আলাইহিস সালাম বললেন, ফসল পেকে গেছে তাই আলাদা করে ফেলেছি। এবার আল্লাহ তায়ালা বললেন, মুসা! আমিও তো এটাই করি। যখন মানুষের জীবনের ফসল পেকে যায় আমি তা কেটে নেই। বীজের মত লোকদের জান্নাতে ফেলে দিই। আর ভূষির মত কিছু লোককে জাহান্নামে ফেলে দিই。
এক বুযুর্গ বলেন, মানুষ যত চেষ্টা করে জাহান্নাম কামাই করছে এর অর্ধেক চেষ্টা করলে সে জান্নাতের মালিক হয়ে যেতো। বাস্তবতা তো হলো আমরা অনেক পরিশ্রম করে জাহান্নাম ক্রয় করছি। যেমন চুরি করা। চুরি করা কবীরা গুনাহ। এর জন্য মানুষ কত শ্রম দেয় মেধা খরচ করে রাতের ঘুম নষ্ট করে চুরির মত জঘন্য কাজটি করে।
প্রিয় ভাই! আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণ তাদের দীপ্তি ও বরকত সহ খুব দ্রুতই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। তাদের খালি জায়গা অন্ধকারে ভরে যাচ্ছে। শয়তান এ জায়গা পূরণ করে ফেলছে। মনে হচ্ছে দুনিয়া তার শেষ পরিণতি বরণ করতে প্রস্তুত। দেখুন! আজ যেসব বুযুর্গ দুনিয়া ছেড়ে যাচ্ছেন পরবর্তীতে তাদের মতো কাউকে দেখা যাচ্ছে না। এখন সে সময়টা আমরা অতিক্রম করছি। বড়ই নাযুক মুহূর্ত। এ সময় বড় বড় আল্লাহ ওয়ালারাও ঈমান হারানোর ভয়ে থাকে। আর আমরা! আমাদের ঈমান তো হলো তিল পরিমাণ। আর এ তিল পরিমাণ ঈমান নিয়েও আমরা উদাসীন। আল্লাহ্ পাক আমাদের দ্বীনের উপর অটল থাকার তৌফিক দান করুন। ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, মৃত্যু আসলেই একটি বড় মুসিবত। কিন্তু এর চেয়েও বড় মুসিবত হলো এর প্রতি উদাসীন থাকা। এর জন্য প্রস্তুত না থাকা।
📄 হযরত ইবরাহীম আদহাম (রহ.)-এর চিন্তা
হযরত ইবরাহীম আদহামকে কেউ বললো, হযরত! আপনি বলেন আমি আপনার সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটাবো। আপনি আমাকে কিছু ওয়াজ নসিহত করবেন। হযরত ইবরাহীম আদহাম বললেন, আমি এখনো চারটি কাজ শেষ করতে পারিনি। এগুলো শেষ হলে হয়তো বা অন্য কাজ করতে পারবো। সে জিজ্ঞেস করলো কাজ চারটি কি কি? তিনি বললেন—প্রথম কাজ হলো আল্লাহ তায়ালা রূহের জগতে বলেছিলেন লোকদের একদল জান্নাতী আর একদল জাহান্নামী। আমাকে সব সময় চিন্তায় অস্থির করে রাখে আমি কোন দলের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়—নারীর গর্ভে যখন বাচ্চা আসে ফেরেশতা আল্লাহকে জিজ্ঞেস করেন এ সন্তানের নামে সৌভাগ্যশীল লেখবো না দুর্ভাগা লিখবো? সব সময় আমার চিন্তা হয় না জানি আমাকে কোন নামে লেখা হয়েছে? সৌভাগ্যশীল না দুর্ভাগা!
তৃতীয়—ফেরেশতা যখন কারও জান কবজ করতে আসে আল্লাহকে জিজ্ঞেস করে এ আত্মা মুসলমানদের সাথে রাখবো না কাফেরদের সাথে রাখবো? সব সময় আমার ভাবনা হয় ফেরেশতাদের জিজ্ঞাসার জবাবে আমার বেলায় কি বলা হবে?
চতুর্থ—কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করবেন:
وَامْتَازُ الْيَوْمَ أَيُّهَا الْمُجْرِمُونَ
অপরাধীরা আজ তোমরা আলাদা হয়ে যাও। (সূরা ইয়াসীন : ৫৯)
আমার চিন্তা হয় আমার জায়গা অপরাধীদের সাথে হবে না আল্লাহর অনুগত বান্দাদের সাথে হবে! যতক্ষণ এ চার কাজে ব্যস্ত আছি অন্যকোন বিষয়ে কথা বলার সুযোগ নাই। আহ! তারা জীবনের সময়টাকে কত মূল্য দিতেন।
📄 আল্লাহর রহমত
প্রিয় ভাই ও বোন! এ জগতে যারা ভাল কাজ করবে তারা পরকালে নিজেদের অবস্থান দেখতে পাবে। তারা তাদের ভাল কাজের প্রতিদান যখন পাবে তখন দুনিয়ার সব কিছু ভুলে যাবে। তাদের এমন সম্মান দেওয়া হবে এরপর আর লাঞ্চিত হবে না। এমন বাদশাহী পাবে এরপর আর দারিদ্রতা আসবে না। এমন বড়ত্ব পাবে এরপর আর পিছনে ফিরতে হবে না। এমন ভালবাসা পাবে এরপর আর ঘৃণা আসবে না। আল্লাহ আকবার। সেইতো সফল যে দুনিয়াতে কয়েকটি দিন কষ্ট ভোগ করেছে। নামায পড়েছে। রোজা রেখেছে। তেলাওয়াত করেছে। নারী পর্দায় থেকেছে। নেক কাজও আল্লাহভীতির মধ্যে সময় কাটিয়েছে। তার জন্য সেই দিন সৌভাগ্যের দরজা খুলে যাবে। মহান রাব্বুল আলামীনের মেহমান হবে。
সেদিন এ লোক কার মেহমান হবে? নিজ প্রতিপালকের! আহ! কেমন যে হবে সে মেহমানদারী! মহান রব নিজে মেজবান। বান্দা মেহমান। দয়ালু আল্লাহ মেহমানদারী করার জন্য জান্নাত সাজিয়ে রেখেছেন। জান্নাতকে নাজ ও নেয়ামত দ্বারা ভরে দিয়েছেন। সব অনুগত বান্দার জন্য। বান্দার জন্য আল্লাহ তায়ালার রহমতের দ্বার উন্মুক্ত। আজও উন্মুক্ত পরকালেও উন্মুক্ত থাকবে। আল্লাহর রহমত অনেক প্রশস্ত। শায়েখ আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.) নিজের মুরিদদের সামনে ষোলটি বছর আল্লাহর রহমত নিয়ে বয়ান করলেন। এরপর একদিন আযাব সম্পর্কে আলোচনা করলেন। মুরিদরা আযাবের বর্ণনা শুনে ভয়ে অস্থির। চারদিকে কান্নার রোল পড়ে গেল। এমন সময় এলহাম হলো—হে আব্দুল কাদির! আমার রহমত কি শেষ হয়ে গেছে? তুমি আজাবের আলোচনা করে মানুষকে নিরাশ করছো?
দুনিয়া পরীক্ষার স্থান। রঙ তামাশা হাসি মযাক এবং ভোগ-বিলাসের স্থান নয়। আজ আমরাতো পরীক্ষার এ স্থানকে ফুর্তির মঞ্চ বানিয়ে নিয়েছি। অথচ আমাদের জীবনের মূল উদ্দেশ্য হওয়ার কথা ছিল আল্লাহ তায়ালার গোলামী। বান্দাতো তাকেই বলে যার মাঝে বন্দেগী আছে। অন্যথায় সে দুর্গন্ধময় মিথ্যুক প্রতারক ও ধোকা-বাজে পরিণত হয়। মানুষকে সংযত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। লাগামহীন জীবন-যাপনে আল্লাহ তায়ালার দয়া ও রহমত বর্ষিত হয় না। কেননা এমন সংযমহীন জীবন মানুষের নয়। গবাদি পশু ও জানোয়ারের জীবন হয় অসংযত লাগামহীন।
বুঝতে হবে আমাদের জীবন লাগামহীন নয়। আল্লাহ তায়ালা ভালবেসে আমাদের সৃষ্টির সেরা বানিয়েছেন। তাকে জীবন পরিচালনা করার জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দান করেছেন। তাকে সেই নির্দেশ মত চলতে হবে। মানুষ নিজ ইচ্ছায় পৃথিবীতে আসতে পারেনি আবার তার খুশি মতও যেতে পারবে না। অতএব মধ্যবর্তী সময়টুকু নিজের মন মত করে কাটানোর অধিকারও তার নেই। আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মেনে চলার মাঝেই জীবনের সফলতা। আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় দুনিয়া এসেছি আবার আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায়ই দুনিয়া থেকে বিদায় নেব। তাহলে তাঁর নির্দেশ ছাড়া কার নির্দেশ মানব? আল্লাহ ছাড়া কে এমন আছে যার মতাদর্শে পূর্ণ সফলতা আছে? নেই। পৃথিবীতে এমন কেউ নেই একমাত্র আল্লাহ তায়ালার পথেই সকল সফলতা, মুক্তি এবং কামিয়াবী। জীবন থেকে শেষ হয়ে যাওয়া একটি দিন পৃষ্ঠা স্বরূপ। আমরা উক্ত পৃষ্ঠায় প্রশংসাও লিখতে পারি আবার লিখতে পারি দুর্নামও। এটা আমাদের আকলের বিষয়। এ কথাতো সত্য যে আমাদের জীবন থেকে যে দিনটি চলে যাচ্ছে তা কোন ভাবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। অর্থাৎ যেদিনটি চলে গেছে তা মূলত চিরতরে হারিয়ে গেছে। তাই সামনে যেটুকু সময় আছে তা আল্লাহ তায়ালার বন্দেগীতে কাটিয়ে দেয়া।
এক বুযুর্গ বলেছেন, সময় তিন শ্রেণীতে বিভক্ত।
(এক) যা গত হয়েছে। আর গত হওয়া সময়গুলো তোমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে।
(দুই) যা এখনো শেষ হয়নি। আগামীতে আসবে। সেই আগত আগামী দিনগুলো সম্পর্কে তোমার ধারণা নেই। তুমি জাননা সে দিনগুলো তোমার জীবনে আসবে কিনা? হয়ত বা আগামী দিনের সূর্য উঠার পূর্বেই তোমার জীবন প্রদীপ চিরতরে নিভে যাবে।
(তিন) উপস্থিত সময় বা দিন। এটি তোমার চলমান সময়। এ সময়টা তোমার ক্ষমতায় আছে। সুতরাং গত হওয়া দিন নিয়ে ভেবো না। আগামী দিন নিয়ে ভরসা করে বসে থেকো না। তোমার নিকট চলমান যে দিনটি আছে তাকে গনিমত মনে করো। এ দিনটিকে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি বা খুশির পেছনে লাগাও। তাহলেই তুমি ধন্য।
হযরত রাবেয়া বসরী (রহ.) এর কথা মনে আছে? আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য পেয়ে যারা নিজেকে ধন্য করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম রাবেয়া বসরী। তিনি বিরল প্রকৃতির আল্লাহর ওলি ছিলেন। বছরের যে ক'দিন রোজা রাখা হারাম তা বাদে বছরে প্রতিদিনই তিনি রোযা রাখতেন। তার জবানে সর্বদা আল্লাহ তায়ালার যিকির থাকতো। তিনি অকৃতজ্ঞ বান্দাদের বলতেন—হে মানব! আল্লাহর নেয়ামত খেয়ে খেয়ে তোমার দাঁত ক্ষয় করে ফেলেছো অথচ সামান্য সময় তোমার জবান তাঁর প্রশংসায় ব্যয় করছো না। তুমি আর কত অকৃতজ্ঞ থাকবে!