📄 এক শিশুর জাহান্নামের ভয়
হযরত বাহলুল (রহ.) কোথাও যাচ্ছিলেন। পথে এক স্থানে তিনি দেখলেন, একটি শিশু দাঁড়িয়ে কাঁদছে। পাশে আরেকটি শিশু আখরোট নিয়ে খেলছে। বাহলুল মনে করলেন, এই শিশুটির কাছে আখরোট নেই বলে কাঁদছে। তাই আমি তাকে বললাম, বেটা শোন তুমি কেঁদনা। আমি তোমাকে আখরোট দেব, তুমিও খেলবে। শিশুটি বললো, হে বাহলুল! আমরা কি দুনিয়াতে খেলতে এসেছি?
এ বয়সে শিশুটির এমন জবাব শুনে বাহলুল বিস্মিত হলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, তাহলে আমরা কিসের জন্য এসেছি? শিশুটি বলল, আমরা আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করতে এসেছি। বাহলুল বললেন, চমৎকার হয়েছে বেটা। কিন্তু তুমি এখনও ছোট, তোমার চিন্তার কোন কারণ নেই। এই মনজিলে আসতে তোমার এখনও অনেক দেরি আছে। শিশুটি বলল, হে বাহলুল! ধোঁকা দিও না। আমি আমার মাকে দেখেছি, তিনি সকাল বেলা যখন আগুন জ্বালান, তখন প্রথমে ছোট লাকড়ি দ্বারা আগুন ধরান, পরে বড় লাকড়ি চুলায় দেন। আমার ভয় হচ্ছে এই জন্য যে, জাহান্নামের আগুন আমাকে দিয়েই ধরানো হয় কিনা? শিশুটির এমন কথা শুনে বাহলুল বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন।
📄 জাহান্নামীদের সংখ্যা
প্রিয় ভাই ও বোন! আল্লাহ পাক আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের অবস্থা যেন এমন না হয়। আমাদের আমলনামায় যদি এমন কোন অপরাধ দেখা যায় যাকে আমরা তুচ্ছ ভেবেছিলাম অথচ তা আল্লাহ তায়ালার নিকট বড় অপরাধ, তাহলে সেদিন আল্লাহ তায়ালা আমার প্রতি ক্রোধান্বিত হয়ে বলবেন, হে নাফরমান বান্দা! তোমার উপর আমার লানত। আমি তোমার কোন ইবাদতই কবুল করব না। এই ঘোষণা শোনার পর অপরাধীর চেহারা কালো হয়ে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালাকে রাগান্বিত দেখে ফেরেশতাগণও তোমার উপর ক্ষেপে যাবে এবং বলবে, তোমার উপর আমাদের লানত এবং সমগ্র মাখলুকের লানত। ঠিক ঐ মুহূর্তে যাবানিয়া নামক আযাবের ফেরেশতারা তোমার দিকে অগ্রসর হবে। তারা তোমার প্রতি অত্যন্ত কঠোর আচরণ করবে। তাদের চেহারা এবং গঠনও হবে খুবই ভীতিপ্রদ। তারা তোমাকে উপুড় করে তোমার কপালের চুল ধরে হেচড়িয়ে হেচড়িয়ে টেনে নিয়ে যাবে। লোকেরা তোমার কালো কুশ্রী চেহারা ও তোমার এ অপমান ও লাঞ্চনা দেখতে থাকবে। আর তুমি বলতে থাকবে হায় ধ্বংস, হায় আমার বরবাদী। তুমি চিৎকার করতে থাকবে। জবাবে ফেরেশতারা বলবে, আজ শুধু একটি ধ্বংসের আহ্বান করো না, বরং শত শত ধ্বংসের আহ্বান করো। তারা ঘোষণা করবে যে এ ব্যক্তি অমুকের সন্তান অমুক। আল্লাহ পাক তাকে তার নাফরমানীর কারণে অপদস্ত করেছেন। তার অপকর্মের কারণে তার উপর লানত বর্ষণ করেছেন। ফলে তার কপাল এমন পোড়াই পুড়েছে যে, কোনদিন আর এই কপাল জোড়া লাগবে না। ভাগ্যের এ বিড়ম্বনা থেকে তার কখনও মুক্তি নেই।
হে ভাই ও বোন! বহু ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিণতি ভোগ করতে হবে সে সব গুনাহের দরুণ, যা তুমি লোক চক্ষুর অন্তরালে নির্জনে করেছো। অথবা মানুষের মাঝে জনপ্রিয় হওয়ার জন্য এমন কাজ করেছো যা ছিল ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক। অথবা লোকলজ্জার ভয়ে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছো কোন পাপাচারে। তুমি কি ভেবেছো! তুমি কত বড় মূর্খ? যে তুমি ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ার কিছু মানুষের অন্তরে জায়গা পাওয়ার জন্য আল্লাহর নাফরমানী করছো? অথচ কেয়ামতের ময়দানে বিশাল কাফেলার সামনে অপদস্ত হওয়ার কথা ভাবছ না। সেখানে তো শুধু তোমাকে অপমানই হতে হবে না বরং আল্লাহ তায়ালার রোষানলে পড়তে হবে। ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সম্মুখীন হতে হবে। অথচ তুমি ভয়হীন, বেপরোয়া。
আল্লাহ পাক কোরআন কারীমে বলেছেন:
وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَّقْضِيًّا - ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّلِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا
তোমাদের প্রত্যেকেরই জাহান্নাম অতিক্রম করতে হবে। এটি আল্লাহর অবধারিত সিদ্ধান্ত। অতঃপর আমি আল্লাহভীরুদেরকে নাজাত দিবো। আর জালিম পাপিষ্ঠদিগকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। (সূরা মারইয়াম, ৭১, ৭২)
এখানে সবাইকে জাহান্নাম অতিক্রম করানো হবে অর্থ হলো, হাশরের প্রাথমিক অবস্থায় মুমিন, কাফের, ভাগ্যবান, হতভাগা, সবাইকে জাহান্নামের চারদিকে সমবেত করা হবে। সবাই ভীত বিহ্বল নতজানু অবস্থায় পড়ে থাকবে। এরপর মুমিন ও ভাগ্যবানদেরকে জাহান্নাম অতিক্রম করিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। ফলে জাহান্নামের ভয়াবহ দৃশ্য দেখার পর তারা পুরোপুরি খুশি ও ধর্মদ্রোহীদের দুঃখে আনন্দ এবং জান্নাত লাভের কারণে অধিকতর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। যদিও মুমিন ও ভাগ্যবান ব্যক্তি জাহান্নাম অতিক্রম করার সময় জাহান্নামের একটু আঁচড়ও তাদের গায়ে পড়বে না। (সূত্র: তাফসীরে মা'আরেফুল কোরআন)
তাহলে তোমার জাহান্নাম অতিক্রম চূড়ান্ত বিষয়, কিন্তু নাজাত পাওয়া নিশ্চিত নয়। তাই অন্তরের মাঝে সেই ভীতিপ্রদ ঘাটির দৃশ্যটা অনুভব করো। হয়ত তা তোমাকে নাজাতের প্রস্তুতি গ্রহণে উৎসাহিত করবে। চিন্তা করো হাশরের মাঠের সেই ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে মানুষের কি অবর্ণনীয় দুর্ভোগ হবে। তারা কেয়ামতের প্রকৃত খবরাখবর ও সুপারিশকারীদের সুপারিশের অপেক্ষায় থাকবে। হঠাৎ করে ভয়াবহ রকমের অন্ধকার অপরাধীদের ঘিরে ফেলবে। জাহান্নামের লেলিহান আগুন তাদের উপর দিয়ে বিস্তৃত হবে। তারা জাহান্নামের বিকট-চিৎকার ও গর্জন শুনতে পাবে। সেই মুহূর্তে বিশ্বাস করবে যে, তারা দুর্ভাগা, তাদের ধ্বংস অবধারিত। এমনকি সৎ লোকেরাও অশুভ পরিণামের আশংকায় আতংকিত হয়ে পড়বে। এমন সময় একজন আযাবের ফেরেশতা ঘোষণা করবেন, অমুকের পুত্র অমুক কোথায়? দুনিয়ার জীবনকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করেছো। ফেরেশতারা লোহার হাতুড়ি নিয়ে তার দিকে ছুটে যাবে, কঠোর ধমক দিয়ে তাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাবে। অতঃপর কঠিন জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে এবং বলবে:
ذُقْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْكَرِيمُ
হাঁ, মজা চাখো তুমি কিনা খুব প্রভাবশালী ও মর্যাদাশীল মানুষ। (সূরা দুখান, ৪৯)
📄 চারদিকে শুধুই আগুন
প্রিয় ভাই ও বোন! জাহান্নামের কথা বলছিলাম, এই সেই লেলিহান অনন্ত অনল। চারদিকে শুধু লেলিহান আগুন, পরনে আলকাতরার পোশাক। প্রকাণ্ড হাতুড়ির প্রচণ্ড আঘাত। উপুড় করে ফেলা হবে আগুনে, উফ! সেই কি ভয়াবহ অবস্থা।
নীচে আগুন।
উপরে আগুন।
ডানে আগুন।
বামে আগুন。
সাঁতার কাটতে থাকবে আগুনে। ডুববে। আবার উঠবে। আবার ডুববে। খাদ্য হবে আগুন। আগুন তাদের পোশাক। আগুনের বালিশ। বিছানাও আগুনের। তারা পথ চলবে হেলে দুলে, জ্বলন্ত শরীর। শরীরের গোশতগুলো গলে গলে পড়বে। মাথার মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে। তার চিৎকার করতে থাকবে হায় ধ্বংস, হায় ধ্বংস বলে। আর তখনই তাদের উপর ঢেলে দেওয়া হবে গরম পানি। ফলে তাদের পেটের ভেতরের সবকিছু গলে গলে বেরিয়ে আসবে। পিপাসায় ভেতরটা শুকিয়ে যাবে। চোখের মনি গলে গলে গালের উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। গালের চামড়াও খসে পড়বে। চামড়া যখন গলে গলে হাড্ডিসার হয়ে যাবে, তখন তাদের আবার নতুন চামড়ায় পরিণত করা হবে। তারা অসহ্য যন্ত্রণায় মৃত্যু কামনা করবে। কিন্তু মরতেও পারবে না। তাদের চেহারা কালো হয়ে যাবে। এ কালো চেহারা ও দৃষ্টি শক্তিহীন চোখের দিকে তাকালে বলুন তো কেমন লাগবে?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা জুব্বুল হুজুন বা দুর্গতির গর্ত থেকে পানাহ চাও। আর ওয়াদিল হুজুন, বা দুশ্চিন্তাপূর্ণ নিম্নভূমি থেকে মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট পানাহ চাও। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! দুশ্চিন্তার নিম্নভূমি বা দুর্গতির গর্ত দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা হচ্ছে জাহান্নামের এমন একটি এলাকা যা হতে জাহান্নাম সত্তর বার আল্লাহর কাছে পানাহ চায়。
হযরত আনাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই জিনিসের তামান্না করো যে জিনিসের প্রতি স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে উৎসাহিত করেছেন। যে জিনিসের প্রতি আল্লাহ তায়ালা তোমাকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেছেন সেই আযাব গজব ও জাহান্নামের ভয় করো। কারণ তোমাদের এই দুনিয়ার মধ্যে জান্নাতের একটি মাত্র বিন্দু ও যদি তোমাদের সঙ্গে থাকতো, তবে ঐ একটি বিন্দু তোমাদের জন্য সমগ্র দুনিয়াকে শান্তি ও আনন্দময় করে দিতো। পক্ষান্তরে, জাহান্নামের একটি মাত্র ফোটাও যদি এ দুনিয়ায় তোমাদের সঙ্গে থাকতো, তবে ঐ একটি ফোটাই সমগ্র দুনিয়া ও দুনিয়ার সব কিছুকে নোংড়া করে ফেলত。
হযরত আবু দারদা (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জাহান্নামীদের এমন কঠিনতর ক্ষুধায় যন্ত্রণাক্লিষ্ট করা হবে যা তাদের জন্য সমস্ত আযাবের বরাবর হয়ে যাবে। অর্থাৎ অন্যান্য আযাবের তুলনায় সে সময় ক্ষুধার যন্ত্রণাই সবচেয়ে বেশি কষ্টকর মনে হবে। জাহান্নামীরা খাবারের জন্য চিৎকার করতে থাকবে। তখন তাদেরকে এমন খাবার দেওয়া হবে যা তাদের গলায় আটকে যাবে। হঠাৎ তাদের মনে হবে দুনিয়াতে গলায় কিছু আটকে গেলে পানি পান করার পর তা নীচে নেমে যেত, তাই তারা পানির জন্য চিৎকার করতে থাকবে। তখন তাদেরকে গরম পানি দেওয়া হবে, ঐ পানি তারা মুখের কাছে নিতেই চেহারাটা ঝলসে যাবে। আর তা যখন পেটের ভেতর যাবে, তখন নাড়ি ভূড়ি গলে গলে ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে। তখন তারা বলাবলি করবে—চলো জাহান্নামের মুহাফিজ ফেরেশতাদের কাছে বলি তারা যদি একটা ব্যবস্থা করত। অতঃপর ফরিয়াদ জানাবে। বলবে তোমাদের মাবুদের কাছে বলো তিনি যেন আমাদের শান্তি অন্তত একদিনের জন্য হালকা করে দেন।
📄 হায় কি কঠিন যে আযাব
প্রিয় ভাই ও বোন! জাহান্নামের আযাবের বিভিন্ন প্রকার সংক্ষিপ্ত কিছু বর্ণনা করা হলো, বস্তুত জাহান্নামের ভয়াবহ আযাবের দুঃখ, বেদনা, লাঞ্চনা গঞ্জনা, আক্ষেপ অনুতাপের কোন সীমা পরিসীমা নেই। পবিত্র কোরআনে বলা হচ্ছে:
سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَجَزِعْنَا أَمْ صَبَرْنَا مَا لَنَا مِنْ مَّحِيصٍ
আমাদের ছটফটানী, চিৎকার ও ধৈর্যধারণ সবই বরাবর। আমাদের যে কোনই পরিত্রাণ নেই। (সূরা ইবরাহীম-২১)
হযরত যায়েদ ইবনে আসলাম (রাযি.) এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, ওরা অর্থাৎ জাহান্নামীরা একশত বছর ধৈর্যধারণ করে কাটিয়ে দিবে। তারপর আবার একশত বছর ছটফট ও চিৎকার করতে থাকবে। আবার একশত বছর যাবৎ ধৈর্যধারণ করে থাকবে। তারপর বলবে আমাদের ছটফটানী ও সবর করা সবই বরাবর।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন মৃত্যুকে একটি সুদর্শন ভেড়ার আকৃতিতে জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে হত্যা করা হবে এবং বলা হবে—হে জান্নাতের অধিবাসীরা! তোমরা চিরস্থায়ী জীবনের সুসংবাদ গ্রহণ করো। আর কোন মৃত্যু নেই। হে জাহান্নামের বাসিন্দারা! তোমরা ভয়াবহ আযাবের মধ্যে চিরস্থায়ীভাবে থাকো। আর কোন মৃত্যু নেই。
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান (রাযি.) বলতেন, এক ব্যক্তিকে এক হাজার বছর পর জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। তিনি বললেন, হায়! সেই ব্যক্তিটি যদি আমি হতাম। একবার হযরত হাসান (রাযি.) কে নির্জনে বসে কাঁদতে দেখা গেল। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে ইমাম! আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি জবাব দিলেন, আমার ভয় হয় যে না জানি আমাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়。
প্রিয় ভাই ও বোন! দেখুন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রিয় নাতি, জান্নাতী যুবকদের সর্দার, তিনি নিজেও পরকাল নিয়ে কত চিন্তিত। তাঁদের এ অবস্থাও যদি আমাদের হুঁশ আসত কতইনা ভালো হতো। জাহান্নামীরা শুধু কি আগুন, সাপ, পুঁজ দ্বারাই শাস্তি প্রাপ্ত হবে? এসব কঠিন ও ভয়াবহ আযাবের সাথে সাথে তারা আরও নানা রকম শাস্তি তাদের জন্য বরাদ্ধ থাকবে। যেমন জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হওয়ার মনো কষ্ট। আল্লাহ তায়ালার দীদার না পাওয়ার যন্ত্রণা। আল্লাহ তায়ালার অসন্তুষ্টির যন্ত্রণা। এসব না পাওয়ার যন্ত্রণায় তারা ছটফট করবে। তারা বলাবলি করবে হায় আজ আমরা দুনিয়ার সামান্য ক'দিনের জাগতিক সুখের জন্য সামান্য ক'দিনের ভোগ বিলাসের জন্য জান্নাতের নেয়ামতগুলো থেকে বঞ্চিত হলাম। মনে মনে আক্ষেপ করবে। অনুতাপ করবে। বলবে হায় কেন আমরা আমাদের পালনকর্তার আনুগত্য করলাম না। আমাদের পালনকর্তার অবাধ্য হয়ে মূলত আমরা নিজেদেরকে ধ্বংস করলাম। কেন আমরা সামান্য ক'টি দিন নিজেদেরকে নিয়ন্ত্রণ করলাম না। আহ! যদি আনুগত্য করতাম। ফেলে আসা দুনিয়ার যিন্দেগী তো শেষ করেই এসেছি। আনুগত্য করলেও তো বিনিময়ে মহান রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে তাঁর পরম সান্নিধ্য ও পুরস্কার প্রাপ্ত হতাম। এই বলে বলে তারা আফসোস করতে থাকবে। আর নিজেকে ধিক্কার দিবে。
প্রিয় ভাই ও বোন আমার! জাহান্নামে বসে অনুতপ্ত হয়ে কোন লাভ নেই। জাহান্নামে বসে নিজেকে ধিক্কার দিয়ে লাভ নেই। বরং এ কথাগুলো যদি আমাদের অন্তরে দাগ কাটে আর দুনিয়ার যিন্দেগীতে যদি মহান রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জন করে মরতে পারি তবেই আমাদের পরকাল আসান হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাশরের দিনে কতিপয় মানুষকে জাহান্নামের দিক থেকে জান্নাতের দিকে নিয়ে আসা হবে। তারা যখন জান্নাতের নিকটবর্তী হবে জান্নাতের সুঘ্রাণ তাদের নাকে এসে লাগবে তারা এ ঘ্রাণে পাগল পারা হয়ে যাবে। জান্নাতের সুউচ্চ অট্টালিকা তাদের নজরে পড়বে। জান্নাতীদের জন্য আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক দেওয়া অসংখ্য নেয়ামত সমূহ তারা দেখবে। এ সময় হুকুম আসবে—হে ফেরেশতারা! এখান থেকে তাদের সরিয়ে নাও তারা এসবের যোগ্য নয়। এগুলো তাদের নসীবে নেই। ফলে জাহান্নামীরা অবর্ণনীয় আক্ষেপ-হতাশা নিয়ে সেখান থেকে ফিরে আসবে এবং বলবে ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আপনার প্রিয় বান্দাদেরকে কত কি নেয়ামত ও পুরস্কার দ্বারা ভরে দিয়েছেন। এসব দেখানোর আগেই যদি আমাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করতেন তাহলে জাহান্নাম আমাদের পক্ষে আরও সহজ হতো। আমাদের অন্তরে এত আক্ষেপ থাকতো না।
আল্লাহ পাক জবাব দিবেন, আমি যে তা দেখালাম এ উদ্দেশ্য নিয়েই তো দেখালাম। তোমরা দুনিয়ার যিন্দেগীতে একাকী নির্জনে কত ভয়ংকর পাপাচারে লিপ্ত ছিলে। আবার মানুষের সামনে নিজেদেরকে মোত্তাকী হিসেবে জাহির করতে অথচ তা ছিলো আমার সাথে তোমাদের অন্তরের হালতের সম্পূর্ণ বিপরীত। হে হতভাগার দল! তোমরা মানুষের ভয় করলে? কিন্তু আমাকে ভয় করলে না? মানুষের চোখে সমাজের চোখে নিজেকে সম্মানিত করলে, আমার প্রতি খেয়াল করলে না! মানুষের জন্য কত কিছু বর্জন করলে কিন্তু আমার জন্য বুঝি বর্জন করা গেল না? তাই চিরস্থায়ী সুখ ও শান্তি তোমাদের জন্য হারাম করে দিয়েছি। সেই সাথে এই ভয়াবহ আযাব তোমাদের জন্য নির্ধারণ করেছি।