📄 বান্দার কাছে আল্লাহর চাওয়া
প্রিয় ভাই ও বোন! প্রকৃত জীবনের সূচনাতো হলো মৃত্যুর পর থেকে। আগামীতে যে দিনটি আসছে অর্থাৎ মৃত্যুর পর তার উপর মানুষের কোন দখল নেই। না এমনকি কেউ বলতে পারে যে আগামী কালকের দিনটি সে পাবে? অথচ মানুষ শুধু কালকের জন্যই নয় পরবর্তী বহু বছরের পরিকল্পনা ঠিক করে নেয়। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের কাছে কামনা করেছেন—হে আমার বান্দারা! তোমরা আগামী দিনের জন্য তো চিন্তা করবেই এবং মৃত্যুর পর যে দিন আসবে তার জন্যও ভাবো। তবেই তোমাদের জীবনের ভারসাম্য আসবে। কত মানুষতো এমনও আছে যে একটি সকাল দেখল কিন্তু দুপুর কিংবা রাত দেখার ভাগ্য তার হয় না। কত মানুষতো এমন আছে যে সূর্য উদিত হতে দেখে কিন্তু অস্ত যাওয়ার আগে নিজেই অস্তমিত হয়ে যায়। আগামী দিনতো পরের কথা। তারপরও মানুষের আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ততা এত বেশি যে পরকালকে বেমালুম ভুলে যায়।
আল্লাহর নবী ও রাসূলগণ এ বিষয়টির উপর মেহনত করে গেছেন যেন লোকেরা দুনিয়ার কথা ভাবে দুনিয়াকে দেখে কিন্তু এমনভাবে নয় যে মৃত্যুর পরের জীবন ধ্বংস হয়। প্রকৃত জীবন তো সেটি যেটি মৃত্যুর পর শুরু হবে। অনন্ত যে জীবন যার শুরু আছে শেষ নেই। এ জন্যই আমরা বলি যে বের হোন। দ্বীনের পথে মানুষকে আহ্বান করুন। আর আগে নিজেরা ঈমানী যিন্দেগী কিভাবে গড়তে হয় শিখুন। ঈমানী যিন্দেগীর বিধি-বিধান রীতি-নীতি শিখুন। আমরা তো মানুষ জীব জন্তুতো নই। মানবিক গুণাবলী আমাদের শিখতে হবে। সুশৃংখল সুন্দর জীবন ধারণের জন্য মানুষের গুণগুলো অর্জন করতে হয়। এজন্য মহান রাব্বুল আলামীনের বিধানগুলো আমাদের মানা কর্তব্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শ সমাজ গঠনে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নমুনা। যদি আমরা এ থেকে বিচ্যুত হই তবে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। সংসার ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের সন্তানদেরকে যদি দ্বীনী আদর্শ না শিখাই তারা যদি মানবতা না শিখে তবে ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবে। ছেলে মেয়েদের এই দ্বীন ও মানবতা না শিখার কুফল তো আমরা ভোগ করছিই। দেখছেন না আজ প্রতিটা ঘরে ছাই চাপা আগুন বিরাজ করছে। অশান্তির আগুনে সমাজ সংসারকে জ্বালিয়ে ছাই করে দিচ্ছে। কারণ আমরা তো আমাদের সমাজ সংসারকে আল্লাহর রাসূলের সমাজ ব্যবস্থা সাজাইনি।
আমরা শুধু বাড়ি-ঘর দেখে সহায় সম্পদ দেখে ভাল চাকুরীজীবী দেখে বিবাহ সম্পন্ন করে ফেলেছি। এটা দেখিনি যে ছেলেটা বা মেয়েটা মানুষ হয়েছে কিনা। মানুষ মানুষ হয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন ব্যবস্থা অনুকরণ-অনুসরণ করার দ্বারা। নামায পড়ছেন রোযা রাখছেন এগুলো এবাদত। অবশিষ্ট চব্বিশ ঘন্টা ইসলাম কি কিছু শেখায় না? ইসলাম চব্বিশ ঘন্টা পালন করার মত জীবন বিধানের নাম। ইসলাম শিখায় উত্তম চরিত্র কিভাবে গড়তে হয়। ইসলাম হালাল রুজি কামাই করতে শিখায়। ইসলাম হারাম বর্জন শিখায়। সকল ক্ষেত্রে জীবন-ধারণের যোগ্যতা শিখায়। ইসলাম বিনয় শিখায় নম্রতা শিখায়। ইসলাম স্নেহ মমতা শিখায়। ইসলাম হালাল উপার্জন করার পদ্ধতি শিখায়। হালালভাবে তা ব্যয় করার পদ্ধতি শিখায়। হালাল হারামের সীমারেখা ঠিক করে দেয়। এমন নয় যে হালাল উপার্জন করা ফরজ কিন্তু ব্যয় করার ক্ষেত্রে মানুষ স্বাধীন। ব্যয় করার ক্ষেত্রেও ইসলামের বিধান আছে যে তোমার সম্পদ তুমি কোন ক্ষেত্রে ব্যয় করবে কোন খাতে ব্যয় করা যাবে না।
আর এই না জানার কারণেই মানুষ জীবন যাপনের ক্ষেত্রে পড়ছে নানা রকম সমস্যায়। ঘরে সমস্যা। সমাজে সমস্যা। এই সমস্যাগুলো এমনভাবে একটার পর একটা লেগে থাকে যে মানুষ পেরেশান হয়ে যাচ্ছে। অথচ দ্বীন মানলে দ্বীনের পথে চললে এসব সমস্যা মহান রাব্বুল আলামীন সহজ করে দিতেন। আজ মানুষ জানেনা তাদের জীবনের এই সমস্যাগুলোর সমাধান কি? মানুষ মনে করে পয়সা কামাই করো তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সংসারে সুখ আসবে। সমাজে শান্তি আসবে। বর্তমানে এটাই জগতের সকল মানুষের বুঝ। মুসলমানেরও এই বুঝ। ইহুদী খৃষ্টানের এই বুঝ। হিন্দুদেরও এই বুঝ। সবাই বলে টাকা আসবে তো আমরা সচ্ছল হয়ে যাবো এবং আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমাদের এ মানসিকতা তৈরী হয়েছে ইউরোপ আমেরিকা থেকে। তাদের শিক্ষার অনুসরণ দ্বারা। কিন্তু এ শিক্ষা ভুল। আল্লাহ পাকের শিক্ষা হলো—আমি যদি সন্তুষ্ট হই তাহলে তুমি সচ্ছল হও আর অসচ্ছল হও তুমি সুখী হবে। যদি আমি রাজি হই তাহলে জগতের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পরকালও গড়বে। আর যদি আমি নারাজ হই তাহলে না তোমার দুনিয়া গড়বে না আখেরাত। এটা মহান রাব্বুল আলামীনের শিক্ষা যা আসমান থেকে এসেছে। হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলছেন—
إِنِّي إِذَا طِعْتُ رَضِيتُ وَإِذَارَ ضِيْتُ بَارَكْتُ
যখন আমার আনুগত্য করা হয় তখন আমি সন্তুষ্ট হই। আর যখন আমি খুশি হই তখন বরকত দান করি।
وَلَيْسَ فِي بَرَكَتِي نِهَايَةٌ
আর আমার বরকতের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। তারপর আমার বরকতের দরজা খুলে যায়।
আল্লাহ তায়ালা এই পদ্ধতি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। আর অবস্থা খারাপ হয় কখন? যখন আমরা আল্লাহর অবাধ্য হই। যখন সীমা লংঘন করি। হাদীসের পরবর্তী অংশ হলো—
وَإِنِّي إِذَا عَصَيْتُ وَإِذَا غُضِبْتُ لَعَنْتُ
আর যখন নাফরমানী চলে তখন আমি রুষ্ট হই। আর যখন আমি রুষ্ট হই তখন অভিসম্পাত করি।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে নিয়ম শিক্ষা দিয়েছেন যে সমস্যাগুলোর সমাধান দুনিয়ায় হোক কিংবা আখেরাতের পথ কিন্তু একটাই। তা হলো আল্লাহ পাকের আনুগত্য করা অবাধ্যতা ছেড়ে দেওয়া। আমরা দুটো থেকেই মুক্তি চাই। না আমরা দুনিয়ার কষ্ট সইতে পারব না পরকালের কষ্ট সইতে পারব। তো ভাই ও বোনেরা! আসুন আমরা আল্লাহ তায়ালার নারাজী থেকে বাচি। আমরা দারিদ্রতা অবলম্বন করব তবুও সে সম্পদ চাই না যা আমাদেরকে মহান রাব্বুল আলামীনের অসন্তুষ্টিতে ফেলে দেবে। এমন কাজ না করি যে কাজ দ্বারা আল্লাহ তায়ালা নারাজ হবেন। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমীন।
📄 কিভাবে সহ্য করবে জাহান্নামের আগুন?
প্রিয় ভাই ও বোন! মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে জাহান্নামের বর্ণনা দিয়েছেন।
وَ جَمَعَ فَأَوْعُى تَدْعُوا مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى - نَزَاعَةً لِلشَّوَى كَلَّا إِنَّهَا لَظَّى
নিশ্চয়ই ইহা লেলিহান অগ্নি যা শরীর থেকে চামড়া তুলে দেবে। জাহান্নাম ব্যক্তিকে ডাকবে যে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল ও বিমুখ হয়েছিল এবং সম্পদ জমা করেছিল অতঃপর সংরক্ষণ করে রেখেছিল। (সূরা মাআরিজ, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮)
এ জগতে দেয়াশলাইয়ের আগুন সহ্য হয় না এমতাবস্থায় কার সাধ্য আছে জাহান্নামের আগুনকে সহ্য করবে? জাহান্নাম দেখে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম ও কাঁদেন। মিকাইলও কাঁদেন। আল্লাহ পাক যখন জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন তখন তাকে দেখে ফেরেশতারাও অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো। পরে আল্লাহ যখন ঘোষণা দিলেন এটি তোমাদের জন্য নয় জাহান্নাম জ্বিন ও ইনসানের জন্য তখন তারা শান্ত হলো।
জাহান্নামের একটি অঙ্গার সাতটি পৃথিবীর সমান বড়। তার কিঞ্চিৎ যদি পৃথিবীতে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে সমগ্র জগত থেকে মিষ্টতা নিঃশেষ হয়ে যাবে। জাহান্নামের এক বদনা পানি যদি পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে ঢেলে দেয়া হয় তাহলে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত সব কিছু গলে যাবে এবং সাত সমুদ্র উত্তাল হয়ে তাণ্ডব শুরু হয়ে যাবে। যদি জাহান্নামের একটি পাথর খণ্ড পৃথিবীর কোন পাহাড়ে রাখা হয় তাহলে জগতের সমস্ত পাহাড় গলে গলে কালো পানিতে পরিণত হবে। এবার বলুন আমরা কি পারবো সেই আগুনের উত্তাপ সহ্য করতে?
📄 জাহান্নামের সাতটি অংশ
প্রথম অংশ জাহান্নাম। তার নিচে হুতামা। তার নিচে লাযা। তার নিচে সায়ী। তার নিচে সাকার। তার নিচে জাহীম। তার নিচে হাবিয়া। সকলের নিচে হাবিয়া। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন একে তৈরী করেছেন মুনাফিকদের জন্য। একে যখন উত্তপ্ত করা হয় তখন প্রথম অংশও অর্থাৎ জাহান্নাম পর্যন্ত চিৎকার করতে থাকে।
এ হাবিয়া হলো মুনাফিকদের জন্য। মুনাফিক বলা হয় যে লোক উপরে উপরে মুসলমান ভেতরে কাফের। দাবি করে মুসলমান কিন্তু কাজ করে কাফেরের পক্ষে। মুনাফিক সব যুগেই ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মুনাফিক ছিল। তাদের নেতা ছিল আব্দুল্লাহ বিন উবাই। বর্তমানেও পৃথিবীতে মুনাফিকের অভাব নেই।
তার উপরেরটির নাম হলো জাহীম। জাহীম হলো মুশরিকদের জন্য। যারা মুর্তিপূজা করে জাহীম তাদের জন্য। তার উপরে সাকার। তারকা পূজারীরা এখানে ঠাঁই নেবে। তার উপরে সায়ীর। এখানে ইরানের অগ্নি পূজারী মাজুসিরা থাকবে। তার উপরে লাযা। লাযা হলো ইহুদীদের আবাস। তার উপরে হুতামা। এখানে খৃষ্টানরা নিক্ষিপ্ত হবে। এরা ওই সব জনগোষ্ঠি যারা কোনদিন জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না। এই ছয় স্তরের বাসিন্দারা চিরকাল জাহান্নামেই থাকবে। তারা ঈমান নিয়ে মরতে পারেনি। যারা বেঈমান হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে বা করবে তারা অন্তকাল জাহান্নামেই থাকবে। এ এগুলো এমন এক কারাগার যেগুলোতে কোনো ছিদ্র থাকবে না। এগুলো থেকে বের হওয়ার কোন পথ থাকবে না।
📄 জাহান্নাম যাদের জন্য
সবার উপরে হলো জাহান্নাম। জাহান্নাম কাদের জন্য? কারা যাবে জাহান্নামে?
হযরত আদম আলাইহিস সালাম থেকে শুরু করে উম্মতে মুহাম্মদী পর্যন্ত যত ঈমানদার মানুষ কবীরা গুনাহ করে তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করেছে, তাদের জন্য জাহান্নাম। এখন জানা দরকার কবীরা গুনাহ কি? কবীরা গুনাহ হলো, যেনা করা। মদপান করা। সুদ খাওয়া, ঘুষ খাওয়া। মিথ্যা বলা। হত্যা করা। গীবত করা। কারও অর্থ আত্মসাত করা। অন্যের জমি দখল করা। নামায ছেড়ে দেয়া, ইত্যাদি।
যারা এসব গুনাহে লিপ্ত হয়ে তওবা না করে মারা যাবে, তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তি। প্রত্যেক নাফরমান ব্যক্তি নিজ নিজ গুনাহের অনুপাতে তার শাস্তি ভোগ করবে। অথচ ঈমানদার ছিল, গুনাহ করেছে, তওবা করেনি। কেউ অল্পতেই নিষ্কৃতি পাবে। আবার কেউ হাজার হাজার বছর সেখানে পড়ে থাকবে।
তো আমার ভাই ও বোনেরা! মিযানের পাল্লার চিন্তা ফিকির থেকে উদাসীন থেকো না। আমলনামা ডান হাতে মিলবে, না বাম হাতে মিলবে সেই বিষয়ে গাফেল থেকো না। কারণ এ সাওয়াল জাওয়াবের পর মানুষ তিন শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে যাবে। এক শ্রেণী হবে সম্পূর্ণ নেকী শূন্য। পাখিরা যেভাবে ঠোঁট দিয়ে দানা তুলে নেয়। অনুরূপভাবে জাহান্নাম থেকে একটি কালো গর্দান বের হয়ে তাদের গ্রাস করবে। তাদেরকে জাহান্নামে ফেলে দিবে। আগুন তাদের সম্পূর্ণ গিলে ফেলবে এবং ঘোষণা করা হবে, ওরা ব্যর্থ হয়েছে, আর কোন দিন তারা সফল হবে না。
আর এক শ্রেণী হবে, যার কোনই পাপ নেই। তাদের সম্পর্কে ঘোষণা করা হবে সর্বাবস্থায় আল্লাহর গুণাবলী বর্ণনাকারীগণ উঠো, চলো জান্নাতের দিকে। অতঃপর তারা জান্নাতের দিকে রওয়ানা হবে। অনুরূপভাবে যারা শেষ রাতে আরামের ঘুম ছেড়ে আল্লাহ তায়ালার এবাদত করেছে। জায়নামাযে দাঁড়িয়েছে এবং দুনিয়ার নানা রকম ব্যস্ততার মাঝেও যাদেরকে আল্লাহর এবাদত থেকে গাফেল করতে করেনি, তাদের সম্পর্কেও ঘোষণা করা হবে। তোমরাও চল জান্নাতের দিকে। তারাও জান্নাতে চলে যাবে। অতঃপর তাদের সকলের ব্যাপারে ঘোষণা দেয়া হবে, ওরা চিরস্থায়ী আনন্দের স্থান জান্নাতের বাসিন্দা হয়েছে। তারা সৌভাগ্যশীল。
এরপর তৃতীয় শ্রেণীটি রয়ে যাবে। আর তাদের সংখ্যাই হবে সর্বাধিক। তারা ভালও করেছে, মন্দও করেছে। এমন গুনাহ তারা করেছে, গোপনে গুনাহ করেছে। অথবা নিজের অজ্ঞাতে করেছে। কিন্তু আল্লাহর তায়ালার কাছে তা গোপন ছিল না। তা প্রকাশ হবে। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা সব কিছু সেদিন প্রকাশ করবেন। যদিও তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়, তবে তা আল্লাহ তায়ালার করুণার মাধ্যমে। এতে তারা আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ উপলব্ধি করতে পারবে। আর শাস্তি প্রাপ্ত হলেও তারা বুঝতে পারবে তাদের গুনাহের কারণে তারা সাজাপ্রাপ্ত。
সাইয়্যিদুনা হযরত হাসান (রাযি.) বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা (রাযি.) এর কোলে মাথা রেখে শুয়েছিলেন। তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে হযরত আয়েশা (রাযি.) আখেরাতের কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগলেন। হযরত আয়েশা (রাযি.) এর চোখের পানি প্রবাহিত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চেহারা মোবারকে পড়ল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘুম ভেঙ্গে যায়। তিনি জিজ্ঞেস করেন, হে আয়েশা! তুমি কাঁদছো কেন? হযরত আয়েশা (রাযি.) বললেন, হে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আখেরাতের কথা আমার খুব মনে পড়ছে। আচ্ছা, তখন আমাদের কথা কি আপনার মনে থাকবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ فِي ثَلَاثِ مَوَاطِنَ فَإِنَّ أَحَدًا لَا يَذْكُرُ إِلَّا نَفْسَهُ إِذَا وُضِعَتِ الْمَوَازِينُ وَوُزِنَتِ الْأَعْمَالُ حَتَّى يَنْظُرَ ابْنُ آدَمَ أَيَخِفُ مِيزَانُهُ أَمْ يَثْقُلُ وَعِنْدَ الصُّحُفِ حَتَّى يَنْظُرَ اَبِيَمِينِهِ يَأْخُذُ كِتَابَهُ أَوْ بِشِمَالِهِ وَعِنْدَ الصِّرَاطِ .
সেই আল্লাহর শপথ- যার হাতে আমার জীবন-মরণ, তিন জায়গায় তো কারোই কারও কথা স্মরণ থাকবে না—তখন মীযানের পাল্লা স্থাপন করা হবে। আমলের পরিমাপ করা হবে। মানুষ ভীত বিহ্বল থাকবে এই জন্য যে, তার নেকী পাল্লা ভারী হয় নাকি বদীর পাল্লা, আমলনামা বিতরণের সময় তা ডান হাতে আসে নাকি বাম হাতে। আর পুলসিরাত পার হওয়ার সময়।
হযরত আনাস (রাযি.) বলেন, কিয়ামতের দিবসে প্রত্যেক আদম সন্তানকে মীযানের পাল্লার সম্মুখে এনে দাঁড় করানো হবে। প্রত্যেকের উপর একজন ফেরেশতা নিযুক্ত করা হবে। যদি তার নেকীর পাল্লা ভারী হয়, তাহলে উক্ত ফেরেশতা এত বুলন্দ আওয়াজে তা ঘোষণা করবে যে, সমস্ত মানুষ তা শুনতে পাবে—অমুকের সন্তান অমুক চিরস্থায়ীভাবে কামিয়াব হয়ে গেছে। এরপর সে আর কখনো দুর্ভোগ বা দুর্ভাগ্যে পতিত হবে না। আর নেকীর পাল্লা হালকা হলে বা বদীর পাল্লাভারী হলে সেই ফেরেশতা ঘোষণা করবে, অমুকের সন্তান অমুক চিরস্থায়ী ভাবে হতভাগ্য হয়ে গেছে। কোন দিন সে সৌভাগ্যের মুখ দেখবে না। তারপর আযাবের ফেরেশতারা জাহান্নামীদেরকে ধরে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তাদের হাতে থাকবে বিরাট বিরাট হাতুড়ি। আর আগুনের দোররা。
প্রিয় ভাই ও বোন! গাফেল হয়ো না। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী চাকচিক্যের মাঝে নিজেকে জড়িয়ে পরকালকে ধ্বংস করো না। ধোকাগ্রস্ত হয়ো না। যে স্থান ছেড়ে তোমাকে চলে যেতে হবে, তার চিন্তা পরিত্যাগ করো। যে জীবন তোমার চিরস্থায়ী, সে জীবনের জন্য চিন্তামগ্ন হও।