📄 নববী আদর্শ
প্রিয় ভাই ও বোনেরা!
আসুন আত্মাকে পবিত্র করি। সেই পবিত্রতার পন্থা হলো হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন আদর্শ। এ পবিত্রতা অর্জনের পন্থা সাবান নয়। নববী আদর্শ হলো এ পবিত্রতার পন্থা।
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّهَا
যে লোক নিজেকে পবিত্র করল সে সফল হলো। আর যে নিজেকে কলুষিত করল সে বিফল হলো। (সূরা আশ-শামস ০৯, ১০)
তো এ পবিত্রতার জন্য সাবানের প্রয়োজন নেই পানির প্রয়োজন নেই। এর জন্য প্রয়োজন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র জীবন। যার ভেতরও পবিত্র বাহিরও পবিত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উম্মে সুলাইমের ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গরমের সময় ছিল। পবিত্র শরীর থেকে ঘাম বের হয়ে নীচে পড়ছিল। উম্মে সুলাইম চুপিচুপি এসে নবীজীর ঘামের ফোঁটাগুলো শিশিতে ভরলেন। শিশি নীচে ধরে রাখলেন আর ঘামের ফোঁটাগুলো তাতে পড়তে থাকল। এভাবে অনেকখানি ঘাম সঞ্চিত হয়ে গেল। হঠাৎ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘুম ভেঙ্গে গেল। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখলেন উম্মে সুলাইম বসে বসে তাঁর ঘামগুলো শিশিতে ভরছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন কি করছ তুমি? উম্মে সুলাইম বললেন হে আল্লাহর রাসূল! আপনার শরীরের ঘামগুলো মেশকের মত সৌরভ ছড়াচ্ছে।
আমার ভাইয়েরা! ঘামতো শরীরের বর্জ্য বলে বিবেচিত। সেই ঘাম এত পবিত্র হলো কিভাবে? কি করেই এলো এত সুঘ্রাণ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীরের ঘামের এত সৌরভ ছিল তাহলে তাঁর ভেতরটা কেমন পবিত্র হবে? যার বাহির এত আলোকময় তার ভেতর কত আলোকিত? তো ভাই! আমরা যদি এরকম পবিত্র মানুষটির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে চলি, তাঁর মহান আদর্শ অনুসরণ করি তাহলে আমিও পবিত্র হয়ে যাব।
আরবের মানুষেরা হাতে গড়া মূর্তির পূজা করে নিজেদের চরমভাবে কলুষিত করে ফেলেছিল। সেই কলুষিত মানুষগুলো নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ করে ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়ে জগতের শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হয়েছিল। মক্কার কুরাইশরা মদীনার মানুষগুলো যারা কাল পর্যন্ত পাথরের তৈরী মূর্তির পূজা করতো তিনশত ষাট দেবতার পূজা করত—এই মানুষগুলো যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে হাত দিল, যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজেদের নবী হিসেবে মেনে নিল, তখন আল্লাহ্ পাক তাদেরকে দুনিয়াতে সম্মানিত করলেন আখেরাতেও সম্মানিত করলেন।
তো ভাই ও বোনেরা! মৃত্যুর পর যে জীবন শুরু হবে সেটিই হলো প্রকৃত জীবন। সে জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আর তার প্রস্তুতির জন্য বনে জঙ্গলে যেতে হবে না। এই শহরে গ্রামে অবস্থান করেই কাজটি সম্পন্ন হতে পারে। কাজটা হলো আল্লাহ তায়ালাকে রাজি করা। এটি দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের প্রস্তুতি। আল্লাহকে রাজি করাতে না পারলে দুনিয়াও গড়বে না আখেরাতও গড়বে না। দুনিয়ায় আমরা ক্ষমতাবানদের সন্তুষ্ট রাখি কারণ সে অসন্তুষ্ট হলে আমার বিপদ হতে পারে। তাই তাদের জন্য কত তোষামোদ। তাদের মনোতুষ্টির জন্য আমার কি ব্যস্ততা। আর জমিন ও আসমানের মালিককে সন্তুষ্ট করতে আমাদের কি ফিকির আছে? আর জমিন ও আসমানের বাদশাকে অসন্তুষ্ট করে আমরা কাকে খুশি করছি?
আরে ভাই! এ হৃদয়তো আল্লাহর জন্য। এ হৃদয়ে শুধু আল্লাহর ভালবাসা থাকবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভালবাসা থাকবে। হে আপনার ইচ্ছা হলে এখানে সমগ্র বিশ্বকে বসিয়ে নিন, আমার রবের কসম আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন সাক্ষী আছেন সমগ্র জগতের সৌন্দর্য ঐশ্বর্য ও বিনোদনের উপকরণ জমা করেও আপনি শান্তি পাবেন না যদি হৃদয়ে আল্লাহর ভালবাসা না থাকে। সমগ্র জগতের সব ঐশ্বর্য ও যদি আপনার হাতে এসে যায় আর সেখানে আল্লাহ না থাকেন তবে এ আত্মা শান্তির ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত থাকবে। এ শরীর অস্থির হয়ে থাকবে। দুনিয়ার কোন জৌলুস কোন জমকালো আসর কোনো সুরম্য অট্টালিকা লাখো রূপময় চেহারা এ অন্তরকে শীতলতা দিতে পারবে না। অশান্তি বাড়তেই থাকবে। এর একমাত্র চিকিৎসা হলো আল্লাহ তায়ালাকে ভালবাসা। প্রিয় নবী (সঃ) এর আদর্শমত জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন।
📄 বান্দার কাছে আল্লাহর চাওয়া
প্রিয় ভাই ও বোন! প্রকৃত জীবনের সূচনাতো হলো মৃত্যুর পর থেকে। আগামীতে যে দিনটি আসছে অর্থাৎ মৃত্যুর পর তার উপর মানুষের কোন দখল নেই। না এমনকি কেউ বলতে পারে যে আগামী কালকের দিনটি সে পাবে? অথচ মানুষ শুধু কালকের জন্যই নয় পরবর্তী বহু বছরের পরিকল্পনা ঠিক করে নেয়। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের কাছে কামনা করেছেন—হে আমার বান্দারা! তোমরা আগামী দিনের জন্য তো চিন্তা করবেই এবং মৃত্যুর পর যে দিন আসবে তার জন্যও ভাবো। তবেই তোমাদের জীবনের ভারসাম্য আসবে। কত মানুষতো এমনও আছে যে একটি সকাল দেখল কিন্তু দুপুর কিংবা রাত দেখার ভাগ্য তার হয় না। কত মানুষতো এমন আছে যে সূর্য উদিত হতে দেখে কিন্তু অস্ত যাওয়ার আগে নিজেই অস্তমিত হয়ে যায়। আগামী দিনতো পরের কথা। তারপরও মানুষের আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ততা এত বেশি যে পরকালকে বেমালুম ভুলে যায়।
আল্লাহর নবী ও রাসূলগণ এ বিষয়টির উপর মেহনত করে গেছেন যেন লোকেরা দুনিয়ার কথা ভাবে দুনিয়াকে দেখে কিন্তু এমনভাবে নয় যে মৃত্যুর পরের জীবন ধ্বংস হয়। প্রকৃত জীবন তো সেটি যেটি মৃত্যুর পর শুরু হবে। অনন্ত যে জীবন যার শুরু আছে শেষ নেই। এ জন্যই আমরা বলি যে বের হোন। দ্বীনের পথে মানুষকে আহ্বান করুন। আর আগে নিজেরা ঈমানী যিন্দেগী কিভাবে গড়তে হয় শিখুন। ঈমানী যিন্দেগীর বিধি-বিধান রীতি-নীতি শিখুন। আমরা তো মানুষ জীব জন্তুতো নই। মানবিক গুণাবলী আমাদের শিখতে হবে। সুশৃংখল সুন্দর জীবন ধারণের জন্য মানুষের গুণগুলো অর্জন করতে হয়। এজন্য মহান রাব্বুল আলামীনের বিধানগুলো আমাদের মানা কর্তব্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শ সমাজ গঠনে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নমুনা। যদি আমরা এ থেকে বিচ্যুত হই তবে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। সংসার ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের সন্তানদেরকে যদি দ্বীনী আদর্শ না শিখাই তারা যদি মানবতা না শিখে তবে ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবে। ছেলে মেয়েদের এই দ্বীন ও মানবতা না শিখার কুফল তো আমরা ভোগ করছিই। দেখছেন না আজ প্রতিটা ঘরে ছাই চাপা আগুন বিরাজ করছে। অশান্তির আগুনে সমাজ সংসারকে জ্বালিয়ে ছাই করে দিচ্ছে। কারণ আমরা তো আমাদের সমাজ সংসারকে আল্লাহর রাসূলের সমাজ ব্যবস্থা সাজাইনি।
আমরা শুধু বাড়ি-ঘর দেখে সহায় সম্পদ দেখে ভাল চাকুরীজীবী দেখে বিবাহ সম্পন্ন করে ফেলেছি। এটা দেখিনি যে ছেলেটা বা মেয়েটা মানুষ হয়েছে কিনা। মানুষ মানুষ হয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন ব্যবস্থা অনুকরণ-অনুসরণ করার দ্বারা। নামায পড়ছেন রোযা রাখছেন এগুলো এবাদত। অবশিষ্ট চব্বিশ ঘন্টা ইসলাম কি কিছু শেখায় না? ইসলাম চব্বিশ ঘন্টা পালন করার মত জীবন বিধানের নাম। ইসলাম শিখায় উত্তম চরিত্র কিভাবে গড়তে হয়। ইসলাম হালাল রুজি কামাই করতে শিখায়। ইসলাম হারাম বর্জন শিখায়। সকল ক্ষেত্রে জীবন-ধারণের যোগ্যতা শিখায়। ইসলাম বিনয় শিখায় নম্রতা শিখায়। ইসলাম স্নেহ মমতা শিখায়। ইসলাম হালাল উপার্জন করার পদ্ধতি শিখায়। হালালভাবে তা ব্যয় করার পদ্ধতি শিখায়। হালাল হারামের সীমারেখা ঠিক করে দেয়। এমন নয় যে হালাল উপার্জন করা ফরজ কিন্তু ব্যয় করার ক্ষেত্রে মানুষ স্বাধীন। ব্যয় করার ক্ষেত্রেও ইসলামের বিধান আছে যে তোমার সম্পদ তুমি কোন ক্ষেত্রে ব্যয় করবে কোন খাতে ব্যয় করা যাবে না।
আর এই না জানার কারণেই মানুষ জীবন যাপনের ক্ষেত্রে পড়ছে নানা রকম সমস্যায়। ঘরে সমস্যা। সমাজে সমস্যা। এই সমস্যাগুলো এমনভাবে একটার পর একটা লেগে থাকে যে মানুষ পেরেশান হয়ে যাচ্ছে। অথচ দ্বীন মানলে দ্বীনের পথে চললে এসব সমস্যা মহান রাব্বুল আলামীন সহজ করে দিতেন। আজ মানুষ জানেনা তাদের জীবনের এই সমস্যাগুলোর সমাধান কি? মানুষ মনে করে পয়সা কামাই করো তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সংসারে সুখ আসবে। সমাজে শান্তি আসবে। বর্তমানে এটাই জগতের সকল মানুষের বুঝ। মুসলমানেরও এই বুঝ। ইহুদী খৃষ্টানের এই বুঝ। হিন্দুদেরও এই বুঝ। সবাই বলে টাকা আসবে তো আমরা সচ্ছল হয়ে যাবো এবং আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমাদের এ মানসিকতা তৈরী হয়েছে ইউরোপ আমেরিকা থেকে। তাদের শিক্ষার অনুসরণ দ্বারা। কিন্তু এ শিক্ষা ভুল। আল্লাহ পাকের শিক্ষা হলো—আমি যদি সন্তুষ্ট হই তাহলে তুমি সচ্ছল হও আর অসচ্ছল হও তুমি সুখী হবে। যদি আমি রাজি হই তাহলে জগতের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পরকালও গড়বে। আর যদি আমি নারাজ হই তাহলে না তোমার দুনিয়া গড়বে না আখেরাত। এটা মহান রাব্বুল আলামীনের শিক্ষা যা আসমান থেকে এসেছে। হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলছেন—
إِنِّي إِذَا طِعْتُ رَضِيتُ وَإِذَارَ ضِيْتُ بَارَكْتُ
যখন আমার আনুগত্য করা হয় তখন আমি সন্তুষ্ট হই। আর যখন আমি খুশি হই তখন বরকত দান করি।
وَلَيْسَ فِي بَرَكَتِي نِهَايَةٌ
আর আমার বরকতের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। তারপর আমার বরকতের দরজা খুলে যায়।
আল্লাহ তায়ালা এই পদ্ধতি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। আর অবস্থা খারাপ হয় কখন? যখন আমরা আল্লাহর অবাধ্য হই। যখন সীমা লংঘন করি। হাদীসের পরবর্তী অংশ হলো—
وَإِنِّي إِذَا عَصَيْتُ وَإِذَا غُضِبْتُ لَعَنْتُ
আর যখন নাফরমানী চলে তখন আমি রুষ্ট হই। আর যখন আমি রুষ্ট হই তখন অভিসম্পাত করি।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে নিয়ম শিক্ষা দিয়েছেন যে সমস্যাগুলোর সমাধান দুনিয়ায় হোক কিংবা আখেরাতের পথ কিন্তু একটাই। তা হলো আল্লাহ পাকের আনুগত্য করা অবাধ্যতা ছেড়ে দেওয়া। আমরা দুটো থেকেই মুক্তি চাই। না আমরা দুনিয়ার কষ্ট সইতে পারব না পরকালের কষ্ট সইতে পারব। তো ভাই ও বোনেরা! আসুন আমরা আল্লাহ তায়ালার নারাজী থেকে বাচি। আমরা দারিদ্রতা অবলম্বন করব তবুও সে সম্পদ চাই না যা আমাদেরকে মহান রাব্বুল আলামীনের অসন্তুষ্টিতে ফেলে দেবে। এমন কাজ না করি যে কাজ দ্বারা আল্লাহ তায়ালা নারাজ হবেন। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমীন।
📄 কিভাবে সহ্য করবে জাহান্নামের আগুন?
প্রিয় ভাই ও বোন! মহান রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে জাহান্নামের বর্ণনা দিয়েছেন।
وَ جَمَعَ فَأَوْعُى تَدْعُوا مَنْ أَدْبَرَ وَتَوَلَّى - نَزَاعَةً لِلشَّوَى كَلَّا إِنَّهَا لَظَّى
নিশ্চয়ই ইহা লেলিহান অগ্নি যা শরীর থেকে চামড়া তুলে দেবে। জাহান্নাম ব্যক্তিকে ডাকবে যে সত্যের প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিল ও বিমুখ হয়েছিল এবং সম্পদ জমা করেছিল অতঃপর সংরক্ষণ করে রেখেছিল। (সূরা মাআরিজ, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮)
এ জগতে দেয়াশলাইয়ের আগুন সহ্য হয় না এমতাবস্থায় কার সাধ্য আছে জাহান্নামের আগুনকে সহ্য করবে? জাহান্নাম দেখে জিবরাঈল আলাইহিস সালাম ও কাঁদেন। মিকাইলও কাঁদেন। আল্লাহ পাক যখন জাহান্নাম সৃষ্টি করলেন তখন তাকে দেখে ফেরেশতারাও অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলো। পরে আল্লাহ যখন ঘোষণা দিলেন এটি তোমাদের জন্য নয় জাহান্নাম জ্বিন ও ইনসানের জন্য তখন তারা শান্ত হলো।
জাহান্নামের একটি অঙ্গার সাতটি পৃথিবীর সমান বড়। তার কিঞ্চিৎ যদি পৃথিবীতে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে সমগ্র জগত থেকে মিষ্টতা নিঃশেষ হয়ে যাবে। জাহান্নামের এক বদনা পানি যদি পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে ঢেলে দেয়া হয় তাহলে পশ্চিমপ্রান্ত পর্যন্ত সব কিছু গলে যাবে এবং সাত সমুদ্র উত্তাল হয়ে তাণ্ডব শুরু হয়ে যাবে। যদি জাহান্নামের একটি পাথর খণ্ড পৃথিবীর কোন পাহাড়ে রাখা হয় তাহলে জগতের সমস্ত পাহাড় গলে গলে কালো পানিতে পরিণত হবে। এবার বলুন আমরা কি পারবো সেই আগুনের উত্তাপ সহ্য করতে?
📄 জাহান্নামের সাতটি অংশ
প্রথম অংশ জাহান্নাম। তার নিচে হুতামা। তার নিচে লাযা। তার নিচে সায়ী। তার নিচে সাকার। তার নিচে জাহীম। তার নিচে হাবিয়া। সকলের নিচে হাবিয়া। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন একে তৈরী করেছেন মুনাফিকদের জন্য। একে যখন উত্তপ্ত করা হয় তখন প্রথম অংশও অর্থাৎ জাহান্নাম পর্যন্ত চিৎকার করতে থাকে।
এ হাবিয়া হলো মুনাফিকদের জন্য। মুনাফিক বলা হয় যে লোক উপরে উপরে মুসলমান ভেতরে কাফের। দাবি করে মুসলমান কিন্তু কাজ করে কাফেরের পক্ষে। মুনাফিক সব যুগেই ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে মুনাফিক ছিল। তাদের নেতা ছিল আব্দুল্লাহ বিন উবাই। বর্তমানেও পৃথিবীতে মুনাফিকের অভাব নেই।
তার উপরেরটির নাম হলো জাহীম। জাহীম হলো মুশরিকদের জন্য। যারা মুর্তিপূজা করে জাহীম তাদের জন্য। তার উপরে সাকার। তারকা পূজারীরা এখানে ঠাঁই নেবে। তার উপরে সায়ীর। এখানে ইরানের অগ্নি পূজারী মাজুসিরা থাকবে। তার উপরে লাযা। লাযা হলো ইহুদীদের আবাস। তার উপরে হুতামা। এখানে খৃষ্টানরা নিক্ষিপ্ত হবে। এরা ওই সব জনগোষ্ঠি যারা কোনদিন জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না। এই ছয় স্তরের বাসিন্দারা চিরকাল জাহান্নামেই থাকবে। তারা ঈমান নিয়ে মরতে পারেনি। যারা বেঈমান হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে বা করবে তারা অন্তকাল জাহান্নামেই থাকবে। এ এগুলো এমন এক কারাগার যেগুলোতে কোনো ছিদ্র থাকবে না। এগুলো থেকে বের হওয়ার কোন পথ থাকবে না।