📄 আমাদের চিন্তার দুর্বলতা
প্রিয় ভাই ও বোনেরা!
আমরা কি ধরে নিয়েছি দুনিয়ার যিন্দেগীতে আরাম আয়েশই সব? ভাল কাপড়, ভালো ভালো বাড়ি, দামি গাড়ি, ব্যাংকে অঢেল টাকাই আমাদের সব? মহিলারা কি ভেবেছে ভাল ভাল অলংকার দামী পোশাক যত হবে তত বেশি মর্যাদার অধিকারী হবে?
আরে এ মর্যাদার স্থায়িত্ব কত দিনের? একদিন তো এ মর্যাদা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। এ দেহকে কবরের পোকা মাকড়ে খেয়ে ফেলবে। এ প্রাপ্তি এ সাফল্য মর্যাদা ক্ষণিকের, ক্ষণস্থায়ী এ জীবনে দুনিয়াবী এ মর্যাদার কি মূল্য আছে? চিরস্থায়ী সাফল্য ও মর্যাদাতো প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শের মধ্যে নিহিত। আমাদের নবী শেষ নবী। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ নবী ও রাসূল। তাঁর উপর নবুওয়ত খতম। তাঁর উপর রেসালাত খতম। তাঁর উপর নেতৃত্ব খতম। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সমস্ত ইজ্জত শরীয়াত এ সমস্ত যোগ্যতার সমাপ্তি ঘটে গেছে। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করে দিয়েছেন এ নবীই শেষ নবী। এ নবীর পর আর কোন নবী আসবে না।
কাজেই এখন থেকে দ্বীনের দাওয়াত প্রত্যেকটা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব থেকে গাফেল হলে রাব্বুল আলামীনের নিকট আমাদের জবাব দিতে হবে। তো ভাই! আমরা দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার রহস্য এর মাঝে নিহিত আছে যে আমরা আল্লাহ তায়ালার রেজামন্দির দিকে অগ্রসর হবো। তা এভাবে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরিকা আমাদের পুরুষ আমাদের মহিলা ও আমাদের সন্তানদের জীবনে চলে আসবে। যে-ই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শকে অনুসরণ করবে সে-ই আল্লাহ তায়ালার প্রিয় হবে।
একজন মানুষ চাই পুরুষ হোক বা নারী হোক সুরম্য প্রাসাদে বাস করুক কিংবা জীর্ণ কুটিরে বাস করুক। যেখানেই থাকুক না কেন যদি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শ অবলম্বন করে তাহলে তার জীবন সফল ও সুখময় হবে। অন্যথায় ধ্বংস ও ব্যর্থতা এবং অশান্তির আগুনে পুড়বে। দেখুন হাবশী বেলাল (রা.) কে। কালো কুশ্রী দাস ছিল। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শ অনুকরণ অনুসরণ করার ফলে তাঁর জীবন সফল হয়ে গেছে। দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর মর্যাদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কেয়ামতের দিন কবরগুলো ফেটে যাবে আমি সকলের আগে বের হব। আমার ডান দিক থেকে হযরত আবু বকর (রা.) বের হবে আমার বাম দিক থেকে হযরত ওমর (রা.) বের হবে। আর পায়ের দিক থেকে বের হবে হযরত বেলাল (রা.)। একটি কথা মনে রাখবেন যে ব্যক্তির কবর যেখানে কেয়ামতের দিন সেখান থেকেই তাকে উঠানো হবে। যেখানে যার কবর সেখানেই তার হাশর। কিন্তু হযরত বেলাল (রা.) এর ব্যাপারটা ভিন্ন। তাঁর কবর শামে। তিনি উঠবেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পায়ের দিক থেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন বেলাল উঠেই আযান দিবে—আল্লাহ আকবার আল্লাহু আকবার। দুনিয়ায় ও মুয়াজ্জিন আখেরাতেও মুয়াজ্জিন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সব মানুষ হাশরের মাঠের দিকে পায়ে হেটে রওয়ানা হবে আমি যার বোরাকে চড়ে। আমার সামনে সামনে বেলাল যাবে—একটি লাল উটের পিঠে চড়ে। বলুন তো! হযরত বেলাল এ মর্যাদা কোথায় পেলেন? আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্যের কারণে।
📄 তিনি কেঁদেছেন, আমাদের জন্য
প্রিয় ভাই ও বোন!
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক টানা পাঁচঘন্টা আরাফার ময়দানে নিজের উম্মতের জন্য কেঁদেছেন। মরুভূমির উত্তপ্ত বালু। তাবু নেই ছায়া নেই উটের পিঠে বসে পাঁচ ঘন্টা একনাগাড়ে দোয়া করেছেন। আমরাতো পাঁচ দশ মিনিট দোয়া করলেই ক্লান্ত হয়ে যাই। আর আল্লাহর নবী পাঁচটি ঘন্টা দোয়া করেছেন। কখনও কখনও তিনি অস্থির হয়ে উঠের রেকাবে পা রেখে দাঁড়িয়ে যেতেন আর হাত দুটি পুরোপুরি উপরে উঠে যেত। তিনি অস্থির হয়ে ছটফট করতেন আর বলতেন আমার উম্মত! আমার উম্মত!
হাদীসে আছে ওফাতের এক সাপ্তাহ আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানা হয়ে গিয়েছিল যে বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সাহাবায়ে কেরামগণ আসছেন আল্লাহর নবীর মোবারক চেহারা দেখার জন্য। শয্যাশায়ী আল্লাহর নবী। তিনি বললেন আমি তোমাদের সবাইকে আমার শেষ সালাম জানাচ্ছি। তোমাদের পর যারা আসবে তাদেরকেও আমার সালাম দিও। এভাবে যারা তারপরে আসবে তাদেরকেও বলবে তারা যেন তাদের পরে যারা আসবে তাদের কাছে আমার সালাম পৌঁছে দেয়। এভাবে পরবর্তীদের নিকট আমার সালাম পৌঁছে দিও। সুবহানাল্লাহ্! আমরা তখনও আত্মার জগতে ছিলাম আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাম জানিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।
একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের উদ্দেশ্য বললেন মন চাচ্ছে আমি আমার ভাইদের দেখব। সাহাবাগণ বললেন হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার ভাই নই কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন নানা তোমরা আমার ভাই নও তোমরা আমার সাহাবী। আমার ভাই হলো তারা যারা আমাকে দেখা ব্যতীত কালেমা পাঠ করে মুসলমান হবে। এক সাহাবী বললেন ধন্য হোক সেই ব্যক্তি যে আপনাকে দেখেছে এবং আপনার উপর ঈমান এনেছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সাত বার ধন্য হোক সে যে আমাকে দেখেনি; কিন্তু তারপরও আমার প্রতি ঈমান এনেছে। কত বড় দুঃখের বিষয় যে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতবার মোবারকবাদ দিয়েছেন কিন্তু তারপরও আমরা তাঁর নাফরমানী করছি। এমন নবীর নাফরমানী তারপরও আমরা করে যাব? কিসের খাতিরে করব? জিহ্বার স্বাদের জন্য? দেহের আরামের জন্য? কানের সুখের জন্য? চোখের আরামের জন্য? দুনিয়ার আরাম আয়েশের জন্য এমন দয়ালু মানুষটির বে-অফায়ী কি আমরা করেই যাব?
আমরা কত অন্যায় অবিচার করছি কিন্তু তারপরও আমাদেরকে জমিন গিলে ফেলছে না কেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দোয়া আমাদেরকে রক্ষা করছে। তাঁর রাত জাগা ছটফটানি আমাদেরকে টিকিয়ে রেখেছে। উম্মতের জন্য কেঁদে কেঁদে তিনি অস্থির হয়ে যেতেন। উম্মতের মুক্তির চিন্তায় তিনি পেরেশান হয়ে উঠতেন। পেটে পাথর বেঁধেছেন। সারা রাত জেগে ছটফট করতেন। সর্প দংশিত মানুষের মত তড়পাতেন। দয়াল নবীর এ তড়প কি নিজের জন্য ছিল? যার জন্য জান্নাত তৈরী হয়েছে। পরকালে যার হাতে জান্নাতের চাবি থাকবে। যিনি সবার আগে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আল্লাহর সেই নবী প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি নিজের মুক্তির জন্য কেঁদেছেন? না তিনি কেঁদেছেন আমাদের জন্য। আমাদের মত অকৃতজ্ঞ উম্মতের জন্য কেঁদেছেন। আর আমরা কিনা তারই সাথে বেয়াদবী করছি! প্রিয় ভাই ও বোন! আল্লাহর ওয়াস্তে বিবেকের পরিচয় দিন। এভাবে আর কতকাল চলবেন? জীবনের সমাপ্তি ঘটতে পারে যে কোন মুহূর্তে। তারপর সেই মহান মানুষটির মুখোমুখি হতে হবে। কি জবাব দিবেন?
📄 নববী আদর্শ
প্রিয় ভাই ও বোনেরা!
আসুন আত্মাকে পবিত্র করি। সেই পবিত্রতার পন্থা হলো হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন আদর্শ। এ পবিত্রতা অর্জনের পন্থা সাবান নয়। নববী আদর্শ হলো এ পবিত্রতার পন্থা।
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّهَا وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّهَا
যে লোক নিজেকে পবিত্র করল সে সফল হলো। আর যে নিজেকে কলুষিত করল সে বিফল হলো। (সূরা আশ-শামস ০৯, ১০)
তো এ পবিত্রতার জন্য সাবানের প্রয়োজন নেই পানির প্রয়োজন নেই। এর জন্য প্রয়োজন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র জীবন। যার ভেতরও পবিত্র বাহিরও পবিত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত উম্মে সুলাইমের ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। গরমের সময় ছিল। পবিত্র শরীর থেকে ঘাম বের হয়ে নীচে পড়ছিল। উম্মে সুলাইম চুপিচুপি এসে নবীজীর ঘামের ফোঁটাগুলো শিশিতে ভরলেন। শিশি নীচে ধরে রাখলেন আর ঘামের ফোঁটাগুলো তাতে পড়তে থাকল। এভাবে অনেকখানি ঘাম সঞ্চিত হয়ে গেল। হঠাৎ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘুম ভেঙ্গে গেল। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখলেন উম্মে সুলাইম বসে বসে তাঁর ঘামগুলো শিশিতে ভরছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন কি করছ তুমি? উম্মে সুলাইম বললেন হে আল্লাহর রাসূল! আপনার শরীরের ঘামগুলো মেশকের মত সৌরভ ছড়াচ্ছে।
আমার ভাইয়েরা! ঘামতো শরীরের বর্জ্য বলে বিবেচিত। সেই ঘাম এত পবিত্র হলো কিভাবে? কি করেই এলো এত সুঘ্রাণ? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শরীরের ঘামের এত সৌরভ ছিল তাহলে তাঁর ভেতরটা কেমন পবিত্র হবে? যার বাহির এত আলোকময় তার ভেতর কত আলোকিত? তো ভাই! আমরা যদি এরকম পবিত্র মানুষটির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে চলি, তাঁর মহান আদর্শ অনুসরণ করি তাহলে আমিও পবিত্র হয়ে যাব।
আরবের মানুষেরা হাতে গড়া মূর্তির পূজা করে নিজেদের চরমভাবে কলুষিত করে ফেলেছিল। সেই কলুষিত মানুষগুলো নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদর্শ অনুসরণ করে ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়ে জগতের শ্রেষ্ঠ মানুষে পরিণত হয়েছিল। মক্কার কুরাইশরা মদীনার মানুষগুলো যারা কাল পর্যন্ত পাথরের তৈরী মূর্তির পূজা করতো তিনশত ষাট দেবতার পূজা করত—এই মানুষগুলো যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে হাত দিল, যখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিজেদের নবী হিসেবে মেনে নিল, তখন আল্লাহ্ পাক তাদেরকে দুনিয়াতে সম্মানিত করলেন আখেরাতেও সম্মানিত করলেন।
তো ভাই ও বোনেরা! মৃত্যুর পর যে জীবন শুরু হবে সেটিই হলো প্রকৃত জীবন। সে জীবনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আর তার প্রস্তুতির জন্য বনে জঙ্গলে যেতে হবে না। এই শহরে গ্রামে অবস্থান করেই কাজটি সম্পন্ন হতে পারে। কাজটা হলো আল্লাহ তায়ালাকে রাজি করা। এটি দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের প্রস্তুতি। আল্লাহকে রাজি করাতে না পারলে দুনিয়াও গড়বে না আখেরাতও গড়বে না। দুনিয়ায় আমরা ক্ষমতাবানদের সন্তুষ্ট রাখি কারণ সে অসন্তুষ্ট হলে আমার বিপদ হতে পারে। তাই তাদের জন্য কত তোষামোদ। তাদের মনোতুষ্টির জন্য আমার কি ব্যস্ততা। আর জমিন ও আসমানের মালিককে সন্তুষ্ট করতে আমাদের কি ফিকির আছে? আর জমিন ও আসমানের বাদশাকে অসন্তুষ্ট করে আমরা কাকে খুশি করছি?
আরে ভাই! এ হৃদয়তো আল্লাহর জন্য। এ হৃদয়ে শুধু আল্লাহর ভালবাসা থাকবে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভালবাসা থাকবে। হে আপনার ইচ্ছা হলে এখানে সমগ্র বিশ্বকে বসিয়ে নিন, আমার রবের কসম আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন সাক্ষী আছেন সমগ্র জগতের সৌন্দর্য ঐশ্বর্য ও বিনোদনের উপকরণ জমা করেও আপনি শান্তি পাবেন না যদি হৃদয়ে আল্লাহর ভালবাসা না থাকে। সমগ্র জগতের সব ঐশ্বর্য ও যদি আপনার হাতে এসে যায় আর সেখানে আল্লাহ না থাকেন তবে এ আত্মা শান্তির ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত থাকবে। এ শরীর অস্থির হয়ে থাকবে। দুনিয়ার কোন জৌলুস কোন জমকালো আসর কোনো সুরম্য অট্টালিকা লাখো রূপময় চেহারা এ অন্তরকে শীতলতা দিতে পারবে না। অশান্তি বাড়তেই থাকবে। এর একমাত্র চিকিৎসা হলো আল্লাহ তায়ালাকে ভালবাসা। প্রিয় নবী (সঃ) এর আদর্শমত জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন।
📄 বান্দার কাছে আল্লাহর চাওয়া
প্রিয় ভাই ও বোন! প্রকৃত জীবনের সূচনাতো হলো মৃত্যুর পর থেকে। আগামীতে যে দিনটি আসছে অর্থাৎ মৃত্যুর পর তার উপর মানুষের কোন দখল নেই। না এমনকি কেউ বলতে পারে যে আগামী কালকের দিনটি সে পাবে? অথচ মানুষ শুধু কালকের জন্যই নয় পরবর্তী বহু বছরের পরিকল্পনা ঠিক করে নেয়। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের কাছে কামনা করেছেন—হে আমার বান্দারা! তোমরা আগামী দিনের জন্য তো চিন্তা করবেই এবং মৃত্যুর পর যে দিন আসবে তার জন্যও ভাবো। তবেই তোমাদের জীবনের ভারসাম্য আসবে। কত মানুষতো এমনও আছে যে একটি সকাল দেখল কিন্তু দুপুর কিংবা রাত দেখার ভাগ্য তার হয় না। কত মানুষতো এমন আছে যে সূর্য উদিত হতে দেখে কিন্তু অস্ত যাওয়ার আগে নিজেই অস্তমিত হয়ে যায়। আগামী দিনতো পরের কথা। তারপরও মানুষের আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ততা এত বেশি যে পরকালকে বেমালুম ভুলে যায়।
আল্লাহর নবী ও রাসূলগণ এ বিষয়টির উপর মেহনত করে গেছেন যেন লোকেরা দুনিয়ার কথা ভাবে দুনিয়াকে দেখে কিন্তু এমনভাবে নয় যে মৃত্যুর পরের জীবন ধ্বংস হয়। প্রকৃত জীবন তো সেটি যেটি মৃত্যুর পর শুরু হবে। অনন্ত যে জীবন যার শুরু আছে শেষ নেই। এ জন্যই আমরা বলি যে বের হোন। দ্বীনের পথে মানুষকে আহ্বান করুন। আর আগে নিজেরা ঈমানী যিন্দেগী কিভাবে গড়তে হয় শিখুন। ঈমানী যিন্দেগীর বিধি-বিধান রীতি-নীতি শিখুন। আমরা তো মানুষ জীব জন্তুতো নই। মানবিক গুণাবলী আমাদের শিখতে হবে। সুশৃংখল সুন্দর জীবন ধারণের জন্য মানুষের গুণগুলো অর্জন করতে হয়। এজন্য মহান রাব্বুল আলামীনের বিধানগুলো আমাদের মানা কর্তব্য। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শ সমাজ গঠনে সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নমুনা। যদি আমরা এ থেকে বিচ্যুত হই তবে সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। সংসার ধ্বংস হয়ে যায়। আমাদের সন্তানদেরকে যদি দ্বীনী আদর্শ না শিখাই তারা যদি মানবতা না শিখে তবে ঘরে ঘরে আগুন জ্বলবে। ছেলে মেয়েদের এই দ্বীন ও মানবতা না শিখার কুফল তো আমরা ভোগ করছিই। দেখছেন না আজ প্রতিটা ঘরে ছাই চাপা আগুন বিরাজ করছে। অশান্তির আগুনে সমাজ সংসারকে জ্বালিয়ে ছাই করে দিচ্ছে। কারণ আমরা তো আমাদের সমাজ সংসারকে আল্লাহর রাসূলের সমাজ ব্যবস্থা সাজাইনি।
আমরা শুধু বাড়ি-ঘর দেখে সহায় সম্পদ দেখে ভাল চাকুরীজীবী দেখে বিবাহ সম্পন্ন করে ফেলেছি। এটা দেখিনি যে ছেলেটা বা মেয়েটা মানুষ হয়েছে কিনা। মানুষ মানুষ হয় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন ব্যবস্থা অনুকরণ-অনুসরণ করার দ্বারা। নামায পড়ছেন রোযা রাখছেন এগুলো এবাদত। অবশিষ্ট চব্বিশ ঘন্টা ইসলাম কি কিছু শেখায় না? ইসলাম চব্বিশ ঘন্টা পালন করার মত জীবন বিধানের নাম। ইসলাম শিখায় উত্তম চরিত্র কিভাবে গড়তে হয়। ইসলাম হালাল রুজি কামাই করতে শিখায়। ইসলাম হারাম বর্জন শিখায়। সকল ক্ষেত্রে জীবন-ধারণের যোগ্যতা শিখায়। ইসলাম বিনয় শিখায় নম্রতা শিখায়। ইসলাম স্নেহ মমতা শিখায়। ইসলাম হালাল উপার্জন করার পদ্ধতি শিখায়। হালালভাবে তা ব্যয় করার পদ্ধতি শিখায়। হালাল হারামের সীমারেখা ঠিক করে দেয়। এমন নয় যে হালাল উপার্জন করা ফরজ কিন্তু ব্যয় করার ক্ষেত্রে মানুষ স্বাধীন। ব্যয় করার ক্ষেত্রেও ইসলামের বিধান আছে যে তোমার সম্পদ তুমি কোন ক্ষেত্রে ব্যয় করবে কোন খাতে ব্যয় করা যাবে না।
আর এই না জানার কারণেই মানুষ জীবন যাপনের ক্ষেত্রে পড়ছে নানা রকম সমস্যায়। ঘরে সমস্যা। সমাজে সমস্যা। এই সমস্যাগুলো এমনভাবে একটার পর একটা লেগে থাকে যে মানুষ পেরেশান হয়ে যাচ্ছে। অথচ দ্বীন মানলে দ্বীনের পথে চললে এসব সমস্যা মহান রাব্বুল আলামীন সহজ করে দিতেন। আজ মানুষ জানেনা তাদের জীবনের এই সমস্যাগুলোর সমাধান কি? মানুষ মনে করে পয়সা কামাই করো তো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। সংসারে সুখ আসবে। সমাজে শান্তি আসবে। বর্তমানে এটাই জগতের সকল মানুষের বুঝ। মুসলমানেরও এই বুঝ। ইহুদী খৃষ্টানের এই বুঝ। হিন্দুদেরও এই বুঝ। সবাই বলে টাকা আসবে তো আমরা সচ্ছল হয়ে যাবো এবং আমাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আমাদের এ মানসিকতা তৈরী হয়েছে ইউরোপ আমেরিকা থেকে। তাদের শিক্ষার অনুসরণ দ্বারা। কিন্তু এ শিক্ষা ভুল। আল্লাহ পাকের শিক্ষা হলো—আমি যদি সন্তুষ্ট হই তাহলে তুমি সচ্ছল হও আর অসচ্ছল হও তুমি সুখী হবে। যদি আমি রাজি হই তাহলে জগতের সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পরকালও গড়বে। আর যদি আমি নারাজ হই তাহলে না তোমার দুনিয়া গড়বে না আখেরাত। এটা মহান রাব্বুল আলামীনের শিক্ষা যা আসমান থেকে এসেছে। হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলছেন—
إِنِّي إِذَا طِعْتُ رَضِيتُ وَإِذَارَ ضِيْتُ بَارَكْتُ
যখন আমার আনুগত্য করা হয় তখন আমি সন্তুষ্ট হই। আর যখন আমি খুশি হই তখন বরকত দান করি।
وَلَيْسَ فِي بَرَكَتِي نِهَايَةٌ
আর আমার বরকতের কোনো সীমা পরিসীমা নেই। তারপর আমার বরকতের দরজা খুলে যায়।
আল্লাহ তায়ালা এই পদ্ধতি আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। আর অবস্থা খারাপ হয় কখন? যখন আমরা আল্লাহর অবাধ্য হই। যখন সীমা লংঘন করি। হাদীসের পরবর্তী অংশ হলো—
وَإِنِّي إِذَا عَصَيْتُ وَإِذَا غُضِبْتُ لَعَنْتُ
আর যখন নাফরমানী চলে তখন আমি রুষ্ট হই। আর যখন আমি রুষ্ট হই তখন অভিসম্পাত করি।
আল্লাহ পাক আমাদেরকে নিয়ম শিক্ষা দিয়েছেন যে সমস্যাগুলোর সমাধান দুনিয়ায় হোক কিংবা আখেরাতের পথ কিন্তু একটাই। তা হলো আল্লাহ পাকের আনুগত্য করা অবাধ্যতা ছেড়ে দেওয়া। আমরা দুটো থেকেই মুক্তি চাই। না আমরা দুনিয়ার কষ্ট সইতে পারব না পরকালের কষ্ট সইতে পারব। তো ভাই ও বোনেরা! আসুন আমরা আল্লাহ তায়ালার নারাজী থেকে বাচি। আমরা দারিদ্রতা অবলম্বন করব তবুও সে সম্পদ চাই না যা আমাদেরকে মহান রাব্বুল আলামীনের অসন্তুষ্টিতে ফেলে দেবে। এমন কাজ না করি যে কাজ দ্বারা আল্লাহ তায়ালা নারাজ হবেন। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন। আমীন।