📄 বেহায়াপনা আল্লাহ্ সহ্য করেন না
প্রিয় ভাই ও বোন!
অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা যখন কোনো জাতির মাঝে সমাজের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে। আল্লাহ পাক অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে সহ্য করেন না। সবচেয়ে বেশি বেহায়া জাতি ছিল কওমে লুত। এ সম্প্রদায় অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার মাঝে ব্যাপকভাবে ডুবে ছিল। আল্লাহ পাক এ সম্প্রদায়টিকে পাঁচটি আযাব দ্বারা ধ্বংস করেছিলেন। আমি দেখে এসেছি কওমে লুতের অঞ্চলটি। এদিকে ধ্বসে গেছে, ওদিকে ধ্বসে গেছে। কওমে লুতের কোন প্রাণীই সেদিন বাঁচতে পারেনি। চল্লিশ দিন পর্যন্ত একাধারে পাথর বৃষ্টিতে সব অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার কবর রচিত হয়েছিল। এগুলো আমাদের জন্য শিক্ষার উপকরণ, যদি আমরা শিক্ষা নিতাম।
আজ আমাদের সমাজের অবস্থাও বড়ই করুন। আজ আমরা আমাদের ঘরগুলো পাপ পঙ্কিলতায় ভরে ফেলেছি। অন্যায় অবিচারে ভরে গেছে সমাজ। অশ্লীলতা আর বেহায়াপনার বাজার বড়ই রমরমা। যে নারীর পর্দায় আবৃত হয়ে চলাফেরা করার কথা সে চলছে উলঙ্গ হয়ে। যুবক বৃদ্ধ কিশোর সবাই অর্ধ উলঙ্গ নারীর রূপ যৌবন দেখছে তাকিয়ে তাকিয়ে। বড়ই আশ্চর্য লাগে যখন দেখি পিতা তার কন্যাকে অর্ধ উলঙ্গ পোশাকে নিয়ে যাচ্ছে। এ পোশাকে নারী যখন রাস্তায় চলে তখন সবাই তাকিয়ে থাকে, অথচ পিতা-মাতা সাথেই আছে। আমি বুঝি না মানুষের মর্যাদাবোধ কোথায় হারালো? মুসলমান কিভাবে তার মর্যাদা ভুলে যায়?
মুসলমান এটা কেন বুঝে না যে আমার কন্যা বাজারী পণ্য নয়, রাস্তায় প্রদর্শিত হওয়ার মত বস্তু নয়, বেগানা পুরুষের বিনোদনের পাত্র নয়। আমার কন্যা আমার বোন আমার স্ত্রী হীরা মুক্তার চেয়েও মূল্যবান। আমার কন্যা আমার বোন আমার স্ত্রীদেরকে বেপর্দা ছেড়ে দিয়ে তাদের মর্যাদাহীন মূল্যহীন করে ফেলেছি। অশ্লীলতার বাজারে তাদেরকে বেপর্দা ছেড়ে দিয়েছি।
হে ভাই হে বোন! নিজেদের মূল্য বুঝতে শিখুন। নিজের মূল্য দিতে শিখুন। মুসলমান হওয়ার কারণে, কালেমাওয়ালা হওয়ার কারণে আপনি মূল্যবান। নিজের মর্যাদা এভাবে খাটো করবেন না। আল্লাহর গজবের ভয় করুন। এ অশ্লীলতা আল্লাহ তায়ালা সহ্য করেন না। বছর কয়েক আগে তুরস্কের একটি শহরে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। সেখানে ইউরোপ আমেরিকার মত বেহায়াপনা বেলেল্লাপনা ছড়িয়ে পড়েছিল। যার ফলে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে শহরের মানুষ সহ সব হালাক হয়ে গেলো।
প্রিয় ভাই ও বোন! আল্লাহ পাক পূর্ব যুগের যেসব জাতিকে পাকড়াও করেছেন এবং তাদের উপর আযাব নাযিল করেছেন তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল অবাধ্যতা, কুফরী।
أَلَا إِنَّ عَادَا كَفَرُوا رَبَّهُمْ
আদ জাতি তাদের রবকে অস্বীকার করেছিল।
إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ قَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى
ফেরাউন পৃথিবীতে উদ্যত হয়ে গিয়েছিল। ফেরাউন বলেছিল আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় রব।
أَلَا إِنَّ ثَمُودَ كَفَرُوا رَبَّهُمْ
ছামুদ জাতি তাদের রবকে অস্বীকার করেছিল।
তো দুনিয়াতে এসব জাতি যে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিল তা তাদের কুফরীর কারণে। কিন্তু লুত আলাইহিস সালাম এর কওম যদিও কাফের ছিল কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর আযাব দিয়েছিলেন তাদের নির্লজ্জতার কারণে। সবচেয়ে বড় অবাধ্য নাফরমান ছিল ফেরাউন, আল্লাহ তাকে পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন। হযরত শোয়াইব আলাইহিস সালাম এর কওমের উপর তিনটি আযাব এসেছিল। কিন্তু হযরত লুত আলাইহিস সালাম এর কওমের উপর পাঁচটি আযাব এসেছিল।
(১) ভূমিকম্প এসেছিল। (২) পাথরের বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল। (৩) ফেরেশতাদের চিৎকার এসেছিল। (৪) চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। (৫) জমিনের উপরের অংশ নিচে আর নিচের অংশ উপরে করে দেওয়া হয়েছিল। এসব হয়েছিল তাদের নির্লজ্জতা বেহায়াপনা অশ্লীলতার কারণে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওবার সুযোগ দিন। আমীন।
📄 কারূনের অবাধ্যতা
বনী ইসরাইলের উপর যাকাতের বিধান জারী হলো। শতকরা দশভাগ। বিপুল সম্পদের মালিক কারুন হিসাব করল তার যাকাত আসে কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু এত টাকা হাত ছাড়া করতে তার মন সায় দিল না। সম্পদের মায়া তাকে যাকাত আদায়ে নিরুৎসাহিত করল। কারুন সিদ্ধান্ত নিল সে যাকাত তো দিবেই না বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে যাকাতের বিধান জারী করার কারণে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আটল। আল্লাহর নবী হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এর বিরুদ্ধে অপরাধ আরোপের পরিকল্পনা ঠিক করল। এক পাপিষ্ঠা মহিলাকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে সম্মত করাল যে তুমি মুসা আলাইহিস সালাম এর বিরুদ্ধে যিনার অপবাদ দিবে। বলবে মুসা আলাইহিস সালাম আমার সাথে যিনা করেছে।
ঈমান যখন থাকে না তখন মানুষের বিক্রি হতে সময় লাগে না। হাজার হাজার মানুষের সামনে বয়ান করছিলেন আল্লাহর নবী হযরত মুসা আলাইহিস সালাম। সেখানে কারুনও উপস্থিত। এক পর্যায়ে কারুন দাঁড়িয়ে মুসা আলাইহিস সালাম কে প্রশ্ন করল, হে মুসা! কেউ যদি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও যিনা করে তাহলে তার শাস্তি কি? হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বললেন তাকে পাথর মেরে মেরে হত্যা করা হবে। কারুন বলল এ মহিলা কি বলছে শুনুন। কারুন মহিলাকে দাঁড় করালো এবং বলল তুমি সাক্ষ্য দাও।
মহিলা সাক্ষ্য দিতে দাঁড়াল। কিন্তু আল্লাহর নবীর চেহারায় দৃষ্টি পড়তেই তার সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল। মহিলা থরথর করে কাঁপতে লাগল। মহিলা বলল হে আল্লাহর নবী আমার কোন অভিযোগ নেই। আমি এমনিতেই একজন পাপিষ্ঠা নারী। তার উপর একজন নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আরোপের দায় নিয়ে মরতে চাইনা। মহিলা সাফ সাফ বলে দিল আপনার উপর অপরাধ আরোপের জন্য কারুন আমাকে অর্থ দিয়েছে। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন বললেন হে আল্লাহ! তোমার নবীর সঙ্গে এ কেমন ঘটনা ঘটে গেল? আল্লাহ তায়ালা বললেন আমি জমিনকে তোমার অনুগত করে দিলাম। তুমি কারুনকে জমিনে ধসিয়ে দাও।
মুসা আলাইহিস সালাম বললেন হে জমিন কারুনকে ধরো। সঙ্গে সঙ্গে জমিন কারুনকে ধরে ফেলল এবং কারুন জমিনে ধসে যেতে লাগল। কারুন বুঝতে পারল সে ধরা পড়ে গেছে জমিন তাকে গিলে ফেলছে। কারুন বলল মুসা আমাকে ক্ষমা করে দাও। কিন্তু মুসা আলাইহিস সালাম জমিনকে বললেন ওকে ভাল করে ধরো। কারুন আরও ভিতরে ধসে যেতে লাগল। কারুন আবারও ক্ষমা চাইল। মুসা আলাইহিস সালাম বললেন ওকে শক্ত করে ধরো। এভাবে কারুন ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে ধসে যেতে লাগল। যখন কারুন সম্পূর্ণ ধসে গেল আল্লাহ তায়ালা বললেন মূসা তোমার অন্তর এত শক্ত! কারুন বার বার ক্ষমা প্রার্থনা করল আর তুমি ক্ষমা করলে না? আমি আমার মর্যাদা ও প্রতাপের শপথ করে বলছি যদি আমার কাছে সে একটি বার ক্ষমা চাইতো তাহলে আমি মাফ করে দিয়ে তাকে উদ্ধার করতাম।
তো ভাই দেখুন, আল্লাহ তায়ালা কারুনের মত অবাধ্য নাফরমানকেও ক্ষমা করতে প্রস্তুত ছিলেন আর আমরাতো কারুনের চেয়েও অনেক ভাল এবং শেষ নবীর উম্মত। আমাদেরতো সুপারিশকারী আছেন। তাই আসুন আল্লাহ তায়ালাকে নারাজ না করি। তাঁর অনুগ্রহের সুযোগ নিয়ে বেপরোয়া হয়ে না যাই। আসুন আমরা আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা ও করুণার দিকে ধাবিত হই।
📄 আমাদের চিন্তার দুর্বলতা
প্রিয় ভাই ও বোনেরা!
আমরা কি ধরে নিয়েছি দুনিয়ার যিন্দেগীতে আরাম আয়েশই সব? ভাল কাপড়, ভালো ভালো বাড়ি, দামি গাড়ি, ব্যাংকে অঢেল টাকাই আমাদের সব? মহিলারা কি ভেবেছে ভাল ভাল অলংকার দামী পোশাক যত হবে তত বেশি মর্যাদার অধিকারী হবে?
আরে এ মর্যাদার স্থায়িত্ব কত দিনের? একদিন তো এ মর্যাদা মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। এ দেহকে কবরের পোকা মাকড়ে খেয়ে ফেলবে। এ প্রাপ্তি এ সাফল্য মর্যাদা ক্ষণিকের, ক্ষণস্থায়ী এ জীবনে দুনিয়াবী এ মর্যাদার কি মূল্য আছে? চিরস্থায়ী সাফল্য ও মর্যাদাতো প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শের মধ্যে নিহিত। আমাদের নবী শেষ নবী। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ নবী ও রাসূল। তাঁর উপর নবুওয়ত খতম। তাঁর উপর রেসালাত খতম। তাঁর উপর নেতৃত্ব খতম। আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সমস্ত ইজ্জত শরীয়াত এ সমস্ত যোগ্যতার সমাপ্তি ঘটে গেছে। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করে দিয়েছেন এ নবীই শেষ নবী। এ নবীর পর আর কোন নবী আসবে না।
কাজেই এখন থেকে দ্বীনের দাওয়াত প্রত্যেকটা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব থেকে গাফেল হলে রাব্বুল আলামীনের নিকট আমাদের জবাব দিতে হবে। তো ভাই! আমরা দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার রহস্য এর মাঝে নিহিত আছে যে আমরা আল্লাহ তায়ালার রেজামন্দির দিকে অগ্রসর হবো। তা এভাবে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তরিকা আমাদের পুরুষ আমাদের মহিলা ও আমাদের সন্তানদের জীবনে চলে আসবে। যে-ই হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শকে অনুসরণ করবে সে-ই আল্লাহ তায়ালার প্রিয় হবে।
একজন মানুষ চাই পুরুষ হোক বা নারী হোক সুরম্য প্রাসাদে বাস করুক কিংবা জীর্ণ কুটিরে বাস করুক। যেখানেই থাকুক না কেন যদি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনাদর্শ অবলম্বন করে তাহলে তার জীবন সফল ও সুখময় হবে। অন্যথায় ধ্বংস ও ব্যর্থতা এবং অশান্তির আগুনে পুড়বে। দেখুন হাবশী বেলাল (রা.) কে। কালো কুশ্রী দাস ছিল। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শ অনুকরণ অনুসরণ করার ফলে তাঁর জীবন সফল হয়ে গেছে। দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর মর্যাদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন কেয়ামতের দিন কবরগুলো ফেটে যাবে আমি সকলের আগে বের হব। আমার ডান দিক থেকে হযরত আবু বকর (রা.) বের হবে আমার বাম দিক থেকে হযরত ওমর (রা.) বের হবে। আর পায়ের দিক থেকে বের হবে হযরত বেলাল (রা.)। একটি কথা মনে রাখবেন যে ব্যক্তির কবর যেখানে কেয়ামতের দিন সেখান থেকেই তাকে উঠানো হবে। যেখানে যার কবর সেখানেই তার হাশর। কিন্তু হযরত বেলাল (রা.) এর ব্যাপারটা ভিন্ন। তাঁর কবর শামে। তিনি উঠবেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পায়ের দিক থেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন বেলাল উঠেই আযান দিবে—আল্লাহ আকবার আল্লাহু আকবার। দুনিয়ায় ও মুয়াজ্জিন আখেরাতেও মুয়াজ্জিন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন সব মানুষ হাশরের মাঠের দিকে পায়ে হেটে রওয়ানা হবে আমি যার বোরাকে চড়ে। আমার সামনে সামনে বেলাল যাবে—একটি লাল উটের পিঠে চড়ে। বলুন তো! হযরত বেলাল এ মর্যাদা কোথায় পেলেন? আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আনুগত্যের কারণে।
📄 তিনি কেঁদেছেন, আমাদের জন্য
প্রিয় ভাই ও বোন!
প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক টানা পাঁচঘন্টা আরাফার ময়দানে নিজের উম্মতের জন্য কেঁদেছেন। মরুভূমির উত্তপ্ত বালু। তাবু নেই ছায়া নেই উটের পিঠে বসে পাঁচ ঘন্টা একনাগাড়ে দোয়া করেছেন। আমরাতো পাঁচ দশ মিনিট দোয়া করলেই ক্লান্ত হয়ে যাই। আর আল্লাহর নবী পাঁচটি ঘন্টা দোয়া করেছেন। কখনও কখনও তিনি অস্থির হয়ে উঠের রেকাবে পা রেখে দাঁড়িয়ে যেতেন আর হাত দুটি পুরোপুরি উপরে উঠে যেত। তিনি অস্থির হয়ে ছটফট করতেন আর বলতেন আমার উম্মত! আমার উম্মত!
হাদীসে আছে ওফাতের এক সাপ্তাহ আগে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জানা হয়ে গিয়েছিল যে বিদায়ের সময় ঘনিয়ে এসেছে। সাহাবায়ে কেরামগণ আসছেন আল্লাহর নবীর মোবারক চেহারা দেখার জন্য। শয্যাশায়ী আল্লাহর নবী। তিনি বললেন আমি তোমাদের সবাইকে আমার শেষ সালাম জানাচ্ছি। তোমাদের পর যারা আসবে তাদেরকেও আমার সালাম দিও। এভাবে যারা তারপরে আসবে তাদেরকেও বলবে তারা যেন তাদের পরে যারা আসবে তাদের কাছে আমার সালাম পৌঁছে দেয়। এভাবে পরবর্তীদের নিকট আমার সালাম পৌঁছে দিও। সুবহানাল্লাহ্! আমরা তখনও আত্মার জগতে ছিলাম আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সালাম জানিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।
একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদের উদ্দেশ্য বললেন মন চাচ্ছে আমি আমার ভাইদের দেখব। সাহাবাগণ বললেন হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার ভাই নই কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন নানা তোমরা আমার ভাই নও তোমরা আমার সাহাবী। আমার ভাই হলো তারা যারা আমাকে দেখা ব্যতীত কালেমা পাঠ করে মুসলমান হবে। এক সাহাবী বললেন ধন্য হোক সেই ব্যক্তি যে আপনাকে দেখেছে এবং আপনার উপর ঈমান এনেছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সাত বার ধন্য হোক সে যে আমাকে দেখেনি; কিন্তু তারপরও আমার প্রতি ঈমান এনেছে। কত বড় দুঃখের বিষয় যে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতবার মোবারকবাদ দিয়েছেন কিন্তু তারপরও আমরা তাঁর নাফরমানী করছি। এমন নবীর নাফরমানী তারপরও আমরা করে যাব? কিসের খাতিরে করব? জিহ্বার স্বাদের জন্য? দেহের আরামের জন্য? কানের সুখের জন্য? চোখের আরামের জন্য? দুনিয়ার আরাম আয়েশের জন্য এমন দয়ালু মানুষটির বে-অফায়ী কি আমরা করেই যাব?
আমরা কত অন্যায় অবিচার করছি কিন্তু তারপরও আমাদেরকে জমিন গিলে ফেলছে না কেন? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দোয়া আমাদেরকে রক্ষা করছে। তাঁর রাত জাগা ছটফটানি আমাদেরকে টিকিয়ে রেখেছে। উম্মতের জন্য কেঁদে কেঁদে তিনি অস্থির হয়ে যেতেন। উম্মতের মুক্তির চিন্তায় তিনি পেরেশান হয়ে উঠতেন। পেটে পাথর বেঁধেছেন। সারা রাত জেগে ছটফট করতেন। সর্প দংশিত মানুষের মত তড়পাতেন। দয়াল নবীর এ তড়প কি নিজের জন্য ছিল? যার জন্য জান্নাত তৈরী হয়েছে। পরকালে যার হাতে জান্নাতের চাবি থাকবে। যিনি সবার আগে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। আল্লাহর সেই নবী প্রিয় হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি নিজের মুক্তির জন্য কেঁদেছেন? না তিনি কেঁদেছেন আমাদের জন্য। আমাদের মত অকৃতজ্ঞ উম্মতের জন্য কেঁদেছেন। আর আমরা কিনা তারই সাথে বেয়াদবী করছি! প্রিয় ভাই ও বোন! আল্লাহর ওয়াস্তে বিবেকের পরিচয় দিন। এভাবে আর কতকাল চলবেন? জীবনের সমাপ্তি ঘটতে পারে যে কোন মুহূর্তে। তারপর সেই মহান মানুষটির মুখোমুখি হতে হবে। কি জবাব দিবেন?