📘 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয় 📄 দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী

📄 দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী


প্রিয় ভাই ও বোন! সে দিনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্যই দুনিয়াতে আমাদের পাঠানো হয়েছে। এখানে আমরা একজন মুসাফির ছাড়া আর কিছু না। এ জগত মূলত একটি অস্থায়ী আবাস। একদিন আমাদের এ দুনিয়া ছেড়ে যেতেই হবে। দুনিয়াকে যারা ভালবেসে আপন করে নিয়েছে, দুনিয়া তাদের ধোঁকা দিয়েছে। দুনিয়ার শান্তি খুঁজতে খুঁজতে জীবন শেষ করেছে। কিন্তু শান্তি পায়নি। দুনিয়া যাদেরকে দংশন করেছে, তারা কখনও শান্তি পায়নি। দুনিয়া একটি বিষধর সাপ। সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতক। কাজেই সতর্ক হোন。

এ দুনিয়ার বুকে এমন একদিন আসবে, যে দিনের ভয়াবহতা যুবকদেরকেও বৃদ্ধ বানিয়ে দেবে। সেদিন আল্লাহ তায়ালা আত্মপ্রকাশ করবেন। ফেরেশতাগণও দলে দলে এসে উপস্থিত হবেন। হাজির করা হবে সব বনী আদমকে। তখন আল্লাহ তায়ালা ডেকে বলবেন, ওহে আমার বান্দারা! যেদিন আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমি তোমাদেরকে শুধু দেখে এসেছি। তোমাদের কর্মকাণ্ড দেখেছি। কিছুই বলিনি। রাতে যে সেজদারত ছিলে তাকেও দেখেছি। যে গানবাদ্য করেছো তাকেও দেখেছি। তোমাদের চারিত্রিক স্খলনও দেখেছি। তোমাদের অপকর্মে লিপ্ত হওয়াও দেখেছি। কে হালাল রোজগার করেছো তাও দেখেছি। কে হারাম কামাই করেছে, সুদ-ঘুষের টাকায় সম্পদ গড়েছে, কে কোন পথে চলেছো সব দেখেছি। জালেমের জুলুম দেখেছি। মজলুমের আর্তনাদ শুনেছি। ইনসাফও দেখেছি। শুধু দেখেছি, বলিনি কিছুই। আজ বলার সময় এসেছে। প্রস্তুত হও। কি ভেবেছিলে? এ বিশ্ব জগত নিজে নিজে সৃষ্টি হয়েছে? তোমাদের সুঠাম সুন্দর দেহ, যৌবনের উদ্যমতা আপনা আপনি এসেছে? দুনিয়ার অঢেল সম্পদ, বিশাল অট্টালিকা যা নিয়ে তুমি গর্ব করতে, তা নিজের বুদ্ধিতে অর্জন করেছিলে? ভেবেছিলে কি? হিসাব দিতে হবে না কোন কিছুরই? তাই বেপরোয়া জীবন যাপন করেছিলে? আজ সেই দিন, হিসাবের দিন। এসো। আজ তোমাদের জীবনের সমস্ত অপকর্মের পুঙ্খানুপুঙ্খানু হিসাব গ্রহণ করা হবে। সে কঠিন সময়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাও। হিসাব দেয়ার জন্য।

তারপর এমন কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হবে যে, মানুষ নিজের স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা ও ভাই বোনের বিনিময়েও নিজেকে বাঁচাতে চাইবে। আল্লাহ তায়ালার কাছে আর্তি জানিয়ে বলবে, হে আল্লাহ! আমার স্ত্রীকে জাহান্নামে দিয়ে হলেও আমাকে মুক্তি দিন। আমার ভাই-বোনকে জাহান্নামে দিয়ে আমাকে মুক্তি দিন। আমার মা-বাপ সন্তানকে জাহান্নামে দিয়ে হলেও আমাকে মুক্তি দিন।

يُبَصَّرُونَهُمْ يَوَدُّ الْمُجْرِمُ لَوْ يَفْتَدِى مِنْ عَذَابِ يَوْمِئِذٍ بِبَنِيهِ
অপরাধীরা সেদিন শাস্তির বদলে দিতে চাইবে তার সন্তান সন্তুতিকে। (সূরা মাআরিজ ১১)

وَصَاحِبَتِهِ وَأَخِيهِ
তার স্ত্রী ও ভ্রাতাকে। (সূরা মাআরিজ ১২)

وَفَصِيلَتِهِ الَّتِي تُوِيهِ
তার জ্ঞাতি গোষ্ঠী, যারা তাকে আশ্রয় দিত। (সূরা মাআরিজ ১৩)

وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ يُনْجِيهِ
পৃথিবীর সকল মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে হলেও আমাকে মুক্তি দিন। (সূরা মাআরিজ ১৪)

আল্লাহ তায়ালা বলবেন না, কখনোও নয়। অপরাধী তার অপরাধের জন্য ধৃত হবে। এটা দুনিয়া নয় যে অপরাধী নিরাপদ আশ্রয়ে বসে থাকবে আর নিরপরাধ ব্যক্তি সাজা ভোগ করবে। এটা আল্লাহ তায়ালার আদালত।

فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ - وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَّرَهُ
কেউ অনুপরিমাণ নেক আমল করলেও তা দেখতে পাবে। কেউ অনুপরিমাণ অসৎ কর্ম করলেও তা দেখতে পাবে। (সূরা যিলযাল, ৭-৮)

ফেরেশতারা একজন অপরাধীকে ঘাড় ধরে পাল্লার সামনে দাড় করিয়ে দেবে। পাল্লার সামনে যখন উপস্থিত করা হবে, তখন তাদের দেহ এমনভাবে কম্পন সৃষ্টি হবে যে তারা ভয়ে কাঁপতে থাকবে। তারা স্থির হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। একবার এদিকে হেলে পড়বে, একবার ওদিকে হেলে পড়বে। দুনিয়ার বড় বড় ক্ষমতাশালী বাদশারাও সেদিন থরথর করে কাঁপবে। তাদের পা দুটি সেদিন তাদের দেহের ভার বহন করতে অক্ষম হবে। তাদের একদিকে থাকবে জাহান্নামের লেলিহান অনন্ত অনল। আরেকদিকে থাকবে সেই মনোরম জান্নাতের দৃশ্য। জাহান্নাম চিৎকার করে বলতে থাকবে, আরও চাই, আরও চাই।

তারপর তার আমলনামা ওজন করা হবে মিযানের পাল্লায়। কারো কন্যাকে, কারো পুত্রকে, কারও পিতা-মাতাকে, ভাইকে, বোনকে, স্বজনকে সবাইকে। একদিকে পাপ, একদিকে পুণ্য। তাদের আমল মিযানের পাল্লায় তোলা হবে। হাশরের সেই আশ্চর্য পাল্লায় কারও বংশ মর্যাদা মাপা হবে না। মাপা হবে বান্দার আমলগুলো। সে পাল্লায় বান্দার চরিত্রের সৌন্দর্য, হালাল উপার্জনের সওয়াব, সকল মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকার সাওয়াব। বান্দার মন্দ আমলের ওজন করা হবে। যদি মন্দ কাজের ওজন বেশি হয়ে যায়, তাহলে অশেষ দুর্গতি তার কপালে জুটল। হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম তখন ঘোষণা করবেন, অমুকের পুত্র অমুক তার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। সে দুনিয়ার জীবনে গুনাহের কারণে বিফল হয়েছে।

প্রিয় ভাই ও বোন! বুঝতে চেষ্টা করুন, এ ব্যর্থতা দুনিয়ার জীবনে পরীক্ষার ব্যর্থতা নয়। এ পরাজয় দুনিয়ার জীবনে নির্বাচনে পরাজয় নয়। কারণ, এ ব্যর্থতার পরও রয়েছে এক কঠিন ও ভয়াবহ জীবনের সূচনা। সে জীবনের কোন সমাপ্তি নেই। শুরু আছে, শেষ নেই। তো ভাই! আসুন আমরা তাওবা করি আমাদের জীবনের গুনাহগুলো থেকে। আমরা এ যাবত যত গুনাহ করেছি, আল্লাহ পাকের যত নাফরমানী করেছি, তার জন্য তাওবা করি। কারণ তাওবা এমন একটি আমল যা জীবনের সমস্ত গুনাহকে ধুয়ে পরিষ্কার করে দেয়। আল্লাহ তায়ালা এত দয়ালু যে একদিকে আমরা বলি মাফ করে দাও, ওদিকে আল্লাহ বলেন যাও মাফ করে দিলাম। আমিতো তোমার তাওবার অপেক্ষায়ই বসে আছি।

📘 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয় 📄 ঈমান সবার আগে

📄 ঈমান সবার আগে


প্রিয় ভাই ও বোন! ঈমান হলো সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ আজ মানুষের কাছে সেই ঈমানই হলো সবচেয়ে অবহেলার বস্তু। দু'চারশত টাকার জিনিস কিনে মানুষ তা হেফাযতের জন্য কতইনা ব্যবস্থা করে। কাচা মাছ, মাংস কিনে তা সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজে রাখে। সামান্য কাপড় চোপড় সুন্দর রাখার জন্য আলমারীতে সংরক্ষণ করে।

আমার ভাই ও বন্ধুগণ! দুনিয়ার সামান্য এ বস্তুগুলোর হেফাযতের জন্য আমাদের তো আয়োজনের কমতি নেই। ফিকিরেরও কমতি নেই। কিন্তু অমূল্য সম্পদ ঈমান হেফাযতের জন্য আমাদের কি ফিকির ও কি চেষ্টা রয়েছে? এর জন্য আমরা কি মেহনত করি? আজ আমরা চোখ দিয়ে হারাম বস্তু দেখি, প্রতিদিন দুটি চোখ দিয়ে কত গুনাহই না করছি। কান দিয়ে কত মিথ্যা শুনছি। বিশ্বাস করছি। গান বাদ্য শুনছি। জবানকে ব্যবহার করছি অশ্লীল বাক্য বলে। মিথ্যা বলে, গান গেয়ে, গীবত করে। হারাম ও শরীয়ত নিষিদ্ধ বস্তু ভক্ষণ করছি, পান করছি। এ সবই আমাদের ঈমানের চরম ক্ষতি করছে। এসব অসঙ্গত ও অবৈধ আচরণের মাধ্যমে নিজের সবচেয়ে বড় সম্পদ ঈমানের ক্ষতি করার পর আমরা যতই অর্থ বিত্ত ও সহায় সম্পদ অর্জন করি না কেন, তাতে কোন উপকারই নেই। এ তুচ্ছ সম্পদ আর চিত্ত বৈভব আমার আপনার চূড়ান্ত মুক্তি ও কামিয়াবীর ব্যবস্থা করে দিতে পারবে না। তাই আমার অনুরোধ, আসুন ঈমানের হেফাযত করে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে মন দেই। নেক কাজ যত ছোটই হোক, তা নেক কাজই। আর গুনাহ যতই ছোট হোক, তা গুনাহই। তা থেকে আত্মরক্ষা করে চলাই হলো ঈমান。

আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যখন কোন নাফরমানী কর, সে নাফরমানী ছোট কি বড় তার প্রতি লক্ষ্য না রেখে দেখ কার নাফরমানী করছো? গুনাহ যত ছোটই হোক তাতে আল্লাহ তায়ালারই অবাধ্যতা করা হচ্ছে। কাজেই সেই মহান জাতে পাকের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাঁর অবাধ্যতা থেকে আত্মরক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। এর নামই ঈমান। আমাদের প্রতি মহান রাব্বুল আলামীনের কত বড় মেহেরবানী যে তিনি আমাদের মানুষরূপে সৃষ্টি করেছেন। তারপর ঈমানের মত দৌলত দান করেছেন। আর আখেরী নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাগ্যবান উম্মত হিসেবে কবুল করেছেন। সেই মহান রবের অসংখ্য অনুগ্রহের পরও তুচ্ছ এ অর্থ সম্পদ আর দুনিয়াবী ক্ষণিকের সুখ শান্তির জন্য আল্লাহ তায়ালার অবাধ্য হচ্ছি।

আহ! বড়ই আফসোসের বিষয়! মানুষ সামান্য কিছু ডলার বা উন্নত দেশের ভিসার জন্য ঈমান বিকিয়ে দিচ্ছে। মানুষ নির্ভাবনায় সন্তানকে সেই কুফরের আখড়ায় পাঠিয়ে দিচ্ছে। হে ভাই আমার! এতে আপনি কি হারালেন আর কি পেলেন হিসাব করে দেখেছেন? হিসাব করা দরকার। আমরা মুসলমান। ঈমান আমার জীবনের চেয়ে দামী। আর ঈমান পৃথিবীর সবকিছুর চেয়ে বড়। একটু সম্পদের জন্য একটু সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের লোভে একটি গ্রীণ কার্ডের জন্য সে ঈমান বিক্রি হতে পারে না। কুফর ও বেঈমান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার চেয়ে মন্দ কপাল আর হতে পারেনা।

এখনো আমার একটি কথা মনে হলে কষ্টে অন্তরটা ফেটে যায়। একবার ইংল্যান্ড সফরে এক লোকের সাথে সাক্ষাত হলো। লোকটি মুসলমান ছিল। লোকটি বলল, মুসলমান ছিলাম। আমি অবাক হলাম লোকটির কথা শুনে—মুসলমান ছিলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম এখন কি আপনি মুসলমান নন? লোকটি জবাব দিল অর্থ-সম্পদ কামাই করতে গিয়ে ঈমান বিক্রি করে দিয়েছি। অর্থ-সম্পদ কামাই করতে গিয়ে সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখতে পারিনি, তারা যে যেভাবে পারছে চলছে। তাদের উপর আমার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তারা বিয়ে করেছে খৃষ্টান মেয়ে। মেয়েরা বিয়ে করেছে খৃষ্টান ছেলে। এখন নিজেকে বড়ই বদ নসিব মানুষ মনে হয়। না হলে কেউ নিজেকে এভাবে ধ্বংস করে? লোকটা কেঁদে দিল। অনেকক্ষণ কাঁদল। আমি তাকে শান্তনা দিলাম, বললাম ভাই আপনি হতাশ হবেন না। আপনি মুসলমান থেকে তো খারিজ হয়ে যাননি, আপনি আবার তাওবা করে মহান রব্বে কারীমের নিকট ক্ষমা চান, তিনি অনেক মেহেরবান। দয়ালু তিনি। বান্দার অনুতপ্ত হৃদয়ের কথা তিনি শোনেন। তিনি তাওবাকারীকে ভালবাসেন। লোকটি আশ্বস্ত হলেন, মনটা তার খুশিতে নেচে উঠল। হতাশায় ভরে যাওয়া অন্তরটা আশায় ভরে উঠল।

ভাই! সকল মুসলমানের ঈমান আমল পরিশুদ্ধ হোক। যারা ঈমানও দ্বীনী পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে তারা ঈমান ও ইসলামের পথে ফিরে আসুক। দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত এমন এক মেহনত এর সঙ্গে যুক্ত হলে মানুষ ঈমান ও আমলের নূর লাভ করে। ক্রমশ সে আলোর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাযত করুন।

📘 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয় 📄 বেহায়াপনা আল্লাহ্ সহ্য করেন না

📄 বেহায়াপনা আল্লাহ্ সহ্য করেন না


প্রিয় ভাই ও বোন!
অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা যখন কোনো জাতির মাঝে সমাজের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহর গজব নেমে আসে। আল্লাহ পাক অশ্লীলতা ও বেহায়াপনাকে সহ্য করেন না। সবচেয়ে বেশি বেহায়া জাতি ছিল কওমে লুত। এ সম্প্রদায় অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার মাঝে ব্যাপকভাবে ডুবে ছিল। আল্লাহ পাক এ সম্প্রদায়টিকে পাঁচটি আযাব দ্বারা ধ্বংস করেছিলেন। আমি দেখে এসেছি কওমে লুতের অঞ্চলটি। এদিকে ধ্বসে গেছে, ওদিকে ধ্বসে গেছে। কওমে লুতের কোন প্রাণীই সেদিন বাঁচতে পারেনি। চল্লিশ দিন পর্যন্ত একাধারে পাথর বৃষ্টিতে সব অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার কবর রচিত হয়েছিল। এগুলো আমাদের জন্য শিক্ষার উপকরণ, যদি আমরা শিক্ষা নিতাম।

আজ আমাদের সমাজের অবস্থাও বড়ই করুন। আজ আমরা আমাদের ঘরগুলো পাপ পঙ্কিলতায় ভরে ফেলেছি। অন্যায় অবিচারে ভরে গেছে সমাজ। অশ্লীলতা আর বেহায়াপনার বাজার বড়ই রমরমা। যে নারীর পর্দায় আবৃত হয়ে চলাফেরা করার কথা সে চলছে উলঙ্গ হয়ে। যুবক বৃদ্ধ কিশোর সবাই অর্ধ উলঙ্গ নারীর রূপ যৌবন দেখছে তাকিয়ে তাকিয়ে। বড়ই আশ্চর্য লাগে যখন দেখি পিতা তার কন্যাকে অর্ধ উলঙ্গ পোশাকে নিয়ে যাচ্ছে। এ পোশাকে নারী যখন রাস্তায় চলে তখন সবাই তাকিয়ে থাকে, অথচ পিতা-মাতা সাথেই আছে। আমি বুঝি না মানুষের মর্যাদাবোধ কোথায় হারালো? মুসলমান কিভাবে তার মর্যাদা ভুলে যায়?

মুসলমান এটা কেন বুঝে না যে আমার কন্যা বাজারী পণ্য নয়, রাস্তায় প্রদর্শিত হওয়ার মত বস্তু নয়, বেগানা পুরুষের বিনোদনের পাত্র নয়। আমার কন্যা আমার বোন আমার স্ত্রী হীরা মুক্তার চেয়েও মূল্যবান। আমার কন্যা আমার বোন আমার স্ত্রীদেরকে বেপর্দা ছেড়ে দিয়ে তাদের মর্যাদাহীন মূল্যহীন করে ফেলেছি। অশ্লীলতার বাজারে তাদেরকে বেপর্দা ছেড়ে দিয়েছি।

হে ভাই হে বোন! নিজেদের মূল্য বুঝতে শিখুন। নিজের মূল্য দিতে শিখুন। মুসলমান হওয়ার কারণে, কালেমাওয়ালা হওয়ার কারণে আপনি মূল্যবান। নিজের মর্যাদা এভাবে খাটো করবেন না। আল্লাহর গজবের ভয় করুন। এ অশ্লীলতা আল্লাহ তায়ালা সহ্য করেন না। বছর কয়েক আগে তুরস্কের একটি শহরে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল। সেখানে ইউরোপ আমেরিকার মত বেহায়াপনা বেলেল্লাপনা ছড়িয়ে পড়েছিল। যার ফলে ভয়াবহ এক ভূমিকম্পে শহরের মানুষ সহ সব হালাক হয়ে গেলো।

প্রিয় ভাই ও বোন! আল্লাহ পাক পূর্ব যুগের যেসব জাতিকে পাকড়াও করেছেন এবং তাদের উপর আযাব নাযিল করেছেন তাদের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল অবাধ্যতা, কুফরী।

أَلَا إِنَّ عَادَا كَفَرُوا رَبَّهُمْ
আদ জাতি তাদের রবকে অস্বীকার করেছিল।

إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ قَالَ أَنَا رَبُّكُمُ الْأَعْلَى
ফেরাউন পৃথিবীতে উদ্যত হয়ে গিয়েছিল। ফেরাউন বলেছিল আমি তোমাদের সবচেয়ে বড় রব।

أَلَا إِنَّ ثَمُودَ كَفَرُوا رَبَّهُمْ
ছামুদ জাতি তাদের রবকে অস্বীকার করেছিল।

তো দুনিয়াতে এসব জাতি যে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিল তা তাদের কুফরীর কারণে। কিন্তু লুত আলাইহিস সালাম এর কওম যদিও কাফের ছিল কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর আযাব দিয়েছিলেন তাদের নির্লজ্জতার কারণে। সবচেয়ে বড় অবাধ্য নাফরমান ছিল ফেরাউন, আল্লাহ তাকে পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন। হযরত শোয়াইব আলাইহিস সালাম এর কওমের উপর তিনটি আযাব এসেছিল। কিন্তু হযরত লুত আলাইহিস সালাম এর কওমের উপর পাঁচটি আযাব এসেছিল।

(১) ভূমিকম্প এসেছিল। (২) পাথরের বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল। (৩) ফেরেশতাদের চিৎকার এসেছিল। (৪) চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। (৫) জমিনের উপরের অংশ নিচে আর নিচের অংশ উপরে করে দেওয়া হয়েছিল। এসব হয়েছিল তাদের নির্লজ্জতা বেহায়াপনা অশ্লীলতার কারণে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে তাওবার সুযোগ দিন। আমীন।

📘 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয় 📄 কারূনের অবাধ্যতা

📄 কারূনের অবাধ্যতা


বনী ইসরাইলের উপর যাকাতের বিধান জারী হলো। শতকরা দশভাগ। বিপুল সম্পদের মালিক কারুন হিসাব করল তার যাকাত আসে কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু এত টাকা হাত ছাড়া করতে তার মন সায় দিল না। সম্পদের মায়া তাকে যাকাত আদায়ে নিরুৎসাহিত করল। কারুন সিদ্ধান্ত নিল সে যাকাত তো দিবেই না বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে যাকাতের বিধান জারী করার কারণে হযরত মুসা আলাইহিস সালাম-এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আটল। আল্লাহর নবী হযরত মুসা আলাইহিস সালাম এর বিরুদ্ধে অপরাধ আরোপের পরিকল্পনা ঠিক করল। এক পাপিষ্ঠা মহিলাকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে সম্মত করাল যে তুমি মুসা আলাইহিস সালাম এর বিরুদ্ধে যিনার অপবাদ দিবে। বলবে মুসা আলাইহিস সালাম আমার সাথে যিনা করেছে।

ঈমান যখন থাকে না তখন মানুষের বিক্রি হতে সময় লাগে না। হাজার হাজার মানুষের সামনে বয়ান করছিলেন আল্লাহর নবী হযরত মুসা আলাইহিস সালাম। সেখানে কারুনও উপস্থিত। এক পর্যায়ে কারুন দাঁড়িয়ে মুসা আলাইহিস সালাম কে প্রশ্ন করল, হে মুসা! কেউ যদি বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও যিনা করে তাহলে তার শাস্তি কি? হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বললেন তাকে পাথর মেরে মেরে হত্যা করা হবে। কারুন বলল এ মহিলা কি বলছে শুনুন। কারুন মহিলাকে দাঁড় করালো এবং বলল তুমি সাক্ষ্য দাও।

মহিলা সাক্ষ্য দিতে দাঁড়াল। কিন্তু আল্লাহর নবীর চেহারায় দৃষ্টি পড়তেই তার সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠল। মহিলা থরথর করে কাঁপতে লাগল। মহিলা বলল হে আল্লাহর নবী আমার কোন অভিযোগ নেই। আমি এমনিতেই একজন পাপিষ্ঠা নারী। তার উপর একজন নবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আরোপের দায় নিয়ে মরতে চাইনা। মহিলা সাফ সাফ বলে দিল আপনার উপর অপরাধ আরোপের জন্য কারুন আমাকে অর্থ দিয়েছে। হযরত মুসা আলাইহিস সালাম সিজদায় লুটিয়ে পড়লেন বললেন হে আল্লাহ! তোমার নবীর সঙ্গে এ কেমন ঘটনা ঘটে গেল? আল্লাহ তায়ালা বললেন আমি জমিনকে তোমার অনুগত করে দিলাম। তুমি কারুনকে জমিনে ধসিয়ে দাও।

মুসা আলাইহিস সালাম বললেন হে জমিন কারুনকে ধরো। সঙ্গে সঙ্গে জমিন কারুনকে ধরে ফেলল এবং কারুন জমিনে ধসে যেতে লাগল। কারুন বুঝতে পারল সে ধরা পড়ে গেছে জমিন তাকে গিলে ফেলছে। কারুন বলল মুসা আমাকে ক্ষমা করে দাও। কিন্তু মুসা আলাইহিস সালাম জমিনকে বললেন ওকে ভাল করে ধরো। কারুন আরও ভিতরে ধসে যেতে লাগল। কারুন আবারও ক্ষমা চাইল। মুসা আলাইহিস সালাম বললেন ওকে শক্ত করে ধরো। এভাবে কারুন ক্ষমা প্রার্থনা করতে করতে ধসে যেতে লাগল। যখন কারুন সম্পূর্ণ ধসে গেল আল্লাহ তায়ালা বললেন মূসা তোমার অন্তর এত শক্ত! কারুন বার বার ক্ষমা প্রার্থনা করল আর তুমি ক্ষমা করলে না? আমি আমার মর্যাদা ও প্রতাপের শপথ করে বলছি যদি আমার কাছে সে একটি বার ক্ষমা চাইতো তাহলে আমি মাফ করে দিয়ে তাকে উদ্ধার করতাম।

তো ভাই দেখুন, আল্লাহ তায়ালা কারুনের মত অবাধ্য নাফরমানকেও ক্ষমা করতে প্রস্তুত ছিলেন আর আমরাতো কারুনের চেয়েও অনেক ভাল এবং শেষ নবীর উম্মত। আমাদেরতো সুপারিশকারী আছেন। তাই আসুন আল্লাহ তায়ালাকে নারাজ না করি। তাঁর অনুগ্রহের সুযোগ নিয়ে বেপরোয়া হয়ে না যাই। আসুন আমরা আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা ও করুণার দিকে ধাবিত হই।

ফন্ট সাইজ
15px
17px