📘 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয় 📄 মৃত্যুর কাছে সবাই পরাজিত

📄 মৃত্যুর কাছে সবাই পরাজিত


ওয়াসেক বিল্লাহ। এক বিখ্যাত বাদশা। তার চোখে চোখ রেখে কেউ কথা বলতে সাহস করতো না। তার চাহনিতে প্রতাপ ঝরে পড়ত। তাকে যখন মৃত্যু এসে থাবা দিয়ে ধরে, তখন সঙ্গে সঙ্গে আকাশের পানে হাত তুলে, বলতে থাকে-
يَا مَنْ لَا يَزَالُ مُلْكُهُ إِرْ حَمْ مَنْ زَالَ مُلْكُهُ
হে অবিনশ্বর রাজত্বের অধিপতি! সেই অসহায়ের প্রতি করুণা কর যার রাজত্ব হারিয়ে গেছে।

কত প্রতাপান্বিত বাদশা। যার চোখে চোখ রেখে সমকালীন কোন শক্তিধর নেতা কথা বলার হিম্মত করেনি। অথচ মৃত্যুর পর যখন তার শরীর সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হলো। হঠাৎ করেই চাদরের নিচে নড়াচড়া লক্ষ্য করা গেল। উপস্থিত সকলেই তাজ্জব! কি নড়ছে চাদরের নিচে? যখন চাদর সরানো হলো, দেখা গেল, একটি ইঁদুর। সে ওয়াসেক বিল্লাহর চোখ দুটি খেয়ে ফেলেছে। সকলেই পেরেশান। এই আব্বাসী রাজমহলে ইঁদুর প্রবেশ করল কিভাবে? যে রাজমহল আটত্রিশ হাজার পর্দা দ্বারা আবৃত। যে রাজ মহলের দেয়ালগুলোতে স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া। যে রাজমহলে হীরামুক্তা এমনভাবে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যেভাবে আঙুর বাগানে আঙুরের থোকা ঝুলে থাকে। আব্বাসী রাজমহলে তো পিঁপড়া প্রবেশ করাও মুশকিল। কিন্তু সেখানে ইঁদুর প্রবেশ করল কিভাবে? তাও আবার বাদশা ওয়াসেক বিল্লাহর শয়নকক্ষে?

মূলত এ ইঁদুর ছিল আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। আল্লাহ তায়ালা ইঁদুর দিয়ে জগতবাসীকে এ কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন। হে জগতবাসী! তোমরা দেখে নাও, যে চোখ থেকে প্রবল প্রতাপ ঠিকরে পড়তো, তোমরা দেখো, সে চোখকেই সর্বপ্রথম ন্যাস্ত করা হল একটি ইঁদুরের হাতে। এ থেকেই বুঝে নাও কবরে তার সাথে কি আচরণ করা হবে?

এ পৃথিবী থেকে কেউ বিদায় নিতে চায় না। মরতে চায় না কেউই। তবে মৃত্যু থেকে কেউই রেহাই পায় না। মৃত্যু আসবেই। তাই আসুন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হই।

📘 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয় 📄 সম্পদের লোভ, পরকালকে ভুলিয়ে দেয়

📄 সম্পদের লোভ, পরকালকে ভুলিয়ে দেয়


প্রিয় ভাই ও বোনেরা!
আজ পৃথিবীতে সম্পদ কামাই করতে করতে আমাদের চুল সাদা হয়ে যায়। আমরা সুউচ্চ প্রাসাদ নির্মাণে সঞ্চয়ের সব কিছু ঢেলে দেই। আর ভাবি আমরা বুঝি সফলকাম হয়ে গেছি। মূলত আল্লাহ তায়ালা যাদের সম্পদকে ধ্বংস করতে চান, তাদের সম্পদ দিয়েই মূলত এ পৃথিবীতে বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণ করান। সাহাবায়ে কেরামগণের জীবনী দেখুন, তারা জীবনে ব্যক্তিগতভাবে কোন উঁচু ভবন নির্মাণ করেন নি। কায়সার কিসরার আলিশান ভবনগুলো দূরে ঠেলে দিয়েছেন। হযরত ওমর (রাযি.) অর্ধ পৃথিবীর শাসক হয়েও দরিদ্র জীবন কাটিয়েছেন। হযরত উসমান (রাযি.) সে সময়ে মদীনার অন্যতম ধনাট্য ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু কাটিয়েছেন দরিদ্র জীবন। হযরত আবু বকর (রাযি.) নিজের সব সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিয়েছিলেন। হযরত আলী (রাযি.) এর অবস্থা ছিল এমন যে, কোন দিন ঘরে খাবারও থাকত না। হযরত আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ (রাযি.) সিরিয়ার, গভর্নর ছিলেন। থাকতেন ঝুপড়ির মত একটি ঘরে। শুকনো রুটি ছিল যার খাবার। অথচ তাদের সাধনায় তাদের মেহনতে দুনিয়াতে ইসলাম বিস্তার লাভ করেছে। তাদের মেহনতে অর্ধ জাহানে ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়েছিল।

সম্পদ তাদের কাছে তুচ্ছ ছিল। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টিই ছিল তাদের আসল মাকছাদ। পিতা পুত্রকে বলত, যাও বাবা! আল্লাহর পথে নিজেকে বিলিয়ে দাও, জান্নাতে গিয়ে মিলিত হব। মা সন্তানকে আল্লাহর পথে পাঠিয়ে দিতেন। স্ত্রী স্বামীকে বলতেন, যাও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করো। এই ছিল আমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা।

হায়! হায়! আমরা আজ বড় ধোকার মধ্যে পড়ে আছি, অনেক প্রতারণার শিকার আমরা। আমাদের অবস্থা বড় অদ্ভুত। জান্নাত যে আমাদের লক্ষ্য তা আমরা ভুলে গেছি। আমরা সবাই এমন, যারা দুনিয়ার বিনিময়ে জান্নাত বিক্রি করছি। আল্লামা ইবনুল কাইয়ুম জাওজি (রহ.) বলেন, যে ব্যক্তি জান্নাতের বিনিময়ে দুনিয়া ক্রয় করল, তার চেয়ে বড় লুণ্ঠিত মুসাফির আর কেউ আছে কি? এত বড় বঞ্চিত এত বড় ক্ষতিগ্রস্ত আর কেউ আছে কি? যে জান্নাতের হুরদের বিক্রি করে দুনিয়ার নারীদের রূপে পাগল হয়ে আছে? কতবড় আহমকি এটা যে, আমরা জান্নাতের আলিশান প্রাসাদগুলোকে বিক্রি করছি দুনিয়ার সম্পদের মোহে পড়ে। জান্নাতের সুরম্য অট্টালিকা পরিত্যাগ করে এ জগতের ক্ষণস্থায়ী ভঙ্গুর বাড়ি ঘরের পেছনে দৌড়াচ্ছি। কত বড় নির্বোধ সেই ব্যক্তি, যে জান্নাতের রাজ্য ও রাজত্বকে প্রত্যাখ্যান করে এখানকার দিন কতকের ক্ষমতা ক্রয় করছে!

আরে ভাই! জান্নাততো হলো স্থায়ী নিবাস, যেখানে মানুষ চিরকাল বসবাস করবে। দুনিয়াতে মানুষ বাড়ি তৈরি করে। নির্মাণ শেষে তার কত ত্রুটি বের হয়। এক সময় সুন্দর বাড়ি নষ্ট হতে থাকে। পুরোনো হওয়া শুরু করে। এক সময় তা জরাজীর্ণ হয়ে ধ্বসে যায়। আল্লাহ পাক মানুষকে শুধু বাড়ি ঘর তৈরি করতে দুনিয়াতে পাঠাননি। এসবের পিছনে মেহনত করে সময় নষ্ট করা মানুষের কাজ নয়। মানুষ যখন বাড়ি নির্মাণ করে, তখন তিনটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখে। জায়গা ভাল হতে হবে। আকর্ষণীয় নকশা হতে হবে। প্রয়োজন পূরণ হতে হবে। বিপুল সম্পদের মালিক হলে মানুষ তখন উন্নত ও অভিজাত এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে। অনেক টাকা খরচ করে বাড়ির নকশা করায়। তারপর এক সময় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই মৃত্যু এসে তাকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু জান্নাতের বাড়ি এমন নয়। সে বাড়ি আল্লাহ তায়ালা নিজে তৈরি করেছেন। দুনিয়াকে যিনি এমন দৃষ্টিনন্দন করে সৃজন করেছেন, স্থায়ী আবাস জান্নাতকে তিনি কেমন মনোরম করে সৃষ্টি করতে পারেন?

📘 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয় 📄 জান্নাতের মনোরম জগত

📄 জান্নাতের মনোরম জগত


প্রিয় ভাই ও বোন! আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে বলছেন, فَهُوَ فِي عِيشَةٍ রָاضِيَةٍ - فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ - قُطُوْفُهَا دَانِيَةً - كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَةِ সুতরাং সে যাপন করবে সন্তোষজনক জীবন, সুউচ্চ জান্নাতে। যার ফলরাজী অবনমিত থাকবে নাগালের মধ্যে। তাদের বলা হবে পানাহার করো তোমার অতীত দিনে যা করেছিলে, তার বিনিময়ে। (সূরা আল হাক্কাত ২১-২৪)

যাও বান্দা! তোমরা খাও দাও ফুর্তি করো, জান্নাতে তোমার জন্য পেতে রাখা হয়েছে আলিশান সিংহাসন। ঝুলে আছে ফলের ছড়া। ঝরণা তোমার জন্য প্রবাহমান। খেদমতগার তোমার খেদমতের জন্য প্রস্তুত আছে। সজ্জিত আছে তোমার জন্য জান্নাতের ঘর। জান্নাত তোমার জন্য প্রস্তুত আছে। ভালবাসার ডালি তোমার জন্য প্রস্তুত আছে। তোমাদের মৃত্যু নেই। এ জীবন চিরস্থায়ী। তোমার বার্ধক্য আসবে না। রোগ ব্যাধিকে তোমার থেকে তাড়িয়ে দিয়েছি। চিন্তা তোমায় পেরেশান করবে না। তোমরা পেরেশানী থেকে মুক্ত। দুঃখ তোমাকে কাঁদাবে না। জান্নাতে কোন কান্না নেই। হতাশা নেই। হাহাকার নেই।

এখানে তোমার যৌবন অটুট থাকবে। বাড়তে থাকবে। তোমার রূপ সৌন্দর্য চিরস্থায়ী। বাড়তেই থাকবে, কমবে না। তোমার রাজত্বে তুমিই রাজা। এ রাজত্ব চিরস্থায়ী। প্রেম ভালবাসা বাড়তেই থাকবে, কমবে না। এখানে শুধুই পূর্ণতা। কোন অপূর্ণতা নেই। আজ আমি তোমার জীবনের সেই সূর্যকে উদিত করলাম। যার লিপিতে কোন অস্ত নেই। তোমার রূপ সৌন্দর্যের সেই চাঁদ ভাসিয়ে দিলাম, যা ডুববে না কখনই। তোমার মাথার উপর সেই প্রভাব প্রতিপত্তি ও ক্ষমতার মুকুট রাখলাম, যেটি কোন দিন পতিত হবে না। তোমাকে সেই জীবন দান করলাম, যা কোনদিন মৃত্যুর শিকার হবে না। কত বিস্ময়কর সে জীবন! প্রতিক্ষণে চমকিত হবে বিস্ময়কর সে দৃশ্য গুলো দেখে। আনন্দিত হবে জান্নাতের মালিক। পুলকিত হবে-

হবে সোনার জমিন। এক ইট সোনার। এক ইট রূপার। এক ইট মুক্তার। এক ইট পান্নার। এক ইট হীরার। প্রলেপ হবে মেশকের। ঘাস হবে জাফরানের। ছাদ হবে আল্লাহর আরশ। সেই মহলের নিচ দিয়ে বইবে দুধের নহর। পানির নহর। মধুর নহর। শরাবের নহর। চতুর্দিকে বাগান। বিভিন্ন রকমের ফল, ঝুলছে গাছে গাছে। থোকা থোকা আঙ্গুর। কোথাও আনার। খেজুর ভরা গাছ। সব রকমের ফল। ইচ্ছে হলেই হাজির সব রকমের ফল।

সেখানে পান করবে জান্নাতীরা, এমন পানীয়, যার মিশ্রণ কাফুর। কাফুর মিশ্রিত পানীয়, যার একটি ফোঁটা যদি জগতে পরে, তাহলে সমগ্র জগত সুরভিত হয়ে যাবে। তাদের পান করাবে ফেরেশতারা। হুরগণ! গেলমানরা। আরও পান করানো হবে যানযাবীল মিশ্রিত পানীয়, যার উপকরণ হলো সাল সাবীল নামক ঝর্ণা।
وَيُسْقَوْنَ فِيهَا كَأْسًا كَانَ مِزَاجُهَا زَنْجَبِيلًا - عَيْنًا فِيهَا تُسَمَّى سَلْسَبِيلًا
যেখানে তাদের পান করানো হবে যানজাবীল মিশ্রিত পানীয়। জান্নাতের এমন এক ঝর্ণা, যার নাম সাল সাবীল। (সূরা দাহার: ১৭-১৮)
এ হলো আমাদের গন্তব্য। যেখানের জন্য আমাদের মেহনত করা উচিত। আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে কবুল করুন, আমীন।

📘 পৃথিবী আমার আসল ঠিকানা নয় 📄 যখন আসবে মৃত্যুর ডাক

📄 যখন আসবে মৃত্যুর ডাক


প্রিয় ভাই ও বোন!
মৃত্যু এমন এক অটল বাস্তবতা যে, জগতের সব নেশা ছুটিয়ে দেয়। এ জগত খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। মৃত্যুও কিন্তু সাথে সাথেই চলছে। কিন্তু মৃত্যুর কথাটা আমাদের পরিকল্পনার বাইরে থেকে যায়। আমরা ভুলে থাকি মৃত্যুকে। অথচ মৃত্যু আমাদের সাথে সাথেই আছে, ভুলে না। কত সম্পদ উপার্জন করবেন? কবে পর্যন্ত কামাই করবেন? কোনো সীমা পরিসীমা আছে? সীমাতো থাকা দরকার। এক জায়গায় গিয়ে থেমে যাওয়াতো দরকার। আখেরাতের কিছু ভাবনা তো করা দরকার।

প্রতিদিন নতুন নতুন পরিকল্পনা হচ্ছে। জীবনকে স্বপ্নীল করার নতুন নতুন প্রোগ্রাম সাজাচ্ছি। আর আমরা হাটছি এক পা এক পা করে কবরের দিকে। একদিকে সুন্দর সুন্দর পোশাক তৈরী হচ্ছে। অন্যদিকে কাফনের কাপড় বাজারে আসছে।

সেদিন এক কবরস্থানের পাশে একটি দোকানে দেখলাম অনেকগুলো নতুন কফিন সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কয়েকটা সাধারণ কফিন। আবার কয়েকটা সুন্দর কারুকাজ করা। দেখে মনটা আমার হু হু করে উঠল। এই কফিনগুলো কার জন্য তৈরী করা হয়েছে কেউ জানে না। শহরের কবরস্থানগুলো ভরে যাচ্ছে। প্রতি বছর কবরস্থান গুলো নতুন করে জায়গা বাড়াতে হচ্ছে। আমাদের শেষ নিবাসের জন্য। এখানেই সবাই যাচ্ছে, গোপন হয়ে যাচ্ছে। এ কবরস্থান সব মরহুমদের স্থায়ী নিবাস।

আমরা কেন ভাবিনা, লোকটা কেন মারা গেল? খাটিয়ার উপর শুয়ে নিথর দেহটা যাচ্ছে কোথায়? তার তৈরী সুন্দর বাড়ি থেকে তাকে কেন বের করে নেয়া হচ্ছে? খাটিয়ায় চড়ে কেউ একজন কবরে যাচ্ছে। একদিন আমাদেরকেও খাটিয়ায় চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে কবরস্থানে। বিশাল বিশাল অট্টালিকায় আমার থাকার কোন অধিকার থাকবে না। আমার বাড়ি আমার থাকবে না। হয়ে যাবে স্ত্রী সন্তানদের। আমার থাকল না কিছুই। আমি তখন একটি লাশ।

প্রিয় ভাই ও বোন! মানুষ এ জগত ছেড়ে চলে যাচ্ছে। সামনে কি আর কোন জীবন আছে? নাকি এখানেই শেষ? মরে গেলাম। স্বজনরা কাঁদলো ক'দিন। তারপর সব স্বাভাবিক। মানুষ বলে, একে ছাড়া কিছুই হবে না। কিন্তু পরে দেখা যাচ্ছে একে ছাড়া সবই হচ্ছে। স্বজনরা কেঁদে কেঁদে বলে, একে হারিয়ে আমার জীবনটা অন্ধকার হয়ে গেল। কিন্তু তার ঘরেই বাতি জ্বলে। যেন কেউ মরেই নি। তো এখানে এসে বিবেক স্থির হয়ে যায়। প্রশ্ন জাগে, সামনে কি আছে?

এখানে কোরআন আমাদের রাহবারী করছে। কোরআন বলছে, মৃতুর পর একটি জীবন আছে। খেল তামাশা নয়।
اَيَحْسَبُ الْاِنْسَانُ اَنْ يُّতْرَكَ سُدًى
মানুষ কি মনে করে তাকে এমনিতেই ছেড়ে দেয়া হবে? (সূরা কিয়ামাহ : ৩৬)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলছেন, হে আমার বান্দা! এই ভাবনা মন থেকে বের করে দাও যে, মৃত্যুর পর প্রতিদান ও শাস্তি নেই।
اِنَّ يَوْمَ الْفَصْلِ مِيْقَاتُهُمْ اَজْمَعِيْنَ
সকলের জন্য নির্ধারিত আছে তাদের বিচার দিবস। (সূরা দুখান : ৪০)
فَتأْتُونَ أَفْوَاجًا
সেদিন আসবে তোমরা দলে দলে। (সূরা নাবা : ১৮)
وَ فُتِحَتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ أَبْوَابًا
আকাশ খুলে দেয়া হবে। ফলে সেটি হবে বহু দরজা বিশিষ্ট। (সূরা নাবা : ১৯)
وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ
জান্নাতকে মুত্তাকিদের নিকটবর্তী করা হবে। (সূরা শূয়ারা : ৯০)
وَبُرِّزَتِ الْجَحِيمُ لِلْগَاوِينَ
পথভ্রষ্টদের জন্য জাহান্নামকে উন্মোচিত করা হবে। (সূরা শূয়ারা: ১১)

সেদিন সফলতা ও ব্যর্থতার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। স্পষ্ট হয়ে যাবে, কে সফল, কে বিফল। কোরআনের ভাষায় সা'ঈদ ও সাকী। সা'ঈদ অর্থ কামিয়াবী [সফল], যে নেক আমল করেছে, নেকীর পাল্লা তার ভারি হয়ে যাবে। জিবরাঈল আলাইহিস সালাম ঘোষণা করবেন, অমুকের পুত্র অমুক, অমুকের কন্যা অমুক সফল। তার নেকীর পাল্লা ভারি হয়েছে, অমুক সফলকাম হয়েছে। তারপর বদ আমলের কারণে যার বদ এর পাল্লা ভারি হবে। সে বিফল হবে। সে লোক চূড়ান্তরূপে হতভাগ্য। জাহান্নাম তার জন্য অবধারিত হয়ে যাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px