📄 দু’দিনের দুনিয়া
আমরা এ জগতে মাত্র অল্প ক'দিনের বাসিন্দা। রঙিন দুনিয়ার মায়া ছেড়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে। হয়ে যাব কবরের বাসিন্দা। এই তো মানুষের নিয়তি। এটাইতো বাস্তবতা। তারপরও কেন উদাসীন? আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের কাছে কি চান, আর আমরা কি করছি?
আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে আমার বান্দা! তুমি চাও এক আর আমি চাই আরেক। তোমরা আমার ইচ্ছা ও চাহিদার কাছে আত্মসমর্পণ করো, তাহলে তুমি যা চাইবে তা আমি তোমাকে দান করব। তুমি তোমার চোখ দিয়ে দুনিয়ার চাকচিক্য দেখ। আকাশ দেখ, নদী দেখ, সাগর দেখ, সুশোভিত বৃক্ষরাজী দেখ। এগুলো দেখার জন্যই তোমার দুটি চোখ আমি দিয়েছি। তোমার চোখ একটি নেয়ামত। আমার সৃষ্টির সৌন্দর্য ও নেয়ামত। এগুলো তোমাদের জন্যই। কিন্তু একটি সীমা আছে। দেখতে গিয়ে সেই সীমা লংঘন করো না। কোরআনে কারীমে বলা হয়েছে-
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ
ঈমানদার পুরুষদেরকে বলে দিন, তারা তাদের চোখগুলোকে অবনত রাখুক। (সূরা নূর, আয়াত: ৩০)
قُلْ لِلْمُؤْمِنَتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ
ঈমানদার মহিলাদেরকে বলে দিন, তারা তাদের চোখগুলোকে অবনত রাখুক। (সূরা নূর, আয়াত: ৩১)
দুনিয়াতে দেখা হারাম নয়, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বলে দিয়েছেন তোমরা তোমাদের চোখগুলোকে অবনত রাখো। সীমা লংঘন করো না। আমি তোমাকে শুনতে বারণ করিনি। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তোমরা হারাম শুনো না। ভুল ও মিথ্যা কথা থেকে তোমাদের কানগুলোকে হেফাযত করো। তোমাদের জবানকে হেফাযত করো। দ্বীনের উপর চলা কঠিন হতো যদি আল্লাহ তায়ালা বলতেন, তুমি অন্ধ হয়ে থাক, দেখতে পারবে না। তুমি বধির হয়ে যাও, শুনতে পারবে না। তুমি ক্ষুধার্ত থাক, খেয়ো না। তুমি বোবা হয়ে যাও, কথা বলতে পারবে না। তুমি লেংড়া হয়ে থাকো, হাটা যাবে না।
আল্লাহ তায়ালা এসব বলেন নি। তিনি সব কিছুর জন্য একটি সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন যে, এতটুকু তুমি দেখতে পার। এতটুকু নয়। আমরা সবাই জানি কি দেখা যাবে, আর কি দেখা যাবে না। কি শোনা যাবে আর কি শোনা যাবে না। কি বলা যাবে আর কি বলা যাবে না। সত্যটা বলতে হবে। মিথ্যা বলা যাবে না। কোরআন পড়, কোরআন শোন। গান শোন না। অর্থাৎ যা আমি চাই, তা করবে। তাহলে আমি তাই করব, যা তুমি চাও?
আরে ভাই! দুনিয়াতে কতদিন পর্যন্ত দেখবেন? দেখতে দেখতে একদিন চোখের পাওয়ার কমে যাবে। চোখে চশমা উঠবে। তারপর একসময় চশমাও কোন কাজে আসবে না। চোখের আলো আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত। একদিন তা নিভে যাবে। আলোহীন চোখ কিছুই দেখতে পাবে না। কান দ্বারা আর কতদিন শুনবেন? একদিন কানের পর্দায় তালা লেগে যাবে। বধির হয়ে যাবেন। কিছুই শোনেন না। কানে যন্ত্র লাগানো হবে। একসময় যন্ত্রও বেকার হয়ে যাবে। মুখ দ্বারা কতদিন পর্যন্ত কথা বলবেন? কতদিন পর্যন্ত চেঁচাবেন? একদিন এ জবান বন্ধ হয়ে যাবে। জিহ্বা নড়বে না। তারপর এ আওয়াজ চিরদিনের জন্য নীরব হয়ে যাবে। এই শরীর কতদিন থাকবে? আর কতদিন পর্যন্ত তুমি শরীরের চাহিদার পায়রবী করবে? একদিন পেশীবহুল শরীর এ লাবণ্যময় চেহারায় ভাঁজ পড়ে যাবে। এই রূপ সৌন্দর্য একদিন হারিয়ে যাবে। আর এই চেহারা, যার জন্য এত গর্ব, এত চাহিদা, যার দর্শনে চোখ কখনও ক্লান্ত হতো না, এই চেহারায় একবার চোখ পড়লে চোখ ফিরিয়ে নিতে মন চাইতো না। একদিন তা বিরক্তিকর বিশ্রী বস্তুতে পরিণত হবে?
তোমার দেহ ভরা যৌবন ছিল। সদম্ভে হেটে বেড়াতে যে পা দিয়ে। ভরা যৌবনে সদম্ভে দেখিয়ে বেড়াতে যে শরীর। আজ তা ন্যূয়ে পড়েছে বয়সের ভারে। আজ এতই দুর্বল যে দুজন মানুষের কাঁধে ভর দিয়ে তোমাকে চলতে হয়। পা দুটি মাটিতে স্থীর হয়ে দাঁড়াতে পারছে না। অন্যের সাহায্যে চলতে হয়। এ শরীর আজ বিছানায় পড়ে আছে। গড়াগড়ি খাচ্ছে। উঠতে পারছে না। এসব ভাবনার বিষয়। এটাই তো বাস্তবতা। এ যৌবন হারিয়ে যাবে। জীবন প্রদীপ নিভে যাবে। একদিন মাটির নিচে দাফন হয়ে যাবে এ দেহ। তারপর একটি সময় আসবে, যেন কেউ কারও না।
এই মা এই বাবা, পুত্র, কন্যা, ভাই, বোন সবাই ভুলে যাবে। তার পর আমি একটি ভুলে যাওয়া কাহিনীতে পরিণত হবো। ভুলিয়ে দিবে দুনিয়ার ব্যস্ততা। একসময় কবরের চিহ্ন পর্যন্ত মুছে যাবে। নাতির জানা থাকবে না তার দাদার কবর কোথায়। আজ তো ছেলে মেয়েরাও অনেক সময় ভুলে যায় বাবার কবর কোথায়?
📄 রুস্তমে হিন্দ-এর কবর
মাওলানা তারীক জামীল সাহেব বলেন, এক সাথীর কবরে ফাতেহা পড়তে আমি মিয়ানী শরীফ নামক কবরস্থানে গেলাম। কবরস্থানে পৌঁছার পর একটি কবর আমাকে থামিয়ে দিল। সে এক ভাঙ্গা-চুরা এমন অবহেলিত কবর! আমার মনে হলো যেন এ কবরটির কথা স্মরণ করার মত কেউ নেই। অথচ তার সাথে আমার বিশেষ সম্পর্ক নেই। তবে সম্পর্ক একটা আছে, তা হলো ঈমানের সম্পর্ক। এ বন্ধনে পৃথিবীর সকল মুসলমানই পরস্পরের আত্মীয়। আমি কবরটির দিকে এগিয়ে গেলাম। ভাবলাম, হায় আল্লাহ! মানুষ এভাবে হারিয়ে যায়? কাছে গিয়ে দেখলাম কবরের ফলকে খোদাই করে লেখা, রুস্তমে হিন্দ এর কবর। লেখা আছে, জন্ম ১৮৪৪ খৃ. ও মৃত্যু ১৯০৮। আমার কান্না এসে গেল। আমি আমার সাথীর কবরে ফাতেহা পড়ার কথা ভুলে গেলাম। আমি রুস্তমে হিন্দের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পড়লাম। আমার মন বলছিলো, পৃথিবীর সকল মানুষ বুঝি এ কবরের কথা ভুলে গেছে। কি অসহায় ভাবে পড়ে আছে রুস্তমে হিন্দ।
📄 এই হলো জীবনের হাকীকত
প্রিয় ভাই ও বোনেরা!
আমাদের আশাগুলো পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই ধ্বংস এসে যায়। আমাদের কষ্টের অর্জনগুলো অন্যের হাতে চলে যায়। আমি তো উপার্জন করতে করতেই জীবন শেষ করে ফেলি, সে উপার্জন আমার কোন কাজে আসে না। আমার হাড় গোশত মাটির সাথে মিশে যায়। সাথে আমাদের স্বপ্নগুলোও হারিয়ে যায়। আমার তৈরী বিশাল অট্টালিকা আমার থাকে না। আমার সন্তানরা আমার থাকে না। দুনিয়ার সব ব্যস্ততায় তারা আমাকে ভুলে যায়। দুনিয়ায় অনেক বড় লোক, ধনাঢ্য আমি এ-কবরে রিক্ত হাতে পড়ে থাকি। এ সম্পদ আমার থাকলো না। বিশাল অট্টালিকা আমার থাকলো না। সন্তানরাও আমার থাকলো না।
কেন এমন হয়? ভাবুন তো। চিন্তা করা উচিত। এ সম্পদতো আমার জন্য পরকালের মুনাফা হতে পারত। যদি সম্পদের সুষ্ঠ ব্যবহার হতো। সম্পদ দিয়েও জান্নাত কামাই করা যায়। সন্তানের কারণে ও জান্নাত-কামাই করা যায়। যদি সন্তানকে দ্বীনদার বানানো যায়। সন্তানকে তো এমনভাবে গড়ে তুলি, যে আমার মৃত্যুর পর কবরে একবার ফাতেহা পড়ারও সময় পায় না। যদিও সময় পায়, তাহলে ফাতেহা পড়ে দোয়া করার জন্য মাওলানা খুঁজতে হয়।
আজ আমাদের ঘরগুলোতে এতটুকু পরিবেশও বিদ্যমান নেই, বাস্তবতা বড়ই করুণ, ঘরগুলো অশান্তির আগুনে পুড়ছে। মনে হয় যেন জাহান্নামের আগুন জ্বলছে। ক্ষোভ, হতাশা, লোভ হিংসা, গীবত, সব আজ ঘরে ঘরে বিদ্যমান। এসবই হচ্ছে দ্বীন না থাকার কারণে। আর দ্বীনী পরিবেশ না থাকার কারণে আমার সন্তানরা ও দ্বীন শিখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর আমার মৃত্যুর পর এ সন্তানরা আমার কোন কাজেই আসছে না।
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيُوةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُمْ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرُ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرُ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ
তোমরা জেনে রাখ। দুনিয়ার জীবন ক্রীড়া-কৌতুক, জাঁকজমক, পারস্পরিক গর্ব অহংকার, ধন-সম্পদ ও সন্তান সন্তুতিতে প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগীতা ব্যতীত আর কিছু নয়। (সূরা হাদিদ: ২০)
প্রিয় ভাই ও বোন আমার!
শেষ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে সবাইকেই। অথচ আমরা এ শেষ পরিণতির কথা ভাবি না। ভাবি কেবল সন্তানের পড়াশোনা, সম্পদ কামাই করার কথা। জীবনের সুখ স্বাচ্ছন্দের কথাই কেবল ভাবি। সকল শক্তি মেধা ও সামর্থ্য এ পথেই বিলিয়ে দেই। অথচ দ্বীনদারীর পথটা কঠিন কিছু ছিল না। এখানে আমার সাথে আমার পিতা-মাতা সন্তানরা আছে। আত্মীয় স্বজনরাও আছে। আমার বিপদে দাঁড়ানোর মতো সবাই আছে। কিন্তু সে সময়টা তো খুবই কঠিন। যখন আমাকে আমার সন্তানরা বাঁচাতে পারবে না। বাঁচাতে পারবে না আমার পিতা-মাতা, স্ত্রী ও। যখন চিকিৎসক আমার পাশে দাঁড়িয়ে বলবে, এখন তো আল্লাহর হাতে তোমাকে ছেড়ে দিতে হবে। যখন আমি দ্রুত শ্বাস নিতে থাকবো। যখন আমার প্রাণ আমাকে ছেড়ে বেরিয়ে যেতে উদ্যত হবে। যখন দৃশ্যমান সবকিছুই আমার দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতে থাকবে। দৃষ্টির আড়াল হয়ে যাবে আমার স্ত্রী সন্তান বাড়ি গাড়ি। এ সময়টা বড়ই করুণ। প্রকৃত অর্থে তখনই আমি কারও সাহায্যের মুখাপেক্ষী হব। এখানে এসে যা আমাকে সাহায্য করবে, সেটাইতো প্রকৃত সাহায্য。
চলন্ত জানাযার দিকে তাকিয়ে দেখ। জানাযা ডেকে একথাই বলে, এই পৃথিবীটা আবাদযোগ্য নয়, ধ্বংস যোগ্য। জানাযা ডেকে এ কথাই বলে, এখানে থাকার জায়গা নয়। চলে যেতে হয়। পৃথিবীটা হাসার জায়গা নয়, কাঁদার জায়গা। এখানকার নিবাস ধ্বংস হয়ে যায়। এখানকার ঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এখানকার সম্পদ লুট হয়ে যায়। এখানকার ধন-ভাণ্ডার হারিয়ে যায়。
এ পৃথিবীকে, এখানকার সম্পদকে যে ভালবাসে, পরকালের প্রতিযোগীতায় সে হেরে যায়। একবার ভেবে দেখো, যে স্ত্রী সন্তানের জন্য আল্লাহ তা'আলার অবাধ্য হয়েছিলে, আজ তোমার দুর্দিনে কেউ তোমাকে সাহায্য করতে পারছে না। আহ! এ ব্যর্থতার শেষ কোথায়? এ ভুলের কি জবাব দিবে তুমি?
তোমার কি কবরের কথা মনে পড়ে না? কবরের অন্ধকারে থাকতে পারবে তো? তোমার কি মনে পড়ে না কবরের গরমের কথা? গরম কবর শীতল করার কি কোন আমল কামাই করেছো? তুমি কি জাহান্নামের কথা ভুলে গেছো? জাহান্নামের আযাব সইতে পারবে তো? দুনিয়ার আরাম আয়েশের জন্য কত সাধনা! অথচ চিরস্থায়ী জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামতের কথাই ভুলে আছো।
তুমি কি মহান রাব্বুল আলামীনের দীদারের কথা ভুলে গেছো? অথচ দাবী করো তুমি মুসলমান। এটা দাবী করো। অথচ কথায় কাজে বিস্তর ফারাক। এমন অলসতা অবজ্ঞার ভেতর জীবনটা কাটিয়ে দিলে? পাথরের চেয়েও কঠিন এ হৃদয়। মহান সৃষ্টিকর্তাকে স্মরণ করলে না। যৌবনেও না, বার্ধক্যেও না। অবশেষে মৃত্যু গাফলতের ভেতর দিয়েই এসে দাঁড়ালো।
মনে রাখতে হবে, আমরা যতই কবরকে ভুলে যাই না কেন, কবর কিন্তু আমাদের ভুলে না। আমরা যত গোপনেই গুনাহ করি না কেন, আল্লাহ তায়ালা কিন্তু সব দেখছেন।
وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّلِمُونَ
তুমি কখনও মনে কর না, জালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ উদাসীন। (সূরা ইবরাহীম, ৪২)
📄 মৃত্যুর কাছে সবাই পরাজিত
ওয়াসেক বিল্লাহ। এক বিখ্যাত বাদশা। তার চোখে চোখ রেখে কেউ কথা বলতে সাহস করতো না। তার চাহনিতে প্রতাপ ঝরে পড়ত। তাকে যখন মৃত্যু এসে থাবা দিয়ে ধরে, তখন সঙ্গে সঙ্গে আকাশের পানে হাত তুলে, বলতে থাকে-
يَا مَنْ لَا يَزَالُ مُلْكُهُ إِرْ حَمْ مَنْ زَالَ مُلْكُهُ
হে অবিনশ্বর রাজত্বের অধিপতি! সেই অসহায়ের প্রতি করুণা কর যার রাজত্ব হারিয়ে গেছে।
কত প্রতাপান্বিত বাদশা। যার চোখে চোখ রেখে সমকালীন কোন শক্তিধর নেতা কথা বলার হিম্মত করেনি। অথচ মৃত্যুর পর যখন তার শরীর সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেয়া হলো। হঠাৎ করেই চাদরের নিচে নড়াচড়া লক্ষ্য করা গেল। উপস্থিত সকলেই তাজ্জব! কি নড়ছে চাদরের নিচে? যখন চাদর সরানো হলো, দেখা গেল, একটি ইঁদুর। সে ওয়াসেক বিল্লাহর চোখ দুটি খেয়ে ফেলেছে। সকলেই পেরেশান। এই আব্বাসী রাজমহলে ইঁদুর প্রবেশ করল কিভাবে? যে রাজমহল আটত্রিশ হাজার পর্দা দ্বারা আবৃত। যে রাজ মহলের দেয়ালগুলোতে স্বর্ণের প্রলেপ দেয়া। যে রাজমহলে হীরামুক্তা এমনভাবে ঝুলিয়ে রাখা হতো, যেভাবে আঙুর বাগানে আঙুরের থোকা ঝুলে থাকে। আব্বাসী রাজমহলে তো পিঁপড়া প্রবেশ করাও মুশকিল। কিন্তু সেখানে ইঁদুর প্রবেশ করল কিভাবে? তাও আবার বাদশা ওয়াসেক বিল্লাহর শয়নকক্ষে?
মূলত এ ইঁদুর ছিল আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে। আল্লাহ তায়ালা ইঁদুর দিয়ে জগতবাসীকে এ কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন। হে জগতবাসী! তোমরা দেখে নাও, যে চোখ থেকে প্রবল প্রতাপ ঠিকরে পড়তো, তোমরা দেখো, সে চোখকেই সর্বপ্রথম ন্যাস্ত করা হল একটি ইঁদুরের হাতে। এ থেকেই বুঝে নাও কবরে তার সাথে কি আচরণ করা হবে?
এ পৃথিবী থেকে কেউ বিদায় নিতে চায় না। মরতে চায় না কেউই। তবে মৃত্যু থেকে কেউই রেহাই পায় না। মৃত্যু আসবেই। তাই আসুন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হই।