📄 পবিত্র ও উন্নত উদ্দেশ্য
বর্তমানে আন্তর্জাতিক মিডিয়া বা গণমাধ্যম যেসব উদ্দেশ্যের বিকাশ ও প্রচার-প্রসার তাদের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছে সেগুলো নিম্নরূপ:
০১. বিভিন্ন মানব শ্রেণী ও জাতিগোষ্ঠীর মাঝে শত্রুতা, হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা ও মতানৈক্য উসকে দেয়া।
০২. নিঃস্ব সর্বহারাদের ধনীক শ্রেণীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে উদ্বুদ্ধ করা।
০৩. সংখ্যাগরিষ্ঠকে সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে এবং সংখ্যালঘুকে সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরুদ্ধে उत्तेজিত করা।
০৪. আঞ্চলিক ও গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, গোঁড়ামি এবং জাহেলিয়াতের বিস্তার ঘটানো।
০৫. নিজেদের অস্ত্র বিক্রি ও অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোকে কর্মব্যস্ত রাখা এবং অধিকতর অর্থ-সম্পদ অর্জনের খাতিরে বিভিন্ন জাতি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মাঝে যুদ্ধের দামামা বাজানো এবং যুদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে তাদের দেশ সচ্ছল হয়।
মিডিয়া গণমাধ্যম স্বীয় সরকারের ভুলভ্রান্তি ও মন্দ কর্মগুলোর ওপর পর্দা ঢেলে দেয় আর অন্য সরকারের তিলকে তাল বানিয়ে জনগণের সামনে উপস্থাপন করে। সকল অশ্লীলতা ও মন্দ কর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় সে সবার অগ্রভাগে থাকে। নাস্তিক ধর্মহীন গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা ও তাদের প্রতিরক্ষাই তার প্রধান কর্তব্য। সমাজের অটুট বন্ধনকে ছিন্নভিন্ন করে এবং তাকে অনৈক্য উত্তেজনার পথে পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সামান্য টাকার বিনিময়ে অতি সহজেই সে তার ঈমানের সওদাবাজি করে। তুচ্ছ পয়সার বিনিময়ে অবৈধ রক্তপাত, চরিত্র হনন, বাস্তবতাকে বিকৃত করা; বরং তা পদদলিত করে সকল নিয়ম-নীতি ও ঈমান-আকীদা পর্যন্ত বিকিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।
পক্ষান্তরে ইসলামী মিডিয়া ব্যাপকভাবে মানবতার স্বার্থ ও কল্যাণের সংরক্ষক এবং শান্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও মানবতাকে সামাজিক অনৈক্য বিশৃংখলা থেকে মুক্ত করা তার মৌলিক কর্তব্য মনে করে। সে কুরআনের চিরন্তন চিরস্থায়ী বাস্তবতা এবং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ন্যায়-ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষামালা এবং উজ্জ্বল আলোকিত জীবনের মহাসড়কের দিকে পথনির্দেশ করে। তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য গড়া, ভাঙ্গা নয়। সমাজকে অনিষ্ট ও পাপাচার থেকে মুক্ত রাখা, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পথে ঠেলে দেয়া নয়। মানুষের সম্মান করা, তার দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করা ও তার অধিকার হরণ করা নয়। মাসূম নিষ্পাপ মানুষের ইজ্জত-সম্ভ্রম নিয়ে খেলা করা নয়, অধঃপতন ও লাঞ্ছনায় ক্লেদাক্ত করা নয়। ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসের বুনিয়াদ কুরআনের নিম্নের আয়াতগুলো-
০১. 'এমন কোনো জিনিসের পেছনে লেগে যেয়ো না যে সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই। নিশ্চিতভাবেই চোখ, কান ও দেল সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।' (সূরা বনী ইসরাঈল-৩৬)
০২. 'যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।' (সূরা নূর-১৯)
ইসলামী মিডিয়া নিজের দিকে লোকদের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য না কোনো বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে আর না কোনো যাচাই-বাছাই ও বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই শুধু গুজবের ভিত্তিতে দৃস্কৃতকারী ও দুর্বৃত্তদের সংবাদ প্রকাশ করে। ইসলামী মিডিয়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করার পূর্বে সর্বদিক দিয়ে তা বিচার-বিশ্লেষণ করে তারপরই প্রকাশ করে। কোনো সংবাদ প্রকাশের ফলে ব্যক্তি ও সমাজের ওপর তার কি প্রভাব পড়বে এবং কি পরিণাম ও ফলাফল বয়ে আনবে, একথা চিন্তা করেই সে সংবাদ পরিবেশন করে।
যারা চারিত্রিক মূল্যবোধের সাথে খেলা করে, অনিষ্ট অকল্যাণের পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং নওজোয়ানদের সামনে অনিষ্টকে সুন্দর মনোরম করে উপস্থাপন করে, এমন লোকদের সাথে ইসলামী মিডিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, অর্থহীন সংবাদ, অনর্থক আলোচনা এবং ভিত্তিহীন প্রবন্ধ-নিবন্ধ, অতিরঞ্জিত খবরাখবর, যৌন সুড়সুড়িমূলক কাহিনী, যৌনতা ও কৃপ্রবৃত্তির চেতনা উত্তেজিতকারী ছবি, ফটো ও নিবন্ধ সে প্রকাশ করে না। আর না সে নারী পুরুষের চেতনা ও বিবেকের সাথে খেলা করা পছন্দ করে। ইসলামী মিডিয়ার মৌলিক উদ্দেশ্য ব্যক্তির সংস্কার সংশোধন এবং ইসলামী সমাজ গঠন ও বিনির্মাণ।
📄 ইসলামী মিডিয়ার সার্বক্ষণিক জাগৃতি ও তত্ত্বাবধান
ইসলামী মিডিয়ার তৃতীয় মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো, সে সমাজের বিদ্যমান খারাবী ও দোষ-ত্রুটিগুলোকে আপন দৃষ্টি দিয়ে দেখে, তার পুরো অবস্থা নোট করে, তার গভীরে ক্রিয়াশীল উপাদান ও কারণগুলোর অনুসন্ধান চালায় এবং তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে, যাতে বাস্তবতার গভীরে পৌছে তা থেকে শিক্ষা অর্জন করতে পারে। মিডিয়ার নামই হলো, সমাজে বিদ্যমান খারাবী এবং তার গভীরে ক্রিয়াশীল উপাদানগুলো পর্যন্ত পৌঁছা, সমাজ গঠন ও বিনির্মাণে দিক-নির্দেশনা প্রদান এবং এর জন্য কৃত প্রচেষ্টাগুলোর তত্ত্বাবধান ও আনুগত্য করা।
ইসলামী মিডিয়া উট পাখির মত পরিস্থিতি থেকে চক্ষু বন্ধ করে চলে না, শিশুতোষ ও বিনোদনমূলক প্রোগ্রাম এবং খেলাধুলার মাধ্যমে জনগণের মন ভোলানোর চেষ্টা করে না। যেমন সাধারণভাবে আজকের তৃতীয় বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এবং বিশেষভাবে মুসলিম দেশগুলোর দুঃখজনক অবস্থা হলো, আসল সমস্যা থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে সমাজে বিদ্যমান ত্রুটিগুলোকে অপরাধের সীমা পর্যন্ত এড়িয়ে চলার জন্য সস্তা বিনোদনমূলক প্রোগ্রাম দ্বারা লোকদের মন ভোলানোর চেষ্টা করা হয়। কিছু বিরতি দিয়ে দিয়ে নতুন নতুন চিত্তাকর্ষক শ্লোগান দেয়া হয়।
পক্ষান্তরে ইসলামী সমাজে আমরা দেখি, রাসূলুল্লাহ (সা.) সময়মত সমাজের প্রতিটি ছোট-বড় ঘটনা ও সংবাদের খবর নিতেন। যখনই কোনো সমস্যা আসত, কোনো সংবাদ কিংবা গুজব ছড়ানো হতো, তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত সচেতনতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে তাৎক্ষণিক তার মোকাবেলা করতেন। এরকম কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে রাসূলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত দ্রুতগতিতে মসজিদে গমন করতেন। 'আস সালাতু জামেআতুন-নামায প্রস্তুত' ঘোষণা দিতেন, মেহরাবে তাশরীফ নিতেন এবং হামদ ছানার পর উক্ত ঘটনা কিংবা খবর সম্পর্কে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেন। ফলে বিষয়টির বাস্তবতা লোকদের সামনে সূর্যের ন্যায় আলোকিত হয়ে যেত। সিহাহ সিত্তার কিতাবসমূহে এ ধরনের ভূরি ভূরি ঘটনা বর্ণিত রয়েছে।
পক্ষান্তরে জার্মান লীডার গোয়েবলস বর্ণিত অনুরূপ পরিস্থিতিতে নিরবতার পলিসিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এক মার্কিন স্কলার জার্মান পত্র-পত্রিকায় গোয়েবলসের দিক-নির্দেশনামূলক বক্তৃতা-বিবৃতির বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখেন, জার্মান পত্র-পত্রিকায় গোয়েবলসের পঞ্চাশ হাজার দিক-নির্দেশনামূলক বক্তৃতা-বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে এক চতুর্থাংশ বক্তৃতা-বিবৃতিতে তিনি সংবাদপত্রকে এই দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন, অমুক বিষয়ে নিরবতার পলিসি গ্রহণ করা হোক। বর্তমান যুগেও তৃতীয় বিশ্বের মিডিয়ার অবস্থা হলো, তারা সংবাদ ও ঘটনাকে খুব প্রসারিত হওয়ার সুযোগ দেয়। অথচ এই সামান্য বাস্তবতা সম্পর্কে তাদের অবগত হওয়া উচিত, বাস্ত বতার অনুপস্থিতিতে মিথ্যার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
সীরাতের সকল কিতাবে এই ঘটনা উল্লেখ আছে, একবার মদীনার মুসলমানরা এক আওয়াজ দ্বারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু তাদের এটা জানা ছিল না, এই ভয় ও ভীত-সন্ত্রীস্ততার কেন্দ্র কোন দিকে। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং তার দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন। নিজে একটি ঘোড়ার জিন-শূন্য পিঠে সওয়ার হয়ে বের হন, যাতে বিষয়টি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হতে পারেন। কিছুক্ষণ পর তিনি লোকদের আশ্বস্ত করে বললেন, ভীত সন্ত্রস্ত ও অস্থির হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন।
ইসলামী মিডিয়া যখন কোনো বিষয় ও ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা করে, তখন কোনো এক দলের পক্ষে একতরফা সিদ্ধান্ত শোনায় না; বরং ইসলামী মিডিয়ার পলিসি হয় সম্পূর্ণ পৃথক, মধ্যপন্থী ও ভারসাম্যপূর্ণ এবং মুসলিম উম্মাহ'র ব্যাপক স্বার্থের অনুকূলে। ইসলামী মিডিয়া জনগণের সহজ-সরলতা থেকে ফায়দা উঠিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে না।
ইসলামী মিডিয়া বাস্তব সমস্যা সংকট থেকে চোখ বন্ধ রাখার পরিবর্তে তার বাস্ত ভিত্তিক বিশ্লেষণ করে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান বের করে। সে সৃষ্ট সমস্যা সংকটের সার্বিক পর্যালোচনা করে। নব উদ্ভূত সমস্যা সংকট সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে। জাতির মাঝে ঐক্য-সংহতি সৃষ্টি করে বিভেদ অনৈক্য থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে বিভেদ অনৈক্য নির্মূলের আহবান জানায়। সমস্যা সংকট সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার নাম ইসলামী মিডিয়া। সমস্যা সংকটকে উসকে দিয়ে ব্যবসা করার নাম ইসলামী মিডিয়া নয়। তার উদ্দেশ্য ব্যবসা নয়। যে কেউ ইসলামী মিডিয়ার মাধ্যমে সমাজ পর্যন্ত সত্য কথা পৌঁছাতে চায়, সে তা পারে। ইসলামী মিডিয়া সর্বদা তার পয়গাম পৌছানোর ক্ষেত্রে পরিণাম ও ফলাফলের প্রতি দৃষ্টি রাখে। সে দেখে এই পয়গাম কতটুকু পৌঁছেছে এবং তার কি ফলাফল অর্জিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত মুআজ বিন জাবাল (রা.)-কে ইয়ামেনে প্রেরণ করার সময় যে দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন তাতে তিনি প্রতিটি পথনির্দেশের পর তার ফলাফল দেখার এবং তার তত্ত্বাবধানেরও নির্দেশ দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত মুআজ (রা.)-কে বলেন, তুমি সর্বপ্রথম ইয়ামেনবাসীকে এ কথা বলবে। তারা যদি তা মেনে নেয় তারপর এ কথা বলবে। যদি তারা এ কথা মেনে নেয় তাহলে তাদের সাথে এই আচরণ করবে। এই ঘটনা দ্বারা এই ফলাফলই বের হয় যে, মিডিয়ার দায়িত্ব হলো, সে সমস্যা সংকট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার পরিবর্তে তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করবে। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু করবে। দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হয়ে গেলে তৃতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
📄 নওজোয়ানদের ব্যাপারে ইসলামী মিডিয়ার যিম্মাদারী
এরকম ঘটনা খুব কমই হয় যে, নিরেট পরিকল্পিত পদ্ধতিতে নওজোয়ানদের সম্পর্কে মিডিয়ায় দীনী প্রোগ্রাম উপস্থাপন করা হয়। আরব ও ইসলামী দেশগুলোর এই অবস্থা। এখন আর অনৈসলামী দেশগুলোর অবস্থা আপনি অনুমান করতে পারেন।
আমাদের সমাজের দ্বিতীয় ত্রুটি হচ্ছে, প্রকৃতিগত লজ্জা শরম এবং পারিবারিক পরিবেশ ও শিক্ষা-দীক্ষার ভিত্তিতে নওজোয়ানরা সাধারণতঃ তাদের মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক পরিবর্তন এবং তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ থেকে সম্পূর্ণ বেখবর থাকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এর প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয় না। সমাজেও এ ধরনের জ্ঞান সরবরাহ করা হয় না, যা সঠিক শক্তিশালী দীনি ও ইলমী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ভুল ও অসম্পূর্ণ তথ্য তারা কোথাও না কোথাও পেয়ে যায়, যা তাদর জন্য চরম ক্ষতিকর হয়। এর ফলে তারা ভ্রান্ত ও বিপথগামী হয়ে যায়। মসজিদগুলোতে যেসব আলোচনা হয়, তাও নওজোয়ানদের প্রয়োজন পূরণে ব্যর্থ। এ ভিত্তিতে মিডিয়ার দায়িত্ব হলো, সে সচেতনতার সাথে নির্ভেজাল ইলমী ভিত্তির ওপর নওজোয়ানদের জন্য প্রোগ্রাম প্রস্তুত করবে। এমন পরিকল্পিত প্রোগ্রাম, যা তাদের মনস্তত্ত্ব, চাহিদা ও প্রয়োজন সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে।
📄 নওজোয়ানদের মৌলিক চাহিদা ও প্রয়োজন
নওজোয়ানরা সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনের পাতায় তাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সংকট এবং অস্থিরতার কারণ অনুসন্ধান করে। যখন তারা পত্রিকায় ম্যাগাজিনের পাতায় তাদের সমস্যা সংকট সম্পর্কে পড়ে, তখন তারা তার সমাধানের প্রতি মনোযোগী হয়। কারণ প্রকৃতি ও রুচিগতভাবে এসব সমস্যা সংকট দেখে তাদের মধ্যে এক ধরনের সুক্ষ্ম মানবীয় অনুভূতি জাগ্রত হয়। সমস্যা-সংকটে জর্জরিত মানুষদের দেখে তাদের মধ্যে দয়া, সমবেদনা সহমর্মিতা জাগ্রত হয়। তারা বাস্তবে অন্যের সমস্যায় অংশীদার হতে এবং তাদের আশা আকাঙ্খা ও উদ্দেশ্যেব পূর্ণতাদানে সাহায্য সহযোগিতা করতে চায়। তারা তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে ওয়াকিফহাল এবং সেসব সমস্যার সমাধানের পদ্ধতি ও কৌশল নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে, বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করে। বয়সের সাথে সাথে যেমন তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায়, তেমনি তাদের চিন্তাধারা এবং কর্মের পরিধিও বিস্তৃত হতে থাকে। ধীরে ধীরে যখন তারা সেসব সমস্যা সংকটের সমাধান সম্পর্কে চিন্তা ভাবনা করে, তখন তারা আরো সচেতন হয় এবং কল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেশি বাস্ত ব ও কর্মপ্রিয় হয়ে ওঠে। ইসলামী মিডিয়ার দায়িত্ব হলো, সে নওজোয়ানদের এমন দিক-নির্দেশনা দান করবে, যাতে আগামীতে যেন তারা সমাজকে সঠিক পথনির্দেশ করতে পারে।