📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মনে করিয়ে দেয়া

📄 মনে করিয়ে দেয়া


মনে করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য হলো, চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণাকে নতুন আঙ্গিকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তা মানব মস্তিষ্কে নতুনভাবে প্রবেশ করিয়ে দেয়া। কারণ ভাল চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা এবং পবিত্র আকীদা-বিশ্বাস ও দাওয়াতের সম্পর্ক কোন পরিবেশ ও কালের সাথে নয়; বরং তার সম্পর্ক মানব জীবনের সাথে। মানব জীবনে সে চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণার বাস্তবায়ন ঘটাতে তা পুনঃ পুনঃ স্মরণ করিয়ে দেয়া। যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'তোমরা বেশি বেশি আলোচনা-পর্যালোচনা কর, কারণ আলোচনা মুমিনের জন্য উপকারী।'
এমনিভাবে ইরশাদ হয়েছে, 'হে ঈমানদারগণ, তোমরা ঈমান আন'। এভাবে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়ার মনস্তাত্ত্বিক বুনিয়াদ হলো, মানুষ ভুল করা ও ভুলে যাওয়ার সমন্বয়ে গঠিত। মানুষ খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যায়। এজন্য তাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং কর্তব্যের প্রতি তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হিকমত প্রজ্ঞা ও মনীষার দাবী করে।
অত্যন্ত আফসোস ও বিস্ময়ের কথা হলো, বর্তমান যুগে আপনি যদি ইসলামের সৌন্দর্য ও গুণাবলী বর্ণনা করেন তাহলে লোকেরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সাথে একথা বলে প্রত্যাখ্যান করে দেয় যে, এটা প্রোপাগান্ডা, কিন্তু যদি দীনের কথা মিডিয়ার মাধ্যমে পৌছানো হয় এবং তার পরিচিতি করানো হয়, তাহলে এটাকে প্রোপাগান্ডা আখ্যায়িত করা হয় না। আর তা সম্ভবও নয়। এজন্য আমাদের প্রথমে প্রোপাগান্ডা ও দাওয়াতের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য বুঝতে হবে।
প্রসিদ্ধ লেখক লা সুইল 'প্রোপাগান্ডা ও তার কর্মপদ্ধতি' নামক গ্রন্থে লেখেন, প্রোপাগান্ডা হিলা বাহানার অপর নাম। অন্য এক লেখক প্রোপাগান্ডা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা আলোচনা করতে গিয়ে লেখেন, ইশারা ইঙ্গিত ব্যবহার করে ব্যক্তি ও দল তাদের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পিত প্রয়াস চালায়, যাতে তারা নিজেদের মতো অন্য ব্যক্তি ও দলের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বিজয়ী হতে পারে। অপর এক মার্কিন গবেষক বার্টাজ বলেন, প্রোপাগান্ডা মূলতঃ আক্রমণের অস্ত্র, প্রতিরক্ষার অস্ত্র নয়। প্রোপাগান্ডার মধ্যে খুব সহজেই জনমত পরিবর্তন করার শক্তি পূর্ণভাবে বিদ্যমান রয়েছে। এক মনস্তত্ত্ববিদ লেখেন, প্রোপাগান্ডা ধোকা প্রতারণা ও হিলা বাহানার অপর নাম।
প্রোপাগান্ডার দ্বিতীয় দিক ও উৎস হলো, যেসব ভাল ও কল্যাণকর দিকের ওপর প্রোপাগান্ডা নির্ভরশীল, যেসব উপকরণ ও মাধ্যম তাতে ব্যবহার করা হয়, যেসব উদ্দেশ্য ও মর্ম তার মাধ্যমে প্রচার-প্রসার করা হয় এবং সেসব ফলাফল যা এই প্রোপাগান্ডার দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের ওপর পতিত হয়, সেগুলোই প্রোপাগান্ডার দ্বিতীয় উৎস।
উপরোল্লিখিত সংজ্ঞাগুলোর সারকথা হলো, প্রোপাগান্ডা এমন এক কাজ ও পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে পাঠক, শ্রোতা কিংবা প্রোপাগান্ডা দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তির মস্তিষ্ককে একটি কেন্দ্রীয় দৃষ্টিভঙ্গির ওপর একত্রিত করা। অন্য ভাষায়, মস্তিষ্ক ধোলাই করা এবং সেসব পচা-গন্ধ ও অপবিত্রতাকে পূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য তৈরি করা, যা প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞদের পাঠক-শ্রোতার বিবেক ও মস্তিষ্ককে সন্দেহযুক্ত ধর্মহীন চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা ও ব্যর্থ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিপূর্ণ করতে চায়। অথচ সুস্থ রুচি, বাস্তবতা ও মানবতার সম্মানের সাথে তার সামান্য পরিমাণও সম্পর্ক নেই। যদি মিথ্যা প্রোপাগান্ডার পরিবর্তে বাস্তবতা হয় এবং সঠিক চিন্তা-চেতনা, আকীদা-বিশ্বাস হয়, তাহলে প্রোপাগান্ডাকারীদের মোটেও এর প্রয়োজন হয় না যে, সে বিষাক্ত, মিথ্যা ও বাস্তবতা থেকে বিমূখ হয়ে শীতল প্রোপাগান্ডার আশ্রয় নেবে এবং তার মাধ্যমে সে লোকদের চোখের ওপর কালো পট্টি বেঁধে দেবে এবং বিবেকের ওপর মোটা পর্দা ঢেলে দেবে।
ইতিহাস একথার সাক্ষ্য দেয়, প্রোপাগান্ডার বয়স খুব বেশি হয় না। খুব দ্রুত বাস্ত বতার ওপর থেকে পর্দা উঠে যায় এবং লোকেরা দিবসের উজ্জ্বল আভায় সে বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করে, যার ওপর প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞগণ তোষামোদের পর্দা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে প্রদত্ত সুন্দর প্রতিশ্রুতি সোনালী স্বপ্নের সুউচ্চ প্রাসাদের মজবুত দেয়াল প্রমাণিত হয়, তা আবার এত দ্রুত পতনের কোলে ঢলে পড়ে যেমন গ্রীস্মকালে গাছের পাতা ঝরে পড়ে। জার্মানের গোয়েবলসের সকল প্রোপাগান্ডার কি অবস্থা হয়েছে।
সতের বছর পর সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার লৌহ প্রাচীর কিভাবে ভূমিসাত হয়ে গেছে। মুসোলিনী, নেপোলিয়ান এবং হিটলারের প্রোপাগান্ডার ফলাফল কি হয়েছে। এসব কালকের কথা ছিল, যখন হিটলার ভাষণ দিতে মঞ্চে আগমন করতেন তখন মন মস্তিষ্ক ও মানসিকতা অস্থিরকারী সঙ্গীত বাজানো হতো। ভাষণের মাঝখানে বিশেষ বিশেষ বাক্য ও পরিভাষার ওপর আলোর বিচ্ছুরণ ঘটানো হতো। এভাবে সকল অস্ত্র গ্রহণ করা হতো, যাতে শ্রোতারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা জানা যায়, প্রোপাগান্ডার অর্থ হলো প্রকৃত বাস্তবতাকে উল্টে দেয়া, জনসাধারণকে ধোকায় ফেলা এবং জাতীয় স্বার্থের ব্যাপকতর কল্যাণের খাতিরে সমুচ্চ ও মর্যাদাযুক্ত উদ্দেশ্য অর্জনে উৎসাহী না হওয়া-এসব কথা ইসলামী মিডিয়ার মর্মার্থ কিংবা ইসলামী দাওয়াতের গন্ডি থেকে সম্পূর্ণ বাইরের বিষয়। কারণ একজন মুসলিম সাংবাদিকের মৌলিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হয়, সে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণা এবং তার সঠিক সত্য আকীদা-বিশ্বাস ও শিক্ষামালা উপস্থাপন করবে, দীন ও শরীয়তের বাস্তবতা বিকৃত করে উপস্থাপন করবে না। এই ভিত্তিতে ইসলামী আকীদা-বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে জ্ঞান ও সংবাদের ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক স্থায়ীত্বের গুণাবলী বিদ্যমান থাকে।
এ ভিত্তিতে সে না বৈপরীত্যের শিকার হয়, আর না মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের শিকার হয় এবং না সে অন্যান্য ধর্মের মুবাল্লিগদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে পছন্দ করে। এরপর সে কোনোভাবেই চায় না এবং তার জন্য উপযুক্তও নয় যে, বাস্তব অবস্থা ও ঘটনাবলী বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার পরিবর্তে আবেগকে উত্তেজিত করার কাজ করবে এবং মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও বিকৃত বাস্তবতার ওপর ভরসা করবে। কারণ এসব কিছু বালির এমন প্রাচীর, যা পলকেই বালুকা স্তূপে পরিণত হয়ে যায়।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 ইসলামী মিডিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য

📄 ইসলামী মিডিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য


ইসলামী মিডিয়া ও গণমাধ্যমের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা। আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র জীবনের সূচনাই হয়েছিল সততা, আমানতদারী ও বিশ্বস্ততা দিয়ে। এটাকেই মূল সম্বল করে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাফা পাহাড়ের ওপর থেকে স্বজাতিকে সম্বোধন করেছিলেন। তিনি নিজের ব্যাপারে সততা ও বিশ্বস্ততার স্বীকৃতি আদায় করে নিয়ে তবেই দীনী দাওয়াতের মৌলিক নীতিমালা পেশ করেন। পবিত্র চেতনা, সততা ও পরিচ্ছন্নতার দাওয়াত ইসলামের প্রথম মৌলিক দাওয়াত।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা

📄 সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা


সূরা যুমারে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলে এবং তার কাছে সত্য আগমন করার পর তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করে, তার চেয়ে অধিক জালেম আর কে হবে? কাফিরদের বাসস্থান জাহান্নামে নয় কি? আর যারা সত্য নিয়ে আগমন করেছে এবং সত্যকে মেনে নিয়েছে; তারাই তো খোদাভীরু।' (সূরা যুমার-৩২-৩৩)
রাসূলুল্লাহ (সা.) যখন সম্বোধিতদের থেকে তার সত্যবাদিতা ও আমানতদারীর সাক্ষ্য নিয়ে নেন, তখনই তাদের সামনে দীনী দাওয়াত উপস্থাপন করেন। কারণ কারো সম্পর্কে যদি একবারও মিথ্যার অভিজ্ঞতা হয়ে যায় তাহলে তার ওপর আর আস্থা রাখা যায় না। এমতাবস্থায় আজ যখন চারদিকে রুগ্ন ও অসুস্থ্য রাজনীতির জয়জয়কার এবং বিভিন্ন প্রকার মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও ধোকা-প্রতারণার রাজত্ব চলছে, তখন শুধু ইসলামী মিডিয়ার কাছেই এই প্রত্যাশা করা যায় যে, সে সর্বাবস্থায় সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রেখে চলবে। বাস্তবতা যতই তিক্ত হোক না কেন তা উপস্থাপন করে তাদের শান্তি ও নিরাপত্তার কিনারায় পৌছে দেবে, যারা মিথ্যা প্রোপাগান্ডার খড়কুটায় বসে প্রলয়ংকরী তুফানের ভয়াবহতার সাথে খেলা করার ব্যর্থ প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 পবিত্র ও উন্নত উদ্দেশ্য

📄 পবিত্র ও উন্নত উদ্দেশ্য


বর্তমানে আন্তর্জাতিক মিডিয়া বা গণমাধ্যম যেসব উদ্দেশ্যের বিকাশ ও প্রচার-প্রসার তাদের লক্ষ্য বানিয়ে নিয়েছে সেগুলো নিম্নরূপ:
০১. বিভিন্ন মানব শ্রেণী ও জাতিগোষ্ঠীর মাঝে শত্রুতা, হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা ও মতানৈক্য উসকে দেয়া।
০২. নিঃস্ব সর্বহারাদের ধনীক শ্রেণীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহে উদ্বুদ্ধ করা।
০৩. সংখ্যাগরিষ্ঠকে সংখ্যালঘুর বিরুদ্ধে এবং সংখ্যালঘুকে সংখ্যাগরিষ্ঠের বিরুদ্ধে उत्तेজিত করা।
০৪. আঞ্চলিক ও গোত্রীয় দ্বন্দ্ব, গোঁড়ামি এবং জাহেলিয়াতের বিস্তার ঘটানো।
০৫. নিজেদের অস্ত্র বিক্রি ও অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোকে কর্মব্যস্ত রাখা এবং অধিকতর অর্থ-সম্পদ অর্জনের খাতিরে বিভিন্ন জাতি ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মাঝে যুদ্ধের দামামা বাজানো এবং যুদ্ধ পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে তাদের দেশ সচ্ছল হয়।
মিডিয়া গণমাধ্যম স্বীয় সরকারের ভুলভ্রান্তি ও মন্দ কর্মগুলোর ওপর পর্দা ঢেলে দেয় আর অন্য সরকারের তিলকে তাল বানিয়ে জনগণের সামনে উপস্থাপন করে। সকল অশ্লীলতা ও মন্দ কর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় সে সবার অগ্রভাগে থাকে। নাস্তিক ধর্মহীন গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা ও তাদের প্রতিরক্ষাই তার প্রধান কর্তব্য। সমাজের অটুট বন্ধনকে ছিন্নভিন্ন করে এবং তাকে অনৈক্য উত্তেজনার পথে পরিচালনায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। সামান্য টাকার বিনিময়ে অতি সহজেই সে তার ঈমানের সওদাবাজি করে। তুচ্ছ পয়সার বিনিময়ে অবৈধ রক্তপাত, চরিত্র হনন, বাস্তবতাকে বিকৃত করা; বরং তা পদদলিত করে সকল নিয়ম-নীতি ও ঈমান-আকীদা পর্যন্ত বিকিয়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করে না।
পক্ষান্তরে ইসলামী মিডিয়া ব্যাপকভাবে মানবতার স্বার্থ ও কল্যাণের সংরক্ষক এবং শান্তি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও মানবতাকে সামাজিক অনৈক্য বিশৃংখলা থেকে মুক্ত করা তার মৌলিক কর্তব্য মনে করে। সে কুরআনের চিরন্তন চিরস্থায়ী বাস্তবতা এবং প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও ন্যায়-ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষামালা এবং উজ্জ্বল আলোকিত জীবনের মহাসড়কের দিকে পথনির্দেশ করে। তার মৌলিক বৈশিষ্ট্য গড়া, ভাঙ্গা নয়। সমাজকে অনিষ্ট ও পাপাচার থেকে মুক্ত রাখা, অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার পথে ঠেলে দেয়া নয়। মানুষের সম্মান করা, তার দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করা ও তার অধিকার হরণ করা নয়। মাসূম নিষ্পাপ মানুষের ইজ্জত-সম্ভ্রম নিয়ে খেলা করা নয়, অধঃপতন ও লাঞ্ছনায় ক্লেদাক্ত করা নয়। ইসলামী আকীদা-বিশ্বাসের বুনিয়াদ কুরআনের নিম্নের আয়াতগুলো-
০১. 'এমন কোনো জিনিসের পেছনে লেগে যেয়ো না যে সম্পর্কে তোমার জ্ঞান নেই। নিশ্চিতভাবেই চোখ, কান ও দেল সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।' (সূরা বনী ইসরাঈল-৩৬)
০২. 'যারা পছন্দ করে যে, ঈমানদারদের মধ্যে ব্যভিচার প্রসার লাভ করুক, তাদের জন্যে ইহকাল ও পরকালে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে। আল্লাহ জানেন, তোমরা জান না।' (সূরা নূর-১৯)
ইসলামী মিডিয়া নিজের দিকে লোকদের মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য না কোনো বিভ্রান্তিকর সংবাদ পরিবেশন করে আর না কোনো যাচাই-বাছাই ও বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই শুধু গুজবের ভিত্তিতে দৃস্কৃতকারী ও দুর্বৃত্তদের সংবাদ প্রকাশ করে। ইসলামী মিডিয়া কোনো সংবাদ প্রকাশ করার পূর্বে সর্বদিক দিয়ে তা বিচার-বিশ্লেষণ করে তারপরই প্রকাশ করে। কোনো সংবাদ প্রকাশের ফলে ব্যক্তি ও সমাজের ওপর তার কি প্রভাব পড়বে এবং কি পরিণাম ও ফলাফল বয়ে আনবে, একথা চিন্তা করেই সে সংবাদ পরিবেশন করে।
যারা চারিত্রিক মূল্যবোধের সাথে খেলা করে, অনিষ্ট অকল্যাণের পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং নওজোয়ানদের সামনে অনিষ্টকে সুন্দর মনোরম করে উপস্থাপন করে, এমন লোকদের সাথে ইসলামী মিডিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, অর্থহীন সংবাদ, অনর্থক আলোচনা এবং ভিত্তিহীন প্রবন্ধ-নিবন্ধ, অতিরঞ্জিত খবরাখবর, যৌন সুড়সুড়িমূলক কাহিনী, যৌনতা ও কৃপ্রবৃত্তির চেতনা উত্তেজিতকারী ছবি, ফটো ও নিবন্ধ সে প্রকাশ করে না। আর না সে নারী পুরুষের চেতনা ও বিবেকের সাথে খেলা করা পছন্দ করে। ইসলামী মিডিয়ার মৌলিক উদ্দেশ্য ব্যক্তির সংস্কার সংশোধন এবং ইসলামী সমাজ গঠন ও বিনির্মাণ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00