📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 পুনরাবৃত্তি

📄 পুনরাবৃত্তি


কোনো পয়গাম অন্যের নিকট নিত্য নতুন পদ্ধতিতে পৌছানো এবং লাগাতার তার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর অর্থ হচ্ছে, অবস্থা ও ঘটনাভেদে একই পয়গাম নিত্য নতুন ও অভিনব পদ্ধতিতে বার বার উপস্থাপন করা, যাতে তার মধ্যে অসাধারণ শক্তি ও প্রভাব এসে যায়। এরপর আবার যখন সুযোগ আসবে তখন সেটাকে গনীমত মনে করে সেই একই পয়গাম অভিনব পন্থায় মোড়ক পাল্টিয়ে উপস্থাপন করা, যাতে দর্শক-শ্রোতার নিকট তা একেবারে নতুন মনে হয়।
এতে কোনো সন্দেহ নেই, মানবজীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন অনেক মৌলিক প্রয়োজন রয়েছে যা তার আকীদা-বিশ্বাস ও আচরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার পুনরাবৃত্তি অতি জরুরী হয়ে পড়ে। উদাহরণস্বরূপ পোলিও ও অন্যান্য রোগ বালাই থেকে হেফাযতের জন্য টিকা দেয়া, যার জন্য সময় সময় মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হয়। এমনিভাবে ইসলামী শরীয়ার বিধি-নিষেধ, যেমন নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত, কুরবানী ইত্যাদির মাসায়েল সর্বদা নতুন নতুন আঙ্গিকে ফলপ্রসূ পদ্ধতিতে উপস্থাপন করা এবং কুরআন-হাদীসের দাওয়াত পদ্ধতি বার বার পুনরাবৃত্তির সাথে অভিনব ও নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরা।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 নতুনত্ব

📄 নতুনত্ব


'নতুনত্ব' শিরোনাম দ্বারাই একথা ভালভাবে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, এর অর্থ এক চিন্তা থেকে অন্য চিন্তা গ্রহণ করা। কারণ উভয়ের মাঝে একটি সম্পর্ক ও যোগাযোগ আছে। উদাহরণস্বরূপ তাওহীদ বিষয়ে আলোচনা করার অর্থ হলো, শিরক, কুফর ও মূর্তিপূজার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা। এমনিভাবে নবী-রাসূলগণের জীবন ও চরিত্র নিয়ে নিত্য নতুন পদ্ধতিতে আলোচনা করার অর্থ হলো, সবার জন্য এমন জীবন ও এমন চরিত্রই প্রত্যাশা করা। সভ্য মানুষে পরিণত হওয়ার আহবানের অর্থ হলো, মূর্খতা নিরক্ষরতা নির্মূল করা, সমাজে সুশৃংখল জীবন যাপন করা, পরিবেশকে দূষণ থেকে রক্ষা করা এবং নাগরিক আইন-কানুন ও ব্যবস্থাপনার প্রতি যত্নবান হওয়ার আহবান করা-এসব কিছুই এতে অন্তর্ভুক্ত।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 মনে করিয়ে দেয়া

📄 মনে করিয়ে দেয়া


মনে করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্য হলো, চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণাকে নতুন আঙ্গিকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তা মানব মস্তিষ্কে নতুনভাবে প্রবেশ করিয়ে দেয়া। কারণ ভাল চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা এবং পবিত্র আকীদা-বিশ্বাস ও দাওয়াতের সম্পর্ক কোন পরিবেশ ও কালের সাথে নয়; বরং তার সম্পর্ক মানব জীবনের সাথে। মানব জীবনে সে চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণার বাস্তবায়ন ঘটাতে তা পুনঃ পুনঃ স্মরণ করিয়ে দেয়া। যেমন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, 'তোমরা বেশি বেশি আলোচনা-পর্যালোচনা কর, কারণ আলোচনা মুমিনের জন্য উপকারী।'
এমনিভাবে ইরশাদ হয়েছে, 'হে ঈমানদারগণ, তোমরা ঈমান আন'। এভাবে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়ার মনস্তাত্ত্বিক বুনিয়াদ হলো, মানুষ ভুল করা ও ভুলে যাওয়ার সমন্বয়ে গঠিত। মানুষ খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যায়। এজন্য তাকে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়া এবং কর্তব্যের প্রতি তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হিকমত প্রজ্ঞা ও মনীষার দাবী করে।
অত্যন্ত আফসোস ও বিস্ময়ের কথা হলো, বর্তমান যুগে আপনি যদি ইসলামের সৌন্দর্য ও গুণাবলী বর্ণনা করেন তাহলে লোকেরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের সাথে একথা বলে প্রত্যাখ্যান করে দেয় যে, এটা প্রোপাগান্ডা, কিন্তু যদি দীনের কথা মিডিয়ার মাধ্যমে পৌছানো হয় এবং তার পরিচিতি করানো হয়, তাহলে এটাকে প্রোপাগান্ডা আখ্যায়িত করা হয় না। আর তা সম্ভবও নয়। এজন্য আমাদের প্রথমে প্রোপাগান্ডা ও দাওয়াতের মধ্যকার মৌলিক পার্থক্য বুঝতে হবে।
প্রসিদ্ধ লেখক লা সুইল 'প্রোপাগান্ডা ও তার কর্মপদ্ধতি' নামক গ্রন্থে লেখেন, প্রোপাগান্ডা হিলা বাহানার অপর নাম। অন্য এক লেখক প্রোপাগান্ডা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা আলোচনা করতে গিয়ে লেখেন, ইশারা ইঙ্গিত ব্যবহার করে ব্যক্তি ও দল তাদের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পিত প্রয়াস চালায়, যাতে তারা নিজেদের মতো অন্য ব্যক্তি ও দলের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর বিজয়ী হতে পারে। অপর এক মার্কিন গবেষক বার্টাজ বলেন, প্রোপাগান্ডা মূলতঃ আক্রমণের অস্ত্র, প্রতিরক্ষার অস্ত্র নয়। প্রোপাগান্ডার মধ্যে খুব সহজেই জনমত পরিবর্তন করার শক্তি পূর্ণভাবে বিদ্যমান রয়েছে। এক মনস্তত্ত্ববিদ লেখেন, প্রোপাগান্ডা ধোকা প্রতারণা ও হিলা বাহানার অপর নাম।
প্রোপাগান্ডার দ্বিতীয় দিক ও উৎস হলো, যেসব ভাল ও কল্যাণকর দিকের ওপর প্রোপাগান্ডা নির্ভরশীল, যেসব উপকরণ ও মাধ্যম তাতে ব্যবহার করা হয়, যেসব উদ্দেশ্য ও মর্ম তার মাধ্যমে প্রচার-প্রসার করা হয় এবং সেসব ফলাফল যা এই প্রোপাগান্ডার দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তিদের ওপর পতিত হয়, সেগুলোই প্রোপাগান্ডার দ্বিতীয় উৎস।
উপরোল্লিখিত সংজ্ঞাগুলোর সারকথা হলো, প্রোপাগান্ডা এমন এক কাজ ও পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে পাঠক, শ্রোতা কিংবা প্রোপাগান্ডা দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তির মস্তিষ্ককে একটি কেন্দ্রীয় দৃষ্টিভঙ্গির ওপর একত্রিত করা। অন্য ভাষায়, মস্তিষ্ক ধোলাই করা এবং সেসব পচা-গন্ধ ও অপবিত্রতাকে পূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য তৈরি করা, যা প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞদের পাঠক-শ্রোতার বিবেক ও মস্তিষ্ককে সন্দেহযুক্ত ধর্মহীন চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা ও ব্যর্থ রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিপূর্ণ করতে চায়। অথচ সুস্থ রুচি, বাস্তবতা ও মানবতার সম্মানের সাথে তার সামান্য পরিমাণও সম্পর্ক নেই। যদি মিথ্যা প্রোপাগান্ডার পরিবর্তে বাস্তবতা হয় এবং সঠিক চিন্তা-চেতনা, আকীদা-বিশ্বাস হয়, তাহলে প্রোপাগান্ডাকারীদের মোটেও এর প্রয়োজন হয় না যে, সে বিষাক্ত, মিথ্যা ও বাস্তবতা থেকে বিমূখ হয়ে শীতল প্রোপাগান্ডার আশ্রয় নেবে এবং তার মাধ্যমে সে লোকদের চোখের ওপর কালো পট্টি বেঁধে দেবে এবং বিবেকের ওপর মোটা পর্দা ঢেলে দেবে।
ইতিহাস একথার সাক্ষ্য দেয়, প্রোপাগান্ডার বয়স খুব বেশি হয় না। খুব দ্রুত বাস্ত বতার ওপর থেকে পর্দা উঠে যায় এবং লোকেরা দিবসের উজ্জ্বল আভায় সে বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করে, যার ওপর প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞগণ তোষামোদের পর্দা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে প্রদত্ত সুন্দর প্রতিশ্রুতি সোনালী স্বপ্নের সুউচ্চ প্রাসাদের মজবুত দেয়াল প্রমাণিত হয়, তা আবার এত দ্রুত পতনের কোলে ঢলে পড়ে যেমন গ্রীস্মকালে গাছের পাতা ঝরে পড়ে। জার্মানের গোয়েবলসের সকল প্রোপাগান্ডার কি অবস্থা হয়েছে।
সতের বছর পর সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার লৌহ প্রাচীর কিভাবে ভূমিসাত হয়ে গেছে। মুসোলিনী, নেপোলিয়ান এবং হিটলারের প্রোপাগান্ডার ফলাফল কি হয়েছে। এসব কালকের কথা ছিল, যখন হিটলার ভাষণ দিতে মঞ্চে আগমন করতেন তখন মন মস্তিষ্ক ও মানসিকতা অস্থিরকারী সঙ্গীত বাজানো হতো। ভাষণের মাঝখানে বিশেষ বিশেষ বাক্য ও পরিভাষার ওপর আলোর বিচ্ছুরণ ঘটানো হতো। এভাবে সকল অস্ত্র গ্রহণ করা হতো, যাতে শ্রোতারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা জানা যায়, প্রোপাগান্ডার অর্থ হলো প্রকৃত বাস্তবতাকে উল্টে দেয়া, জনসাধারণকে ধোকায় ফেলা এবং জাতীয় স্বার্থের ব্যাপকতর কল্যাণের খাতিরে সমুচ্চ ও মর্যাদাযুক্ত উদ্দেশ্য অর্জনে উৎসাহী না হওয়া-এসব কথা ইসলামী মিডিয়ার মর্মার্থ কিংবা ইসলামী দাওয়াতের গন্ডি থেকে সম্পূর্ণ বাইরের বিষয়। কারণ একজন মুসলিম সাংবাদিকের মৌলিক উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হয়, সে ইসলাম সম্পর্কে সঠিক চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান-ধারণা এবং তার সঠিক সত্য আকীদা-বিশ্বাস ও শিক্ষামালা উপস্থাপন করবে, দীন ও শরীয়তের বাস্তবতা বিকৃত করে উপস্থাপন করবে না। এই ভিত্তিতে ইসলামী আকীদা-বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণা সম্পর্কে জ্ঞান ও সংবাদের ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক স্থায়ীত্বের গুণাবলী বিদ্যমান থাকে।
এ ভিত্তিতে সে না বৈপরীত্যের শিকার হয়, আর না মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের শিকার হয় এবং না সে অন্যান্য ধর্মের মুবাল্লিগদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হতে পছন্দ করে। এরপর সে কোনোভাবেই চায় না এবং তার জন্য উপযুক্তও নয় যে, বাস্তব অবস্থা ও ঘটনাবলী বিকৃতভাবে উপস্থাপন করার পরিবর্তে আবেগকে উত্তেজিত করার কাজ করবে এবং মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ও বিকৃত বাস্তবতার ওপর ভরসা করবে। কারণ এসব কিছু বালির এমন প্রাচীর, যা পলকেই বালুকা স্তূপে পরিণত হয়ে যায়।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 ইসলামী মিডিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য

📄 ইসলামী মিডিয়ার সাধারণ বৈশিষ্ট্য


ইসলামী মিডিয়া ও গণমাধ্যমের মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা। আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র জীবনের সূচনাই হয়েছিল সততা, আমানতদারী ও বিশ্বস্ততা দিয়ে। এটাকেই মূল সম্বল করে রাসূলুল্লাহ (সা.) সাফা পাহাড়ের ওপর থেকে স্বজাতিকে সম্বোধন করেছিলেন। তিনি নিজের ব্যাপারে সততা ও বিশ্বস্ততার স্বীকৃতি আদায় করে নিয়ে তবেই দীনী দাওয়াতের মৌলিক নীতিমালা পেশ করেন। পবিত্র চেতনা, সততা ও পরিচ্ছন্নতার দাওয়াত ইসলামের প্রথম মৌলিক দাওয়াত।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00