📄 প্রোপাগান্ডার মানদন্ড
পোপাগান্ডার দু'ধরনের মানদন্ড হয়ে থাকে।
০১. টেকনিক্যাল।
০২. স্ট্র্যাটেজিক্যাল।
📄 টেকনিক্যাল প্রোপাগান্ডা
ক. প্রোপাগান্ডার জন্য বেশির থেকে বেশি উত্তম ও উপযুক্ত লোকদের সমর্থন অর্জন করা।
খ. প্রস্তাবিত প্রোপাগান্ডার জন্য অনুকূল ও উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে সমাজ তা গ্রহণ করে।
গ. জনসাধারণের প্রয়োজন, প্রাধান্য দানকরা বিষয়সমূহ এবং চাহিদা ও দাবী অনুসন্ধান করা, যাতে প্রোপাগান্ডার সময় তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনকে ধারাবাহিক ও বিন্যাসিত আকারে দৃষ্টিতে রাখা যায়।
📄 স্ট্র্যাটেজিক্যাল প্রোপাগান্ডা
ক. সমাজের সমস্যা সম্পর্কে মানুষের পূর্ণ রাজি-খুশি ও পছন্দের ওপর ভরসা না করা।
খ. সমাজের নতুন কর্মতৎপরতাকে বাস্তবতার লেবাস পরিধান করার প্রচেষ্টা চালানো এবং সেসব দিকগুলো সামনে নিয়ে আসা, যা মৌলিক চিন্তা-চেতনাকে প্রভাবিত করে। এটি ইসলামের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার বৈশিষ্ট্য।
গ. নতুন সমস্যাগুলোকে উত্তেজিত করা, যাতে সমস্যাগুলোর ইসলামের আলোকে স্থায়ী সমাধান চাওয়ার পরিবর্তে বহিরাগত চিন্তাধারার আলোকে সমাধান করতে লোকদের বাধ্য করা।
📄 প্রোপাগান্ডার পদ্ধতি
প্রোপাগান্ডার বিভিন্ন ধরন রয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে নিম্নবর্ণিত ধরনগুলো তুলনামূলক বেশি প্রসিদ্ধ।
০১. সূক্ষ্ম পদ্ধতি : এ পদ্ধতির সম্পর্ক সেসব জাতিগোষ্ঠীর সাথে, যারা উন্নত জীবন মানে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এই পদ্ধতি সাধারণত খুবই কার্যকর ও ফলপ্রসূ।
০২. পুনরাবৃত্তির পদ্ধতি : এই পদ্ধতিতে প্রোপাগান্ডাকারী সম্পূর্ণভাবে আশ্বস্ত হয়ে যায় যে, প্রচলিত প্রোপাগান্ডা মন মস্তিষ্কে গেঁথে গেছে।
০৩. দীনী পদ্ধতি : ইসলামী সমাজে এ নামের কোনো প্রোপাগান্ডা চলতে পারে না। কারণ ইসলামে প্রকৃতপক্ষে দীনী পদ্ধতি ও পার্থিব পদ্ধতি বলে ভিন্ন কিছু নেই। নিঃসন্দেহে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ দীন, পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, কিন্তু অন্যান্য সমাজে দীন ধর্মকে কিছু কাল পর্যন্ত প্রোপাগান্ডার সেবার জন্য ব্যবহার করা হয়।
০৪. মিথ্যা ও অপবাদ আরোপ পদ্ধতি : এই পদ্ধতির মধ্যে মিথ্যা, বিকৃতি, সংযোজন, বিয়োজন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ভারতের বাবরী মসজিদ, গিয়াপী মসজিদ ও মথুরার ঈদগাহ সম্পর্কে হিন্দুদের প্রোপাগান্ডা এবং ফিলিস্তিন বিষয়ে ইসরাঈলের প্রোপাগান্ডা।
০৫. গান ও সংগীতের পদ্ধতি : এই পদ্ধতি জেহাদী চেতনা উজ্জীবিত করা, জালেমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধস্পৃহা সৃষ্টি করা, মজলুমের সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং দেশ জাতির হেফাযতের উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ, উপকারী ও কার্যকর।
০৬. উত্তেজনাকর শ্লোগানের পদ্ধতি : এই পদ্ধতির আসল উদ্দেশ্য হলো, কাপুরুষ নেতাদের হুমকিমূলক প্রচার-প্রচারণা, বক্তৃতা-বিবৃতি এবং ঐক্য-উন্নয়ন, তাহযীব-তামাদ্দুন, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান, ইনসাফ-সমতা, গণতন্ত্র ও সচ্ছলতার শ্লোগানের পুনরাবৃত্তি করা। ভারতে বাবরী মসজিদ শহীদ করার ক্ষেত্রে এসব উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তৃতা বিবৃতি ও শ্লোগানের বিরাট ভূমিকা রয়েছে, যা এ ঘটনার পক্ষ-বিপক্ষের নেতারা বিভিন্ন সময় দিয়েছে। যেমন, আমরা রক্তের লোহিত সাগর সৃষ্টি করে দেব, রক্তের বন্যা বইয়ে দিব। আমরা প্রয়োজনে মাথার কুতুব মিনার বানাব। দিল্লী থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত পথে যত মন্দির রয়েছে, আমরা তার সবগুলো মিসমার করে দেক। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শ্লোগান-মুসলিমদের রাস্তা দুটোই। হয় পাকিস্তান না হয় কবরস্তান। তেল লাগাও ডাবরের নাম মেটাও বাবরের।
০৭. জবাবী প্রোপাগান্ডা : আমরা এখানে ইসলামের জবাবী প্রোপাগান্ডার কথা উল্লেখ করব। এই প্রোপাগান্ডা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় বস্তুগত টেকনিক দ্বারা সুসজ্জিত। প্রোপাগান্ডাকারীরা টিকটিকির মতো রঙ পরিবর্তন করে। কখনো কখনো বাস্তব ঘটনাবলী সংক্রান্ত তাদের ডকুমেন্টগুলো আগ্নিতে ভস্মীভূত করে দেয়। অতঃপর আফসোস করতে থাকে। ইসলামের জবাবী প্রোপাগান্ডাকে আমরা নিম্নবর্ণিত বিষয়াবলীর আলোকে আমাদের জন্য আরো বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ বানাতে পারি। জবাবী প্রোপাগান্ডার সফলতার প্রথম মৌলিক শর্ত হলো কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং তার শিক্ষার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা। শত্রুর প্রোপাগান্ডাকে দীন ও শরীয়তের মাপকাঠিতে পরিমাপ করে তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর বিশ্লেষণ করা, যাতে তার বাস্তবতা সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
০৮. শত্রুর প্রোপাগান্ডার দুর্বল দিকগুলো অনুসন্ধান করে তার ওপর আঘাত হানা। সরাসরি শত্রুর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা। কারণ এতে শত্রু আরো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হয়।
০৯. শত্রুর প্রোপাগান্ডার জন্য বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াস চালানো। এমনকি যাতে মিডিয়ার ওপরও তার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া না পড়ে। (সূত্র: তা'মীরে হায়াত-১৯৯২, জানুয়ারী সংখ্যা)