📄 প্রোপাগান্ডার প্রকার
প্রোপাগান্ডার বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। যেমন-
সাদা প্রোপাগান্ডা
প্রোপাগান্ডার এই প্রকার শীর্ষস্থানীয়, অত্যন্ত ব্যাপক ও সুস্পষ্ট। এর মূল উৎস সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম। বিশেষ করে সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, রেডিও এবং টিভিকে বিশেষ নির্ধারিত উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এগুলো বেশি সহায়ক প্রমাণিত হয়।
কালো প্রোপাগান্ডা : প্রোপাগান্ডার এই প্রকার অত্যন্ত গোপনীয়। অতি সংগোপনে এ প্রোপাগান্ডা চালানো হয়, যার মূল গোপন আলোচনা। এর প্রকৃত উৎস অত্যন্ত গোপন থাকে। অতি গোপনীয়ভাবে এটি প্রসারিত ও প্রভাবশীল হয়। কালো প্রোপাগান্ডা শত্রুর ভূ-খন্ড কিংবা তার সীমান্তের কাছাকাছি চলতে থাকে। ঠান্ডা লড়াইয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গোয়েন্দা সংস্থা এ মিশন পরিচালিত করে। প্রোপাগান্ডার এই প্রকারকে ফিল্থ কলামিস্ট বা পঞ্চম কলাম বলা হয়।
হলুদ প্রোপাগান্ডা : প্রোপাগান্ডার এই প্রকার বিভিন্নমূখী উৎসের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকে। এ ধরনের প্রোপাগান্ডাকারীরা তাদের মূল উৎসের প্রকাশ পাওয়াকে সামান্যও পরোয়া করে না।
📄 প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্য
প্রোপাগান্ডার মৌলিক উদ্দেশ্যাবলী নিম্নরূপ:
০১. শত্রু শিবিরের মাঝে অনৈক্য অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
০২. সাধারণ ও বিশেষ শ্রেণীকে নাফরমানী ও অবাধ্যতায় উদ্বুদ্ধ করা।
০৩. জনসাধারণকে নেতৃস্থানীয়দের আনুগত্যের বিপরীত বিদ্রোহে উদ্বুদ্ধ করা।
০৪. জনগণের মাঝে জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করা।
০৫. জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি সর্বসাধারণ মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত করা।
০৬. শক্তিশালী নেতৃত্বকে দুর্বল করা।
০৭. কোনো বিশেষ ইস্যুতে মন-মানস পরিবর্তন করে দেয়া, প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে পেশ করা এবং জনগণের মাঝে প্রকাশ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা।
০৮. মিডিয়ার সপক্ষ সমাজের গুণাবলী ও সৌন্দর্য ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রসার করা এবং বিপক্ষ সমাজের সৌন্দর্য বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে দৃষ্টি এড়িয়ে কালে ভদ্রে সংঘটিত ঘটনাবলীকে বাড়িয়ে ছাড়িয়ে পেশ করা, নিন্দা-মন্দ করা এবং দোষ-ত্রুটি ও ছিদ্রান্বেষন করা।
০৯. সাধারণ দুর্বলতাকে বড় করে প্রচার করা।
১০. উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে পশ্চাদপদতার বিষয়ের ওপর জোর দেয়া।
📄 প্রোপাগান্ডার মানদন্ড
পোপাগান্ডার দু'ধরনের মানদন্ড হয়ে থাকে।
০১. টেকনিক্যাল।
০২. স্ট্র্যাটেজিক্যাল।
📄 টেকনিক্যাল প্রোপাগান্ডা
ক. প্রোপাগান্ডার জন্য বেশির থেকে বেশি উত্তম ও উপযুক্ত লোকদের সমর্থন অর্জন করা।
খ. প্রস্তাবিত প্রোপাগান্ডার জন্য অনুকূল ও উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে সমাজ তা গ্রহণ করে।
গ. জনসাধারণের প্রয়োজন, প্রাধান্য দানকরা বিষয়সমূহ এবং চাহিদা ও দাবী অনুসন্ধান করা, যাতে প্রোপাগান্ডার সময় তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনকে ধারাবাহিক ও বিন্যাসিত আকারে দৃষ্টিতে রাখা যায়।