📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সম্পর্ক

📄 ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সম্পর্ক


জনসাধারণের পর্যায় সর্বস্তরের লোকের সাথে যদি সরাসরি কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হতো, তাহলে মিডিয়ার জগতে এটি অসাধারণ ক্ষমতা, শক্তি, প্রভাব, গভীরতা এবং সুদূরপ্রসারী ফলাফলের দিক দিয়ে একটি সর্বোত্তম ও অনন্য নযীর হতো। কারণ সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম থাকলে মিডিয়ার নেতিবাচক দিকসমূহ এবং ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া ও ফলাফলকে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তিশালী দলীল-প্রমাণ, সমালোচনা-বিশ্লেষণ, আশ্বস্তকারী জবাব এবং প্রমাণভিত্তিক প্রতিবাদ দ্বারা সহজেই মোকাবেলা করা সম্ভব হতো। আর এটাই একমাত্র মাধ্যম, যার দ্বারা তাৎক্ষণিক যে কোনো প্রতিক্রিয়া সহজেই অনুমান করা যায়।
দ্বিতীয় কথা হলো, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সম্পর্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রে যেসব উপাদান উপকরণ ক্রিয়াশীল হয়, তার মধ্যে প্রেম-ভালবাসা, অকৃত্রিম সম্পর্ক, কল্যাণ ও উপকারের বিনিময়, আশানুরূপ শিক্ষার্জন, লাগাতার সাক্ষাত ও মতবিনিময় অন্যতম। আর এসব উপাদান উপকরণ প্রত্যাশিত উদ্দেশ্য অর্জন ও কার্যসিদ্ধিতে বিরাট উপকারী ও সাহায্যকারী হয়।
এর পাশাপাশি আপনার কাছ থেকে সাক্ষাতকার গ্রহণকারী যখন কোনো ক্যামেরা বা টেপ রেকর্ডার ছাড়াই আপনার সাথে কথাবার্তা বলে এবং আপনার জবাব ও প্রতিক্রিয়ার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে থাকে আর আপনার অভিযোগের তাৎক্ষণিক জবাবও প্রদান করতে থাকে, তখন এর সুস্পষ্ট মর্ম হলো, এ ক্ষেত্রে সাক্ষাতকার গ্রহণকারী কিংবা স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গির স্বীকৃতি আদায়কারীর নিকট কেবল তার নির্ধারিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই সামনে থাকে। তার মূল টার্গেট থাকে, কিভাবে আপনি তার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ঐক্যমত হয়ে যাবেন। এভাবে মিডিয়ার পয়গাম্ আপনার নিকট পৌঁছাতে সে সক্ষম হয়ে যায়। আপনি অনুভবও করতে পারবেন না, সাক্ষাতকার গ্রহণকারীর প্রশ্নাব- লীর ছাঁচে কিভাবে আপনি ঢলে গেছেন এবং অতি দক্ষতা, পান্ডিত্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিন্যাসিত তার প্রশ্নাবলীর জালে কিভাবে আপনি ফেঁসে গেছেন।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 গুজব ছড়ানো

📄 গুজব ছড়ানো


মিডিয়াতে গুজব ছড়িয়ে বড় বড় মৌলিক উদ্দেশ্য অর্জন করা হয়। কোনো উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত দক্ষতা ও চতুরতার সাথে অতি পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়। এই গুজব একেবারে নিম্ন পর্যায়ের জনসাধারণ থেকে ওঠানো হয়। মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ও প্রোপাগান্ডাকারীদের নিকট এর উদ্দেশ্য থাকে, জনগণের মধ্যে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, তা দ্বারাই যেন তাদের মন-মস্তিষ্ক তৈরি হয়।
এসব গুজব ছড়ানোর মৌলিক উদ্দেশ্য, সামাজিক স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত ইমারত ধসিয়ে দিয়ে তাদের মাঝে অনৈক্য বিশৃংখলা সৃষ্টি করা এবং অভিজাত লোকদের ইজ্জত- সম্মানের ওপর হামলা করা।
মিডিয়ার গুজবকে এমন বলের সাথে তুলনা করা হয়, যা এক খেলোয়াড় থেকে আরেক খেলোয়াড়ের কাছে, তার থেকে আরেকজনের কাছে, এভাবে জনগণের মাঝে ঘুরতে ফিরতে থাকে। মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা গুজবের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সৃষ্ট অস্থিরতা ও বিশৃংখলা শান্ত করার এবং তাদের ক্রোধ, ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা করে। জনগণের মধ্যে যখন হতাশা, নিরাশা ও ব্যর্থতা জমাট বেঁধে যায়, তখন গুজবের মাধ্যমে জনরোষ স্তিমিত করে তাদের আশার আলো দেখায়। এভাবে গুজবের কিশতি তাদের জন্য উত্তাল সমুদ্রে নিরাপদে কিনারায় পৌঁছার মাধ্যমে পরিণত হয়। গুজবের বৈশিষ্ট্য হলো, তা জংগলের আগুনের মতো অসাধারণ দ্রুততা ও ক্ষিপ্রতার সাথে প্রসারিত হয়ে যায়। মানুষের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি ব্যক্তি তা শুনে প্রশান্তি লাভ করে। যখন শত্রুর পক্ষ থেকে গুজব ছড়ানো হয়, তখন তার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি নিঃশেষ করা কঠিন বরং অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে গুজব সবচেয়ে সক্রিয় ও শক্তিশালী অস্ত্র। মিডিয়া বিশেষজ্ঞগণ এর ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্যাবলী সম্পর্কে খুব ভালভাবেই ওয়াকিফহাল রয়েছেন।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 প্রোপাগান্ডা ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াই

📄 প্রোপাগান্ডা ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াই


বিশেষ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য প্রোপাগান্ডা একটি কার্যকর ও সক্রিয় অস্ত্র। অতি পরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত দক্ষতা ও চতুরতার সাথে এই প্রোপাগান্ডা চালানো হয়। কিছু কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, সংশয়পূর্ণ লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের অধীনে ব্যক্তি ও দলের ওপর প্রভাবশীল হওয়ার এবং তাদের আদত-অভ্যাস, ধ্যান-ধারণা, আচার-আচরণ ও চিন্তা ধারা-দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর চেষ্টা-প্রচেষ্টার নাম প্রোপাগান্ডা। যার সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট সমাজ, বিশেষ সময় এবং গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যের সাথে। প্রোপাগান্ডার দ্বিতীয় সংজ্ঞা বলা হয়েছে, সাধারণ ও জাতীয় মিডিয়াকে বিশেষ নির্দিষ্ট কোনো দলের বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে মেধা-মনন, আবেগ-অনুভূতির ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা-প্রচেষ্টার নাম প্রোপাগান্ডা। সে উদ্দেশ্য সামাজিক, অর্থনৈতিক অথবা রাজনৈতিক যাই হোক।
প্রোপাগান্ডার সংক্ষিপ্ত তৃতীয় সংজ্ঞা হচ্ছে, মিডিয়ার মাধ্যমে নিরপেক্ষ দল বা শত্রুদলের সদস্যদের মন-মানস, মেধা-মনন, অভ্যন্তরীণ অনুপ্রেরণা এবং আবেগ- অনুভূতির ওপর বিশেষ কর্ম-কৌশল এবং প্রযুক্তির অধীনে প্রভাব সৃষ্টির চেষ্টা-প্রচেষ্টার নাম। এদিক থেকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে প্রোপাগান্ডা মৌলিক সঞ্চালক শক্তি ও কার্যকর হাতিয়ার। এক জার্মান নেতা এর বাস্তবতা, গুরুত্ব ও উপকারিতার ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, শত্রুর অস্ত্রাগার বরবাদ করার জন্য আমরা বোমা ব্যবহার করি, কিন্তু যে মস্তিষ্ক তোপ-কামান ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করে সে মস্তিষ্ককেই পরিবর্তন করে দেয়া কি এর থেকে উত্তম ও উপযুক্ত নয়, যাতে সে হাত আর চলতে না পারে যে হাত তোপ- কামান ব্যবহার করে।
বর্তমান যুগে বিভিন্ন লক্ষ্য উদ্দেশ্য এবং বিভিন্ন উপকরণ ও মাধ্যমের অধীনে প্রোপাগান্ডার প্রয়োগ ও ব্যবহার করা হয়। আরব-ইসরাঈলের মাঝে সংঘটিত যুদ্ধসমূহে ইসলামী দাওয়াতের কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়নি। ইসলামী দাওয়াতের স্থান অনৈসলামিক উপকরণ ও মাধ্যমগুলো দখন করে নিয়েছে। এই অনৈসলামিক প্রোপাগা। দ্বারা না ইসলামী উদ্দেশ্য অর্জিত হয় আর না অজ্ঞদের পথপ্রদর্শন ও তাদের চিন্তাধারার বিনির্মাণ সম্ভব হয়। অপরদিকে ভিন্ন ভিন্ন লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের অধীনে গোটা বিশ্বে প্রোপাগান্ডার পরিকল্পিত ও সুসংগঠিত বিভিন্ন রূপ ও পদ্ধতি বিদ্যমান রয়েছে। এর সবগুলো পদ্ধতিই সমাজের মানদন্ড অনুযায়ী সফল। এতে কেউ একমত হোক বা না হোক। উদাহরণস্বরূপ আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মাঝে ফাকল্যান্ড সংকট সৃষ্ট যুদ্ধের সময়, পানামার সরকার উৎখাত, গ্রানাডার ওপর আক্রমণ চালানো ও ভারতে বাবরী মসজিদ শহীদ করার সময় প্রোপাগান্ডা অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।৫
প্রোপাগান্ডার প্রকার
প্রোপাগান্ডার বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। যেমন-
সাদা প্রোপাগান্ডা
প্রোপাগান্ডার এই প্রকার শীর্ষস্থানীয়, অত্যন্ত ব্যাপক ও সুস্পষ্ট। এর মূল উৎস সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম। বিশেষ করে সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, রেডিও এবং টিভিকে বিশেষ নির্ধারিত উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এগুলো বেশি সহায়ক প্রমাণিত হয়।
কালো প্রোপাগান্ডা : প্রোপাগান্ডার এই প্রকার অত্যন্ত গোপনীয়। অতি সংগোপনে এ প্রোপাগান্ডা চালানো হয়, যার মূল গোপন আলোচনা। এর প্রকৃত উৎস অত্যন্ত গোপন থাকে। অতি গোপনীয়ভাবে এটি প্রসারিত ও প্রভাবশীল হয়। কালো প্রোপাগান্ডা শত্রুর ভূ-খন্ড কিংবা তার সীমান্তের কাছাকাছি চলতে থাকে। ঠান্ডা লড়াইয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গোয়েন্দা সংস্থা এ মিশন পরিচালিত করে। প্রোপাগান্ডার এই প্রকারকে ফিল্থ কলামিস্ট বা পঞ্চম কলাম বলা হয়।
হলুদ প্রোপাগান্ডা : প্রোপাগান্ডার এই প্রকার বিভিন্নমূখী উৎসের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকে। এ ধরনের প্রোপাগান্ডাকারীরা তাদের মূল উৎসের প্রকাশ পাওয়াকে সামান্যও পরোয়া করে না।
প্রোপাগান্ডার উদ্দেশ্য
প্রোপাগান্ডার মৌলিক উদ্দেশ্যাবলী নিম্নরূপ:
০১. শত্রু শিবিরের মাঝে অনৈক্য অস্থিরতা সৃষ্টি করা।
০২. সাধারণ ও বিশেষ শ্রেণীকে নাফরমানী ও অবাধ্যতায় উদ্বুদ্ধ করা।
০৩. জনসাধারণকে নেতৃস্থানীয়দের আনুগত্যের বিপরীত বিদ্রোহে উদ্বুদ্ধ করা।
০৪. জনগণের মাঝে জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টি করা।
০৫. জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি সর্বসাধারণ মানুষের আস্থা-বিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত করা।
০৬. শক্তিশালী নেতৃত্বকে দুর্বল করা।
০৭. কোনো বিশেষ ইস্যুতে মন-মানস পরিবর্তন করে দেয়া, প্রকৃত ঘটনা বিকৃত করে পেশ করা এবং জনগণের মাঝে প্রকাশ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করা।
০৮. মিডিয়ার সপক্ষ সমাজের গুণাবলী ও সৌন্দর্য ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রসার করা এবং বিপক্ষ সমাজের সৌন্দর্য বৈশিষ্ট্যসমূহ থেকে দৃষ্টি এড়িয়ে কালে ভদ্রে সংঘটিত ঘটনাবলীকে বাড়িয়ে ছাড়িয়ে পেশ করা, নিন্দা-মন্দ করা এবং দোষ-ত্রুটি ও ছিদ্রান্বেষন করা।
০৯. সাধারণ দুর্বলতাকে বড় করে প্রচার করা।
১০. উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে পশ্চাদপদতার বিষয়ের ওপর জোর দেয়া।
প্রোপাগান্ডার মানদন্ড
পোপাগান্ডার দু'ধরনের মানদন্ড হয়ে থাকে।
০১. টেকনিক্যাল।
০২. স্ট্র্যাটেজিক্যাল।
টেকনিক্যাল প্রোপাগান্ডা
ক. প্রোপাগান্ডার জন্য বেশির থেকে বেশি উত্তম ও উপযুক্ত লোকদের সমর্থন অর্জন করা।
খ. প্রস্তাবিত প্রোপাগান্ডার জন্য অনুকূল ও উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে সমাজ তা গ্রহণ করে।
গ. জনসাধারণের প্রয়োজন, প্রাধান্য দানকরা বিষয়সমূহ এবং চাহিদা ও দাবী অনুসন্ধান করা, যাতে প্রোপাগান্ডার সময় তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনকে ধারাবাহিক ও বিন্যাসিত আকারে দৃষ্টিতে রাখা যায়।
স্ট্র্যাটেজিক্যাল প্রোপাগান্ডা
ক. সমাজের সমস্যা সম্পর্কে মানুষের পূর্ণ রাজি-খুশি ও পছন্দের ওপর ভরসা না করা।
খ. সমাজের নতুন কর্মতৎপরতাকে বাস্তবতার লেবাস পরিধান করার প্রচেষ্টা চালানো এবং সেসব দিকগুলো সামনে নিয়ে আসা, যা মৌলিক চিন্তা-চেতনাকে প্রভাবিত করে। এটি ইসলামের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার বৈশিষ্ট্য।
গ. নতুন সমস্যাগুলোকে উত্তেজিত করা, যাতে সমস্যাগুলোর ইসলামের আলোকে স্থায়ী সমাধান চাওয়ার পরিবর্তে বহিরাগত চিন্তাধারার আলোকে সমাধান করতে লোকদের বাধ্য করা।
প্রোপাগান্ডার পদ্ধতি
প্রোপাগান্ডার বিভিন্ন ধরন রয়েছে, কিন্তু তার মধ্যে নিম্নবর্ণিত ধরনগুলো তুলনামূলক বেশি প্রসিদ্ধ।
০১. সূক্ষ্ম পদ্ধতি : এ পদ্ধতির সম্পর্ক সেসব জাতিগোষ্ঠীর সাথে, যারা উন্নত জীবন মানে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এই পদ্ধতি সাধারণত খুবই কার্যকর ও ফলপ্রসূ।
০২. পুনরাবৃত্তির পদ্ধতি : এই পদ্ধতিতে প্রোপাগান্ডাকারী সম্পূর্ণভাবে আশ্বস্ত হয়ে যায় যে, প্রচলিত প্রোপাগান্ডা মন মস্তিষ্কে গেঁথে গেছে।
০৩. দীনী পদ্ধতি : ইসলামী সমাজে এ নামের কোনো প্রোপাগান্ডা চলতে পারে না। কারণ ইসলামে প্রকৃতপক্ষে দীনী পদ্ধতি ও পার্থিব পদ্ধতি বলে ভিন্ন কিছু নেই। নিঃসন্দেহে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ দীন, পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, কিন্তু অন্যান্য সমাজে দীন ধর্মকে কিছু কাল পর্যন্ত প্রোপাগান্ডার সেবার জন্য ব্যবহার করা হয়।
০৪. মিথ্যা ও অপবাদ আরোপ পদ্ধতি : এই পদ্ধতির মধ্যে মিথ্যা, বিকৃতি, সংযোজন, বিয়োজন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ভারতের বাবরী মসজিদ, গিয়াপী মসজিদ ও মথুরার ঈদগাহ সম্পর্কে হিন্দুদের প্রোপাগান্ডা এবং ফিলিস্তিন বিষয়ে ইসরাঈলের প্রোপাগান্ডা।
০৫. গান ও সংগীতের পদ্ধতি : এই পদ্ধতি জেহাদী চেতনা উজ্জীবিত করা, জালেমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধস্পৃহা সৃষ্টি করা, মজলুমের সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং দেশ জাতির হেফাযতের উদ্দীপনা সৃষ্টির জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ, উপকারী ও কার্যকর।
০৬. উত্তেজনাকর শ্লোগানের পদ্ধতি : এই পদ্ধতির আসল উদ্দেশ্য হলো, কাপুরুষ নেতাদের হুমকিমূলক প্রচার-প্রচারণা, বক্তৃতা-বিবৃতি এবং ঐক্য-উন্নয়ন, তাহযীব-তামাদ্দুন, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান, ইনসাফ-সমতা, গণতন্ত্র ও সচ্ছলতার শ্লোগানের পুনরাবৃত্তি করা। ভারতে বাবরী মসজিদ শহীদ করার ক্ষেত্রে এসব উত্তেজনা সৃষ্টিকারী বক্তৃতা বিবৃতি ও শ্লোগানের বিরাট ভূমিকা রয়েছে, যা এ ঘটনার পক্ষ-বিপক্ষের নেতারা বিভিন্ন সময় দিয়েছে। যেমন, আমরা রক্তের লোহিত সাগর সৃষ্টি করে দেব, রক্তের বন্যা বইয়ে দিব। আমরা প্রয়োজনে মাথার কুতুব মিনার বানাব। দিল্লী থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত পথে যত মন্দির রয়েছে, আমরা তার সবগুলো মিসমার করে দেক। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শ্লোগান-মুসলিমদের রাস্তা দুটোই। হয় পাকিস্তান না হয় কবরস্তান। তেল লাগাও ডাবরের নাম মেটাও বাবরের।
০৭. জবাবী প্রোপাগান্ডা : আমরা এখানে ইসলামের জবাবী প্রোপাগান্ডার কথা উল্লেখ করব। এই প্রোপাগান্ডা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় বস্তুগত টেকনিক দ্বারা সুসজ্জিত। প্রোপাগান্ডাকারীরা টিকটিকির মতো রঙ পরিবর্তন করে। কখনো কখনো বাস্তব ঘটনাবলী সংক্রান্ত তাদের ডকুমেন্টগুলো আগ্নিতে ভস্মীভূত করে দেয়। অতঃপর আফসোস করতে থাকে। ইসলামের জবাবী প্রোপাগান্ডাকে আমরা নিম্নবর্ণিত বিষয়াবলীর আলোকে আমাদের জন্য আরো বেশি কার্যকর ও ফলপ্রসূ বানাতে পারি। জবাবী প্রোপাগান্ডার সফলতার প্রথম মৌলিক শর্ত হলো কিতাব ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং তার শিক্ষার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা। শত্রুর প্রোপাগান্ডাকে দীন ও শরীয়তের মাপকাঠিতে পরিমাপ করে তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর বিশ্লেষণ করা, যাতে তার বাস্তবতা সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
০৮. শত্রুর প্রোপাগান্ডার দুর্বল দিকগুলো অনুসন্ধান করে তার ওপর আঘাত হানা। সরাসরি শত্রুর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা। কারণ এতে শত্রু আরো শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হয়।
০৯. শত্রুর প্রোপাগান্ডার জন্য বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়াস চালানো। এমনকি যাতে মিডিয়ার ওপরও তার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া না পড়ে। (সূত্র: তা'মীরে হায়াত-১৯৯২, জানুয়ারী সংখ্যা)

টিকাঃ
৫. বাবরী মসজিদ প্রসঙ্গে সর্বপ্রথম তা বিতর্কিত বাবরী মসজিদ 'রাম জন্মভূমি', অতঃপর রাম জন্মভূমি বাবরী মসজিদ, অতঃপর মসজিদের বিতর্ক কাঠামো এবং তা স্থানান্তর, এসব প্রোপাগান্ডা চালিয়ে অবশেষে মসজিদের দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।

📘 পশ্চিমা মিডিয়ার স্বরূপ > 📄 প্রোপাগান্ডার প্রকার

📄 প্রোপাগান্ডার প্রকার


প্রোপাগান্ডার বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। যেমন-
সাদা প্রোপাগান্ডা
প্রোপাগান্ডার এই প্রকার শীর্ষস্থানীয়, অত্যন্ত ব্যাপক ও সুস্পষ্ট। এর মূল উৎস সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যম। বিশেষ করে সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন, রেডিও এবং টিভিকে বিশেষ নির্ধারিত উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উন্মুক্ত মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে এগুলো বেশি সহায়ক প্রমাণিত হয়।
কালো প্রোপাগান্ডা : প্রোপাগান্ডার এই প্রকার অত্যন্ত গোপনীয়। অতি সংগোপনে এ প্রোপাগান্ডা চালানো হয়, যার মূল গোপন আলোচনা। এর প্রকৃত উৎস অত্যন্ত গোপন থাকে। অতি গোপনীয়ভাবে এটি প্রসারিত ও প্রভাবশীল হয়। কালো প্রোপাগান্ডা শত্রুর ভূ-খন্ড কিংবা তার সীমান্তের কাছাকাছি চলতে থাকে। ঠান্ডা লড়াইয়ে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গোয়েন্দা সংস্থা এ মিশন পরিচালিত করে। প্রোপাগান্ডার এই প্রকারকে ফিল্থ কলামিস্ট বা পঞ্চম কলাম বলা হয়।
হলুদ প্রোপাগান্ডা : প্রোপাগান্ডার এই প্রকার বিভিন্নমূখী উৎসের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে থাকে। এ ধরনের প্রোপাগান্ডাকারীরা তাদের মূল উৎসের প্রকাশ পাওয়াকে সামান্যও পরোয়া করে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00