📄 নাটক এবং কিসসা-কাহিনী
আধুনিক মিডিয়া জগতে নাটক এবং কিসসা-কাহিনীর বিষয়বস্তু, সেসবের কেন্দ্রবিন্দু এবং ধ্যান-ধারণাকে বিরাট গুরুত্ব দেয়া হয়। কারণ নাটক শেষ হওয়ার পর দর্শকের মন-মস্তিষ্কে তার প্রাণ মিশে যায়। নাটক মঞ্চস্থ করার সময় যে আলোকসজ্জা করা হয় এবং যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, সেই আলোকরশ্মি ও তার ঢেউ নাটকের প্রাণের মতোই দর্শক অথবা পাঠকের মন-মস্তিষ্কের গহীনে এবং তার ব্যবহারিক জীবনে চেতন ও অবচেতনভাবে সংক্রমিত হয়ে যায়। এই প্রাণ প্রবাহই মানব মস্তিষ্কের জন্য পথনির্দেশক এবং তার ব্যবহারিক জীবনের জন্য মৌলিক চালিকা শক্তির ভূমিকা পালন করে। নাটকের মধ্যে যে প্রভাব থাকে, তা অনেক সময় সরাসরি প্রভাব ফেলে না। কারণ নাটকের মঞ্চ বক্তৃতা ও ওয়াজ-নসীহতের মঞ্চ হয় না; বরং নাটকের মঞ্চে হওয়া কথোপকথন, আওয়াজের উত্থান-পতন, শব্দ ও বাক্যের বিনিময় এবং নরম, স্পর্শকাতর ও সূক্ষ্ম পর্দার মাধ্যমে মানব মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে পৌঁছে যায়।
নাটকের মঞ্চে উপস্থাপিত শরীরের অঙ্গভঙ্গি, নড়াচড়া ও রঙিন চিন্তা-চেতনা যখন মানুষের মস্তিষ্কে স্থিত হয়ে যায়, তখন তার অভ্যন্তরের ঢেউ থেকে থেকে বাইরে আঘাত হানে এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রশান্তিকে পেরেশানীতে রূপান্তরিত করে তার ঘুম দূর করে দেয়। তাকে কোনো কাজ উদ্বুদ্ধ করে কিংবা নিরব থাকতে বাধ্য করে। উভয় অবস্থাতেই মানুষ ভাল কর্মকান্ড কিংবা মন্দ অভ্যাসের থাবায় আবদ্ধ থাকে এবং সব ধরনের গঠনমূলক ও ধ্বংসাত্মক, পবিত্র-অপবিত্র, পরিষ্কার অপরিষ্কার বাতাস নাটকের জানালা পথে মানব মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ে। নাটককে আমরা একজন দক্ষ সার্জনের হাতে এমন ধারালো অস্ত্র বলে আখ্যায়িত করতে পারি, যার ফলে যদিও অল্প অল্প রক্ত প্রবাহিত হয়, কিন্তু তা লাগাতার প্রবাহিত হতে থাকে।
মানবীয় মন-মস্তিষ্ক গঠন, তার চরিত্র ও কর্ম বিনির্মাণে নাটকের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণেই পাশ্চাত্যের শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিক, দার্শনিক এবং বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী ব্যক্তিবর্গ নাটককে তাদের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা, দার্শনিকসুলভ সূক্ষ্ণ ধ্যান-ধারণা ও আকীদা-বিশ্বাস প্রচার প্রসারের মাধ্যম বানিয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের নাস্তিক ধর্মহীন দার্শনিক জাঁপল সার্টার তার ধর্মহীন নস্তিক্যবাদী চিন্তা-চেতনাকে নাটকের ছাঁচে ঢেলে উপস্থাপন করেছে। কারণ সেসব সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীর দৃঢ় বিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে যে, নাটকের মাধ্যমে সমাজের প্রাচীন আকীদা-বিশ্বাস ও চিন্তাধারা পরিবর্তন করে সমাজের সদস্য এবং দলগুলোর জ্ঞান-বিবেক নতুন ছাঁচে ঢালাই করা যেতে পারে।
এক নাট্যশিল্পী 'নাটকের মাধ্যমে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ও চিন্তা-চেতনার ওপর আগ্রাসন' শিরোনামে তার এক নিবন্ধে লেখেন, নাটক ও মঞ্চ উভয় জায়গায় সর্বাবস্থায় নারী পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে কেন্দ্রীয় ও মৌলিক গুরুত্ব দেয়া হয়। এত অসাধারণ গুরুত্ব দেয়া হয়, যাতে প্রকাশ্য হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া এবং সকল নৈতিক ও চারিত্রিক মূল্যবোধকে বাস্তবে পদদলিত করা হয়। ইসলামী ও আরবী বিষয়বস্তুর ওপর প্রদর্শিত নাটকেও অনৈতিক খলচরিত্র দৃশ্য দেখা যায়। নিবন্ধকার প্রসিদ্ধ আরবী নাটক 'বাসর' (প্রাসাদ)-এর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখেন, নাট্যকার তার নাটকে এমন এক ব্যক্তিকে উপস্থাপন করে, যে পূর্ণ অক্ষম ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত। সে গোটা প্রাসাদে হুইল চেয়ারে বিচরণ করে।
এই প্রাসাদে ভোগ-বিলাসের সকল উপকরণ রয়েছে, কিন্তু এই প্রাসাদে সেসব বস্তুই হারাম, যা জান্নাতে হারাম। এখানে প্রেম-ভালবাসা নিষিদ্ধ, মুহাব্বত নিষিদ্ধ, যৌন কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা, এমনকি এসব বিষয়ে চিন্তা করাও নিষিদ্ধ। চেতনার ওপরও পাহ-ারা লাগানো আছে। এতদসত্ত্বেও নায়ক-নায়িকার মধ্যে প্রেম-ভালবাসা হয়, উভয়ের মাঝে যে কথোপকথন হয় তা অত্যন্ত অশ্লীল ও নিম্ন প্রকৃতির। শেষ পর্যন্ত ফল এই দাঁড়ায়, এই জান্নাতের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, জান্নাতের অধিবাসীরা এই অত্যাচারপূর্ণ ও প্রকৃতিবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে হৈ চৈ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং সেই প্রেম-ভালোবাসার অনুসন্ধান ও তা অর্জন করার পেছনে পড়ে, যা ছাড়া মানব জীবন অসম্পূর্ণ ও অসম্ভব। এর প্রমাণ পেশ করা হয়, আদম-হাওয়া জান্নাতের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জন করার জন্য আনুগত্য অস্বীকার করেন। এই নাটকে অত্যন্ত শৈল্পিক দক্ষতা ও চাতুর্যের সাথে সংস্কৃতির নামে লোকদের মন-মস্তিষ্ক বিষাক্ত করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। এই অবস্থা হলো সেই নাটকের, যার ব্যাপারে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছিল যে, এটি নির্ভেজাল ইসলামী চিত্র পেশ করে।
📄 চলচ্চিত্র
চলচ্চিত্র হলো দু'মুখো তরবারি কিংবা দু'মুখো মুদ্রার মতো। লোকদের চিন্তা-চেতনা, ইচ্ছা-সংকল্প, ধ্যান-ধারণা ও বিবেকের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং অত্যাধুনিক টেকনোলজির মাধ্যমে স্বীয় উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তাদের অনুগামী করাই হলো চলচ্চিত্রের মৌলিক উদ্দেশ্য। এ ক্ষেত্রে সিনেমা ও টেলিভিশন একই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। টিভিতে সিনেমা প্রদর্শন করা হলে দর্শকদের ওপর তার যে প্রভাব-প্রতিক্রিয়া পড়ে, একই প্রভাব-প্রতিক্রিয়া পড়ে প্রেক্ষাগৃহে বা হলে প্রদর্শন করা হলে, কিন্তু এ কথা আর গোপন নেই যে, এ শিল্পের সূচনায় নির্মাতাদের মাথায় যে উদ্দেশ্য ছিল তা হলো, দর্শকদের বিবেক-বুদ্ধি, চিন্তা-চেতনা, ইচ্ছা-সংকল্প ও পকেট নিয়ে খেলা করা, যুবক-যুবতীদের যৌন চেতনা উত্তেজিত করা, তাদের মধ্যে অনিষ্টের বীজ রোপণ করা এবং তা বিকশিত ও তাতে পানি সিঞ্চন করা।
এর জন্য নমুনাস্বরূপ এমন আচার-আচরণ প্রদর্শন করা হবে, যা অনিষ্ট, ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলাকে সুসজ্জিত আকারে উপস্থাপন করবে। অন্য ভাষায়, কল্যাণকে অকল্যাণ এবং অকল্যাণকে কল্যাণ বানিয়ে চিত্তাকর্ষকভাবে দর্শকদের মন-মস্তিষ্কে ঢুকিয়ে দেয়া। এটাই ছিল চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মৌলিক উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশে তারা শতভাগ সফলকাম হয়েছে। তার প্রমাণ আমরা পাশ্চাত্য সমাজে বিশেষভাবে এবং গোটা মানব সমাজে সাধারণভাবে প্রত্যক্ষ করছি।
চলচ্চিত্রের কারণে মানব সমাজ যেভাবে প্রভাবিত হয়েছে, তা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট। তদ্রূপ এ বাস্তবতাও সুস্পষ্ট যে, চলচ্চিত্রাঙ্গনের ওপর মানবতার শত্রু ইহুদী অপরাধীদের ধ্বংসাত্মক মস্তিষ্ক ও পরিকল্পনার একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এ ময়দানে তারা পরিকল্পিতভাবেই অগ্রসর হয়েছে। কারণ ইহুদী প্রটোকলের দস্তাবেজসমূহে 'চলচ্চিত্রাঙ্গনের ওপর ইহুদীদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে। চলচ্চিত্র নির্মাতারা তাদের চলচ্চিত্রের মাধ্যমে যে কাজগুলো আঞ্জাম দিয়েছে তা হলো-
(ক) মানবতার দুশমন ইহুদীরা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে মানবতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। চলচ্চিত্রের কারণে আজ বিশেষভাবে পাশ্চাত্যের যুব সমাজ এবং সাধারণভাবে গোটা দুনিয়ার যুব সমাজ এমন অধঃপতনে পৌঁছে গেছে যে, তারা সিনেমার নায়কদের নিজেদের মডেল বানিয়ে অপরাধের দিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। যৌনতা, চারিত্রিক ও আর্থিক অপরাধ, এমনকি হত্যা করতে পর্যন্ত তারা দ্বিধা করে না। তারা এটাও ভালোভাবে জানে, এসব অপরাধ করে শাস্তি থেকে কিভাবে নিজেদের রক্ষা করা যায় এবং পুলিশের জালে যদি আটকাও পড়ে তাহলে কিভাবে তাদের সাথে ফাইট করতে হবে।
(খ) যুবতী মেয়েদের অবস্থা আরো শোচনীয়। তারা এসব সিনেমা দেখে নায়িকা ও অভিনেত্রীদের নিজেদের মডেল হিসেবে গ্রহণ করে। তাদের মতো আধুনিক ফ্যাশনের এমন নগ্ন লেবাস পরিধান করে এবং এমন এমন অভিনয় করে, যাতে পুরুষ হৃদয় প্রভাবিত না হয়ে পারে না। তাদের নগ্ন, অর্ধ নগ্ন শরীরের ঝাঁকুনি, হৃদয়গ্রাহী অঙ্গভঙ্গি এবং পুরুষকে বুকের মাঝে জড়িয়ে ধরার মনোরম দৃশ্য দেখে যুব সমাজ যৌনতার উত্তাল সাগরে হারিয়ে চারিত্রিক মূল্যবোধ পদদলিত করতে এবং পিতা-মাতা ও সমাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।
মোটকথা, চলচ্চিত্র নির্মাতারা গোটা দুনিয়ার যুব সমাজের যৌন চেতনাকে উত্তেজিত করে স্বাধীন অবাধ মেলমেশার মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে দিয়েছে। মানব সোসাইটি ও পশু সোসাইটির মধ্যে আর কোনো পার্থক্য বাকী থাকেনি। এই সোসাইটি সকল চারিত্রিক মূল্যবোধ শুধু অস্বীকারই করেনি; বরং দলিত মথিতও করেছে। এখন তো জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে অন্যায়, অশ্লীলতা, উলঙ্গপনা, নগ্নতা ও অসৎ কর্মকান্ডকে শক্তির বলে মানবতার ওপর চাপিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে। কায়রো ও বেইজিং সম্মেলন তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
📄 ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সম্পর্ক
জনসাধারণের পর্যায় সর্বস্তরের লোকের সাথে যদি সরাসরি কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব হতো, তাহলে মিডিয়ার জগতে এটি অসাধারণ ক্ষমতা, শক্তি, প্রভাব, গভীরতা এবং সুদূরপ্রসারী ফলাফলের দিক দিয়ে একটি সর্বোত্তম ও অনন্য নযীর হতো। কারণ সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম থাকলে মিডিয়ার নেতিবাচক দিকসমূহ এবং ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া ও ফলাফলকে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তিশালী দলীল-প্রমাণ, সমালোচনা-বিশ্লেষণ, আশ্বস্তকারী জবাব এবং প্রমাণভিত্তিক প্রতিবাদ দ্বারা সহজেই মোকাবেলা করা সম্ভব হতো। আর এটাই একমাত্র মাধ্যম, যার দ্বারা তাৎক্ষণিক যে কোনো প্রতিক্রিয়া সহজেই অনুমান করা যায়।
দ্বিতীয় কথা হলো, ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সম্পর্ক সৃষ্টির ক্ষেত্রে যেসব উপাদান উপকরণ ক্রিয়াশীল হয়, তার মধ্যে প্রেম-ভালবাসা, অকৃত্রিম সম্পর্ক, কল্যাণ ও উপকারের বিনিময়, আশানুরূপ শিক্ষার্জন, লাগাতার সাক্ষাত ও মতবিনিময় অন্যতম। আর এসব উপাদান উপকরণ প্রত্যাশিত উদ্দেশ্য অর্জন ও কার্যসিদ্ধিতে বিরাট উপকারী ও সাহায্যকারী হয়।
এর পাশাপাশি আপনার কাছ থেকে সাক্ষাতকার গ্রহণকারী যখন কোনো ক্যামেরা বা টেপ রেকর্ডার ছাড়াই আপনার সাথে কথাবার্তা বলে এবং আপনার জবাব ও প্রতিক্রিয়ার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে থাকে আর আপনার অভিযোগের তাৎক্ষণিক জবাবও প্রদান করতে থাকে, তখন এর সুস্পষ্ট মর্ম হলো, এ ক্ষেত্রে সাক্ষাতকার গ্রহণকারী কিংবা স্বীয় দৃষ্টিভঙ্গির স্বীকৃতি আদায়কারীর নিকট কেবল তার নির্ধারিত লক্ষ্য-উদ্দেশ্যই সামনে থাকে। তার মূল টার্গেট থাকে, কিভাবে আপনি তার দৃষ্টিভঙ্গির সাথে ঐক্যমত হয়ে যাবেন। এভাবে মিডিয়ার পয়গাম্ আপনার নিকট পৌঁছাতে সে সক্ষম হয়ে যায়। আপনি অনুভবও করতে পারবেন না, সাক্ষাতকার গ্রহণকারীর প্রশ্নাব- লীর ছাঁচে কিভাবে আপনি ঢলে গেছেন এবং অতি দক্ষতা, পান্ডিত্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে বিন্যাসিত তার প্রশ্নাবলীর জালে কিভাবে আপনি ফেঁসে গেছেন।
📄 গুজব ছড়ানো
মিডিয়াতে গুজব ছড়িয়ে বড় বড় মৌলিক উদ্দেশ্য অর্জন করা হয়। কোনো উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অত্যন্ত দক্ষতা ও চতুরতার সাথে অতি পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়। এই গুজব একেবারে নিম্ন পর্যায়ের জনসাধারণ থেকে ওঠানো হয়। মিডিয়া বিশেষজ্ঞ ও প্রোপাগান্ডাকারীদের নিকট এর উদ্দেশ্য থাকে, জনগণের মধ্যে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে, তা দ্বারাই যেন তাদের মন-মস্তিষ্ক তৈরি হয়।
এসব গুজব ছড়ানোর মৌলিক উদ্দেশ্য, সামাজিক স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত ইমারত ধসিয়ে দিয়ে তাদের মাঝে অনৈক্য বিশৃংখলা সৃষ্টি করা এবং অভিজাত লোকদের ইজ্জত- সম্মানের ওপর হামলা করা।
মিডিয়ার গুজবকে এমন বলের সাথে তুলনা করা হয়, যা এক খেলোয়াড় থেকে আরেক খেলোয়াড়ের কাছে, তার থেকে আরেকজনের কাছে, এভাবে জনগণের মাঝে ঘুরতে ফিরতে থাকে। মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা গুজবের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে সৃষ্ট অস্থিরতা ও বিশৃংখলা শান্ত করার এবং তাদের ক্রোধ, ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা করে। জনগণের মধ্যে যখন হতাশা, নিরাশা ও ব্যর্থতা জমাট বেঁধে যায়, তখন গুজবের মাধ্যমে জনরোষ স্তিমিত করে তাদের আশার আলো দেখায়। এভাবে গুজবের কিশতি তাদের জন্য উত্তাল সমুদ্রে নিরাপদে কিনারায় পৌঁছার মাধ্যমে পরিণত হয়। গুজবের বৈশিষ্ট্য হলো, তা জংগলের আগুনের মতো অসাধারণ দ্রুততা ও ক্ষিপ্রতার সাথে প্রসারিত হয়ে যায়। মানুষের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিটি ব্যক্তি তা শুনে প্রশান্তি লাভ করে। যখন শত্রুর পক্ষ থেকে গুজব ছড়ানো হয়, তখন তার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া পুরোপুরি নিঃশেষ করা কঠিন বরং অসম্ভব হয়ে পড়ে। মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে গুজব সবচেয়ে সক্রিয় ও শক্তিশালী অস্ত্র। মিডিয়া বিশেষজ্ঞগণ এর ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্যাবলী সম্পর্কে খুব ভালভাবেই ওয়াকিফহাল রয়েছেন।