📄 দেখার উপকরণ ও মাধ্যম
মিডিয়া জগতে দেখার উপকরণ ও মাধ্যমকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ, তাদের ওপর প্রভাবশীল হওয়া এবং তাদের অভিরুচি ও চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অসাধারণ গুরুত্ব দেয়া হয়। এই হিসেবে মিডিয়া বিশেষজ্ঞগণ দেখার উপকরণ ও মাধ্যমকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ও প্রভাব বিস্তারকারী মনে করেন। যা দর্শকের ধমনী থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তার আচরণ ও কাজে পরিবর্তিত হয়ে যায়। অন্য ভাষায়, তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কীকরণ কিংবা চূড়ান্ত সুসংবাদের মর্যাদা অর্জিত হয়। তার প্রতিক্রিয়া দর্শকের ধমনীর শিরা-উপশিরা ও আচরণে সংগে সংগে চূড়ান্ত হয়ে যায়। বিজ্ঞাপন ও স্টিকারে বিদ্যমান চিত্র ও ছবিকে যদিও শব্দের পোশাক পরানো হয় না, কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রভাব ও শক্তি বিস্তারে তার পূর্ণ দক্ষতা রয়েছে।
দেখার উপকরণ ও মাধ্যমের মধ্যে সবচে' কার্যকর ও শক্তিশালী হল সেগুলো, যেগুলো শব্দের পরিবর্তে শৈল্পি পন্থা-পদ্ধতিতে আদায় করা হয়। কারণ শৈল্পিক পদ্ধতিতে যে চিত্র ও রেখা অংকন করা হয়, তা স্বয়ং নিজস্ব ভাষা রাখে। এমন ভাষা ও ইঙ্গিত, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বত্র বোঝা ও তার প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা হয় তার মধ্যে সবচে' গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ভাষা ও ইঙ্গিত কিভাবে সহজ করে উপস্থাপন করা হবে, যাতে একজন সাধারণ মানুষও তার অভ্যন্তরীণ পয়গাম সহজেই বুঝতে পারে।
উন্নত বিশ্ব তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সক্রিয় চিত্র ও ইলেক্ট্রনিক গেমসের মাধ্যমে অর্জন করে। ইহুদী ও খৃস্টানরা তাদের জাতীয়, ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় রহস্য ও পরিচায়ক বিষয়াবলী এবং তাদের শিল্প-পণ্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, জ্ঞান ও সামাজিক তৎপরতার মাধ্যমে বিকশিত করে এবং তার প্রচার-প্রসার করে। মিডিয়া হোক কিংবা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার হোক, কোন জায়গাতেই তার প্রচার-প্রকাশ থেকে তারা বিরত থাকে না।
📄 শ্রবণ ও দর্শনের উপকরণ এবং মাধ্যম
শ্রবণ ও দর্শনের প্রধান মাধ্যম টেলিভিশন, যা আধুনিক যুগের সবচে' ভয়াবহ আবিষ্কার। টেলিভিশন মিডিয়ার জগতে অবিশ্বাস্য বিপ্লব সাধন করেছে। এই আবিষ্কার আওয়াজ ও ফটো উভয়ই ব্যবহার করে গোটা বিশ্বের দূরত্বটা সংকুচিত করে এক পল্লীতে রূপান্তরিত করে দিয়েছে।৪
টেলিভিশন মানুষের শ্রবণ দর্শন উভয় ইন্দ্রিয়কে প্রভাবিত করে। এদিক দিয়ে টিভিকে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী মিডিয়া আখ্যা দেয়া হয়। কারণ টিভি দর্শকের সকল যোগ্যতা প্রতিভা ও ইন্দ্রিয়শক্তিকে পূর্ণভাবে ব্যস্ত রাখে এবং নিজের দিকে আকর্ষণ করে নেয়। দর্শক সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। ঘন্টার পর ঘন্টা অত্যন্ত একাগ্রতা ও মনোযোগের সাথে টিভি দেখায় ব্যস্ত থাকে। এভাবে সে তার সকল মানসিক ও শারীরিক শক্তিকে এক জায়গায় নিবদ্ধ করে ফেলে। দর্শক টিভির পর্দায় যেসব অনুষ্ঠান দেখে ও শুনে, সেগুলো কোনো দ্বিধা ছাড়াই গ্রহণ করতে প্রস্তুত হয়ে যায়। এজন্য টেলিভিশনকে মিডিয়া জগতে সবচে' উত্তম, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বস্ত মাধ্যম বলে মেনে নেয়া হয়।
টিভিতে যেসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়, তা উপস্থাপন করার আন্দাজ, ধরন ও পদ্ধতি সব সময় ডাইনামিক, আন্দোলিত, ভিন্নতা, বৈচিত্র ও নতুনত্বে ভরপুর থাকে। এর কারণ হলো, টেলিভিশনের মধ্যে যে অসংখ্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে, তা দর্শকের মন-মস্তিষ্কে শ্রবণ ও দর্শন ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে পৌছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এভাবে দর্শক আধুনিক টেকনোলজির যাদুতে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। টিভির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ যেভাবে ইচ্ছা যেদিকে ইচ্ছা দর্শক-শ্রোতার মন-মস্তিষ্ক ঘোরাতে পারে। এর পাশাপাশি একথাও স্বরণ রাখতে হবে, টেলিভিশনের ক্যামেরা দৃশ্য ও ছবিগুলো বিভিন্নভাবে, রঙে, স্বাভাবিক অস্বাভাবিক আকৃতিতে বিচিত্র আঙ্গিকে ইচ্ছামতো সক্রিয় ও স্থবির উভয়ভাবে প্রদর্শন করতে পারে। এই ক্যামেরা সুন্দরকে অসুন্দর, অসুন্দরকে সুন্দর, নিকটকে দূর, দূরকে নিকট দেখাতে পারে। টিভি ক্যামেরা স্বাভাবিক বস্তুসমূহের কৃত্রিম ছবি প্রকৃত ছবির মতোই শুধু দেখায় না; বরং তার মধ্যে এমন উপকরণ রয়েছে, যা এসব জিনিসকে ইচ্ছামতো নতুন শৈল্পিক ছাঁচে অভিনব পদ্ধতিতে উপস্থাপন করতে পারে। এটা শুধু ক্যামেরার মাধ্যমে প্রকৃত বস্তুর কৃত্রিম ছবি প্রদর্শন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়; বরং চিন্তা এবং বাস্তব কর্ম-উভয় ক্ষেত্রে ক্যামেরার বৃত্ত সর্বপ্রকার অনুকরণ অনুসরণ পর্যন্ত ব্যাপ্ত। রেডিওর বিপরীতে টিভি তার স্ক্রিনে উপস্থাপিত বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে সামান্যতম চিন্তা-ভাবনারও অবকাশ দেয় না। টিভি আপনার এমন বন্ধু, যে আপনার থেকে সবটুকু সময় এবং পূর্ণ একাগ্রতা ও মনোযোগ চায়। সে চায় আপনি আপনার মন-মস্তিষ্ক, বিবেক-বুদ্ধি, চিন্তা-চেতনা ও কথা-কল্পনা সব দিয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই লাগাতার আপনার অস্তিত্ব তার জন্য বিলিয়ে দেবেন।
টিকাঃ
৪. টেলিভিশনের সমগ্র বিশ্বকে এক পল্লীতে রূপান্তরিত করে দেয়াকেই গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়ন বলে। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক হতে পারে। ইতিবাচক দিক হলো, তথ্য, প্রযুক্তি ও জ্ঞান-গবেষণা, আর নেতিবাচক দিক হলো মিডিয়ার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া যেভাবে আন্তর্জাতিক সমাজে পতিত হচ্ছে, পশ্চিমা সমাজে যেভাবে ক্রমবর্ধমানহারে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, একই ধরনের অপরাধ প্রাচ্যের দেশগুলোতেও সংঘটিত হচ্ছে।
📄 টিভির সামাজিক ভূমিকা
টিভি দ্বারা সামাজিক প্রাণ সৃষ্টি হয়-একথা একটি ধোকা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের এ প্রতারণার শিকার না হওয়া উচিত। অনেকে দাবী করেন, টিভি দেখতে যেহেতু ঘরের সব লোক একত্রিত হয়, ঘরের সবাইর এক জায়গায় সমাবেশ ঘটে। এতে তাদের পরস্পরে সাক্ষাতের সুযোগ ঘটে। অথচ যেভাবে এসব লোক টিভি দেখার জন্য একত্রিত হয় তা বিশ্লেষণ করলে এ দাবীর মুখোশ খুলে যায়। টিভি দর্শকরা যদিও শারীরিকভাবে একত্রিত হয়, কিন্তু আবেগ ও চিন্তা-চেতনার দিক দিয়ে প্রত্যেকেই পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে কল্পনার জগতে বিচরণ করতে থাকে। টিভি দেখার জন্য চাই একই পরিবারের সকল লোক একত্রিত হোক কিংবা কোন ক্লাবের সকল সদস্য একত্রিত হোক-সবার ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। কিছুক্ষণ টিভি দেখার পর সবাই যার যার মতো আলাদা হয়ে যায়।
প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বপ্ন ও আকাঙ্খার জগতে বিচরণ করে। প্রত্যেকেই নিজের পছন্দনীয় অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং টিভিতে উপস্থাপিত ঘটনা ও সংবাদের ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ, উপস্থাপিত ঘটনা ও সংবাদ সম্পর্কে নিজস্ব প্রতিক্রিয়া, অনুভূতি এবং তার ব্যাখ্যা ও কারণ অনুসন্ধানে হাবুডুবু খেতে থাকে। এটা খুব কমই ঘটে যে, কোনো একটি বিষয়ে দর্শকদের সকলেই নিজ নিজ প্রতিক্রিয়া ও অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে একমত। কারণ প্রত্যেক দর্শকেরই নিজস্ব পছন্দ অপছন্দ রয়েছে, যা তাকে স্ক্রিনে উপস্থাপিত ঘটনাবলী, ব্যক্তিবর্গ, ও সংবাদ সম্পর্কে একটি অদৃশ্য মজবুত সুতায় গ্রথিত করে রাখে। এজন্য নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারি না, টিভি দেখা দ্বারা সামাজিক ঐক্যের প্রাণ সৃষ্টি হয়। কারণ মানুষ যখন শারীরিকভাবে একত্রিত, কিন্তু মেধা-মনন ও মানসিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন হলে সেটাকে আমরা সামাজিক ঐক্যের প্রাণ আখ্যা দিতে পারি না। মার্কিন লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক জরিপের ভাষায়-'টিভি দ্বারা এমন সামাজিক জীবন অস্তিত্ব লাভ করে, যার মধ্যে ঐক্যের প্রাণ নেই।'
📄 নাটক এবং কিসসা-কাহিনী
আধুনিক মিডিয়া জগতে নাটক এবং কিসসা-কাহিনীর বিষয়বস্তু, সেসবের কেন্দ্রবিন্দু এবং ধ্যান-ধারণাকে বিরাট গুরুত্ব দেয়া হয়। কারণ নাটক শেষ হওয়ার পর দর্শকের মন-মস্তিষ্কে তার প্রাণ মিশে যায়। নাটক মঞ্চস্থ করার সময় যে আলোকসজ্জা করা হয় এবং যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, সেই আলোকরশ্মি ও তার ঢেউ নাটকের প্রাণের মতোই দর্শক অথবা পাঠকের মন-মস্তিষ্কের গহীনে এবং তার ব্যবহারিক জীবনে চেতন ও অবচেতনভাবে সংক্রমিত হয়ে যায়। এই প্রাণ প্রবাহই মানব মস্তিষ্কের জন্য পথনির্দেশক এবং তার ব্যবহারিক জীবনের জন্য মৌলিক চালিকা শক্তির ভূমিকা পালন করে। নাটকের মধ্যে যে প্রভাব থাকে, তা অনেক সময় সরাসরি প্রভাব ফেলে না। কারণ নাটকের মঞ্চ বক্তৃতা ও ওয়াজ-নসীহতের মঞ্চ হয় না; বরং নাটকের মঞ্চে হওয়া কথোপকথন, আওয়াজের উত্থান-পতন, শব্দ ও বাক্যের বিনিময় এবং নরম, স্পর্শকাতর ও সূক্ষ্ম পর্দার মাধ্যমে মানব মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে পৌঁছে যায়।
নাটকের মঞ্চে উপস্থাপিত শরীরের অঙ্গভঙ্গি, নড়াচড়া ও রঙিন চিন্তা-চেতনা যখন মানুষের মস্তিষ্কে স্থিত হয়ে যায়, তখন তার অভ্যন্তরের ঢেউ থেকে থেকে বাইরে আঘাত হানে এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি প্রশান্তিকে পেরেশানীতে রূপান্তরিত করে তার ঘুম দূর করে দেয়। তাকে কোনো কাজ উদ্বুদ্ধ করে কিংবা নিরব থাকতে বাধ্য করে। উভয় অবস্থাতেই মানুষ ভাল কর্মকান্ড কিংবা মন্দ অভ্যাসের থাবায় আবদ্ধ থাকে এবং সব ধরনের গঠনমূলক ও ধ্বংসাত্মক, পবিত্র-অপবিত্র, পরিষ্কার অপরিষ্কার বাতাস নাটকের জানালা পথে মানব মস্তিষ্কে ঢুকে পড়ে। নাটককে আমরা একজন দক্ষ সার্জনের হাতে এমন ধারালো অস্ত্র বলে আখ্যায়িত করতে পারি, যার ফলে যদিও অল্প অল্প রক্ত প্রবাহিত হয়, কিন্তু তা লাগাতার প্রবাহিত হতে থাকে।
মানবীয় মন-মস্তিষ্ক গঠন, তার চরিত্র ও কর্ম বিনির্মাণে নাটকের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণেই পাশ্চাত্যের শীর্ষস্থানীয় সাহিত্যিক, দার্শনিক এবং বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী ব্যক্তিবর্গ নাটককে তাদের চিন্তা-চেতনা, ধ্যান-ধারণা, দার্শনিকসুলভ সূক্ষ্ণ ধ্যান-ধারণা ও আকীদা-বিশ্বাস প্রচার প্রসারের মাধ্যম বানিয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের নাস্তিক ধর্মহীন দার্শনিক জাঁপল সার্টার তার ধর্মহীন নস্তিক্যবাদী চিন্তা-চেতনাকে নাটকের ছাঁচে ঢেলে উপস্থাপন করেছে। কারণ সেসব সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীর দৃঢ় বিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে যে, নাটকের মাধ্যমে সমাজের প্রাচীন আকীদা-বিশ্বাস ও চিন্তাধারা পরিবর্তন করে সমাজের সদস্য এবং দলগুলোর জ্ঞান-বিবেক নতুন ছাঁচে ঢালাই করা যেতে পারে।
এক নাট্যশিল্পী 'নাটকের মাধ্যমে মানুষের বিবেক-বুদ্ধি ও চিন্তা-চেতনার ওপর আগ্রাসন' শিরোনামে তার এক নিবন্ধে লেখেন, নাটক ও মঞ্চ উভয় জায়গায় সর্বাবস্থায় নারী পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্ককে কেন্দ্রীয় ও মৌলিক গুরুত্ব দেয়া হয়। এত অসাধারণ গুরুত্ব দেয়া হয়, যাতে প্রকাশ্য হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া এবং সকল নৈতিক ও চারিত্রিক মূল্যবোধকে বাস্তবে পদদলিত করা হয়। ইসলামী ও আরবী বিষয়বস্তুর ওপর প্রদর্শিত নাটকেও অনৈতিক খলচরিত্র দৃশ্য দেখা যায়। নিবন্ধকার প্রসিদ্ধ আরবী নাটক 'বাসর' (প্রাসাদ)-এর বিশ্লেষণ করতে গিয়ে লেখেন, নাট্যকার তার নাটকে এমন এক ব্যক্তিকে উপস্থাপন করে, যে পূর্ণ অক্ষম ও পক্ষাঘাতগ্রস্ত। সে গোটা প্রাসাদে হুইল চেয়ারে বিচরণ করে।
এই প্রাসাদে ভোগ-বিলাসের সকল উপকরণ রয়েছে, কিন্তু এই প্রাসাদে সেসব বস্তুই হারাম, যা জান্নাতে হারাম। এখানে প্রেম-ভালবাসা নিষিদ্ধ, মুহাব্বত নিষিদ্ধ, যৌন কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা, এমনকি এসব বিষয়ে চিন্তা করাও নিষিদ্ধ। চেতনার ওপরও পাহ-ারা লাগানো আছে। এতদসত্ত্বেও নায়ক-নায়িকার মধ্যে প্রেম-ভালবাসা হয়, উভয়ের মাঝে যে কথোপকথন হয় তা অত্যন্ত অশ্লীল ও নিম্ন প্রকৃতির। শেষ পর্যন্ত ফল এই দাঁড়ায়, এই জান্নাতের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, জান্নাতের অধিবাসীরা এই অত্যাচারপূর্ণ ও প্রকৃতিবিরোধী আইনের বিরুদ্ধে হৈ চৈ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এবং সেই প্রেম-ভালোবাসার অনুসন্ধান ও তা অর্জন করার পেছনে পড়ে, যা ছাড়া মানব জীবন অসম্পূর্ণ ও অসম্ভব। এর প্রমাণ পেশ করা হয়, আদম-হাওয়া জান্নাতের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জন করার জন্য আনুগত্য অস্বীকার করেন। এই নাটকে অত্যন্ত শৈল্পিক দক্ষতা ও চাতুর্যের সাথে সংস্কৃতির নামে লোকদের মন-মস্তিষ্ক বিষাক্ত করার প্রয়াস চালানো হয়েছে। এই অবস্থা হলো সেই নাটকের, যার ব্যাপারে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছিল যে, এটি নির্ভেজাল ইসলামী চিত্র পেশ করে।