📄 মানব জীবনে রেডিও'র প্রভাব-প্রতিক্রিয়া
মানব জীবনে রেডিও'র বিভিন্নমুখী প্রভাব-প্রতিক্রিয়া রয়েছে।
০১. রেডিও মানব শরীরের শুধুমাত্র কানের সাথে সম্পর্ক রাখে এবং কানই তার কেন্দ্রবিন্দু। মানুষ যখন কোনো জিনিসের ওপর তার মানসিক মনোযোগ নিবদ্ধ করতে চায় তখন কিছু সময়ের জন্য সে তার চক্ষু বন্ধ করে নেয়। এভাবে সে তার স্মৃতিশক্তির ওপর জোর দিয়ে তাকে আরো বেশি সক্রিয় ও কর্মতৎপর করে তুলতে এবং তার কল্পনাশক্তিকে সচেতনতা ও পূর্ণ শক্তি দিয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে চায়, যাতে সে কল্পনা তার স্মৃতিতে ভালভাবে স্থান করে নেয়।
অতঃপর কখনো ভুলে না যায়। আর রেডিও শুনে যে চিন্ত-ভাবনা তার মাঝে সৃষ্টি হয়েছে বিস্তারিত ও আংশিক কিছু তার স্মৃতি থেকে বিলীন হয়ে যায় না। একই আচরণ রেডিও তার শ্রবণকারীর সাথে করে। রেডিও মানুষের শ্রবণশক্তির মাধ্যমে ধীরে ধীরে জ্ঞান স্থানান্তর করে। এর ফলে রেডিও'র পয়গামের সকল অংশ শ্রোতার মেধায় জায়গা করে নেয়। এর পাশাপাশি রেডিও শ্রবণকারী অত্যন্ত চিন্তা ফিকির ও পরিকল্পনার সাথে কাজ করার অতিরিক্ত সুযোগ পেয়ে যায়। পরিশেষে কোনো বিশৃংখলা ও ঝামেলা ছাড়াই রেডিও'র পয়গামের সকল অংশ মানুষের মস্তিষ্কে স্থান করে নেয় এবং ভালভাবে শেকড় গেঁড়ে বসে।
০২. রেডিও'র পয়গাম সকল মানব সম্প্রদায়ের কাছে একইভাবে পৌঁছে যায়। মূর্খ-জ্ঞানী, উচ্চ-মধ্যম, উচ্চ শিক্ষিত-কম শিক্ষিত, এক কথায় সর্বশ্রেণীর নিকট একইভাবে পৌছে। রেডিও এদিক দিয়ে অত্যন্ত ভয়াবহ হাতিয়ার যে, বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং তাদের সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রাচীর সুসংহত কিংবা দুর্বল করার ক্ষেত্রে রেডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
০৩. রেডিও'র পয়গাম জাতীয় দূরত্ব ও সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে সর্বশ্রেণীর নিকট বিনা বাধায় পৌঁছে যায়। রেডিওর পয়গাম মানব সমাজের নারী-পুরুষ, ছোট-বড় প্রত্যেক বয়সের মানুষের কাছ পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। যদিও রেডিওর মোকাবেলায় টিভির আকর্ষণ ও কাছে টানার ক্ষমতা বেশি, কিন্তু রেডিও যেভাবে সহজেই শ্রোতার মন-মস্তিষ্কে পৌছে যায় এবং সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও সীমারেখার ঊর্ধ্বে উঠে সর্ব জায়গায় পৌঁছতে পারে, স্থানীয় টিভি তা পারে না। এই ভিত্তিতে বিভিন্ন ঘটনাবলী, তথ্য ও জ্ঞান শ্রোতা পর্যন্ত স্থানান্তর করে তার অভিরুচি ও প্রকৃতিকে প্রভাবিত করার সুযোগ সবখানে সব সময় রেডিওর রয়েছে। কারণ ট্রান্সমিটার আবিষ্কারের ফলে সহজেই রেডিও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করা যায়। প্রতিটি শিক্ষিত, মূর্খ, গ্রাম্য, শহরী, সফরকারী, বাড়ীতে অবস্থানকারী, উপবেশনকারী, শয়নকারী এক কথায় সর্বশ্রেণীর লোক যখন ইচ্ছা যেখানে ইচ্ছা রেডিও শুনতে পারে। এজন্যই রেডিও আবিষ্কারের পর যত দ্রুত তা প্রসার লাভ করেছে, অন্য কোন মিডিয়া এত দ্রুত প্রসার লাভ করেনি।
রেডিও'র আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো, রেডিও যেভাবে সহজেই সর্বশ্রেণীর নিকট পৌঁছতে পারে, এতে সময় ও অবস্থানের কোন বাধা নেই, টিভি তা পারে না। রেডিও'র মোকাবেলায় টিভি দেখা জন্য বসার প্রয়োজন রয়েছে। টিভি দেখার জন্য মানুষের অবসর সময়ের প্রয়োজন পড়ে। পক্ষান্তরে রেডিও শোনার জন্য শুধু সুইচ অন করে দিলেই হয়। এক প্রোগ্রাম যদি ভাল না লাগে, তাহলে শুধু সুইচ ঘুরিয়ে দিলেই হবে। সঙ্গে সঙ্গে আপনি এক জগত থেকে অন্য জগতে পৌঁছে যাবেন। এভাবে ন্যূনতম কোনো প্রচেষ্টা এবং শারীরিক মানসিক কষ্ট ছাড়াই আপনি রেডিও থেকে উপকৃত হতে পারেন। আপনি কাজে ব্যস্ত থেকেও রেডিও শুনতে পারেন। এভাবে মিডিয়া জগতে রেডিও'র বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। আর যদি শক্তিশালী ট্রান্সমিটারের সাহায্যে রেডিও'র অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়, আওয়াজ যদি হয় হৃদয়গ্রাহী, বিষয়বস্তু অত্যন্ত দক্ষতা ও মেহনতের সাথে যদি প্রস্তুত করা হয় এবং উপস্থাপন হয় চমৎকার, আকর্ষণীয়, চিত্তাকর্ষক ও যাদুময়ী, তাহলে অন্য কোনো মিডিয়া রেডিও'র মোকাবেলা করতে সক্ষম নয়। বিশেষ করে রেডিওর সম্প্রচার যদি চিন্তা-গবেষণা, অভ্যন্তরীণ রং ও শক্তিসম্পন্ন হয়, আর সম্প্রচারিত বিষয়ের উদ্দেশ্য হয় জ্ঞান-বিবেক ও মেধা-মননের ওপর নৈশ হামলা চালানো এবং রুচি ও মানসিক ঝোঁকপ্রবণতার পরিবর্তন সাধন, তাহলে রেডিওর বিকল্প কোনো মিডিয়া নেই।
যেসব বস্তু শ্রোতাদের মনস্তত্ত্ব, তাদের অভিরুচি, অভ্যন্তরীণ চিন্তা-চেতনা, মতামত এবং মানসিক ঝোঁকপ্রবণতার পরিবর্তন ঘটায় কিংবা তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তার মধ্যে বক্তৃতা, আলোচনা, কাব্য ইত্যাদির বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। আজকালের মিডিয়ায় নিম্নস্তরের চপল আবেগ অনুভূতিসমূহকে উত্তেজিতকরণে সিনেমার অশ্লীল গানগুলো বিরাট অংশ দখল করে রেখেছে।
📄 দেখার উপকরণ ও মাধ্যম
মিডিয়া জগতে দেখার উপকরণ ও মাধ্যমকে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ, তাদের ওপর প্রভাবশীল হওয়া এবং তাদের অভিরুচি ও চিন্তা-চেতনা পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অসাধারণ গুরুত্ব দেয়া হয়। এই হিসেবে মিডিয়া বিশেষজ্ঞগণ দেখার উপকরণ ও মাধ্যমকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ও প্রভাব বিস্তারকারী মনে করেন। যা দর্শকের ধমনী থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তার আচরণ ও কাজে পরিবর্তিত হয়ে যায়। অন্য ভাষায়, তাৎক্ষণিকভাবে সতর্কীকরণ কিংবা চূড়ান্ত সুসংবাদের মর্যাদা অর্জিত হয়। তার প্রতিক্রিয়া দর্শকের ধমনীর শিরা-উপশিরা ও আচরণে সংগে সংগে চূড়ান্ত হয়ে যায়। বিজ্ঞাপন ও স্টিকারে বিদ্যমান চিত্র ও ছবিকে যদিও শব্দের পোশাক পরানো হয় না, কিন্তু তাৎক্ষণিক প্রভাব ও শক্তি বিস্তারে তার পূর্ণ দক্ষতা রয়েছে।
দেখার উপকরণ ও মাধ্যমের মধ্যে সবচে' কার্যকর ও শক্তিশালী হল সেগুলো, যেগুলো শব্দের পরিবর্তে শৈল্পি পন্থা-পদ্ধতিতে আদায় করা হয়। কারণ শৈল্পিক পদ্ধতিতে যে চিত্র ও রেখা অংকন করা হয়, তা স্বয়ং নিজস্ব ভাষা রাখে। এমন ভাষা ও ইঙ্গিত, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বত্র বোঝা ও তার প্রতিক্রিয়া গ্রহণ করা হয় তার মধ্যে সবচে' গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে ভাষা ও ইঙ্গিত কিভাবে সহজ করে উপস্থাপন করা হবে, যাতে একজন সাধারণ মানুষও তার অভ্যন্তরীণ পয়গাম সহজেই বুঝতে পারে।
উন্নত বিশ্ব তাদের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সক্রিয় চিত্র ও ইলেক্ট্রনিক গেমসের মাধ্যমে অর্জন করে। ইহুদী ও খৃস্টানরা তাদের জাতীয়, ঐতিহাসিক এবং ধর্মীয় রহস্য ও পরিচায়ক বিষয়াবলী এবং তাদের শিল্প-পণ্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, জ্ঞান ও সামাজিক তৎপরতার মাধ্যমে বিকশিত করে এবং তার প্রচার-প্রসার করে। মিডিয়া হোক কিংবা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সেমিনার হোক, কোন জায়গাতেই তার প্রচার-প্রকাশ থেকে তারা বিরত থাকে না।
📄 শ্রবণ ও দর্শনের উপকরণ এবং মাধ্যম
শ্রবণ ও দর্শনের প্রধান মাধ্যম টেলিভিশন, যা আধুনিক যুগের সবচে' ভয়াবহ আবিষ্কার। টেলিভিশন মিডিয়ার জগতে অবিশ্বাস্য বিপ্লব সাধন করেছে। এই আবিষ্কার আওয়াজ ও ফটো উভয়ই ব্যবহার করে গোটা বিশ্বের দূরত্বটা সংকুচিত করে এক পল্লীতে রূপান্তরিত করে দিয়েছে।৪
টেলিভিশন মানুষের শ্রবণ দর্শন উভয় ইন্দ্রিয়কে প্রভাবিত করে। এদিক দিয়ে টিভিকে একটি কার্যকর ও শক্তিশালী মিডিয়া আখ্যা দেয়া হয়। কারণ টিভি দর্শকের সকল যোগ্যতা প্রতিভা ও ইন্দ্রিয়শক্তিকে পূর্ণভাবে ব্যস্ত রাখে এবং নিজের দিকে আকর্ষণ করে নেয়। দর্শক সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানমালার মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। ঘন্টার পর ঘন্টা অত্যন্ত একাগ্রতা ও মনোযোগের সাথে টিভি দেখায় ব্যস্ত থাকে। এভাবে সে তার সকল মানসিক ও শারীরিক শক্তিকে এক জায়গায় নিবদ্ধ করে ফেলে। দর্শক টিভির পর্দায় যেসব অনুষ্ঠান দেখে ও শুনে, সেগুলো কোনো দ্বিধা ছাড়াই গ্রহণ করতে প্রস্তুত হয়ে যায়। এজন্য টেলিভিশনকে মিডিয়া জগতে সবচে' উত্তম, গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বস্ত মাধ্যম বলে মেনে নেয়া হয়।
টিভিতে যেসব অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়, তা উপস্থাপন করার আন্দাজ, ধরন ও পদ্ধতি সব সময় ডাইনামিক, আন্দোলিত, ভিন্নতা, বৈচিত্র ও নতুনত্বে ভরপুর থাকে। এর কারণ হলো, টেলিভিশনের মধ্যে যে অসংখ্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান রয়েছে, তা দর্শকের মন-মস্তিষ্কে শ্রবণ ও দর্শন ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে পৌছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এভাবে দর্শক আধুনিক টেকনোলজির যাদুতে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। টিভির মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ যেভাবে ইচ্ছা যেদিকে ইচ্ছা দর্শক-শ্রোতার মন-মস্তিষ্ক ঘোরাতে পারে। এর পাশাপাশি একথাও স্বরণ রাখতে হবে, টেলিভিশনের ক্যামেরা দৃশ্য ও ছবিগুলো বিভিন্নভাবে, রঙে, স্বাভাবিক অস্বাভাবিক আকৃতিতে বিচিত্র আঙ্গিকে ইচ্ছামতো সক্রিয় ও স্থবির উভয়ভাবে প্রদর্শন করতে পারে। এই ক্যামেরা সুন্দরকে অসুন্দর, অসুন্দরকে সুন্দর, নিকটকে দূর, দূরকে নিকট দেখাতে পারে। টিভি ক্যামেরা স্বাভাবিক বস্তুসমূহের কৃত্রিম ছবি প্রকৃত ছবির মতোই শুধু দেখায় না; বরং তার মধ্যে এমন উপকরণ রয়েছে, যা এসব জিনিসকে ইচ্ছামতো নতুন শৈল্পিক ছাঁচে অভিনব পদ্ধতিতে উপস্থাপন করতে পারে। এটা শুধু ক্যামেরার মাধ্যমে প্রকৃত বস্তুর কৃত্রিম ছবি প্রদর্শন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয়; বরং চিন্তা এবং বাস্তব কর্ম-উভয় ক্ষেত্রে ক্যামেরার বৃত্ত সর্বপ্রকার অনুকরণ অনুসরণ পর্যন্ত ব্যাপ্ত। রেডিওর বিপরীতে টিভি তার স্ক্রিনে উপস্থাপিত বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে সামান্যতম চিন্তা-ভাবনারও অবকাশ দেয় না। টিভি আপনার এমন বন্ধু, যে আপনার থেকে সবটুকু সময় এবং পূর্ণ একাগ্রতা ও মনোযোগ চায়। সে চায় আপনি আপনার মন-মস্তিষ্ক, বিবেক-বুদ্ধি, চিন্তা-চেতনা ও কথা-কল্পনা সব দিয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই লাগাতার আপনার অস্তিত্ব তার জন্য বিলিয়ে দেবেন।
টিকাঃ
৪. টেলিভিশনের সমগ্র বিশ্বকে এক পল্লীতে রূপান্তরিত করে দেয়াকেই গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়ন বলে। এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক হতে পারে। ইতিবাচক দিক হলো, তথ্য, প্রযুক্তি ও জ্ঞান-গবেষণা, আর নেতিবাচক দিক হলো মিডিয়ার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া যেভাবে আন্তর্জাতিক সমাজে পতিত হচ্ছে, পশ্চিমা সমাজে যেভাবে ক্রমবর্ধমানহারে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, একই ধরনের অপরাধ প্রাচ্যের দেশগুলোতেও সংঘটিত হচ্ছে।
📄 টিভির সামাজিক ভূমিকা
টিভি দ্বারা সামাজিক প্রাণ সৃষ্টি হয়-একথা একটি ধোকা প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের এ প্রতারণার শিকার না হওয়া উচিত। অনেকে দাবী করেন, টিভি দেখতে যেহেতু ঘরের সব লোক একত্রিত হয়, ঘরের সবাইর এক জায়গায় সমাবেশ ঘটে। এতে তাদের পরস্পরে সাক্ষাতের সুযোগ ঘটে। অথচ যেভাবে এসব লোক টিভি দেখার জন্য একত্রিত হয় তা বিশ্লেষণ করলে এ দাবীর মুখোশ খুলে যায়। টিভি দর্শকরা যদিও শারীরিকভাবে একত্রিত হয়, কিন্তু আবেগ ও চিন্তা-চেতনার দিক দিয়ে প্রত্যেকেই পরস্পর থেকে আলাদা হয়ে কল্পনার জগতে বিচরণ করতে থাকে। টিভি দেখার জন্য চাই একই পরিবারের সকল লোক একত্রিত হোক কিংবা কোন ক্লাবের সকল সদস্য একত্রিত হোক-সবার ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। কিছুক্ষণ টিভি দেখার পর সবাই যার যার মতো আলাদা হয়ে যায়।
প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বপ্ন ও আকাঙ্খার জগতে বিচরণ করে। প্রত্যেকেই নিজের পছন্দনীয় অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং টিভিতে উপস্থাপিত ঘটনা ও সংবাদের ব্যাখ্যা- বিশ্লেষণ, উপস্থাপিত ঘটনা ও সংবাদ সম্পর্কে নিজস্ব প্রতিক্রিয়া, অনুভূতি এবং তার ব্যাখ্যা ও কারণ অনুসন্ধানে হাবুডুবু খেতে থাকে। এটা খুব কমই ঘটে যে, কোনো একটি বিষয়ে দর্শকদের সকলেই নিজ নিজ প্রতিক্রিয়া ও অনুভূতি প্রকাশ করার ক্ষেত্রে একমত। কারণ প্রত্যেক দর্শকেরই নিজস্ব পছন্দ অপছন্দ রয়েছে, যা তাকে স্ক্রিনে উপস্থাপিত ঘটনাবলী, ব্যক্তিবর্গ, ও সংবাদ সম্পর্কে একটি অদৃশ্য মজবুত সুতায় গ্রথিত করে রাখে। এজন্য নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারি না, টিভি দেখা দ্বারা সামাজিক ঐক্যের প্রাণ সৃষ্টি হয়। কারণ মানুষ যখন শারীরিকভাবে একত্রিত, কিন্তু মেধা-মনন ও মানসিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন হলে সেটাকে আমরা সামাজিক ঐক্যের প্রাণ আখ্যা দিতে পারি না। মার্কিন লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সামাজিক জরিপের ভাষায়-'টিভি দ্বারা এমন সামাজিক জীবন অস্তিত্ব লাভ করে, যার মধ্যে ঐক্যের প্রাণ নেই।'